📄 চাঁদ দেখা কিংবা ত্রিশ দিন পূর্ণ করার মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করণ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের রোজা শুরু এবং শেষ করার বিষয়টি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ কর (ঈদ কর)। আর যদি আকাশ মেঘলা থাকে, তবে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।’ তিনি শাবান মাসের দিন গণনা খুব গুরুত্বের সাথে করতেন যাতে রমজান শুরু করতে ভুল না হয়। ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা না গেলে তিনি মাস ৩০ দিন পূর্ণ করতেন।
📄 রমজানে রাসূল সা.-এর এবাদতে রাত্রি জাগরণ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগি করতেন। তিনি শুধু নিজেই জাগতেন না, বরং তাঁর পরিবার-পরিজনকেও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। বিশেষ করে রমজানের রাতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কিয়ামুল লাইল বা রাতের সালাত আদায় করতেন। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রমজান মাস এলে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেত, তিনি নামাজে কান্নায় ভেঙে পড়তেন এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতি-মিনতি করতেন। এ মাসে তাঁর ইবাদতের পরিমাণ অন্য সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যেত।
📄 রাসূলের রাত্রিকালীন সালাতের দৈর্ঘ্য
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের সালাত বা তাহাজ্জুদ ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও সুন্দর। হযরত আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল রমজানে রাসূল (সা)-এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বলেন, ‘তিনি রমজানে বা অন্য সময়ে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘায়িত করা সম্পর্কে প্রশ্ন করো না! এরপর তিনি আরও চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য ছিল অবর্ণনীয়। এরপর তিনি তিন রাকাত বিতর পড়তেন।’ তাঁর কিয়াম এত দীর্ঘ হতো যে, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তাঁর পা মোবারক ফুলে যেত।
📄 এতেকাফে আল্লাহর একান্ত-সান্নিধ্য যাপন
রমজান মাসে ইবাদতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতেকাফ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসার পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত প্রতি রমজানের শেষ দশ দিন নিয়মিত মসজিদে এতেকাফ পালন করেছেন। এতেকাফ অবস্থায় তিনি দুনিয়াবী সকল কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর জিকির, তিলাওয়াত ও সালাতে মগ্ন থাকতেন। মসজিদে নববীতে তাঁর জন্য একটি ছোট তাবু বা কুটির স্থাপন করা হতো, যেখানে তিনি একান্ত নিভৃতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতেন।