📄 রাসূল যেভাবে রোজা পালন করতেন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে সাহরি ও ইফতারের ব্যাপারে বিশেষ নিয়ম পালন করতেন। তিনি সাহরি খাওয়াকে বরকতময় বলে উল্লেখ করেছেন এবং সাহরি খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি শেষ সময়ে সাহরি খেতেন এবং সূর্য ডোবার সাথে সাথে জলদি ইফতার করতেন। ইফতারের ক্ষেত্রে তিনি তাজা খেজুর বা খোরমা পছন্দ করতেন। তা না পেলে সাধারণ খেজুর, আর তাও না পেলে কয়েক ঢোক পানি পান করে ইফতার করতেন। সাহরি ও ইফতারের মাঝখানে তিনি অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করতেন না।
📄 ইফতার কালে রাসূল সা.-এর দোয়া
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় দোয়া পড়তেন। তিনি বলতেন:
‘জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ’
অর্থ: পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাহেন তো সওয়াব নির্ধারিত হয়েছে।
তিনি রোজাদারদের ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন।
📄 রোজা অবস্থায় মেসওয়াক
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা অবস্থায় মেসওয়াক করতেন। দিনের শুরু বা শেষভাগে মেসওয়াক করতে তিনি কোনো প্রকার দ্বিধা করতেন না। তিনি বলতেন, ‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদেরকে প্রত্যেক ওযুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ রোজাদার অবস্থায় মেসওয়াক করা মাকরুহ বা নিষিদ্ধ—এমন কোনো প্রমাণ তাঁর আমল থেকে পাওয়া যায় না; বরং তিনি রোজা রেখেও নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করতেন।
📄 রাতে অপবিত্র অবস্থায় রোজার নিয়ত করা
কখনও কখনও এমন হতো যে, অপবিত্র অবস্থায় (জানাবাত) থাকালে ফজর উদিত হয়ে যেত। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করতেন এবং রোজা রাখতেন। তিনি অপবিত্রতার কারণে রোজা বাদ দিতেন না। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা) ও উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) স্বপ্নদোষ ব্যতীতই স্ত্রী সহবাসের ফলে নাপাক অবস্থায় ফজর করতেন, অতঃপর গোসল করতেন এবং রোজা রাখতেন। তিনি কাযা করতেন না।