📄 বিশেষ কোনো বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে কান্না
বিশেষ কোনো কাজে সফলতা অর্জনের জন্য দু'আ করার সময় আল্লাহর সাহায্য চেয়ে কান্নাকাটি করার অনুমোদন ইসলামে রয়েছে। যার প্রমাণ আমরা আল্লাহর রাসূলের জীবনে পাই, যেমন বদর যুদ্ধের আগের দিনের ক্রন্দন। আলী ইবন আবি তালিব (রা) থেকে বর্ণিত,
عَنْ عَلِيٍّ ، قَالَ : مَا كَانَ فِينَا فَارِسٌ يَوْمَ بَدْرٍ غَيْرُ المِقْدَادِ ، وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا فِينَا قَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُصلّي تَحْتَ شَجَرَةٍ وَيَبْكِي حَتَّى أَصْبَحَ
তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন মিকদাদ (রা) ছাড়া আমাদের আর কেউ অশ্বারোহী ছিল না। আমরা দেখলাম রাসূল ﷺ একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সারারাত নামাজ পড়ছেন আর কাঁদছেন এ অবস্থায় সকাল হয়ে গেল।
টিকাঃ
৫০. আবু ইয়ালা আহমদ ইবন আলী, মুসনাদে আবু ইয়ালা (আল-মাকতাবাতুশ শামেলাহ), খ. ১ম, পৃ. ১৭৫, হাদিস নং. ২৮০
📄 কবর যিয়ারতের সময় ক্রন্দন
কবর যিয়ারত করলে মন নরম হয় এবং মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়। এছাড়াও আশা ছোট হয়, দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমে, চোখে কান্না আসে, উদাসীনতা দূর হয় এবং ইবাদাতের জন্য চেষ্টার আগ্রহ জাগে। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ القُبُورِ فَزُورُوهَا، وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الأَضَاحِي فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَأَمْسِكُوا مَا بَدَا وَنَهَيْتُكُمْ عَن النَّبِيذِ إِلَّا فِي سِقاء، فَاشْرَبُوا فِي الأسْقِيَةِ كُلَّهَا، وَلَا تَشْرَبُوا لَكُمْ، مُسْكِرًا» قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ فِي رِوَايَتِهِ: عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْن بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ،
“ইবনে বুরাইদাহ তার পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করেন তার পিতা বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত নিষেধ করেছিলাম, এখন যিয়ারত কর। আমি তোমাদেরকে কুরবানীর গোশত তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমাদের যতদিন প্রয়োজন তা সংরক্ষণ কর। আমি তোমাদেরকে 'নবীয' করতে নিষেধ করেছিলাম শুধুমাত্র পান করার জন্য ছাড়া। অতএব তোমরা সকল পাত্রে পান কর তবে নিশা জাতীয় জিনিস পান কর না।”
তিনি আরো বলেন,
عن أبي هريرة عن النبي صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنه قال: "زوروا القبور فإنها تذكر الموت".
আবু হুরাইরা (রা) রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেন, “তোমরা কবর যিয়ারত কর। কবর যিয়ারত মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
নবী ﷺ বলেন,
عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ القُبُورِ، فَزُورُوهَا، فَإِنَّ فِي زِيَارَتِهَا تَذْكِرَهُ»
আবু বুরাইদাহ (রা) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেন, “আমি তোমাদের কবর যিয়ারতে নিষেধ করেছিলাম, এখন যিয়ারত কর, কবর যিয়ারতে রয়েছে শিক্ষা ও উপদেশ।”
কবর যিয়ারত মানুষকে তাঁর নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই কবর যিযারতের সময় আল্লাহর ভয়ে কান্নাকাটি করার অনুমোদন ইসলামে রয়েছে। রাসূল ﷺ কবর যিয়ারতের সময় কাঁদতেন।
টিকাঃ
৫১. মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: জানায়েয, অনুচ্ছেদ: ইসতিযানু নাবী রব্বাহু আয্যা ওয়া জাল্লা ফি যিয়ারাতি কবরি উম্মিহি, খ. ২য়, পৃ. ৬৭২, হাদিস নং. ৯৭৭
৫২. মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: জানায়েয, অনুচ্ছেদ: ইসতিযানু নাবী রব্বাহু আয্যা ওয়া জাল্লা ফি যিয়ারাতি কবরি উম্মিহি, খ. ২য়, পৃ. ৬৭১, হাদিস নং. ৯৭৬
৫৩. আবু দাউদ, আস-সুনান, অধ্যায়: জানায়েয, অনুচ্ছেদ: যিয়ারতুল কুবুর, খ. ৩য়, পৃ. ২১৮, হাদিস নং, ৩২৩৫
৫৪. মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: জানায়েয, অনুচ্ছেদ: ইসতিযানু নাবী রব্বাহু আয্যা ওয়া জাল্লা ফি যিয়ারাতি কবরি উম্মিহি, খ. ৩য়, পৃ. ৬৫, হাদিস নং, ২৩০৪
📄 সন্তান সন্ততি ও আত্মীয়স্বজনের মৃত্যুর পরে ক্রন্দন
সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুর পরে কান্নাটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই শরী'আহ এ ক্ষেত্রে কান্নার অনুমতি দিয়েছে। স্বয়ং রাসূল ﷺ থেকে তাঁর ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুর পর কান্নার উদাহরণ রয়েছে। রাসূল ﷺ এর চাচা হামজা (রা) এর শাহাদাতের পর যখন তাঁর নাক, কান কেটে বিকৃত করা হয়েছিল তখনও রাসূল ﷺ এই পৈচাশিকতা দেখে কেঁদেছিলেন।
টিকাঃ
৫৫. বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: জানায়িয, অনুচ্ছেদ: কওলুন্নাবী (সা) ইন্না বিকা লা মাহযুনুন, খ. ৫ম, পৃ. ৫৭, হাদিস নং, ১২২০
৫৬. ইবন মাজাহ, আস-সুনান, অধ্যায়: জানায়েয, অনুচ্ছেদ: মা যায়া ফিল বুকা আলাল মায়্যিত, খ. ২য়, পৃ. ৫২৫, হাদিস নং, ১৫৯১, আলবানি বলেন, হাদিসটি হাসান সহীহ।
📄 প্রাকৃতিক বিপদ-আপদে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে কান্না
প্রাকৃতিক বিপদ আপদের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর সাহায্য চেয়ে কান্নাকাটি করা উচিত। রাসূল ﷺ আমাদের এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন হাদিসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرو ، قالَ : كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فصَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فأَطالَ القِيَامَ ، ثُمَّ رَكَعَ فأَطالَ الرُّكُوعَ ، ثُمَّ رَفَعَ فَأَطالَ - قَالَ شُعْبَة : وَأَحْسَبُهُ قَالَ : فِي السُّجُودِ نَحْوَ ذلِكَ - وَجَعَلَ يَبْكِي فِي سُجُودِهِ وَيَنْفُخُ
আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) বলেন, রাসূল ﷺ এর যুগে সূর্য গ্রহণ হলে রাসূল ﷺ নামাজ পড়লেন এবং তাতে দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকুতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করলেন, এরপর রুকু থেকে উঠে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। (অধস্তন রাবী) শো'বা বলেন, আমার ধারণামতে তিনি (আতা) সিজদার ব্যাপারেও অনুরূপ বলেছেন। তিনি সিজদার অবস্থায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছেন।
টিকাঃ
৫৭. আন-নাসায়ী, আস-সুনান, অধ্যায়: খুসুফ, অনুচ্ছেদ: আল কওলু ফিস সুজুদ ফি সালাতিল কুসুফ, খ. ৫ম, পৃ. ৩৯৭, হাদিস নং. ১৪৭৯, আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হাদিসটি কান্নার শব্দটি বাদ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।