📄 আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করার উপায়সমূহ
আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি কান্নাকাটি করতে হবে। তাই কিভাবে আমরা আরো বেশি করে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করতে পারি, সেজন্য কিছু দিক নির্দেশনা তুলে ধরা হলো:
📄 নিয়্যাতের বিশুদ্ধতা থাকা
আল্লাহ বান্দার সকল আমল তার নিয়্যাতের দিকে খেয়াল করে কবুল করেন। তাই আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটির পূর্বশর্ত হলো বিশুদ্ধ নিয়্যাত। বান্দার উচিত হলো শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তার আযাবের ভয়ে কান্নাকাটি করা। এ ক্ষেত্রে লোক দেখানো অথবা শরী'আতের সীমালংঘন কোনো অবস্থাতেই না করা। আল্লাহ বলেন,
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ
তাদেরকে এছাড়া কোনো নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদাত করবে।
রাসুল ﷺ বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبَلُ مِنْ العَمَل إِلَّا مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ
আল্লাহ বান্দার সে সকল আমল ছাড়া অন্য কোনো আমল কবুল করেন না, যা শুধুমাত্র তাঁরই জন্য করা হয় এবং যা দিয়ে তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয়।
টিকাঃ
৮৫. আল-কুরআন, সূরা আল-বায়্যিনাহ, ৯৮: ৫
৮৬. আন-নাসায়ী, আস-সুনান, অধ্যায়: জিহাদ, অনুচেছদ: মান গাজা ইয়ালতামিসুল আজরা ওয়াজ জিকরা, খ. ৬ষ্ঠ, পৃ. ২৫, হাদিস নং, ৩১৪০; আলবানী হাদিসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।
📄 কুরআন বুঝে তেলাওয়াত করা
কুরআন বুঝে তেলাওয়াত করা উচিত। না বুঝে কুরআন তেলাওয়াত বান্দার ওপর কুরআনের প্রভাব তৈরী হয় না। আল্লাহ তা'আলা তার প্রশংসিত বান্দাদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
“আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিলে অন্ধ ও বধিরদের মত পড়ে থাকে না।”
কুরআন তেলাওয়াতের সময় কান্না সত্য অন্বেষণকারীদের নিদর্শন। তাই কুরআন তেলাওয়াতের সময় আমাদের অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করা উচিত। কারণ অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত আমাদের মধ্যে আল্লাহভীতি ও বিনয় তৈরি করে। আল্লাহ তা'আলা এ কথার ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর বাণীতে,
وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلى الرَّسُول تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ﴾
যখন তারা এ কালাম শোনে, যা রাসূলের ওপর নাযিল হয়েছে, তোমরা দেখতে পাও সত্যকে চিনতে পারার কারণে তাদের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। তারা বলে ওঠে, হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে আমাদের নাম লিখে নাও।
আবু হুজাইফা (রা) বর্ণনা করেছেন, আমি এক রাতে রাসূল ﷺ এর সাথে নামাজ পড়েছি। তার নিয়ম ছিল, রহমতের কোনো আয়াত আসলে আল্লাহর কাছে রহমত চাইতেন। শাস্তির আয়াত আসলে আল্লাহর নিকট শাস্তি হতে পানাহ চাইতেন। আল্লাহর পবিত্রতার আয়াত আসলে, আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করতেন।
টিকাঃ
৮৭. আল-কুরআন, সূরা আল-ফুরকান, ২৫: ৭৩
৮৮. আল-কুরআন, সূরা আল-মায়েদাহ, ৫: ৮৩
৮৯. মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যয়, পরিচ্ছেদ:, খ., পৃ., হাদিস নং ৭৭২
📄 একই আয়াত বার বার পড়া
রাসূল ﷺ সাধারণত তাহাজ্জুদ ও বিভিন্ন নফল নামাজে এরকম আমল করতেন। আবু যর (রা) হতে বর্ণিত, একবার রাসূল ﷺ নিম্নের আয়াতটি পড়তে পড়তে রাত শেষ করে দিয়েছিলেন-
“আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন তাহলে তারাতো আপনারই বান্দা। আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তাহলে আপনি হলেন পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময়।” (সূরা মায়েদা-১১৮)
কাতাদা ইবন নুমান (রা) এক রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে বার বার শুধু সূরা ইখলাস পড়েছেন। অন্য কোনো সূরা পড়েননি।
আবু আইউব (রা) হতে বর্ণিত, সাহাবী সাঈদ ইবন যুবাইরকে একই নামাজের ভিতর এই আয়াতটি বিশবারেরও অধিক পাঠ করতে শুনেছি-
“ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোনোরূপ অবিচার করা হবে না।” (সূরা বাকারা -২৮১)