📄 সেক্যুলারিজমের সূচনা ও পরিণতি
নতুন সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে এই অস্থিরতা তো আছেই, এর বাইরে সেক্যুলারিজমের প্রসিদ্ধ যে সংজ্ঞাটি, অর্থাৎ 'ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করা', এটিকেও তারা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে বৈধ করতে চান। তারা বলেন, কথাটির প্রকৃত মর্ম বুঝতে আমাদের ইতিহাসের মূলের কাছে ফিরে যেতে হবে। এরপর তারা ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় নির্ধারণে এমন এক ঐতিহাসিক সূত্র ও মর্ম পেশ করেন, বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই。
কারণ, ইতিহাসের পাঠকমাত্রই জানেন, ইউরোপে ধর্মনিরপেক্ষতার সূচনাটি কীভাবে হয়েছিল। তারা ধর্মকে প্রথমে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে, এরপর সেই চেতনা ও প্রবণতা ক্রমশ উন্নতি করে একসময় ধর্মকে পুরো জীবন থেকেই বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এভাবে তারা একটি সূচনা থেকে ক্রমশ এগিয়ে একটি পরিণতিতে পৌঁছেছে। এটা একদমই স্বভাবজাত একটা গতি। রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করার মাধ্যমে প্রথম পদক্ষেপটি নেওয়ার পর ধর্মকে পুরো জীবন থেকেই বিচ্ছিন্ন করার পরিণতিতে পৌঁছা পর্যন্ত এ গতি কখনোই থামবে না। বর্তমান মুসলিম জাতি ঠিক এই সূচনার পথটি ধরেই পরিণতির দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে।
📄 এ বইয়ের আলোচ্য সেক্যুলারিজম
এই বইয়ের মূল আলোচনায় 'সেক্যুলারিজম' বলতে আমরা কী বুঝিয়েছি, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার হওয়ার জন্য এই জায়গাটা চিহ্নিত হওয়া জরুরি। এখানে সেক্যুলারিজম বলতে আমরা বুঝিয়েছি—অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিসহ রাজনীতির যে পূর্ণ ধারণা ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মযজ্ঞ, সেখান থেকে সমস্ত ইসলামি মূল্যবোধ খুলে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। অনেক ইসলামপন্থি বুদ্ধিজীবী ও চিন্তক এ ক্ষেত্রগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষতা কবুল করে বসেছেন এবং তাদের বক্তব্য, বিশ্লেষণ ও প্রস্তাবনা এর ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়েছে; কিন্তু পশ্চিমা সংজ্ঞায় ধর্মনিরপেক্ষতার যে সর্বগ্রাসী রূপ, সে পর্যন্ত তারা এখন অবধি পৌঁছাননি।
📄 সেক্যুলারিজমের প্রকরণ ও বিন্যাস
অনেক গবেষক নানা দিক বিবেচনায় সেক্যুলারিজমকে কয়েক ভাগে ভাগ করেছেন। ড. আবদুল ওয়াহহাব মাসিরির ভাগটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। তিনি বলেন, সেক্যুলারিজম মূলত দুই প্রকার : আংশিক সেক্যুলারিজম ও পূর্ণ সেক্যুলারিজম।
আংশিক সেক্যুলারিজম হল শুধুমাত্র রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করা।
পূর্ণ সেক্যুলারিজম একটি পরিপূর্ণ জগৎদর্শন; রাষ্ট্র কিংবা ব্যাপক পরিসরে প্রবাহিত জনজীবনের কিছু দিক থেকে ধর্মকে আলাদা করার মধ্যে এটি সীমিত নয়; বরং এটি ধর্মীয়, চারিত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রথমে সামগ্রিক জীবন ও সমাজ পরিক্রমা থেকে বিচ্ছিন্ন করে, অতঃপর এই মিশন নিয়ে এটি প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিজীবনে গিয়েও হাজির হয়। ব্যক্তির বিশ্বাস ও পবিত্রতাবোধ নিশ্চিহ্ন করে দেয়, বস্তুকেন্দ্রিকতাকে তার চিন্তার কেন্দ্রভূমিতে স্থাপন করে এবং সকল বিষয়ে নিরেট মনোভাব দূর করে দিয়ে একধরনের হেঁয়ালিপূর্ণ আপেক্ষিকতার মনোভাব সৃষ্টি করে।
অনেক গবেষক নানা দিক বিবেচনায় সেক্যুলারিজমকে কয়েক ভাগে ভাগ করেছেন। ড. আবদুল ওয়াহহাব মাসিরির ভাগটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। তিনি বলেন, সেক্যুলারিজম মূলত দুই প্রকার : আংশিক সেক্যুলারিজম ও পূর্ণ সেক্যুলারিজম।
আংশিক সেক্যুলারিজম হল শুধুমাত্র রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করা।
পূর্ণ সেক্যুলারিজম একটি পরিপূর্ণ জগৎদর্শন; রাষ্ট্র কিংবা ব্যাপক পরিসরে প্রবাহিত জনজীবনের কিছু দিক থেকে ধর্মকে আলাদা করার মধ্যে এটি সীমিত নয়; বরং এটি ধর্মীয়, চারিত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রথমে সামগ্রিক জীবন ও সমাজ পরিক্রমা থেকে বিচ্ছিন্ন করে, অতঃপর এই মিশন নিয়ে এটি প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিজীবনে গিয়েও হাজির হয়। ব্যক্তির বিশ্বাস ও পবিত্রতাবোধ নিশ্চিহ্ন করে দেয়, বস্তুকেন্দ্রিকতাকে তার চিন্তার কেন্দ্রভূমিতে স্থাপন করে এবং সকল বিষয়ে নিরেট মনোভাব দূর করে দিয়ে একধরনের হেঁয়ালিপূর্ণ আপেক্ষিকতার মনোভাব সৃষ্টি করে।
📄 সেক্যুলারিজমের নেতিবাচক প্রভাব
সর্বগ্রাসী মূল সেক্যুলারিজমটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার দ্বারা অনেক ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে নৈতিক ও চারিত্রিক মানদণ্ডগুলো হারিয়ে গেছে। সে জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পরিপূর্ণ মূল্যবোধহীন নিছক দক্ষতা ও কথিত সমতার মানদণ্ড।
ফলে অর্থনীতিকে নিছক অর্থনৈতিক মানদণ্ড দিয়ে বিচার করা হয়, রাজনীতিকে মাপা হয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক মানদণ্ড দিয়েই, এবং এখান থেকেই জন্ম নিয়েছে 'আর্ট ফর আর্ট' একটি কুসংস্কার; অর্থাৎ, শিল্প নির্মাণ করতে গিয়ে নৈতিকতা, চরিত্র বা ধর্ম—কোনো কিছুকে গ্রাহ্য করা যাবে না; বরং এখানে একমাত্র অন্বেষা হবে সৌন্দর্যের। এবং বিষয়টি এত দূর এগিয়েছে, এখন নারী-পুরুষের ধারণাটি পর্যন্ত বিচার করা হচ্ছে শুধুমাত্র দেহকেন্দ্রিকতা দিয়ে, চারিত্রিক ও নৈতিক দিক থেকে সে বিচার যত আপত্তিজনকই হোক।
দ্বিতীয় আরেকটি ভাগ সেক্যুলারিজমের প্রসিদ্ধ আরেকটি ভাগ আছে—চরমপন্থি ও মধ্যপন্থি।
চরমপন্থি সেক্যুলারিজম হল, যেটি ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করেই ক্ষান্ত হয় না; বরং পরিপূর্ণরূপে ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে, এতে আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়, নবি-রাসুলকে অস্বীকার করা হয়, নাকচ করা হয় গায়েবের সকল বিশ্বাস, এবং ধর্মের অনুসারীদের তার শত্রুতার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
মধ্যমপন্থি সেক্যুলারিজম হল, যেটি শুধুমাত্র ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করার কথা বলে। ফলে এতে একদিকে যেমন আল্লাহ ও রাসুলের অস্তিত্ব এবং গায়েবের বিশ্বাসগুলোকে নাকচ করা হয় না, অপরদিকে সরাসরি ধর্ম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও ঘোষণা করে না; কিন্তু এ ধারার অনুসারীরা দীনকে ব্যাখ্যা করেন অসম্পূর্ণভাবে। তারা মনে করেন, ধর্ম মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়; রাষ্ট্র ও সমাজ পরিসরে এর কোনো ভূমিকা নেই।
এই ভাগটি মূলত পশ্চিমা মূল সেক্যুলারিজম ইসলামি রাজনীতিবিদ, দায়ি ও আলেমদের ওপর যে ভয়ানক চাপ তৈরি করেছিল, সেখান থেকে জন্ম নিয়েছে। এই চাপের মুখে পড়ে তাদের কেউ কেউ মন্দের ভালো নীতিতে তালাশ করতে লাগলেন ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কোন সেক্যুলারিজমটি বেশি ক্ষতিকর, কোনটি কম।
সর্বগ্রাসী মূল সেক্যুলারিজমটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার দ্বারা অনেক ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্র থেকে নৈতিক ও চারিত্রিক মানদণ্ডগুলো হারিয়ে গেছে। সে জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পরিপূর্ণ মূল্যবোধহীন নিছক দক্ষতা ও কথিত সমতার মানদণ্ড।
ফলে অর্থনীতিকে নিছক অর্থনৈতিক মানদণ্ড দিয়ে বিচার করা হয়, রাজনীতিকে মাপা হয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক মানদণ্ড দিয়েই, এবং এখান থেকেই জন্ম নিয়েছে 'আর্ট ফর আর্ট' একটি কুসংস্কার; অর্থাৎ, শিল্প নির্মাণ করতে গিয়ে নৈতিকতা, চরিত্র বা ধর্ম—কোনো কিছুকে গ্রাহ্য করা যাবে না; বরং এখানে একমাত্র অন্বেষা হবে সৌন্দর্যের। এবং বিষয়টি এত দূর এগিয়েছে, এখন নারী-পুরুষের ধারণাটি পর্যন্ত বিচার করা হচ্ছে শুধুমাত্র দেহকেন্দ্রিকতা দিয়ে, চারিত্রিক ও নৈতিক দিক থেকে সে বিচার যত আপত্তিজনকই হোক।
দ্বিতীয় আরেকটি ভাগ সেক্যুলারিজমের প্রসিদ্ধ আরেকটি ভাগ আছে—চরমপন্থি ও মধ্যপন্থি।
চরমপন্থি সেক্যুলারিজম হল, যেটি ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করেই ক্ষান্ত হয় না; বরং পরিপূর্ণরূপে ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে, এতে আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়, নবি-রাসুলকে অস্বীকার করা হয়, নাকচ করা হয় গায়েবের সকল বিশ্বাস, এবং ধর্মের অনুসারীদের তার শত্রুতার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
মধ্যমপন্থি সেক্যুলারিজম হল, যেটি শুধুমাত্র ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করার কথা বলে। ফলে এতে একদিকে যেমন আল্লাহ ও রাসুলের অস্তিত্ব এবং গায়েবের বিশ্বাসগুলোকে নাকচ করা হয় না, অপরদিকে সরাসরি ধর্ম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও ঘোষণা করে না; কিন্তু এ ধারার অনুসারীরা দীনকে ব্যাখ্যা করেন অসম্পূর্ণভাবে। তারা মনে করেন, ধর্ম মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়; রাষ্ট্র ও সমাজ পরিসরে এর কোনো ভূমিকা নেই।
এই ভাগটি মূলত পশ্চিমা মূল সেক্যুলারিজম ইসলামি রাজনীতিবিদ, দায়ি ও আলেমদের ওপর যে ভয়ানক চাপ তৈরি করেছিল, সেখান থেকে জন্ম নিয়েছে। এই চাপের মুখে পড়ে তাদের কেউ কেউ মন্দের ভালো নীতিতে তালাশ করতে লাগলেন ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কোন সেক্যুলারিজমটি বেশি ক্ষতিকর, কোনটি কম।