📄 এতেকাফে আল্লাহর একান্ত-সান্নিধ্য যাপন
রমজান মাসে ইবাদতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতেকাফ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসার পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত প্রতি রমজানের শেষ দশ দিন নিয়মিত মসজিদে এতেকাফ পালন করেছেন। এতেকাফ অবস্থায় তিনি দুনিয়াবী সকল কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর জিকির, তিলাওয়াত ও সালাতে মগ্ন থাকতেন। মসজিদে নববীতে তাঁর জন্য একটি ছোট তাবু বা কুটির স্থাপন করা হতো, যেখানে তিনি একান্ত নিভৃতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতেন।
📄 রমজানে রাসূল সা.-এর শেষ দশ দিন যাপন
রমজানের শেষ দশ দিন শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবাদতের জন্য কোমরে কাপড় বেঁধে লেগে যেতেন। অর্থাৎ তিনি ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং স্ত্রী-পরিবার থেকে দূরে থাকতেন। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, ‘যখন শেষ দশ দিন আসত, নবীজী (সা) তাঁর রাতগুলো ইবাদতে জীবিত রাখতেন (জেগে থাকতেন), তাঁর পরিবারবর্গকে জাগিয়ে দিতেন এবং ইবাদতের জন্য খুব তোড়জোড় করতেন।’ এই দিনগুলোতে তিনি গোসল করে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং মাগরিব ও এশার মাঝখানে নিজেকে সতেজ করে নিতেন।
📄 লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান ও তাতে রাত্রি-জাগরণ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির জন্য রমজানের শেষ দশকে, বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোতে ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তিনি সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ এই রাতে তিনি বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন। আয়েশা (রা) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর পাই তবে কী বলব?’ তিনি শিখিয়ে দিলেন, ‘তুমি বলবে: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওয়ুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নি’ (হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন)।
📄 জিবরাইল আ:-এর সাথে রাসূলের কোরআন অনুশীলন
রমজান মাসে প্রতি রাতে জিবরাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। তাঁরা একে অপরকে কুরআন শোনাতেন। রাসূল (সা) জিবরাঈল (আ)-কে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন এবং জিবরাঈল (আ) তা শুনতেন। এই কুরআন শোনার ও শোনানোর আমলটি রমজানের প্রতিটি রাতেই চলত। এটি প্রমাণ করে যে, রমজান মাসে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত ও চর্চা করা সুন্নাত।