📄 রাসূল সা.-এর সওমে ওসাল
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও কখনও ‘সওমে ওসাল’ বা একটানা রোজা রাখতেন (রাতে ইফতার না করে পরের দিনের রোজার সাথে মিলিয়ে রাখা)। কিন্তু তিনি সাহাবীদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেছেন। সাহাবীরা যখন বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো সওমে ওসাল করেন।’ তখন তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি তোমাদের মতো নই। আমাকে আমার প্রতিপালক পানাহার করান।’ এ থেকে বোঝা যায়, সওমে ওসাল রাসূল (সা)-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, যা সাধারণ উম্মতের জন্য অনুমোদিত নয়।
📄 রমজানে সফর করা, রোজা রাখা কিংবা ভঙ্গ করা
রমজান মাসে সফর করলে রোজা রাখা বা না রাখার ইখতিয়ার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের দিয়েছিলেন। মক্কা বিজয়ের বছর রমজানে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়ে তিনি ‘কাদীদ’ নামক স্থানে পৌঁছা পর্যন্ত রোজা রেখেছিলেন, এরপর সেখানে রোজা ভেঙ্গে ফেলেন এবং লোকেরাও রোজা ভেঙ্গে ফেলে। সফরে কষ্টের আশঙ্কা থাকলে রোজা না রাখাই উত্তম। তবে সফরে রোজা রাখা বা ভঙ্গ করা—উভয়টিই জায়েজ। সাহাবীরা কেউ রোজা রাখতেন আবার কেউ রাখতেন না, এ নিয়ে তাঁরা একে অপরকে দোষারোপ করতেন না।
📄 চাঁদ দেখা কিংবা ত্রিশ দিন পূর্ণ করার মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করণ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের রোজা শুরু এবং শেষ করার বিষয়টি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ কর (ঈদ কর)। আর যদি আকাশ মেঘলা থাকে, তবে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।’ তিনি শাবান মাসের দিন গণনা খুব গুরুত্বের সাথে করতেন যাতে রমজান শুরু করতে ভুল না হয়। ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা না গেলে তিনি মাস ৩০ দিন পূর্ণ করতেন।
📄 রমজানে রাসূল সা.-এর এবাদতে রাত্রি জাগরণ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগি করতেন। তিনি শুধু নিজেই জাগতেন না, বরং তাঁর পরিবার-পরিজনকেও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। বিশেষ করে রমজানের রাতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কিয়ামুল লাইল বা রাতের সালাত আদায় করতেন। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রমজান মাস এলে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেত, তিনি নামাজে কান্নায় ভেঙে পড়তেন এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতি-মিনতি করতেন। এ মাসে তাঁর ইবাদতের পরিমাণ অন্য সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যেত।