📄 কান্নার প্রকারভেদ
কান্নাকে আমরা বিভিন্ন শ্রেণীতে বিন্যাস করতে পারি। যথা:
১. দয়া মায়া ও বিনম্রতার কান্না
২. ভয় ও শঙ্কার কান্না
৩. অত্যাধিক আকাঙ্ক্ষা ও ভালোবাসার কান্না
৪. খুশি ও আনন্দের কান্না
৫. বেদনাদায়ক ঘটনা বর্ণনা করার পর ধৈর্যহারা হয়ে কান্না
৬. হতাশার কান্না
৭. দুর্বল ও অধিক নরম লোকের কান্না
৮. মুনাফিকির কান্না
৯. কারো নিকট সাহায্য সহযোগিতা ও ধার পাওয়ার জন্য কান্না
১০. অন্যের কান্না দেখে কান্না অর্থাৎ কারণ না জেনে কান্না
উপরের কান্নাগুলোকে মৌলিকভাবে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে যথা: ভয়, আকাঙ্ক্ষা ও খুশির জন্য কান্না।
টিকাঃ
১২. শিহাবুদ্দীন আবি হাফস উমার ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দিল্লাহ, 'আওয়ারিফুল মা'আরিফ (আল-মাকতাবতুশ শামেলাহ, তা. বি.), খ. ১ম, পৃ. ১৮৬-১৮৭
📄 আল-কুরআনের আলোকে কান্না
আল-কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ তা'আলা মানুষকে কাঁদতে উৎসাহিত করেছেন। কান্না সম্পর্কে কুরআনুল কারীমের বক্তব্য সুস্পষ্ট এবং ভারসাম্যপূর্ণ। যেমন: কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
وَأَنَّهُ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى
“এবং তিনিই হাসান ও তিনিই কাঁদান।”
আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীগণের কান্নার প্রশংসা করে বলেন,
أُولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ مِنْ دُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نوحٍ وَمِنْ دُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا)
এরাই তাঁরা-নবীগণের মধ্যে থেকে যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা নেয়ামত দান করেছেন। এরা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম, তাঁদের বংশধর এবং ইবরাহীম ও ইসরাঈলের বংশধর এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছি এবং মনোনীত করেছি, তাঁদের অবস্থা এই ছিল যে, যখন করুণাময়ের আয়াত তাঁদেরকে শুনানো হতো তখন তাঁরা কান্নারত অবস্থায় সিজদায় লুটিয়ে পড়ত।
আল্লাহ তা'আলা তাঁর নেককার বান্দাদের প্রশংসায় বলেন,
وَيَخِرُّونَ لِلأَدْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا
এবং তাঁরা নত মাথায় কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা শুনে তাঁদের আল্লাহর ভয় অনেক বেড়ে যায়।
জাতির সৎ লোকদের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন,
وَإِذَا سَمِعوا مَا أُنْزِلَ إِلى الرَّسول تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفوا مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
যখন তাঁরা এ কালাম শোনে, যা রাসূলের ওপর নাযিল হয়েছে, তোমরা দেখতে পাও সত্যকে চিনতে পারার কারণে তাঁদের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। তাঁরা বলে ওঠে, হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে আমাদের নাম লিখে নাও।
কান্না সম্পর্কে মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেছেন,
أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ
তাহলে কি এসব কথা শুনেই তোমরা বিস্ময় প্রকাশ করছ? হাসছ কিন্তু কাঁদছো না?
فليضحكوا قليلا وَلَيَبْكُوا كَثِيرًا جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ﴾
এখন তাদের কম হাসা ও বেশি কাঁদা উচিত। কারণ তারা যে গুনাহ উপার্জন করেছে তার প্রতিদান এ ধরনেরই হয়ে থাকে (সেজন্য তাদের কাঁদা উচিত।)
আল্লাহর অবাধ্য বান্দাদের মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالأَرْضِ وَمَا كَانُوا مُنظَرِينَ
অতঃপর না আসমান তাদের জন্য কেঁদেছে না যমীন, সামান্যতম অবকাশও তাদের দেয়া হয়নি।
টিকাঃ
১৩. আল-কুরআন, সূরা আন-নজম ৫৩:৪৩
১৪. আল-কুরআন, সূরা মারইয়াম ১৯: ৫৮
১৫. আল-কুরআন, সূরা বনী ইসরাঈল ১৭: ১০৯
১৬. আল-কুরআন, সূরা আল-মায়েদাহ ৫: ৮৩
১৭. আল-কুরআন, সূরা আন-নজম ৫৩: ৫৯-৬০
১৮. আল-কুরআন, সূরা আত-তাওবাহ ৯: ৮২
১৯. আল-কুরআন, সূরা আদ-দুখান ৪৪: ২৯
📄 হাদিসের আলোকে কান্না
হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষকে কাঁদতে উৎসাহিত করেছেন। যেমন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَن ابْنِ عَبَّاس قالَ سَمِعْتُ رَسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ عَيْنَانِ لا تَمَسُّهُمَا النَّارُ عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ وَعَيْنٌ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, দু'টি চোখকে জাহান্নামের আগুন কখনও স্পর্শ করবে না। এক: যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে এবং দুই: যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় (নিরাপত্তার জন্য) পাহারা দিয়ে নিদ্রাহীন রাত কাটায়।
রাসূল ﷺ উম্মাহকে কম হাসতে ও বেশি করে কাঁদতে উৎসাহিত করেছেন। যেমন হাদিসে এসেছে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ بَلَغَ رَسولَ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَصْحَابِهِ شَيْءٌ فخطب فقالَ عُرضَتْ عَلَيَّ الجَنَّة وَالنَّارُ فلمْ أرَ كَاليَوْمِ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا قَالَ فَمَا أَتَى عَلَى أَصْحَابِ رَسول الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمٌ أَشَدُّ مِنْهُ قَالَ غَطَوْا رُءُوسَهُمْ وَلَهُمْ خَنِينٌ قَالَ فَقَامَ عُمَرُ فَقَالَ رَضِينَا بِاللهِ رَبّا وَبِالإِسْلامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا قَالَ فَقَامَ ذَاكَ الرَّجُلُ فَقَالَ مَنْ أبي قالَ أَبُوكَ فُلانٌ فَنَزَلتْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنوا لا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ}
আনাস ইবন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ-এর নিকট তাঁর সাহাবীদের পক্ষ থেকে কোনো (আপত্তিকর) কথা পৌঁছালে তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। ভাষণ প্রসঙ্গে তিনি বললেন, আমার সামনে বেহেশত ও দোযখের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। ভাল-মন্দের নিদর্শন আজকের ন্যায় আর দেখিনি। আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে অবশ্যই তোমরা খুব কম হাসতে এবং বেশি পরিমাণ কাঁদতে। আনাস (রা) বলেন, রাসূল ﷺ-এর সাহাবীদের ওপর দিয়ে এর চেয়ে কঠিন দিন আর অতিবাহিত হয়নি। তিনি বলেন, তাঁরা তাঁদের মাথা ঢেকে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিলেন।
অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে,
عَنْ أَبي ذرّ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلَّى الله عَلَيْهِ وسَلَّمَ : إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ ، وَأَسْمَعُ مَا لا تَسْمَعُونَ ، إِنَّ السَّمَاءَ أَطَتْ ، وَحَقَّ لَهَا أَنْ تَئِطٌ ، مَا فِيهَا مَوْضِعُ أربع أصابعَ إِلا وَمَلَكٌ وَاضِعٌ جَبْهَتَهُ سَاجِدًا لِلهِ ، وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لضحِكْتُمْ قليلا ، وَلبَكَيْتُمْ كَثِيرًا ، وَمَا تَلدَّدْتُمْ بِالنِّسَاءِ عَلَى الْقُرُشَاتِ ، وَلَخَرَجْتُمْ إلى الصُّعُدَاتِ ، تَجْارُونَ إلى اللهِ ، وَاللَّهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي كُنتُ شَجَرَهُ تُعْضَدُ.
আবু জার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, আমি (অদৃশ্য জগতের) যা দেখি তোমরা তা দেখ না, আর আমি যা শুনতে পাই তোমরা তা শুনতে পাও না। আসমান তো চড়চড় শব্দ করছে, আর সে এই শব্দ করার যোগ্য। তাতে এমন চার আঙ্গুল পরিমাণ স্থানও নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা আল্লাহর জন্য অবনত মস্তকে সিজদায় পড়ে না আছে। আল্লাহর শপথ! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে তোমরা কমই হাসতে, বেশি কাঁদতে এবং বিছানায় স্ত্রীদের উপভোগ করতে না, বাড়ি-ঘর ছেড়ে পথে-প্রান্তরে বেরিয়ে পড়তে, আল্লাহর সামনে কাকুতি মিনতি করতে। রাবী বলেন, আমার মন চায় যদি আমি বৃক্ষ হতাম আর তা তো কেটে ফেলা হতো।
আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারীর মর্যাদায় রাসূল ﷺ বলেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَا يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكَى مِنْ خَشْيَةِ اللهِ حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِي الضَّرْعِ ، وَلا يَجْتَمِعُ عُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَدُخَانُ نَارِ جَهَنَّمَ.
আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদে সে দোযখে যাবে না, যেরূপ দোহন করা দুধ পুনরায় স্তনে ফিরিয়ে নেয়া যায় না। আর আল্লাহর পথে জিহাদের ধুলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কখনও একত্র হবে না।
আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জনকারীকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন আরশের নিচে ছায়া দেবেন। যেমন: হাদিসে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمْ اللَّهُ فِي ظِلْهِ يَوْمَ لا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ الإِمَامُ العَادِلُ وَشَابٌ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ رَبِّهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي عَنْ أَبي المَسَاجِدِ وَرَجُلان تَحَابًا فِي اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ طَلَبَتْهُ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمْ اللَّهُ فِي ظِلَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ الإِمَامُ العَادِلُ وَشَابٌ نَشَأْ فِي عِبَادَةِ رَبِّهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلانِ تَحَابًا فِي اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ طَلَبَتْهُ امْرَأَةٌ ذاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ أخفى حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللهَ خَالِيًا فَقَاضَتْ عَيْنَاهُ
আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন: সাত শ্রেণির লোককে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর আরশের নিচে ছায়া দান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। (এই সাত প্রকার লোক হচ্ছে) ১. ন্যায়পরায়ণ শাসক, ২. যে যুবক আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে তার যৌবনকাল অতিবাহিত করেছে, ৩. যে ব্যক্তির মন মসজিদের সাথে বাঁধা, ৪. যে দু'ব্যক্তি আল্লাহরই উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে এবং তারা আল্লাহর উদ্দেশ্যেই মিলিত হয়, আবার আল্লাহর উদ্দেশ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়, ৫. যে ব্যক্তি মর্যাদাসম্পন্না রূপসী নারীর আহ্বানকে এই বলে প্রত্যাখ্যান করে, “আমি আল্লাহকে ভয় করি” ৬. যে ব্যক্তি এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কি খরচ করছে তা তার বাম হাত জানতে পারে না এবং ৭. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রুধারা বইতে থাকে।
টিকাঃ
২০. আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবন ঈসা আত-তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: ফাদায়িলুল জিহাদ, অনুচ্ছেদ: মা যায়া ফি ফাদলিল হিরসি ফী সাবিলিল্লাহ খ. ৬ষ্ঠ, পৃ. ৩৮৬, হাদিস নং, ১৭৪০
২১. মুহাম্মদ ইবন ইয়াযীদ ইবন মাজাহ, আস-সুনান, অধ্যায়: জুহুদ, অনুচেছদ: আল-হুজন ওয়াল বুকায়ি, খ. ৫ম, পৃ. ২৮৩, হাদিস নং. ৪১৯০
২২. তিরমিযী, আস-সুনান, অধ্যায়: জুহুদ, অনুচ্ছেদ: মা যায়া ফি ফাদলিল বুকা মিন খাশইয়াতিল্লাহ, খ. ৪র্থ, পৃ. ৫৫৫, হাদিস নং. ২৩১১। তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন। আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
২৩. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী, আল-জামে' আল-মুসনাদ আস-সহীহ আল মুখতাছার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ (সা) ওয়া সুনানিহী ওয়া আইয়্যামিহী (বৈরূত: দারু ইবন কাছীর, ৩য় সং, ১৯৭৮), অধ্যায়: আযান, অনুচ্ছেদ: মান জালাসা ফিল মাসজিদি ইয়ানতাজিরুস সালাত, খ. ৩য়, পৃ. ৫১, হাদিস নং, ৬২০
📄 সাহাবাগণের কান্না
রাসূল ﷺ এর সাহাবারা আল্লাহর ভয়ে কাঁদতেন এবং বিনয়ী থাকতেন। যেমন: হাদিসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهَا ، قالت لمَّا مَرضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَرَضَهُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ أَتَاهُ بِلاَلٌ يُؤْذِنُهُ بالصَّلاةِ فَقالَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ قُلْتُ إِنَّ أَبَا بَكْر رَجُلٌ أَسِيفٌ إِنْ يَقُمْ مَقَامَكَ يَبْكِي فَلا يَقْدِرُ عَلَى الْقِرَاءَةِ قَالَ مُرُوا أَبَا بكر فليصل فقُلتُ مِثله فقالَ فِي الثَّالِثَةِ ، أو الرَّابِعَةِ إِنَّكُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে পীড়ায় নবী ﷺ ইন্তেকাল করেন, সেই পীড়ায় তিনি আক্রান্ত তখন এক সময়ে বেলাল (রা) তাঁকে নামাজের সময় হয়েছে এই কথা অবহিত করতে গেলে রাসূল ﷺ বললেন, আবু বকরকে বল লোকদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করতে। আয়েশা (রা) বলেন, আমি বললাম আবু বকর নরম স্বভাবের অধিকারী। আপনার পরিবর্তে আপনার জায়গায় নামাজ পড়াতে দাঁড়ালে কেঁদে ফেলবেন এবং সেজন্য কুরআন পড়তে সক্ষম হবেন না। (একথা শুনে) তিনি আবার বললেন, আবু বকরকে নামাজ পড়াতে নির্দেশ দাও। আয়েশা (রা) বলেন, আমি আবার আগের মতো বললাম। তিনি তৃতীয়বার কিংবা চতুর্থবার বললেন। তোমরা দেখছি ইউসুফের সময়কার সেই মেয়েদের মত। আবু বকরকে বল, সে ইমাম হয়ে নামাজ আদায় করুক।
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ أبو بكر رضى الله عنه بَعْدَ وَفَاةِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم- لِعُمَرَ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى أُمِّ أَيْمَنَ نَزُورُهَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم - يَزُورُهَا. فَلمَّا انْتَهَيْنَا إِلَيْهَا بَكَت فقالاً لهَا مَا يُبْكِيكِ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم . فقالت مَا أبْكِي أن لا أكونَ أَعْلَمُ أَنَّ مَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ لِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم وَلكِنْ أَبْكِي أَنَّ الوَحْيَ قَدِ انْقَطَعَ مِنَ السَّمَاءِ. فَهَيَّجَتْهُمَا عَلى البُكَاءِ فَجَعَلا يَبْكِيَانِ مَعَهَا.
আবু বকর (রা) রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর পর উমর (রা)-কে বললেন, রাসূল ﷺ যেভাবে উম্মে আইমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতেন চল আমরাও তেমন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে আসি। আনাস (রা) বলেন, আমরা যখন উম্মে আইমানের নিকট পৌঁছালাম তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। আবু বকর ও উমর (রা) তাঁকে বললেন, আপনি কাঁদছেন কেন? আল্লাহর কাছে তো তাঁর রাসূলের জন্য কল্যাণকর জিনিসই রয়েছে। উত্তরে তিনি বললেন, আমি এজন্য কাঁদছি না যে, আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের জন্য কি রয়েছে বরং আমি এজন্যই কাঁদছি যে আসমান থেকে ওহী আসা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। আনাস (রা) বলেন, তাঁর এ কথায় তাঁদের দুজনেরও কান্না এসে গেল এবং তাঁরাও তাঁর সাথে কাঁদতে লাগলেন।
টিকাঃ
২৪. বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: আজান, অনুচ্ছেদ: মান আসমায়ান নাসু তাকবিরুল ইমাম খ. ৩য়, পৃ. ২৩৯, হাদিস নং, ৬১৪৭
২৫. মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: ফাদায়েল, অনুচ্ছেদ: ফাদায়েলে উম্মে আইমান (রা) খ. ৭ম, পৃ. ১৪৪, হাদিস নং, ৬৪৭২