📘 রাষ্ট্র রাজনীতি ও ইসলাম > 📄 সেক্যুলারিজম মুসলিমজাতির মধ্যে ছড়াল যেভাবে

📄 সেক্যুলারিজম মুসলিমজাতির মধ্যে ছড়াল যেভাবে


মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম অনুপ্রবেশের গল্পটি বেশ দীর্ঘ ও কুটিল। এর সূচনা হয়েছিল ১৯ শতকে, এই ধারা আজও প্রবহমান। এখানে সেই গল্প বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। এ বিষয়ে বিস্তর বইপত্র গবেষণা রচিত হয়েছে। এখানে আমি বরং বিশেষ কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাচ্ছি-

ক. সেক্যুলারিজম একটি জটিল গঠনের দর্শন। এর প্রভাব বিস্তারের পরিধি অনেক প্রশস্ত। যদিও প্রথমে এটি শুরু হয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে; কিন্তু জ্ঞান ও কর্মগত অসংখ্য ময়দান পাড়ি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নিজস্ব গতিতে একসময় গিয়ে এটি উপনীত হয় প্রতিটি মানুষের ব্যক্তি জীবনে। এ হল সেই মরণরোগ, যা দেহকে ধীরে নিঃশব্দে শেষ করে দেয়। এর বিষাক্ততার পরিধি দিনে দিনে একটু একটু করে বিস্তৃত হয়, কিন্তু টেরটি পাওয়া যায় না!

এ বিষয়টিতে সতর্ক করার দরকার ছিল। কারণ, আমি দেখেছি, মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম অনুপ্রবেশের ইতিহাস বলতে গিয়ে অনেকে ভাসাভাসা ও অসম্পূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা সেক্যুলারিজম বিস্তারের পুরো বিষয়টি সীমিত করে ফেলছেন সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা বিশেষ কিছু গ্রন্থের মধ্যে। কেউ কেউ চিহ্নিত করছেন সে সকল রাজনৈতিক লিডারকে, যারা সেক্যুলার চিন্তা প্রসারে সহায়ক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়; বরং আরও বেশি জটিল ও বৃহৎ।

খ. সেক্যুলারিজম একটি নিরেট পশ্চিমা প্রোডাক্ট। পেছনে এ আলোচনা আমরা করেছি। এবং ইসলামি বিশ্বে এটি অনুপ্রবেশ করেছে বারুদের জোরে, প্রলয়ংকরী ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যবাদের ট্যাংকের পিঠে চড়ে। মোটের ওপর এ অংশটুকুতে সবাই একমত; কিন্তু এখানে অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক বাস্তবতা আছে। এ থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখার সুযোগ নেই। সেই বাস্তবতাটি হল, ইসলামি বিশ্বের ভেতরগত অবস্থা ভালো ছিল না। এর নানা দিকে দেখা দিয়েছিল পতন ও ভঙ্গুরতা। শতাব্দীর পর শতাব্দী এখানে একটি ভয়ানক স্থবিরতা ও উৎকর্ষহীনতা বিরাজ করেছে। নিজেদের ভেতরগত এই শোচনীয় অবস্থাটি ইউরোপিয়ান চিন্তাযুদ্ধের রণক্ষেত্র হিসেবে একে উপযোগী করে তুলেছে। এ মাটি বিষাক্ত বীজের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে প্রস্তুত হয়েছিল নিজে থেকেই। সেক্যুলারিজম বিস্তারের ইতিহাস লিখতে গিয়ে এ বিষয়টিও অনেকে উপেক্ষা করে গেছেন।

ইসলামি বিশ্বে সেক্যুলারিজম প্রবেশের বিষয়টি একই ধারায় প্রবাহিত হয়নি। একেক ভূমিতে এই যুদ্ধের প্রণোদনা ছিল একেক রকম, ভেতরগত পরিস্থিতিও ছিল বিবিধ। সুতরাং, মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম কীভাবে বিস্তারিত হল, সে গল্প বলার সময় এই দিকগুলো মাথায় রাখা জরুরি। কোনো একটি পরিস্থিতি ও কারণকে সকল দেশের ক্ষেত্রে একাট্টাভাবে প্রয়োগ করা সঙ্গত নয়।

মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম অনুপ্রবেশের গল্পটি বেশ দীর্ঘ ও কুটিল। এর সূচনা হয়েছিল ১৯ শতকে, এই ধারা আজও প্রবহমান। এখানে সেই গল্প বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। এ বিষয়ে বিস্তর বইপত্র গবেষণা রচিত হয়েছে। এখানে আমি বরং বিশেষ কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাচ্ছি-

ক. সেক্যুলারিজম একটি জটিল গঠনের দর্শন। এর প্রভাব বিস্তারের পরিধি অনেক প্রশস্ত। যদিও প্রথমে এটি শুরু হয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে; কিন্তু জ্ঞান ও কর্মগত অসংখ্য ময়দান পাড়ি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নিজস্ব গতিতে একসময় গিয়ে এটি উপনীত হয় প্রতিটি মানুষের ব্যক্তি জীবনে। এ হল সেই মরণরোগ, যা দেহকে ধীরে নিঃশব্দে শেষ করে দেয়। এর বিষাক্ততার পরিধি দিনে দিনে একটু একটু করে বিস্তৃত হয়, কিন্তু টেরটি পাওয়া যায় না!

এ বিষয়টিতে সতর্ক করার দরকার ছিল। কারণ, আমি দেখেছি, মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম অনুপ্রবেশের ইতিহাস বলতে গিয়ে অনেকে ভাসাভাসা ও অসম্পূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা সেক্যুলারিজম বিস্তারের পুরো বিষয়টি সীমিত করে ফেলছেন সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা বিশেষ কিছু গ্রন্থের মধ্যে। কেউ কেউ চিহ্নিত করছেন সে সকল রাজনৈতিক লিডারকে, যারা সেক্যুলার চিন্তা প্রসারে সহায়ক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়; বরং আরও বেশি জটিল ও বৃহৎ।

খ. সেক্যুলারিজম একটি নিরেট পশ্চিমা প্রোডাক্ট। পেছনে এ আলোচনা আমরা করেছি। এবং ইসলামি বিশ্বে এটি অনুপ্রবেশ করেছে বারুদের জোরে, প্রলয়ংকরী ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যবাদের ট্যাংকের পিঠে চড়ে। মোটের ওপর এ অংশটুকুতে সবাই একমত; কিন্তু এখানে অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক বাস্তবতা আছে। এ থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখার সুযোগ নেই। সেই বাস্তবতাটি হল, ইসলামি বিশ্বের ভেতরগত অবস্থা ভালো ছিল না। এর নানা দিকে দেখা দিয়েছিল পতন ও ভঙ্গুরতা। শতাব্দীর পর শতাব্দী এখানে একটি ভয়ানক স্থবিরতা ও উৎকর্ষহীনতা বিরাজ করেছে। নিজেদের ভেতরগত এই শোচনীয় অবস্থাটি ইউরোপিয়ান চিন্তাযুদ্ধের রণক্ষেত্র হিসেবে একে উপযোগী করে তুলেছে। এ মাটি বিষাক্ত বীজের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে প্রস্তুত হয়েছিল নিজে থেকেই। সেক্যুলারিজম বিস্তারের ইতিহাস লিখতে গিয়ে এ বিষয়টিও অনেকে উপেক্ষা করে গেছেন।

ইসলামি বিশ্বে সেক্যুলারিজম প্রবেশের বিষয়টি একই ধারায় প্রবাহিত হয়নি। একেক ভূমিতে এই যুদ্ধের প্রণোদনা ছিল একেক রকম, ভেতরগত পরিস্থিতিও ছিল বিবিধ। সুতরাং, মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম কীভাবে বিস্তারিত হল, সে গল্প বলার সময় এই দিকগুলো মাথায় রাখা জরুরি। কোনো একটি পরিস্থিতি ও কারণকে সকল দেশের ক্ষেত্রে একাট্টাভাবে প্রয়োগ করা সঙ্গত নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00