📘 রাষ্ট্র রাজনীতি ও ইসলাম > 📄 মুসলিম সেক্যুলারদের নতুন ব্যাখ্যা

📄 মুসলিম সেক্যুলারদের নতুন ব্যাখ্যা


মুসলিম জাতির মধ্যে যেহেতু সামগ্রিকভাবে একটা দীনি চেতনা সবসময় বিদ্যমান, তাই তাদের সামনে সেক্যুলারিজমের পশ্চিমা সংজ্ঞা নিয়ে হাজির হলে কিছুতেই মানতে চাইবে না। এজন্য আমরা দেখি আরবের (ও অন্যান্য মুসলিম দেশের) সেক্যুলাররা নিজের মতো ধর্মনিরপেক্ষতার একটি সংজ্ঞা তৈরি করেছেন এবং বেশির ভাগ পশ্চিমা সংজ্ঞাগুলোতে ধর্মদ্রোহিতা ও ধর্মহীনতার যে মর্ম ছিল, সেগুলোকে নিজেদের সংজ্ঞায় চুপিসারে লুকিয়ে ফেলতে চান।

এমনিভাবে দাবি করেন, ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাটি শুধুমাত্র রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এটা একটা কৌশলমাত্র। এর মাধ্যমে তারা ধর্মীয় দিক থেকে উঠে আসা প্রশ্ন ও আপত্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে চেষ্টা করেন। কারণ, মুসলিম কান্ট্রির বেশির ভাগ মানুষ রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে শরিয়তের প্রতি মনোযোগী না হলেও জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে গভীর দীনি চেতনা লালন করেন এবং বাস্তবে যে যতটুকুই শরিয়ত পালন করুক, অন্তত বোধ ও বিশ্বাসগতভাবে এ কথার ওপর অবিচল যে, আমাদের জীবনপ্রবাহটি একমাত্র ইসলাম দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হোক। বিশেষ করে মূল্যবোধ, নৈতিকতা, চারিত্রিক বিষয়াবলি এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে এ চেতনাটি অনেক গভীর。

সেক্যুলারিজমের যে আসল পরিচয় ও মূল মর্মটি, যেটি শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের সকল ক্ষেত্রে পরিব্যপ্ত হয়ে সবকিছু আচ্ছাদিত করে ফেলে এবং ধর্ম ও ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো সরিয়ে দিয়ে সেখানে নিজেই আলাদা এক ধর্ম আকারে প্রতিস্থাপিত হয়, আরবের বেশির ভাগ সেক্যুলার এই অপকৌশলের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার সে বাস্তব পরিচয়টি পর্দার অন্তরালে লুকিয়ে ফেলেন। এবং এ ছাড়া তাদের উপায়ও নেই আসলে।

📘 রাষ্ট্র রাজনীতি ও ইসলাম > 📄 সেক্যুলারিজমের সূচনা ও পরিণতি

📄 সেক্যুলারিজমের সূচনা ও পরিণতি


নতুন সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে এই অস্থিরতা তো আছেই, এর বাইরে সেক্যুলারিজমের প্রসিদ্ধ যে সংজ্ঞাটি, অর্থাৎ 'ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করা', এটিকেও তারা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে বৈধ করতে চান। তারা বলেন, কথাটির প্রকৃত মর্ম বুঝতে আমাদের ইতিহাসের মূলের কাছে ফিরে যেতে হবে। এরপর তারা ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় নির্ধারণে এমন এক ঐতিহাসিক সূত্র ও মর্ম পেশ করেন, বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই。

কারণ, ইতিহাসের পাঠকমাত্রই জানেন, ইউরোপে ধর্মনিরপেক্ষতার সূচনাটি কীভাবে হয়েছিল। তারা ধর্মকে প্রথমে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে, এরপর সেই চেতনা ও প্রবণতা ক্রমশ উন্নতি করে একসময় ধর্মকে পুরো জীবন থেকেই বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এভাবে তারা একটি সূচনা থেকে ক্রমশ এগিয়ে একটি পরিণতিতে পৌঁছেছে। এটা একদমই স্বভাবজাত একটা গতি। রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করার মাধ্যমে প্রথম পদক্ষেপটি নেওয়ার পর ধর্মকে পুরো জীবন থেকেই বিচ্ছিন্ন করার পরিণতিতে পৌঁছা পর্যন্ত এ গতি কখনোই থামবে না। বর্তমান মুসলিম জাতি ঠিক এই সূচনার পথটি ধরেই পরিণতির দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে।

📘 রাষ্ট্র রাজনীতি ও ইসলাম > 📄 এ বইয়ের আলোচ্য সেক্যুলারিজম

📄 এ বইয়ের আলোচ্য সেক্যুলারিজম


এই বইয়ের মূল আলোচনায় 'সেক্যুলারিজম' বলতে আমরা কী বুঝিয়েছি, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার হওয়ার জন্য এই জায়গাটা চিহ্নিত হওয়া জরুরি। এখানে সেক্যুলারিজম বলতে আমরা বুঝিয়েছি—অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিসহ রাজনীতির যে পূর্ণ ধারণা ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মযজ্ঞ, সেখান থেকে সমস্ত ইসলামি মূল্যবোধ খুলে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। অনেক ইসলামপন্থি বুদ্ধিজীবী ও চিন্তক এ ক্ষেত্রগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষতা কবুল করে বসেছেন এবং তাদের বক্তব্য, বিশ্লেষণ ও প্রস্তাবনা এর ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়েছে; কিন্তু পশ্চিমা সংজ্ঞায় ধর্মনিরপেক্ষতার যে সর্বগ্রাসী রূপ, সে পর্যন্ত তারা এখন অবধি পৌঁছাননি।

📘 রাষ্ট্র রাজনীতি ও ইসলাম > 📄 সেক্যুলারিজমের প্রকরণ ও বিন্যাস

📄 সেক্যুলারিজমের প্রকরণ ও বিন্যাস


অনেক গবেষক নানা দিক বিবেচনায় সেক্যুলারিজমকে কয়েক ভাগে ভাগ করেছেন। ড. আবদুল ওয়াহহাব মাসিরির ভাগটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। তিনি বলেন, সেক্যুলারিজম মূলত দুই প্রকার : আংশিক সেক্যুলারিজম ও পূর্ণ সেক্যুলারিজম।

আংশিক সেক্যুলারিজম হল শুধুমাত্র রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করা।

পূর্ণ সেক্যুলারিজম একটি পরিপূর্ণ জগৎদর্শন; রাষ্ট্র কিংবা ব্যাপক পরিসরে প্রবাহিত জনজীবনের কিছু দিক থেকে ধর্মকে আলাদা করার মধ্যে এটি সীমিত নয়; বরং এটি ধর্মীয়, চারিত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রথমে সামগ্রিক জীবন ও সমাজ পরিক্রমা থেকে বিচ্ছিন্ন করে, অতঃপর এই মিশন নিয়ে এটি প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিজীবনে গিয়েও হাজির হয়। ব্যক্তির বিশ্বাস ও পবিত্রতাবোধ নিশ্চিহ্ন করে দেয়, বস্তুকেন্দ্রিকতাকে তার চিন্তার কেন্দ্রভূমিতে স্থাপন করে এবং সকল বিষয়ে নিরেট মনোভাব দূর করে দিয়ে একধরনের হেঁয়ালিপূর্ণ আপেক্ষিকতার মনোভাব সৃষ্টি করে।

অনেক গবেষক নানা দিক বিবেচনায় সেক্যুলারিজমকে কয়েক ভাগে ভাগ করেছেন। ড. আবদুল ওয়াহহাব মাসিরির ভাগটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। তিনি বলেন, সেক্যুলারিজম মূলত দুই প্রকার : আংশিক সেক্যুলারিজম ও পূর্ণ সেক্যুলারিজম।

আংশিক সেক্যুলারিজম হল শুধুমাত্র রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করা।

পূর্ণ সেক্যুলারিজম একটি পরিপূর্ণ জগৎদর্শন; রাষ্ট্র কিংবা ব্যাপক পরিসরে প্রবাহিত জনজীবনের কিছু দিক থেকে ধর্মকে আলাদা করার মধ্যে এটি সীমিত নয়; বরং এটি ধর্মীয়, চারিত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রথমে সামগ্রিক জীবন ও সমাজ পরিক্রমা থেকে বিচ্ছিন্ন করে, অতঃপর এই মিশন নিয়ে এটি প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিজীবনে গিয়েও হাজির হয়। ব্যক্তির বিশ্বাস ও পবিত্রতাবোধ নিশ্চিহ্ন করে দেয়, বস্তুকেন্দ্রিকতাকে তার চিন্তার কেন্দ্রভূমিতে স্থাপন করে এবং সকল বিষয়ে নিরেট মনোভাব দূর করে দিয়ে একধরনের হেঁয়ালিপূর্ণ আপেক্ষিকতার মনোভাব সৃষ্টি করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00