📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 ইসলামী শরীয়াত যে সকল জায়গায় কান্নাকে উৎসাহিত করেছে ও অনুমোদন দিয়েছে

📄 ইসলামী শরীয়াত যে সকল জায়গায় কান্নাকে উৎসাহিত করেছে ও অনুমোদন দিয়েছে


ইসলামী শরীয়াত কান্নাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি কান্নার সীমারেখা অর্থাৎ এর বিধি বিধানও বর্ণনা করেছে। যে সকল সময় কান্নার ব্যাপারে শরীয়াতের অনুমোদন রয়েছে সে রকম কিছু সময় ও স্থান নিম্নে বর্ণনা করা হলো।

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 কুরআনুল কারীম তেলাওয়াতের সময়

📄 কুরআনুল কারীম তেলাওয়াতের সময়


কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ঐশী বাণী। কাজেই তেলাওয়াত করা ও শোনার সময় গভীর মনোযোগ দিতে হবে। আল্লাহ বলেন,
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِمَنْ كَانَ لَهُ قلبٌ أَوْ أُلقى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ
এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য, যার অনুধাবন করার মতো অন্তর রয়েছে। অথবা সে নিবিষ্ট মনে শ্রবণ করে।
মহান আল্লাহ আরো বলেন,
أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا﴾
“তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না, না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?”
আল্লাহর কালাম তেলাওয়াতের সময় কান্নার অবস্থা সৃষ্টি হওয়া প্রশংসনীয় এবং সকল নবীগণের সুন্নাত। রাসূল ﷺ কুরআন তেলাওয়াত করার সময় কাঁদতেন।
معالم التنزيل তাফসীরে বলা হয়েছে,
البكاء مستحب عند قراءة القرآن
কুরআন তেলাওয়াতের সময় ক্রন্দন করা মুস্তাহাব।
এ সম্পর্কে সাদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : اقْرَءُوا القُرْآنَ وَابْكُوا ، فَإِنْ لَمْ تَبْكُوا فَتَبَاكَوْا .
নবী ﷺ বলেছেন, তোমরা কুরআন তেলাওয়াত কর ও কান্না কর, যদি তোমাদের কান্না না আসে তাহলে কান্নার ভান কর।

টিকাঃ
৩৮. আল-কুরআন, সূরা ক্বাফ ৫০: ৩৭
৩৯. আল-কুরআনুল কারীম, সূরা, মুহাম্মাদ, আয়াত, ২৪।
৪০. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবি বকর কুরতুবী, আল-জামিলি আহকামিল কুরআন (কায়রো: দারুল কুতুবিল মিসরিয়‍্যা, ২য় সং, ১৯৬৪), খ. ১১শ, পৃ. ১২০-১২১
৪১. বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: ফাযায়িলুল কুরআন, অনুচ্ছেদ: কওলুল মুকরিয়ু লিল কারী হাসবুক, খ. ৪র্থ, পৃ. ১৯২৫, হাদিস নং, ৪৭৬৩
৪২. মুহিউস সুন্নাহ আবু মুহাম্মাদ আল হুসাইন আল-বাগাভী, মা'আলিমুত তানযিল (দারু তয়্যিবা, ৪র্থ সং, ১৯৯৭), খ. ৫ম, পৃ. ১৩৬
৪৩. আবু বকর আহমদ ইবন আমর বাজ্জার, মুসনাদে বাজ্জার (আল-মদিনাতুল মুনাওয়ারাহ, মাকতাবাতুল উলুমি ওয়াল হুকমি, ১ম সং, ১৯৮৮-২০০৯), খ. ১ম, পৃ. ২১৭

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 নামাজের সময় কান্না

📄 নামাজের সময় কান্না


নামাজের যেমন ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত রয়েছে তেমনি নামাজের প্রাণ হলো বিশুদ্ধ নিয়্যাত, একনিষ্ঠতা, আল্লাহর ভয় এবং বিনয়। তাই নামাজ আদায়ের সময় আল্লাহর ভয়ে কান্নাকাটি করাটা স্বাভাবিক। জাসসাস (র) বলেন,
أنَّ البكاء في الصلاة من خوف الله لا يقطع الصلاة ؛ لأن الله مدحهم عليه.
নামাজের মধ্যে আল্লাহর ভয়ে কান্নাকাটি নামাজ বিনষ্ট করে না; কেননা আল্লাহ তাঁদের প্রশংসা করেছেন।

টিকাঃ
৪৪. আহমদ ইবন আবু বকর রাযী আল-জাসসাস, আহকামুল কুরআন (বৈরূত: দারু ইয়াহইয়া আত-তুরাছিল আরাবী, ১৪০৫হি.), খ. ৫ম, পৃ. ৩৭

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 নামাজের ভিতর কান্নাকাটির শরয়ী বিধান

📄 নামাজের ভিতর কান্নাকাটির শরয়ী বিধান


নামাজের ভিতর কান্নাকাটি করলে নামাজ বিনষ্ট হবে কি না এ ব্যাপারে ইমামগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
ইমাম আযম আবু হানিফা (র)-এর মতে, পার্থিব দুঃখ, বেদনা ও কষ্টের কারণে নামাজের ভিতরে কান্নাকাটি করলে নামাজ বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর নামাজের কান্না যদি জান্নাত ও জাহান্নামের স্মরণে হয় তাহলে নামাজ বিনষ্ট হবে না।
ইমাম মালেক (র) বলেন, নামাজের ভিতরে কান্না যদি শব্দবিহীন হয় এবং সেটা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত হোক পার্থিব কারণে হোক বা পরকালের কারণে হোক নামাজ বাতিল হবে না। আর কান্না যদি ইচ্ছাকৃতভাবে শব্দ করে হয় তাহলে যে কারণেই হোক নামাজ বাতিল হবে। আর আল্লাহর ভয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে শব্দ করে কান্নাকাটি করলে নামাজ বিনষ্ট হবে না।
ইমাম শাফেয়ী (র) বলেন, কান্না যদি শব্দ করে হয় এবং তেলাওয়াত পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে পরকালের ভয়ে কান্নাকাটি হলেও নামাজ বাতিল হবে। আর যদি তেলাওয়াত পরিবর্তন না হয় তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে।
ইমাম আহমদ (র) বলেন, আল্লাহর ভয়ে কান্নাকাটি করলে নামাজ বিনষ্ট হবে না। অন্যদিকে আল্লাহর ভয় না থাকলে নামাজ বিনষ্ট হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৪৫. সম্পাদনা পরিষদ, আল মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যা (কুয়েত: ওযারাতুল আওকাফ ওয়াশ শুরুনুল ইসলামিয়া, ১৪০৪-১৪২৭হি.), খ. ৮ম, পৃ. ১৭০-১৭১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00