📄 তুমি খেয়ালখুশি এবং বিবাদ-বিসংবাদ থেকে দূরে থাকো
(৪৮) আহমাদ ইবনু উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একজন লোককে সুফয়ান সাওরি কে সম্বোধন করে বলতে শুনলাম যে, আমাকে নসিহত করুন। তখন তিনি বললেন, “তুমি প্রবৃত্তি থেকে সাবধান থাকো। তুমি শাসকের থেকে দূরে থাকো।”⁵⁴
(৪৯) বাকর ইবনু মুহাম্মাদ আল-'আবিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সুফয়ান সাওরি কে বলতে শুনেছি,
“নিশ্চয়ই জাহান্নামে একটি উপত্যকা রয়েছে, জাহান্নাম যার থেকে প্রতিদিন সত্তর বার আশ্রয় প্রার্থনা করে। আল্লাহ তাআলা সেই জাহান্নামকে শাসকদের সাথে সাক্ষাৎকারী আলিমদের জন্য প্রস্তুত করেছেন।”⁵⁵
(৫০) হিশাম ইবনু 'আব্বাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাফর ইবনু মুহাম্মাদ কে বলতে শুনেছি,
“ফকিহরা রাসুলগণের কর্মসম্পাদক। যখন তুমি ফকিহদের শাসকদের প্রতি ঝুঁকে যেতে দেখবে, তখন তাদের অভিযুক্ত করবে।”⁵⁶
(৫১) জাবির ইবনু হাইয়ান থেকে বর্ণিত, তাকে বলা হলো, “কী হয়েছে আপনার? আপনি শাসকের দরবারে যান না কেন?” তিনি বললেন,
“আমি যে জিনিসের জন্য তাদের ত্যাগ করেছি, তা-ই আমার জন্য যথেষ্ট।”⁵⁷
(৫২) কা'নাবি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ঈসা ইবনু মুসা (তিনি তখন কুফার আমির) ইবনু শুবরামা কে লক্ষ্য করে বললেন,
“কী হয়েছে তোমার? আমাদের কাছে আসো না কেন?” তিনি বললেন, “আল্লাহ আপনার ইসলাহ করুন। যদি আমি আপনার কাছে আসি, অনন্তর আপনি আমাকে আপনার নিকটবর্তী করেন, তা হলে আপনি আমাকে ফিতনায় ফেলে দিলেন। আর যদি আমাকে দূরে সরিয়ে দেন, তা হলে আমাকে কষ্টে ফেললেন। আমার কাছে এমন কিছু নেই, যার ব্যাপারে আমি শঙ্কাবোধ করি। আর আপনার কাছে এমন কিছু নেই, আমি যার প্রত্যাশা করতে পারি।” তখন তিনি এর প্রত্যুত্তরে আর কিছু বললেন না।⁵⁸
(৫৩) আব্দুল্লাহ ইবনুস্ সুদ্দি থেকে বর্ণিত, আবু বকর ইবনু আইয়াশ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক এর উদ্দেশে পত্র লিখলেন,
"ফাযল ইবনু মুসা আশশাইবানি যদি শাসকদের দরবারে যাতায়াত না করে থাকে, তা হলে আমার পক্ষ থেকে তাকে সালাম বলো।”⁵৯
(৫৪) অনুচ্ছেদ: সালাফ এবং খালাফ আস্সালিহিনের জুমহুর (অধিকাংশ) আলিমগণের অভিমত হলো, এ সকল হাদিস এবং আসার তার ব্যাপকতার ওপর প্রযোজ্য। শাসকগোষ্ঠী আলিমদের নিমন্ত্রণ জানাক কিংবা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আলিমরা আগমন করুক-সবই সমান। তেমনই শাসকগোষ্ঠী দ্বীনি প্রয়োজনে আহ্বান জানাক কিংবা পার্থিব কোনো স্বার্থে-সবগুলোর একই বিধান।
(৫৫) সুফয়ান সাওরি বলেন, "তারা যদি তোমাকে 'কুল হুওয়াল্লাহ' এর কেরাত পাঠ করার জন্য আহ্বান জানায়, তা হলে তুমি তাদের কাছে গমন কোরো না।”⁶¹
টিকাঃ
৫৪. হিলয়াতুল আওলিয়া: ৭/২৮
৫৫. জামি'উ বায়ানিল ইলম, ইবনু আব্দিল বার: ২৫৭
৫৬. হিলয়াতুল আওলিয়া: ৩/১৯৪
৫৭. আততারিখ, ইবনু নাজ্জার
৫৮. তাম্বিহুল গাফিলিন: ৪১৬
৫৯. তারিখে কাযওয়িন, রাফিয়ি
৬০. হাফিজ ইবনু আব্দিল বার বলেন, "এ অধ্যায়ের পুরো আলোচনা পাপিষ্ঠ অত্যাচারী (মুসলিম) শাসকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইনসাফকারী ন্যায়নিষ্ঠ আদর্শ শাসকের মজলিসে গমন করা, তার দর্শন লাভ করা, তাকে সততার পথে সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করা শ্রেষ্ঠতম পুণ্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত। তুমি কি দেখো না যে, উমর ইবনু আব্দিল আযিয এর সঙ্গ দিতেন মহান শ্রেষ্ঠ আলিমগণ-উরওয়াহ ইবনুয যুবায়র এবং তার সমস্তরের আলিমগণ, ইবনু শিহাব এবং তার সমপর্যায়ের ফকিহগণ। আলিম যখন শাসকের মজলিসে উপস্থিত হয়ে উত্তম কথা বলে, জ্ঞানের কথা বলে, তখন তা কল্যাণকর ও উপকারী হিসাবে প্রতিভাত হয়। যেদিন সে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে, সেদিন আশা করা যায়, এই আমলের কারণে তিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। কিন্তু শাসকদের মজলিসগুলো এমন, যাতে ফিতনার দিকটিই প্রবল। ফিতনা থেকে নিজেকে বাঁচানোর পন্থা হলো, এ সকল মজলিস বর্জন করা।" (দ্রষ্টব্য-জামি 'উ বায়ানিল ইলম: ২৬২-২৬৩)
৬১. সুনানুল বায়হাকি
📄 শাসকদের সঙ্গে সালাফে সালেহিনের আচার-রীতি
(৫৬) মায়মুন ইবনু মিহরান থেকে বর্ণিত,
"আব্দুল মালিক ইবনু মারওয়ান মদিনায় আগমন করলেন। তখন তিনি তার প্রহরীকে সাইদ ইবনুল মুসাইয়িব এর কাছে পাঠালেন। সে এসে সাইদ ইবনুল মুসাইয়িব কে বলল, "আপনি আমিরুল মুমিনিনের আহ্বানে সাড়া দিন।” তিনি বললেন, "তার কী প্রয়োজন?” সে বলল, "আপনি তার সাথে আলাপ-আলোচনা করবেন-এ জন্য।” তিনি বললেন, "আমি তার আলোচকদের কেউ নই।” তখন প্রহরী ফিরে গিয়ে তাকে অবগত করল।⁶²
(৫৭) ইমাম বুখারি আততারিখ গ্রন্থে বলেন, আমি ইবনু আবি ইয়াস কে বলতে শুনেছি,
"আমি দেখেছি, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ কে শাসক ডেকে পাঠালেন। তখন তিনি বললেন, "আমি এদের কাছে যাব?! আল্লাহর কসম, আমি এরূপ করব না।”⁶³
(৫৮) হাম্মাদ ইবনু সালামাহ থেকে বর্ণিত,
"জনৈক খলিফা তার কাছে এ বলে একজন দূত পাঠালেন যে, "আমাদের সামনে একটি মাসআলা দেখা দিয়েছে। আমরা কি আপনাকে তা জিজ্ঞাসা করতে পারি?"
তখন তিনি দূতকে বললেন, "আমরা এমনসব মহান মানুষদের যুগ লাভ করেছি, যারা কারও কাছে গমন করতেন না। কারণ, তাদের কাছে এ বিষয়ের নিষিদ্ধতা-সংক্রান্ত হাদিস পৌঁছেছিল।" যদি তোমার কোনো মাসআলা থেকে থাকে, তা হলে তুমি একটি চিরকুটে তা লিখে ফেলো। আমি তোমার জন্য লিখিত আকারে তার জবাব দেবো।”⁶⁴
(৫৯) আব্দুল্লাহ ইবনু আবি রাফে' এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত,
"হারুনুর রশিদ মদিনায় আসলেন। তখন বারমাকি ইমাম মালিকের কাছে এ বলে লোক পাঠালেন যে, আপনি আপনার রচিত কিতাবটি নিয়ে আমাদের কাছে চলে আসুন, যাতে আমরা আপনার মুখ থেকে তা শুনতে পারি।”
ইমাম মালিক তখন বারমাকির উদ্দেশে বললেন, "তাকে আমার সালাম জানাবেন এবং বলবেন, আলিমের সাক্ষাতে আসা হয়, আলিম কারও সাক্ষাতে যায় না।” তখন বারমাকি হারুনুর রশিদের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, "হে আমিরুল মুমিনিন, ইরাকবাসীদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছবে যে, আপনি কোনো বিষয়ে মালিকের কাছে দূত মারফত খবর পাঠিয়েছিলেন, অনন্তর সে ওই বিষয়ে আপনার বিরুদ্ধাচরণ করেছে। আপনি তার ব্যাপারে মনস্থ করুন, যাতে শেষাবধি বাধ্য হয়ে সে আপনার কাছে আগমন করে।"
তখন তিনি বললেন, "যারা ইলমকে ধ্বংস করবে—তুমি তাদের প্রথম ব্যক্তি হোয়ো না; অন্যথায় আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করে দেবেন।”⁶⁵
(৬০) ইবনু মুনির থেকে বর্ণিত,
"বুখারার শাসক মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাইল বুখারি এর কাছে এ বলে সংবাদ পাঠালেন যে, "আপনি আমার কাছে আলজামি (অর্থাৎ সহিহ বুখারি) এবং আততারিখ গ্রন্থ নিয়ে আসুন, যাতে আমি আপনার থেকে তা শ্রবণ করতে পারি।" ইমাম বুখারি তার দূতকে বললেন, "আমি ইলমকে হেয় করব না। আমি শাসকদের দুয়ারে গমন করব না। যদি আপনার কোনো কিছুর প্রয়োজন থেকে থাকে, তা হলে আপনি আমার মসজিদে বা আমার ঘরে উপস্থিত হোন।”⁶⁶
(৬১) হাসান থেকে বর্ণিত,
"তিনি কোনো এক শাসকের দরবারে অবস্থানরত কতক কারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, "তোমরা তোমাদের কপালকে আহত করেছ, তোমাদের জুতাকে ব্যাপ্ত করেছ এবং ঘাড়ে করে ইলম বহন করে শাসকদের দুয়ারে এসেছ। শোনো, যদি তোমরা নিজেদের ঘরে বসে থাকতে, তা হলে তা তোমাদের জন্য ঢের উত্তম হতো। তোমরা বিভক্ত হও, আল্লাহ তোমাদের সদস্যদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দিন।”⁶⁷
(৬২) আব্দুর রহমান ইবনু আখিল আসমা'য়ি তার চাচার থেকে বর্ণনা করেন,
"হাসান আলবাসরি আবু উমর ইবনু হুবায়রা এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তার কাছে তখন একদল কারী ছিল। তিনি তখন সালাম দিয়ে বললেন, “কী ব্যাপার, তোমরা বসে আছ কেন? তোমরা তোমাদের মোচ লম্বা করেছ, মাথা মুণ্ডন করেছ, জামার আস্তিন সংকীর্ণ করেছ, জুতা ব্যাপ্ত করেছ। শোনো, আল্লাহর কসম, তাদের কাছে যা কিছু রয়েছে, তার ব্যাপারে যদি তোমরা উদাসীন হতে, তা হলে তোমাদের কাছে যা কিছু রয়েছে, সে ব্যাপারে তারা আগ্রহী হতো। কিন্তু তোমরা তাদের কাছে যা কিছু রয়েছে, সে ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছ, তাই তারা তোমাদের কাছে যা রয়েছে, সে ব্যাপারে উদাসীন হয়েছে। তোমরা কারী সম্প্রদায়কে হেয় করেছ, আল্লাহ তোমাদের হেয় করুন।”⁶⁸
(৬৩) হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
"যদি তোমাদের এ বিষয়টি আনন্দিত করে যে, তোমরা নিরাপদ থাকবে অথবা তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন নিরাপদ থাকবে, তা হলে মুসলমানদের রক্ত থেকে নিজেদের হাত গুটিয়ে রাখো, মুসলমানদের সম্পদ থেকে নিজেদের উদরকে নিয়ন্ত্রিত রাখো, মুসলমানদের সম্মান-সম্ভ্রম থেকে নিজেদের জিহ্বা সংযত রাখো। আর তুমি বিদআতিদের সঙ্গে ওঠাবসা কোরো না। বাদশাহদের কাছে গমন কোরো না। তা হলে তারা তোমাদের ওপর তোমাদের দ্বীন সন্দেহপূর্ণ করে দেবে।”⁶⁹
টিকাঃ
৬২. আততাবাকাতুল কুবরা, ইবনু সা'দ: ৫/১৩০; হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম: ২/১৬৯; আসসিয়ার, যাহাবি: ৩৪/২২৬
৬৩. হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম: ৬/২৫১
৬৪. আততারিখ, আলখাতিব আলবাগদাদি
৬৫. ফাযায়িলু মালিক, আবুল হাসান ইবনু ফিহর
৬৬. আততারিখ, আলখাতিব আলবাগদাদি : ২/৩৩; তাহযিবুল কামাল, মিযযি : ৩৩৮, আততাবাকাত, আসসুবকি: ২/২৩২-২৩৩; আসসিয়ার, যাহাবি: ১২/৪৬৪
৬৭. সিফাতুস সাফওয়াহ, ইবনুল জাওযি: ৩/২৩৬
৬৮. আলআমালি, যাজজাজ
৬৯. আততারিখ, ইবনুন নাজ্জার
📄 আলিমগণ তিন শ্রেণির
(৬৪) ওয়াহব ইবনুল ওয়ারদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
"আমাদের কাছে এ মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আলিমগণ তিন শ্রেণির- এক শ্রেণির আলিম ইলম শিক্ষা করে শাসকদের জন্য, আরেক শ্রেণির আলিম ইলম শিক্ষা করে পাপিষ্ঠদের কাছে এর দ্বারা পার্থিব সচ্ছলতা লাভের জন্য, আরেক শ্রেণির আলিম ইলম শিক্ষা করে নিজেদের জন্য।
এর দ্বারা তাদের অন্য কোনো ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা কামনা-বাসনা নেই। তবে তারা শুধু এই আশঙ্কায় ইলম শিক্ষা করে যে, ইলম ছাড়া আমল করলে তারা যা কিছু বরবাদ করবে—তার পরিমাণ হবে ওই জিনিসের থেকে বহুগুণ বেশি, তারা যার ইসলাহ করবে।"⁷⁰
(৬৫) আবু সালিহ আলআনতাকি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারাক কে বলতে শুনেছি,
"যে ইলমের দ্বারা সজ্জিত হবে, সে তিন ধরনের পরীক্ষায় আক্রান্ত হবে— হয়তো সে মৃত্যুবরণ করবে, অনন্তর তার ইলমও হারিয়ে যাবে; নতুবা যেকোনো কারণে তার ইলম বিস্মৃত হয়ে যাবে অথবা সে শাসকের সঙ্গ অবলম্বন করবে, ফলে তার ইলম লুপ্ত হবে।”⁷¹
(৬৬) মালিক ইবনু আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
"আমি প্রায় গোটা বিশেক তাবেয়িকে এমন পেয়েছি, যারা বলেন, “তোমরা তাদের কাছে গমন কোরো না এবং তাদের কোনো নির্দেশ কোরো না।” তিনি এখানে শাসকের কথা বোঝাচ্ছেন।⁷²
(৬৭) আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আলকুরায়শি বলেন,
"আমরা সুফয়ান সাওরি এর সঙ্গে মক্কায় ছিলাম। তখন তার কাছে কুফায় অবস্থানরত তার পরিবারের পক্ষ থেকে পত্র এল—“অভাব আমাদের এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যে, আমরা ফলের শক্ত আঁটি ভেজে খাওয়ার অবস্থায় উপনীত হয়েছে।” তখন সুফয়ান কেঁদে ফেললেন। সে সময়ে তাঁর জনৈক শাগরিদ তাকে বলল, হে আবু আব্দিল্লাহ, আপনি যদি শাসকের দরবারে উপস্থিত হতেন, তা হলে আপনি ঈপ্সিত পর্যায়ে পৌঁছতে পারতেন।” তখন তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি সেই সত্তার কাছেই দুনিয়া প্রার্থনা করি না, যিনি এই দুনিয়ার মালিক; তা হলে আমি এমন ব্যক্তির কাছে কীভাবে তা চাইব, যার মালিকানায়ই তা নেই?”
(৬৮) আব্দুল্লাহ ইবনু হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সুফয়ান সাওরি কে বলতে শুনেছি,
“তোমরা দুনিয়াবাসীর কাছে মর্যাদা লাভ করো—তাদের সালাম দেওয়া পরিহার করার মাধ্যমে।”
(৬৯) আহমাদ ইবনু আবিল হাওয়ারি বলেন,
“আমি আবু সুলায়মানকে বললাম, আলিমরা ভিন্নমত অবলম্বন করেছে। তখন তিনি রাগ করলেন। অনন্তর বললেন, “তুমি কি এমন কোনো আলিমকে দেখোনি, যে শাসকের দুয়ারে গিয়ে তাদের দিরহাম গ্রহণ করে থাকে?”
(৭০) আহমাদ ইবনুস্ সালত বলেন,
“এক ব্যক্তি বিশর ইবনুল হারিস এর কাছে এসে বলল, “হে সাইয়িদ, শাসক সৎ লোকদের খুঁজছেন। আপনি কি আমার জন্য আত্মগোপনে থাকাকে সংগত মনে করেন?”
তখন বিশর তাকে বললেন, “আমার সামনে থেকে সরো। কাঁটা খেতে অভ্যস্ত গাধা কোনোদিনও বুযুর্গদের কাছে আসবে না। উল্টো তোমাকে দিয়ে আমাকে ফাঁসাবে।”⁷³
(৭১) সালিহ ইবনু খালিফাহ আলকারখি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সুফয়ান সাওরি কে বলতে শুনেছি,
"নিশ্চয়ই পাপিষ্ঠ কারীরা দুনিয়ার দিকে একটি সিঁড়ি গ্রহণ করেছে। তারা বলে, আমরা শাসকদের দরবারে উপস্থিত হব। আমরা যাতনাক্লিষ্টদের যাতনা লাঘব করব এবং বন্দীদের ব্যাপারে কথা বলব।"⁷⁴
টিকাঃ
৭০. হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম: ৮/১৫৬
৭১. হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম
৭২. বর্ণনাটির তথ্যসূত্র ৫৩ নম্বর টীকায় উল্লিখিত হয়েছে।
৭৩. আখবারুস সুফিয়্যাহ, শিরাযি
৭৪. হিলয়াতুল আওলিয়া: ৮/১৬৫