📄 শরিয়তের দৃষ্টিতে সেক্যুলারিজমের বিধান
সেক্যুলারিজমকে আপনি যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করুন এবং যে আকৃতিতেই উপস্থাপন করুন, কোনোভাবেই এটি ইসলামের সাথে যায় না। সংক্ষিপ্তভাবে নয়, বিস্তারিত আকারেও নয়। কারণ, ইসলাম মানেই আল্লাহর বিধানের সামনে নতজানু হয়ে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করা। আর সেক্যুলারিজম ঠিক এর উলটোটাই শিক্ষা দেয়। অর্থাৎ, শরিয়তের বক্তব্যগুলো এড়িয়ে চলা এবং মানুষের জীবনে আল্লাহ মনোনীত শরিয়তটি মূল কেন্দ্র আকারে হাজির হওয়াকে অস্বীকার করার প্রবণতা ও উদ্দীপনা তৈরি করে।
সেক্যুলারিজমকে আপনি যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করুন এবং যে আকৃতিতেই উপস্থাপন করুন, কোনোভাবেই এটি ইসলামের সাথে যায় না। সংক্ষিপ্তভাবে নয়, বিস্তারিত আকারেও নয়। কারণ, ইসলাম মানেই আল্লাহর বিধানের সামনে নতজানু হয়ে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করা। আর সেক্যুলারিজম ঠিক এর উলটোটাই শিক্ষা দেয়। অর্থাৎ, শরিয়তের বক্তব্যগুলো এড়িয়ে চলা এবং মানুষের জীবনে আল্লাহ মনোনীত শরিয়তটি মূল কেন্দ্র আকারে হাজির হওয়াকে অস্বীকার করার প্রবণতা ও উদ্দীপনা তৈরি করে।
📄 ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতার সংঘাত
ইসলামের সাথে সেক্যুলারিজমের সংঘর্ষের জায়গাগুলো সংক্ষিপ্তভাবে এমন :-
১. সেক্যুলারিজম-আল্লাহর রুবুবিয়াতের মধ্যে শিরক
রুবুবিয়াত মানে হল জাগতিক ও শরয়ি-সকল বিষয়ে আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র কর্তৃত্বের অধিকারী, সার্বভৌম ক্ষমতাবান। এ প্রসঙ্গে দুটো বিষয়কেই একসাথে উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন— আল-খালকু ওয়াল আমর (الخلق والامر)।
জাগতিক বিষয়: যেমন, সৃষ্টি করা, গঠন ও উৎপন্ন করা, অস্তিত্বে আনা, জগৎ পরিচালনা করা, এর সমস্ত কর্ম ও বিষয় সম্পন্ন ও সম্পাদন করা ইত্যাদি। শরয়ি বিষয়: যেমন, আদেশ-নিষেধ, হালাল-হারাম ও শরিয়তের অন্যান্য বিধান। শরয়ি বিষয়ে আল্লাহ তায়ালাকে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী বিশ্বাস করার অর্থ হল, আল্লাহ যা হালাল করেছেন এর বাইরে আর কোনো হালাল নেই; তিনি যা হারাম বলে ঘোষণা করেছেন, এর বাইরে অন্য কোনো হারাম নেই, এবং আল্লাহপ্রদত্ত শরিয়তের বাইরে আর কোনো দীন নেই।
আদি ইবনে হাতিম রা. একবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তেলাওয়াত করতে শুনলেন ( اتخذوا احبارهم ورهبانهم اربابا من دون الله —দিয়ে তারা তাদের ধর্মগুরুদের রব হিসেবে গ্রহণ করেছে), তখন তিনি বললেন, আমরা তো তাদের ইবাদত করতাম না! নবিজি বললেন, ব্যাপারটি কি এমন ছিল না যে, আল্লাহ যা হালাল করেছেন, তারা সেগুলোকে হারাম বলে ঘোষণা করত, এরপর তোমরাও তা হারাম বলে বিশ্বাস করতে; এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তারা সেগুলোকে হালাল বলে ঘোষণা করত, তারপর তোমরাও তা হালাল বলে বিশ্বাস করতে? আদি ইবনে হাতিম রা. বললেন, হ্যাঁ, বিষয়টি এমনই ছিল। নবিজি বললেন, এটিই তাদের উপাসনা করা।
এদিকে সেক্যুলারিজম দাবি করে, রাজনীতিতে ধর্ম অচল এবং ধর্মের ভেতরে রাজনীতির কোনো বিষয় নেই। সুতরাং, ঐশী বিধানাবলি বলতে কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়; বরং মানুষ যে আইনের ওপর একমত হবে, কেবল সেটিই হবে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য ও পালনীয়। আইনপ্রণয়নের বিষয়টি দীন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও পরিপূর্ণরূপে দীনের আওতামুক্ত। অন্যভাবে বললে, সেক্যুলারিজম শরিয়তের বিধানাবলির পুরো বিষয়টিকেই অস্বীকার করে।
২. সেক্যুলারিজম-উলুহিয়্যাতের মধ্যে শিরক
উলুহিয়্যাতের একত্ববাদ বা ইলাহ ও উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালাকে এক বলে স্বীকার করার মধ্যে বড় দুটি বিষয় রয়েছে :
নিয়ত ও ইচ্ছার ক্ষেত্রে একত্ববাদ : অর্থাৎ, নামাজ রোজা হজ নজর-মান্নত ইত্যাদি এবাদত জাতীয় সকল কিছু একমাত্র আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করা এবং এসবের জন্য তিনিই একমাত্র উপযুক্ত ও একচ্ছত্র দাবিদার বলে বিশ্বাস করা এবং মুখে স্বীকার করা।
আনুগত্য ও অনুসরণের ক্ষেত্রে একত্ববাদ : অর্থাৎ, পূর্ণ আনুগত্য ও সবিনয় সমর্পণ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই হওয়া। আর এটি বাস্তবায়িত হবে যখন জীবনের সকল বিষয়ে তাঁর শরিয়তকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
"বলুন, নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে সিরাতে মুস্তাকিমের দিশা দিয়েছেন। ...এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সকল কিছু একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই, যিনি সকল জগতের রব। তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং এর জন্যই আমাকে আদেশ করা হয়েছে। আর আমি প্রথম মুসলমান।"⁷⁸
প্রথম আয়াতটি আনুগত্য ও অনুসরণ বলতে কী বোঝায় সেদিকে ইঙ্গিত করছে এবং পরের দুটো আয়াত ইঙ্গিত করছে ইচ্ছা ও নিয়তের একত্ববাদের দিকে। সুতরাং, আল্লাহর শরিয়তের বাইরে অন্য কিছুকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা হল ইবাদতের মধ্যে শিরক। এ কারণে সকল আলেম এ ব্যাপারে একমত যে, সিদ্ধান্ত ও ফয়সালা প্রদানের জায়গা থেকে আল্লাহর শরিয়তকে হটিয়ে দেওয়া অনেক বড় অপরাধ।
৩. সেক্যুলারিজম-নবুয়তের মধ্যে কলঙ্ক
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পরিপূর্ণ একটি দীন দিয়ে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে আকিদার বিষয়গুলো যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে শরিয়ত বা আল্লাহপ্রদত্ত বিধিবিধান। সকল মুসলমানের জন্য আবশ্যক হল তিনি যে সকল বিষয় জানিয়ে গেছেন, সবকিছুকে সত্য বলে দ্বিধাহীনচিত্তে গ্রহণ করা এবং শরিয়ত আকারে যে আদেশ ও নিষেধ রেখে গেছেন, তার পরিপূর্ণ অনুসরণ করা।
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, অপরদিকে তাঁর নবিকে রাসুল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করার অর্থ হল, সবিনয় আত্মসমর্পণের সাথে তাঁর অনুসরণ করা এবং তাঁর সামনে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ন্যস্ত করা; এমন যে, তার কাছে তিনি নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়। ফলে সে তার বাণী ছাড়া অন্য কোথাও থেকে আলো ও হেদায়েত গ্রহণ করে না, জীবনের সকল বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ হতে ফয়সালাকারী হিসেবে একমাত্র তাঁকেই গ্রহণ করে; বিপরীতে অন্য কাউকে সিদ্ধান্তদাতা হিসেবে মান্য করে না, এবং তিনি ব্যতীত আর কারও ফয়সালায় কখনো সে সন্তুষ্ট হয় না।
অথচ সেক্যুলারিজম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়ে আসা এই শরিয়ত বাতিল করে দেয়। এবং একে রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্য সকল বিষয়ে মানুষের জীবনে সামান্য ভূমিকা রাখা থেকেও খারিজ করে দেয়। বলুন, নবুয়তের সাথে এর চেয়ে বড় কুফরি আর কী হতে পারে!
টিকাঃ
৭৮. সুরা আনআম : ১৬১-১৬৩
ইসলামের সাথে সেক্যুলারিজমের সংঘর্ষের জায়গাগুলো সংক্ষিপ্তভাবে এমন :-
১. সেক্যুলারিজম-আল্লাহর রুবুবিয়াতের মধ্যে শিরক
রুবুবিয়াত মানে হল জাগতিক ও শরয়ি-সকল বিষয়ে আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র কর্তৃত্বের অধিকারী, সার্বভৌম ক্ষমতাবান। এ প্রসঙ্গে দুটো বিষয়কেই একসাথে উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন— আল-খালকু ওয়াল আমর (الخلق والامر)।
জাগতিক বিষয়: যেমন, সৃষ্টি করা, গঠন ও উৎপন্ন করা, অস্তিত্বে আনা, জগৎ পরিচালনা করা, এর সমস্ত কর্ম ও বিষয় সম্পন্ন ও সম্পাদন করা ইত্যাদি। শরয়ি বিষয়: যেমন, আদেশ-নিষেধ, হালাল-হারাম ও শরিয়তের অন্যান্য বিধান। শরয়ি বিষয়ে আল্লাহ তায়ালাকে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী বিশ্বাস করার অর্থ হল, আল্লাহ যা হালাল করেছেন এর বাইরে আর কোনো হালাল নেই; তিনি যা হারাম বলে ঘোষণা করেছেন, এর বাইরে অন্য কোনো হারাম নেই, এবং আল্লাহপ্রদত্ত শরিয়তের বাইরে আর কোনো দীন নেই।
আদি ইবনে হাতিম রা. একবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তেলাওয়াত করতে শুনলেন ( اتخذوا احبارهم ورهبانهم اربابا من دون الله —দিয়ে তারা তাদের ধর্মগুরুদের রব হিসেবে গ্রহণ করেছে), তখন তিনি বললেন, আমরা তো তাদের ইবাদত করতাম না! নবিজি বললেন, ব্যাপারটি কি এমন ছিল না যে, আল্লাহ যা হালাল করেছেন, তারা সেগুলোকে হারাম বলে ঘোষণা করত, এরপর তোমরাও তা হারাম বলে বিশ্বাস করতে; এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তারা সেগুলোকে হালাল বলে ঘোষণা করত, তারপর তোমরাও তা হালাল বলে বিশ্বাস করতে? আদি ইবনে হাতিম রা. বললেন, হ্যাঁ, বিষয়টি এমনই ছিল। নবিজি বললেন, এটিই তাদের উপাসনা করা।
এদিকে সেক্যুলারিজম দাবি করে, রাজনীতিতে ধর্ম অচল এবং ধর্মের ভেতরে রাজনীতির কোনো বিষয় নেই। সুতরাং, ঐশী বিধানাবলি বলতে কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়; বরং মানুষ যে আইনের ওপর একমত হবে, কেবল সেটিই হবে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য ও পালনীয়। আইনপ্রণয়নের বিষয়টি দীন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও পরিপূর্ণরূপে দীনের আওতামুক্ত। অন্যভাবে বললে, সেক্যুলারিজম শরিয়তের বিধানাবলির পুরো বিষয়টিকেই অস্বীকার করে।
২. সেক্যুলারিজম-উলুহিয়্যাতের মধ্যে শিরক
উলুহিয়্যাতের একত্ববাদ বা ইলাহ ও উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালাকে এক বলে স্বীকার করার মধ্যে বড় দুটি বিষয় রয়েছে :
নিয়ত ও ইচ্ছার ক্ষেত্রে একত্ববাদ : অর্থাৎ, নামাজ রোজা হজ নজর-মান্নত ইত্যাদি এবাদত জাতীয় সকল কিছু একমাত্র আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করা এবং এসবের জন্য তিনিই একমাত্র উপযুক্ত ও একচ্ছত্র দাবিদার বলে বিশ্বাস করা এবং মুখে স্বীকার করা।
আনুগত্য ও অনুসরণের ক্ষেত্রে একত্ববাদ : অর্থাৎ, পূর্ণ আনুগত্য ও সবিনয় সমর্পণ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই হওয়া। আর এটি বাস্তবায়িত হবে যখন জীবনের সকল বিষয়ে তাঁর শরিয়তকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
"বলুন, নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে সিরাতে মুস্তাকিমের দিশা দিয়েছেন। ...এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সকল কিছু একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই, যিনি সকল জগতের রব। তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং এর জন্যই আমাকে আদেশ করা হয়েছে। আর আমি প্রথম মুসলমান।"⁷⁸
প্রথম আয়াতটি আনুগত্য ও অনুসরণ বলতে কী বোঝায় সেদিকে ইঙ্গিত করছে এবং পরের দুটো আয়াত ইঙ্গিত করছে ইচ্ছা ও নিয়তের একত্ববাদের দিকে। সুতরাং, আল্লাহর শরিয়তের বাইরে অন্য কিছুকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা হল ইবাদতের মধ্যে শিরক। এ কারণে সকল আলেম এ ব্যাপারে একমত যে, সিদ্ধান্ত ও ফয়সালা প্রদানের জায়গা থেকে আল্লাহর শরিয়তকে হটিয়ে দেওয়া অনেক বড় অপরাধ।
৩. সেক্যুলারিজম-নবুয়তের মধ্যে কলঙ্ক
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পরিপূর্ণ একটি দীন দিয়ে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে আকিদার বিষয়গুলো যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে শরিয়ত বা আল্লাহপ্রদত্ত বিধিবিধান। সকল মুসলমানের জন্য আবশ্যক হল তিনি যে সকল বিষয় জানিয়ে গেছেন, সবকিছুকে সত্য বলে দ্বিধাহীনচিত্তে গ্রহণ করা এবং শরিয়ত আকারে যে আদেশ ও নিষেধ রেখে গেছেন, তার পরিপূর্ণ অনুসরণ করা।
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, অপরদিকে তাঁর নবিকে রাসুল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করার অর্থ হল, সবিনয় আত্মসমর্পণের সাথে তাঁর অনুসরণ করা এবং তাঁর সামনে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ন্যস্ত করা; এমন যে, তার কাছে তিনি নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়। ফলে সে তার বাণী ছাড়া অন্য কোথাও থেকে আলো ও হেদায়েত গ্রহণ করে না, জীবনের সকল বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ হতে ফয়সালাকারী হিসেবে একমাত্র তাঁকেই গ্রহণ করে; বিপরীতে অন্য কাউকে সিদ্ধান্তদাতা হিসেবে মান্য করে না, এবং তিনি ব্যতীত আর কারও ফয়সালায় কখনো সে সন্তুষ্ট হয় না।
অথচ সেক্যুলারিজম নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়ে আসা এই শরিয়ত বাতিল করে দেয়। এবং একে রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্য সকল বিষয়ে মানুষের জীবনে সামান্য ভূমিকা রাখা থেকেও খারিজ করে দেয়। বলুন, নবুয়তের সাথে এর চেয়ে বড় কুফরি আর কী হতে পারে!
টিকাঃ
৭৮. সুরা আনআম : ১৬১-১৬৩
📄 মুসলিম সেক্যুলারদের ঈমানের ধরন
সেক্যুলারিজম যখন আল্লাহর শরিয়ত বাতিল করে দেয়, তখন ইমানের মর্ম থেকে আনুগত্যের মূল বিষয়টি হারিয়ে যায়। ফলে, নবিজির আনীত সংবাদসংশ্লিষ্ট বিশ্বাস ছাড়া ইমানের আর কিছুই বাকি থাকে না। এমন ইমান হল নবিজির ব্যাপারে ইহুদিদের বিশ্বাসটির মতো। তারা গভীরভাবে জানত যে তিনি সত্য নবি, তা সত্ত্বেও তাঁর আনুগত্য গ্রহণ করেনি।
সেক্যুলারিজম যখন আল্লাহর শরিয়ত বাতিল করে দেয়, তখন ইমানের মর্ম থেকে আনুগত্যের মূল বিষয়টি হারিয়ে যায়। ফলে, নবিজির আনীত সংবাদসংশ্লিষ্ট বিশ্বাস ছাড়া ইমানের আর কিছুই বাকি থাকে না। এমন ইমান হল নবিজির ব্যাপারে ইহুদিদের বিশ্বাসটির মতো। তারা গভীরভাবে জানত যে তিনি সত্য নবি, তা সত্ত্বেও তাঁর আনুগত্য গ্রহণ করেনি।
📄 সেক্যুলারিজম মুসলিমজাতির মধ্যে ছড়াল যেভাবে
মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম অনুপ্রবেশের গল্পটি বেশ দীর্ঘ ও কুটিল। এর সূচনা হয়েছিল ১৯ শতকে, এই ধারা আজও প্রবহমান। এখানে সেই গল্প বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। এ বিষয়ে বিস্তর বইপত্র গবেষণা রচিত হয়েছে। এখানে আমি বরং বিশেষ কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাচ্ছি-
ক. সেক্যুলারিজম একটি জটিল গঠনের দর্শন। এর প্রভাব বিস্তারের পরিধি অনেক প্রশস্ত। যদিও প্রথমে এটি শুরু হয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে; কিন্তু জ্ঞান ও কর্মগত অসংখ্য ময়দান পাড়ি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নিজস্ব গতিতে একসময় গিয়ে এটি উপনীত হয় প্রতিটি মানুষের ব্যক্তি জীবনে। এ হল সেই মরণরোগ, যা দেহকে ধীরে নিঃশব্দে শেষ করে দেয়। এর বিষাক্ততার পরিধি দিনে দিনে একটু একটু করে বিস্তৃত হয়, কিন্তু টেরটি পাওয়া যায় না!
এ বিষয়টিতে সতর্ক করার দরকার ছিল। কারণ, আমি দেখেছি, মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম অনুপ্রবেশের ইতিহাস বলতে গিয়ে অনেকে ভাসাভাসা ও অসম্পূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা সেক্যুলারিজম বিস্তারের পুরো বিষয়টি সীমিত করে ফেলছেন সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা বিশেষ কিছু গ্রন্থের মধ্যে। কেউ কেউ চিহ্নিত করছেন সে সকল রাজনৈতিক লিডারকে, যারা সেক্যুলার চিন্তা প্রসারে সহায়ক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়; বরং আরও বেশি জটিল ও বৃহৎ।
খ. সেক্যুলারিজম একটি নিরেট পশ্চিমা প্রোডাক্ট। পেছনে এ আলোচনা আমরা করেছি। এবং ইসলামি বিশ্বে এটি অনুপ্রবেশ করেছে বারুদের জোরে, প্রলয়ংকরী ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যবাদের ট্যাংকের পিঠে চড়ে। মোটের ওপর এ অংশটুকুতে সবাই একমত; কিন্তু এখানে অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক বাস্তবতা আছে। এ থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখার সুযোগ নেই। সেই বাস্তবতাটি হল, ইসলামি বিশ্বের ভেতরগত অবস্থা ভালো ছিল না। এর নানা দিকে দেখা দিয়েছিল পতন ও ভঙ্গুরতা। শতাব্দীর পর শতাব্দী এখানে একটি ভয়ানক স্থবিরতা ও উৎকর্ষহীনতা বিরাজ করেছে। নিজেদের ভেতরগত এই শোচনীয় অবস্থাটি ইউরোপিয়ান চিন্তাযুদ্ধের রণক্ষেত্র হিসেবে একে উপযোগী করে তুলেছে। এ মাটি বিষাক্ত বীজের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে প্রস্তুত হয়েছিল নিজে থেকেই। সেক্যুলারিজম বিস্তারের ইতিহাস লিখতে গিয়ে এ বিষয়টিও অনেকে উপেক্ষা করে গেছেন।
ইসলামি বিশ্বে সেক্যুলারিজম প্রবেশের বিষয়টি একই ধারায় প্রবাহিত হয়নি। একেক ভূমিতে এই যুদ্ধের প্রণোদনা ছিল একেক রকম, ভেতরগত পরিস্থিতিও ছিল বিবিধ। সুতরাং, মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম কীভাবে বিস্তারিত হল, সে গল্প বলার সময় এই দিকগুলো মাথায় রাখা জরুরি। কোনো একটি পরিস্থিতি ও কারণকে সকল দেশের ক্ষেত্রে একাট্টাভাবে প্রয়োগ করা সঙ্গত নয়।
মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম অনুপ্রবেশের গল্পটি বেশ দীর্ঘ ও কুটিল। এর সূচনা হয়েছিল ১৯ শতকে, এই ধারা আজও প্রবহমান। এখানে সেই গল্প বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। এ বিষয়ে বিস্তর বইপত্র গবেষণা রচিত হয়েছে। এখানে আমি বরং বিশেষ কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাচ্ছি-
ক. সেক্যুলারিজম একটি জটিল গঠনের দর্শন। এর প্রভাব বিস্তারের পরিধি অনেক প্রশস্ত। যদিও প্রথমে এটি শুরু হয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে; কিন্তু জ্ঞান ও কর্মগত অসংখ্য ময়দান পাড়ি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নিজস্ব গতিতে একসময় গিয়ে এটি উপনীত হয় প্রতিটি মানুষের ব্যক্তি জীবনে। এ হল সেই মরণরোগ, যা দেহকে ধীরে নিঃশব্দে শেষ করে দেয়। এর বিষাক্ততার পরিধি দিনে দিনে একটু একটু করে বিস্তৃত হয়, কিন্তু টেরটি পাওয়া যায় না!
এ বিষয়টিতে সতর্ক করার দরকার ছিল। কারণ, আমি দেখেছি, মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম অনুপ্রবেশের ইতিহাস বলতে গিয়ে অনেকে ভাসাভাসা ও অসম্পূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা সেক্যুলারিজম বিস্তারের পুরো বিষয়টি সীমিত করে ফেলছেন সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা বিশেষ কিছু গ্রন্থের মধ্যে। কেউ কেউ চিহ্নিত করছেন সে সকল রাজনৈতিক লিডারকে, যারা সেক্যুলার চিন্তা প্রসারে সহায়ক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়; বরং আরও বেশি জটিল ও বৃহৎ।
খ. সেক্যুলারিজম একটি নিরেট পশ্চিমা প্রোডাক্ট। পেছনে এ আলোচনা আমরা করেছি। এবং ইসলামি বিশ্বে এটি অনুপ্রবেশ করেছে বারুদের জোরে, প্রলয়ংকরী ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যবাদের ট্যাংকের পিঠে চড়ে। মোটের ওপর এ অংশটুকুতে সবাই একমত; কিন্তু এখানে অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক বাস্তবতা আছে। এ থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখার সুযোগ নেই। সেই বাস্তবতাটি হল, ইসলামি বিশ্বের ভেতরগত অবস্থা ভালো ছিল না। এর নানা দিকে দেখা দিয়েছিল পতন ও ভঙ্গুরতা। শতাব্দীর পর শতাব্দী এখানে একটি ভয়ানক স্থবিরতা ও উৎকর্ষহীনতা বিরাজ করেছে। নিজেদের ভেতরগত এই শোচনীয় অবস্থাটি ইউরোপিয়ান চিন্তাযুদ্ধের রণক্ষেত্র হিসেবে একে উপযোগী করে তুলেছে। এ মাটি বিষাক্ত বীজের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে প্রস্তুত হয়েছিল নিজে থেকেই। সেক্যুলারিজম বিস্তারের ইতিহাস লিখতে গিয়ে এ বিষয়টিও অনেকে উপেক্ষা করে গেছেন।
ইসলামি বিশ্বে সেক্যুলারিজম প্রবেশের বিষয়টি একই ধারায় প্রবাহিত হয়নি। একেক ভূমিতে এই যুদ্ধের প্রণোদনা ছিল একেক রকম, ভেতরগত পরিস্থিতিও ছিল বিবিধ। সুতরাং, মুসলিমবিশ্বে সেক্যুলারিজম কীভাবে বিস্তারিত হল, সে গল্প বলার সময় এই দিকগুলো মাথায় রাখা জরুরি। কোনো একটি পরিস্থিতি ও কারণকে সকল দেশের ক্ষেত্রে একাট্টাভাবে প্রয়োগ করা সঙ্গত নয়।