📄 রমজানে আল্লাহ তাআলার সাথে রাসূল সা.-এর আচরণ
রমজান মাসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল ও ইবাদত সাধারণ দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেড়ে যেত। জিবরাঈল (আ) রমজান মাসে প্রতি রাতে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করে শোনাতেন। নবী করীম (সা) যখন জিবরাঈল (আ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি কল্যাণকর কাজে প্রবহমান বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল হতেন। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। রমজানে তাঁর দানশীলতা ও বদান্যতা অন্য সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যেত। এ মাসে তিনি বিভিন্ন ধরণের ইবাদত যেমন—কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, ইতিকাফ, সালাত ও দান-সদকায় অধিক সময় ব্যয় করতেন।
📄 রাসূল যেভাবে রোজা পালন করতেন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে সাহরি ও ইফতারের ব্যাপারে বিশেষ নিয়ম পালন করতেন। তিনি সাহরি খাওয়াকে বরকতময় বলে উল্লেখ করেছেন এবং সাহরি খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি শেষ সময়ে সাহরি খেতেন এবং সূর্য ডোবার সাথে সাথে জলদি ইফতার করতেন। ইফতারের ক্ষেত্রে তিনি তাজা খেজুর বা খোরমা পছন্দ করতেন। তা না পেলে সাধারণ খেজুর, আর তাও না পেলে কয়েক ঢোক পানি পান করে ইফতার করতেন। সাহরি ও ইফতারের মাঝখানে তিনি অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করতেন না।
📄 ইফতার কালে রাসূল সা.-এর দোয়া
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় দোয়া পড়তেন। তিনি বলতেন:
‘জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ’
অর্থ: পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাহেন তো সওয়াব নির্ধারিত হয়েছে।
তিনি রোজাদারদের ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন।
📄 রোজা অবস্থায় মেসওয়াক
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা অবস্থায় মেসওয়াক করতেন। দিনের শুরু বা শেষভাগে মেসওয়াক করতে তিনি কোনো প্রকার দ্বিধা করতেন না। তিনি বলতেন, ‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদেরকে প্রত্যেক ওযুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ রোজাদার অবস্থায় মেসওয়াক করা মাকরুহ বা নিষিদ্ধ—এমন কোনো প্রমাণ তাঁর আমল থেকে পাওয়া যায় না; বরং তিনি রোজা রেখেও নিয়মিত মেসওয়াক ব্যবহার করতেন।