📄 রোজা অবস্থায় মেসওয়াক
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা অবস্থায় মেসওয়াক করতেন। দিনের শুরু বা শেষভাগে মেসওয়াক করতে তিনি কোনো প্রকার দ্বিধা করতেন না। তিনি বলতেন, ‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদেরকে প্রত্যেক ওযুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ রোজাদার অবস্থায় মেসওয়াক করা মাকরুহ বা নিষিদ্ধ—এমন কোনো প্রমাণ তাঁর আমল থেকে পাওয়া যায় না; বরং তিনি রোজা রেখেও নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করতেন।
📄 রাতে অপবিত্র অবস্থায় রোজার নিয়ত করা
কখনও কখনও এমন হতো যে, অপবিত্র অবস্থায় (জানাবাত) থাকালে ফজর উদিত হয়ে যেত। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করতেন এবং রোজা রাখতেন। তিনি অপবিত্রতার কারণে রোজা বাদ দিতেন না। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা) ও উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) স্বপ্নদোষ ব্যতীতই স্ত্রী সহবাসের ফলে নাপাক অবস্থায় ফজর করতেন, অতঃপর গোসল করতেন এবং রোজা রাখতেন। তিনি কাযা করতেন না।
📄 তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে মাথায় পানি দেয়া
প্রচণ্ড গরম বা পিপাসার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা অবস্থায় মাথায় পানি ঢালতেন। রোজা রেখে শরীরে বা মাথায় পানি ব্যবহার করা বা গোসল করাতে কোনো বাধা নেই। সাহাবায়ে কিরাম থেকেও বর্ণিত আছে যে, তাঁরা গরমের তীব্রতায় রোজা অবস্থায় মাথায় পানি দিতেন এবং ভিজা কাপড় গায়ে জড়িয়ে রাখতেন।
📄 কুলকুচা করা ও নাকে পানি দেয়া
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা অবস্থায় ওযুর সময় কুলি করতেন এবং নাকে পানি দিতেন। তবে তিনি রোজাদারকে নাকের ভেতর পানি টেনে নেওয়ার (ইস্তিনশাক) ব্যাপারে অতিরিক্ত করতে নিষেধ করেছেন, যাতে পানি গলার ভেতরে চলে না যায়। তিনি বলেছেন, ‘তুমি নাকে খুব ভালোভাবে পানি দাও, তবে যদি তুমি রোজাদার হও তবে নয়।’ এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ কুলি ও নাকে পানি দেওয়ায় রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।