📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 প্রাকৃতিক বিপদ-আপদে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে কান্না

📄 প্রাকৃতিক বিপদ-আপদে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে কান্না


প্রাকৃতিক বিপদ আপদের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্য চেয়ে কান্নাকাটি করা উচিত। রাসূল ﷺ আমাদের এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন হাদিসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرو ، قالَ : كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فصَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فأَطالَ القِيَامَ ، ثُمَّ رَكَعَ فأَطالَ الرُّكُوعَ ، ثُمَّ رَفَعَ فَأَطالَ - قَالَ شُعْبَة : وَأَحْسَبُهُ قَالَ : فِي السُّجُودِ نَحْوَ ذلِكَ - وَجَعَلَ يَبْكِي فِي سُجُودِهِ وَيَنْفُخُ
আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) বলেন, রাসূল ﷺ এর যুগে সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল ﷺ নামাজ পড়লেন এবং তাতে দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকুতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলেন, এরপর রুকু থেকে উঠে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। (অধস্তন রাবী) শো'বা বলেন, আমার ধারণামতে তিনি (আতা) সিজদার ব্যাপারেও অনুরূপ বলেছেন। তিনি সিজদার অবস্থায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছেন।

টিকাঃ
৫৭. আন-নাসায়ী, আস-সুনান, অধ্যায়: খুসুফ, অনুচ্ছেদ: আল কওলু ফিস সুজুদ ফি সালাতিল কুসুফ, খ. ৫ম, পৃ. ৩৯৭, হাদিস নং. ১৪৭৯, আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হাদিসটি কান্নার শব্দটি বাদ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে কান্না

📄 অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে কান্না


আল্লাহ তা'আলা মানুষকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে থাকেন। তেমনি রোগের মাধ্যমে মু'মিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা হয়। কোনো মানুষ যখন অসুস্থ হবে, তখনই তার প্রতিবেশির দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো তার সেবা শুশ্রূষা করা। কেননা অসুস্থ ব্যক্তির হকই হলো তার সেবা যত্ন করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى المُسلِم سِتٌ قِيلَ: مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللهِ؟، قَالَ: «إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلَّمْ عَلَيْهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأَحِبْهُ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فانْصَحْ لَهُ، وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَسَمِّنْهُ، وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মুসলমানের একের ওপর অন্যের ছয়টি হক রয়েছে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ সেগুলো কী? রাসূল ﷺ বলেছেন, যখন তুমি কোনো মুসলমানের দেখা পাবে, তখন সালাম দিবে। যখন কেহ তোমাকে দাওয়াত দেয়, তার দাওয়াত কবুল করবে। কেউ উপদেশ চাইলে তাকে উপদেশ দিবে। হাঁচি দিয়ে যখন 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে তুমি তার জবাবে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলবে। অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে। আর কেউ মরে গেলে তার জানাজা ও দাফনে শরীক হবে।
عَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَطْعِمُوا الجَائِعَ، وَعُودُوا المَرِيضِ، وَقُدُّوا الْعَانِي»
আবু মুসা আশয়ারী (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা ক্ষুধার্তকে খেতে দিবে, রোগীর পরিচর্যা করবে এবং বন্দিকে মুক্ত করে দিবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ يَوْمَ القِيَامَةِ: يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي، قَالَ: يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُودُكَ؟ وَأَنْتَ رَبُّ العَالَمِينَ، قَالَ: َأمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلانًا مَرضَ فَلَمْ تَعُدْهُ، أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَنِي عِنْدَهُ؟
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ (কোনো এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে) বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি রোগাক্রান্ত হয়েছিলাম, কিন্তু, তুমি আমার সেবা করনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি কী করে রোগাক্রান্ত হলে যে আমি তোমার সেবা করতে আসব অথচ তুমি সারা বিশ্বের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা পীড়িত হওয়া সম্পর্কে তুমি অবগত ছিলে, অথচ তুমি তার সেবা করতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তার সেবা করতে যেতে, তাহলে আমাকে তুমি সেখানে পেতে।
অন্ধকার দেখে যেমন আলো বোঝা যায় তেমনি রোগী দেখে সুস্থ মানুষের সুস্থতা ও করণীয় উপলব্ধি করা যায়। তখন নিজের সুস্থতার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং অসুস্থ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করার জন্য কান্নাকাটি করার অনুমোদন শরী'আতে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে এরূপ উদাহরণ পাওয়া যায়।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ - رضي الله عنهما - قالَ اشْتَكَى سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ شَكْوَى لَهُ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم - يَعُودُهُ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَسَعْدِ بْنِ أبي وَقَاصِ وَعَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنهم فلمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ فَوَجَدَهُ فِي غَاشِيَةِ أَهْلِهِ فَقَالَ « قد قضى » . قالوا لا يَا رَسُولَ اللهِ . فَبَكَى النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - فلمَّا رَأَى القَوْمُ بُكَاءَ النَّبي - صلى الله عليه وسلم - بَكَوْا فَقَالَ « أَلا تَسْمَعُونَ إِنَّ اللَّهَ لا يُعَذِّبُ بِدَمْعِ العَيْن ، ولا يحزن القلبِ ، وَلَكِنْ يُعَذِّبُ بِهَذَا - وَأَشَارَ إِلَى لِسَانِهِ - أَوْ يَرْحَمُ وَإِنَّ المَيِّتَ يُعَذِّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ »
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদ বিন উবাদাতাহ কোনো এক রোগে ভুগছিলেন। নবী ﷺ আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) সহ তাঁকে দেখতে আসলেন। তাঁর কাছে গিয়ে দেখলেন তিনি পরিবার পরিজন দ্বারা বেষ্টিত আছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কি মারা গেছেন? তারা বলল না, হে আল্লাহর রাসূল! একথা শুনে রাসুল ﷺ কেঁদে ফেললেন। রাসূল ﷺ এর কান্না দেখে তারাও কাঁদতে লাগল। তখন তিনি বলেন, তোমাদের কোনো চোখের অশ্রু এবং অন্তরের শোকের জন্য আল্লাহ কাউকে শাস্তি দেবেন না। কিন্তু শাস্তি দেবেন অথবা দয়া করবেন এর জন্য, (এ বলে তিনি) নিজ জিহ্বার দিকে ইশারা করলেন। নিঃসন্দেহে মৃতের প্রতি পরিজনের বিলাপের দরুন শাস্তি দেওয়া হয়। আর উমার (রা) এর অবস্থা ছিল এমন যে, তিনি এরূপ কাঁদার জন্য লাঠি দ্বারা আঘাত করতেন, কংকর নিক্ষেপ করতেন এবং মুখে মাটি পুরে দিতেন।

টিকাঃ
৫৮. মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: সালাম, অনুচ্ছেদ: হাক্কুল মুসলিমি লিল মুসলিম, খ. ৪র্থ, পৃ. ১৭০৫, হাদিস নং: ২১৬২
৫৯. বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: মারদা, অনুচ্ছেদ: উজুবু ইয়াদাতিল মারিদ, খ. ৭ম, পৃ. ১১৫, হাদিস নং: ৫৬৪৯
৬০. মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: আল-বিররু ওয়াস সিলাতু ওয়াল আদাব, অনুচ্ছেদ: ফাদলু ইয়াদাতুল মারিদ, খ. ৪র্থ, পৃ. ১৯৯০, হাদিস নং: ২৫৬৯
৬১. আবু উমর আবদুল আযীয ইবন ফাতহী আস সায়্যিদ নিদা, মাওসুয়াতুল আদাবিল ইসলামিয়্যাহ (রিয়াদ: দারু তয়্যিবাহ লিন নাশরী ওয়াত তাওযী', ২য় সং, ২০০৪), পৃ. ২৫১
৬২. বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: জানায়েয, অনুচ্ছেদ: আল-বুকা ইনদাল মারিদ, খ. ১ম, পৃ. ৪৩৯, হাদিস নং: ১২৪২

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 আল্লাহর ভয়ে কান্না

📄 আল্লাহর ভয়ে কান্না


আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন মু'মিনের একটি বিশেষ গুণ এবং একনিষ্ঠতার বড় প্রমাণ। আল্লাহর ভয় ঈমানের অপরিহার্য উপাদান। কেননা, ঈমান হলো ভয় ও আশার ভিতরে। নবী রাসূলগণের বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,
إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
তাঁরা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত এবং আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত আর তাঁরা ছিল আমার কাছে বিনীত।
তবে জীবনের সকল ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আল্লাহকেই ভয় করতে হবে অন্যদের নয়। আল্লাহ বলেন,
فلا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنَ﴾
তোমরা মানুষকে ভয় কর না আমাকে ভয় কর।
আল্লাহর আযাবের ভয়ে ফেরেশতাদের ঈমান আনা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
তাঁরা তাঁদের ওপর পরাক্রমশালী তাঁদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং তারা যা আদেশ পায় তা করে।
আল্লাহ বলেন,
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই আল্লাহকে বেশি বেশি ভয় করে।
আল্লাহর ভয়ই বান্দার অন্তরকে বিগলিত করে। আর বান্দার অন্তর বিগলিত হলে আল্লাহর ভয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়। কেননা আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে আড়াল হয়ে আছেন। আল্লাহ বলেন,
وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ يَحُولُ بَيْنَ المَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
তোমরা জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার দিলের মাঝখানে আড়াল হয়ে আছেন এবং তোমাদের তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।
আল্লাহর ভয়ে প্রকাশ্য ও গোপনে ক্রন্দনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সকল পাপ পঙ্কিলতা থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেদেরকে আরো পুতঃপবিত্র ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে পারি।

টিকাঃ
৬৩. আল-কুরআন, সূরা আল-আম্বিয়া, ২১: ৯০
৬৪. আল-কুরআন, সূরা আল-মায়েদাহ, ৫: ৪৪
৬৫. আল-কুরআন, সূরা আন-নাহল, ১৬: ৫০
৬৬. আল-কুরআন, সূরা ফাতির, ৩৫: ২৮
৬৭. আল-কুরআন, সূরা আনফাল, ৮: ২৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00