📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 অর্থ না বুঝে কুরআন তেলাওয়াত

📄 অর্থ না বুঝে কুরআন তেলাওয়াত


কুরআন পড়ার সময় অর্থ না বুঝলে এর প্রভাব অন্তরের ওপর পড়ে না। আর আমরা সেটাই করি। আমরা মনে করি, কুরআন আরবিতে তেলাওয়াত করলেই হবে। এর অর্থ কি এটা না বুঝলেও হবে। যার ফলে, আযাব-গযবের আয়াত তেলাওয়াতের সময়ও আমাদের কোনো আল্লাহর ভয় তৈরি হয় না। আল্লাহ বলেছেন-
নিশ্চয় শ্রবণ, দৃষ্টি এবং বুদ্ধিমত্তা এই সবগুলোর ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।

টিকাঃ
১০২. আল-কুরআন, সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭: ৩৬

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 নামাজে খুশু ও খুজু না থাকা

📄 নামাজে খুশু ও খুজু না থাকা


নামাজে খুশু ও খুজু হলো, মহাপরাক্রমশালী আসমান ও যমীনের একমাত্র মালিক যিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন এমন সত্তা আল্লাহ তা'লাকে হাজির নাজির জেনে গভীর শ্রদ্ধায় তার ভয়ে ভীত হয়ে বিনীতভাবে অবনত মস্তকে নামাজে দাঁড়ানো। এই খুশু খুজু যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি তা অর্জন করা ও বজায় রাখা আরো কঠিন। বিশেষ করে আমাদের এই শেষ জামানায়। রাসূল ﷺ বলেছেন,
“এই উম্মত হতে সর্বপ্রথম সালাতের খুশু উঠিয়ে নেয়া হবে, এমনকি তালাশ করেও তুমি কোনো খুশু ওয়ালা লোক খুঁজে পাবে না।” (তাবারানী, ছহীহুল জামে, হাদীস নং-২৫৬৯)
তবে এ ব্যাপারে সতর্কবাণী হচ্ছে, কপট ও বাহ্যিকভাবে খুশু তথা একাগ্রতার ভঙ্গিমা প্রকাশ আবার নিন্দনীয়। এজন্য আবু হুজাইফা (রা) বলতেন, “নেফাক সর্বস্ব খুশু হতে বিরত থাক। জিজ্ঞাসা করা হল, নেফাক সর্বস্ব খুশু আবার কি? উত্তরে বললেন, শরীর দেখতে একাগ্রতা সম্পন্ন অথচ অন্তর একাগ্রতা শূন্য।” (ইবন রজব, আল খুশু ফিস সালাত, পৃষ্ঠা-১৩)
একাগ্রতা শূণ্য অন্তরে কান্না না আসাটাই স্বাভাবিক।

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 অতিরিক্ত বিনোদন আসক্তি

📄 অতিরিক্ত বিনোদন আসক্তি


বিনোদন আসক্তির ফলে মানুষের অন্তর মরে যায়। সেখানে কোনো কিছুই গভীরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে না। আধুনিক যুগে মোবাইল, টিভি, ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি চরমভাবে মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে রাখছে। যে অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকে, সেখানে কান্নাও আসে না।

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 অহেতুক কথা ও কাজে সময় অতিবাহিত করা

📄 অহেতুক কথা ও কাজে সময় অতিবাহিত করা


সকল অহেতুক কথা ও কাজ যাতে কোনো ফল লাভ হয় না সেগুলোর পরিণাম কখনো কল্যাণকর হয় না। আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের গুণাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে সূরা মুমিনূনের মধ্যে বলেছেন,
“যারা অনর্থক কথা ও কাজ থেকে দূরে থাকে।” আল-কুরআন, ২৩: ৩
মুমিন বান্দারা শুধু অহেতুক কথা ও কাজ থেকে দূরেই থাকে এমনটি নয় বরং তাতে তারা কোনো কৌতুহলও প্রকাশ করে না। আল্লাহ বলেন,
“যখন এমন কোনো জায়গা দিয়ে তারা চলে যেখানে বাজে কথা হতে থাকে অথবা বাজে কাজের মহড়া চলে তখন তারা ভদ্রভাবে সে জায়গা অতিক্রম করে চলে যায়।” (সূরা ফুরকান-৬৩)।
দুনিয়াটা মুমিনের পরীক্ষা ক্ষেত্র। একজন পরীক্ষার্থী যেমন পরীক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত সঠিক উত্তর লেখার কাজে ব্যস্ত থাকে, ঠিক তেমনি মুমিনও দুনিয়ার এ জীবনকালকে এমন সব কাজে ব্যয় করে যা পরিণামের দিক দিয়ে কল্যাণকর। এমনকি সে খেলাধুলা ও আনন্দ উপভোগের ক্ষেত্রেও এমন সব জিনিস নির্বাচন করে যা নিছক সময় ক্ষেপণের কারণ হয় না বরং অপেক্ষাকৃত ভালো উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য তাকে তৈরি করে। এছাড়া মুমিন হবে একজন ভারসাম্যপূর্ণ প্রকৃতির অধিকারী এবং পবিত্র পরিচ্ছন্ন স্বভাব ও সুস্থ রুচি সম্পন্ন মানুষ। সে ফলদায়ক কথা বলতে পারে। আজে বাজে গল্প গুজব তার স্বভাব বিরুদ্ধ। সে ব্যঙ্গ, কৌতুক, হালকা পরিহাস পর্যন্ত করবে, কিন্তু উচ্ছল ঠাট্টা-তামাসায় মেতে উঠবে না। সে বাজে ঠাট্টা-মস্করা ও ভাঁড়ামি বরদাশত করতে পারে না এবং আনন্দ-ফুর্তি ও ভাঁড়ামির কথাবার্তাকে নিজের পেশায় পরিণত করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা মুমিনের স্থায়ী আবাসস্থল জান্নাতের বর্ণনায় বলেছেন, সেখানে তুমি কোনো বাজে কথা শুনবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00