📄 তালিবে ইলমদের আভ্যন্তরীণ কতিপয় নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য
(৩৫) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"যে ব্যক্তি চার উদ্দেশ্যে ইলম তলব করবে, সে জাহান্নামে প্রবিষ্ট হবে- ইলমকে ব্যবহার করে আলিমদের সঙ্গে গৌরবার্জনের প্রতিযোগে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য, কিংবা এর দ্বারা মূর্খদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করার মানসে অথবা জনসাধারণের দৃষ্টি তার দিকে ফেরানোর উদ্দেশ্যে কিংবা এর মাধ্যমে শাসকদের থেকে কিছু লাভ করার স্বপ্নে। "⁴¹
(৩৬) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"যদি ইলমের অধিকারীরা ইলমকে সুরক্ষিত রাখত এবং ইলমকে তার যথাযথ পাত্রে প্রতিস্থাপন করত, তা হলে এর মাধ্যমে অবশ্যই তারা নিজ যুগের অধিবাসীদের নেতৃত্ব দিত। কিন্তু তারা এই ইলমকে দুনিয়াবাসীর জন্য ব্যয় করেছে- পার্থিব স্বার্থ লাভের জন্য। ফলে তারা দুনিয়াবাসীদের চোখে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে। আমি তোমাদের নবি কে বলতে শুনেছি, 'যে ব্যক্তি সকল চিন্তাকে এক চিন্তায় কেন্দ্রীভূত করে-আখিরাতের চিন্তায়, আল্লাহ তার দুনিয়ার বিষয়আশয়, যা তাকে চিন্তাগ্রস্ত করতে পারে-তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি যাবতীয় পার্থিব চিন্তায় নিমগ্ন থাকবে, সে যেকোনো উন্মুক্ত প্রান্তরে ধ্বংস হোক, তাতে আল্লাহর কোনো পরোয়া নেই।"⁴²
টিকাঃ
৪১. সুনানুদ দারিমি: ১/৩৭৪, ৩৭৯
৪২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৫৭, ৪১০৬; আলমুসতাদরাক লিল-হাকিম: ২/৪৪৩, ৪/৩১০; আলকামিল, ইবনু 'আদি: ৬/২৫২২
📄 তোমরা ফিতনার ক্ষেত্র থেকে দূরত্ব বজায় রাখো
(৩৭) হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান বলেন,
“শুনে রাখো, তোমাদের কেউ যেন শাসকের উদ্দেশে এক বিঘত পরিমাণ পদক্ষেপও না ফেলে।”⁴³
(৩৮) হুযাইফা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
“তোমরা ফিতনার জায়গাগুলো থেকে দূরে থাকো। জিজ্ঞাসা করা হলো, ফিতনার জায়গাগুলো কী? তিনি বললেন, শাসক এবং নেতাদের দুয়ার—তোমাদের কোনো ব্যক্তি আমিরের দরবারে গমন করে, তার মিথ্যাকে সত্য বলে স্বীকৃতি দেয় এবং তার ব্যাপারে এমনসব কথা বলে, যা তার ভেতর নেই।”⁴⁴
(৩৯) আবু উমামা আল-বাহেলি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
“আল্লাহর কাছে সৃষ্টজীবের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত হলো এমন ব্যক্তি, যে আমিরদের সঙ্গে ওঠাবসা করে। আমিররা যেসব অত্যাচার ও অন্যায়মূলক কথা বলে, সে তাদের সে সকল বিষয়কে সত্যায়ন করে।”⁴⁵
টিকাঃ
৪৩. আলমুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা: ১৯৫৭৯; হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম: ১/২৭৭
৪৪. হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম: ১/২৭৭; জামি'উ বায়ানিল ইলম, ইবনু আব্দিল বার: ১/২৬০; তাম্বিহুল গাফিলিন: ৪১৩; তাখরিজু আহাদিসিল 'আদিলিন, সাখাবি: ৯৭
৪৫. মুসনাদুল ফিরদাউস: ১৪৫৬; কানযুল 'উম্মাল: ৪৩৭৬১; ইতহাফুস সাদাহ: ৬/১২৭।
📄 আতা (রহ.)-এর উদ্দেশে ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহ (রহ.)-এর নাসিহাহ
(৪০) ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহ বলেন,
“হে আতা, তুমি শাসকের দুয়ার থেকে দূরে থাকো। কেননা, শাসকের দুয়ারে উটের বসার জায়গার মতো অনেক ফিতনা থাকে। তুমি তাদের দুনিয়ার কিছু অংশ লাভ করলে পরিণামে শাসকরা তোমার দ্বীনের সমপরিমাণ অংশ লাভ করে বসবে।"⁴⁶
(৪১) সালামাহ ইবনু কায়স থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু যর এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তখন তিনি বললেন,
"হে সালামাহ ইবনু কায়স, তিনটি বিষয় স্মরণ রেখো-তুমি সতিনদের মাঝে সম্মিলন কোরো না; কারণ আগ্রহ থাকলেও তুমি ইনসাফ করতে পারবে না। তুমি সাদাকাহ উশুলের কাজ কোরো না; কেননা সাদাকাহ উশুলকারীর বেশ-কম হয়ে থাকে। কোনো শাসকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হোয়ো না; কেননা তুমি তার দুনিয়ার কিছু অংশ লাভ করবে আর সে তার বিনিময়ে তোমার সমপরিমাণ দ্বীনকে-যা তার থেকে অনেক উত্তম-আক্রান্ত করবে।"⁴⁷
(৪২) আইয়ুব আসসাখতিয়ানি থেকে বর্ণিত, আবু কিলাবাহ বলেন,
"তুমি আমার থেকে তিনটি অভ্যাসের কথা মুখস্থ করে রাখো। শাসকের দুয়ার থেকে দূরে থাকো, প্রবৃত্তিপূজারিদের থেকে দূরত্ব অবলম্বন করো, আর সাধারণ মানুষদের সঙ্গ আঁকড়ে থাকো; কারণ অমুখাপেক্ষিতা আসে নিরুপদ্রব থেকে।"⁴⁸
টিকাঃ
৪৬. হিলয়াতুল আওলিয়া: ৪/৯৩
৪৭. আলমুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা: ১৯৫৭৮
৪৮. জামি'উ বায়ানিল ইলম, ইবনু 'আব্দিল বার: ২৫৭; হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম: ২/২৮৬-২৮৭; সুনানুদ দারিমি: ১/১০৮
📄 তুমি কোনো বিদআতির সঙ্গে ওঠাবসা কোরো না
(৪৩) ইউনুস ইবনু উবায়দ বলেন,
"তুমি কোনো বিদআতির সঙ্গে এবং কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে ওঠাবসা কোরো না। আর কোনো নারীর সঙ্গে নিভৃতে একান্ত হোয়ো না।"⁴⁹
(৪৪) ফাযল ইবনু আব্বাস বলেন,
"আমরা শাসককে পরিহার করে চলার শিক্ষা নিতাম ঠিক সেভাবে, যেভাবে কুরআনের শিক্ষা নিয়ে থাকি।"⁵⁰
(৪৫) ইউসুফ ইবনু আসবাত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুফয়ান সাওরি আমাকে বললেন,
"তুমি যখন কোনো আলিমকে শাসকের সাথে লেগে থাকতে দেখবে, তখন তুমি জেনে রেখো যে, সে একটা চোর। আর যখন তুমি কোনো আলিমকে বিত্তশালী লোকদের দুয়ারে দুয়ারে ফিরতে দেখবে, তখন তুমি জেনে রেখো যে, সে একজন লৌকিকতা প্রদর্শনকারী। প্রবঞ্চিত হওয়া থেকে বেঁচে থাকো। তোমাকে বলা হবে যে, তুমি জুলম প্রতিহত করছ অথবা কোনো অত্যাচারীর অত্যাচার দূর করছ। নিশ্চয়ই এটা ইবলিসের ধোঁকা, যা সে আলিমদের জন্য ধাপ হিসাবে ব্যবহার করে থাকে।”⁵¹
(৪৬) আবু শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সুফয়ান সাওরি কে এক ব্যক্তির উদ্দেশে বলতে শুনেছি,
"তারা যদি তোমাকে 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' পড়ার জন্য আহ্বান করে, তাহলে তুমি তাদের কাছে গমন কোরো না।" আবু শিহাব কে বলা হলো, "আপনি কাকে বোঝাচ্ছেন?” তিনি বললেন, "শাসক।"⁵²
(৪৭) ইমাম মালিক ইবনু আনাস বলেন,
"আমি প্রায় গোটা বিশেক তাবেয়িকে এমন পেয়েছি, যারা বলেন, 'তোমরা তাদের কাছে গমন কোরো না এবং তাদের কোনো নির্দেশ কোরো না।" তিনি এখানে শাসকের কথা বোঝাচ্ছেন।⁵³
টিকাঃ
৪৯. হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম: ৩/২১; আসসিয়ার, যাহাবি: ৬/২৯৩; সিফাতুস সাফওয়াহ, ইবনুল জাওযি: ৩/৩০৭
৫০. শু'আবুল ইমান, বায়হাকি: ৮৭৯৭
৫১. হিলয়াতুল আওলিয়া: ৬/৩৮৭
৫২. হিলয়াতুল আওলিয়া: ৬/৩৭৬
৫৩. সুনানুল বায়হাকি