📘 রাজদরবারে আলিমদের গমন একটি সতর্কবার্তা > 📄 চাটুবৃত্তির মানসে শাসকের কাছে গমনকারীর বিধান

📄 চাটুবৃত্তির মানসে শাসকের কাছে গমনকারীর বিধান


(২১) উবায়দুল্লাহ ইবনু উমায়র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"কোনো ব্যক্তি শাসকের যত বেশি নৈকট্য অর্জন করবে, সে আল্লাহর থেকে তত বেশি দূরে সরবে।”²⁷

(২২) আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"যে ব্যক্তি শাসকের এক হাত নৈকট্য অর্জন করবে, আল্লাহ তার থেকে দু-হাত দূরে সরবেন।”²⁸

(২৩) আবু দারদা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"যে ব্যক্তি চাটুবৃত্তির মানসে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কোনো অত্যাচারী শাসকের দরবারে সাক্ষাৎ এবং সালামপ্রদানের উদ্দেশ্যে গমন করে, সে তার পদক্ষেপ-পরিমাণ জাহান্নামে প্রবিষ্ট হয়-যতক্ষণ না সে শাসকের দরবার ছেড়ে নিজ ঘরে ফিরে আসে। আর যদি সে শাসকের খেয়ালখুশির প্রতি অনুরাগী হয়ে পড়ে অথবা তার শক্তি জোগায়, তা হলে শাসকের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যেকোনো লানত পতিত হবে, তার ওপরও অনুরূপ লানত ফিরে আসবে। জাহান্নামে সেই শাসক যত ধরনের আযাব প্রাপ্ত হবে, সেও তার অনুরূপ আযাবে আক্রান্ত হবে।”²⁹

(২৪) আব্দুল্লাহ ইবনু উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
“যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে, দ্বীনের ফিকহ অর্জন করবে এরপর শাসনক্ষমতার অধিকারী কারও কাছে তার অধিকারভুক্ত সম্পদের প্রতি লালায়িত হয়ে গমন করবে, তার অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হবে, তাকে প্রতিদিন এমন দু-ধরনের আযাব প্রদান করা হবে, যার পূর্বে তাকে সে ধরনের আযাব প্রদান করা হয়নি।”³⁰

(২৫) মুআজ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"যে কুরআন পাঠ করল, দ্বীনের ফিকহ অর্জন করল, এরপর কোনো শাসকের দরবারে গমন করল, সে তার পদক্ষেপ-পরিমাণ জাহান্নামে প্রবিষ্ট হলো।"³¹

(২৬) বানু সালমা গোত্রের একজন সাহাবি বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"শাসকদের দুয়ার থেকে সাবধান!”³²

টিকাঃ
২৭. আযযুহদ, হান্নাদ ইবনুস সারি: ৫৯৭; হিলয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৪৭
২৮. ইতহাফ: ৬/১২৮, ১৩৯
২৯. কানযুল 'উম্মাল: ১৪৯৫৪; ইতহাফ: ৬/১২৬
৩০. কানযুল 'উম্মাল: ২৯০৬৮; ইতহাফ: ৬/১২৬
৩১. প্রাগুক্ত
৩২. মাজমাউয যাওয়ায়িদ: ৫/২৪৬; মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামি ১/৩৪৫; আলমা'রিফাহ, ইবনু মানদাহ: ২/৬২; ইবনু 'আসাকির: ১৩/১৩২; ইতহাফুস সাদাহ: ৬/১২৬

📘 রাজদরবারে আলিমদের গমন একটি সতর্কবার্তা > 📄 শাসকগোষ্ঠীর সাথে ওঠাবসা করার ব্যাপারে সতর্কবাণী

📄 শাসকগোষ্ঠীর সাথে ওঠাবসা করার ব্যাপারে সতর্কবাণী


(২৭) আলি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"তোমরা শাসকদের সাথে ওঠাবসা করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, তা হলো দ্বীনের বিলুপ্তির নামান্তর। তোমরা তাদের সহযোগিতা প্রদান করা থেকে বিরত থাকো। কেননা, তোমরা তাদের কর্মের স্তুতি করতে পারো না।”³³

(২৮) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"অচিরেই এমনসব শাসকের আবির্ভাব ঘটবে, যাদের কতক কর্মের সঙ্গে তোমরা পরিচিত থাকবে আর কতক কর্মকে অজ্ঞাত হিসাবে পাবে। যে তাদের বিরোধিতা করবে, সে মুক্তিপ্রাপ্ত হবে। যে তাদের থেকে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করবে, সে নিরাপদ থাকবে। আর যে তাদের সঙ্গে মেলামেশা করবে, সে ধ্বংস হবে।”³⁴

(২৯) আলি ইবনু আবি তালিব বলেন,
"তোমরা শাসকের দুয়ার থেকে দূরে থাকো।"³⁵

(৩০) আলি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"আমার উম্মাহর মধ্যে শ্রেষ্ঠ অনুসারী তারা, যারা শাসকদের দুয়ারের কাছেও গমন করে না।”³⁶

(৩১) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"নিশ্চয়ই শাসকের দুয়ারে উটের বসার জায়গার মতো অনেক ফিতনা রয়েছে। তোমরা তাদের দুনিয়ার কিছু অংশ লাভ করলে তারা তোমাদের দ্বীনের সমপরিমাণ অংশ লাভ করে বসবে।”³⁷

(৩২) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"যে তার দ্বীনকে মর্যাদাবান রাখতে চায়, সে যেন শাসকের দরবারে গমন না করে, নারীদের সঙ্গে নিভৃতে মিলিত না হয় এবং প্রবৃত্তিপূজারিদের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত না হয়।"³⁸

টিকাঃ
৩৩. মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামি: ১৫৩৬
৩৪. আলমু'জামুল কাবির, তাবারানি: ১০৯৭৩; মাজমাউয যাওয়ায়িদ: ৫/২২৮; সহিহুল জামি' : ৩৬৬১
৩৫. মাজমাউয যাওয়ায়িদ: ৫/২৪৬; মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামি ১/৩৪৫; আলমা'রিফাহ, ইবনু মানদাহ: ২/৬২; ইবনু 'আসাকির: ১৩/১৩২; ইতহাফুস সাদাহ: ৬/১২৬
৩৬. মুসনাদুল ফিরদাউস
৩৭. জামি 'উ বায়ানিল ইলম: ২৬০
৩৮. সুনানুদ দারিমি: ১/৩৪১, ৩০৯

📘 রাজদরবারে আলিমদের গমন একটি সতর্কবার্তা > 📄 শাসকের দরবারে আনাগোনাকারী তার দ্বীনকে ক্ষতিগ্রস্ততায় নিক্ষেপকারী

📄 শাসকের দরবারে আনাগোনাকারী তার দ্বীনকে ক্ষতিগ্রস্ততায় নিক্ষেপকারী


(৩৩) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"ব্যক্তি শাসকের দরবারে এমতাবস্থায় প্রবেশ করে যে, তার সঙ্গে তার দ্বীন থাকে। অনন্তর সে বেরিয়ে আসে এমন অবস্থায় যে, তার সঙ্গে আর কিছুই থাকে না।”³⁹

(৩৪) সালামাহ ইবনু নাবিত বলেন, আমি আমার বাবাকে বললাম (উল্লেখ্য, তিনি নবি কে দেখার এবং তার থেকে হাদিস শোনার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন),
“হে আমার বাবা, যদি তুমি এই শাসকের কাছে গমন করতে, তা হলে অর্থসম্পদের অধিকারী হতে এবং তোমার সম্প্রদায়ও তোমার ডানায় ভর করে কিছু ধনসম্পদ লাভ করত!” তিনি আমাকে বললেন, "বৎস, আমি তাদের সাথে এমন মজলিসে বসার ব্যাপারে শঙ্কাবোধ করি, যা আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে।"⁴⁰

টিকাঃ
৩৯. আততারিখুল কাবির, বুখারি: ১/৪৪৩; তাম্বিহুল গাফিলিন, সামারকান্দি: ৪১৩
৪০. আততাবাকাহ, ইবনু সা'দ: ৬/৩০

📘 রাজদরবারে আলিমদের গমন একটি সতর্কবার্তা > 📄 তালিবে ইলমদের আভ্যন্তরীণ কতিপয় নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য

📄 তালিবে ইলমদের আভ্যন্তরীণ কতিপয় নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য


(৩৫) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
"যে ব্যক্তি চার উদ্দেশ্যে ইলম তলব করবে, সে জাহান্নামে প্রবিষ্ট হবে- ইলমকে ব্যবহার করে আলিমদের সঙ্গে গৌরবার্জনের প্রতিযোগে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য, কিংবা এর দ্বারা মূর্খদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করার মানসে অথবা জনসাধারণের দৃষ্টি তার দিকে ফেরানোর উদ্দেশ্যে কিংবা এর মাধ্যমে শাসকদের থেকে কিছু লাভ করার স্বপ্নে। "⁴¹

(৩৬) আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"যদি ইলমের অধিকারীরা ইলমকে সুরক্ষিত রাখত এবং ইলমকে তার যথাযথ পাত্রে প্রতিস্থাপন করত, তা হলে এর মাধ্যমে অবশ্যই তারা নিজ যুগের অধিবাসীদের নেতৃত্ব দিত। কিন্তু তারা এই ইলমকে দুনিয়াবাসীর জন্য ব্যয় করেছে- পার্থিব স্বার্থ লাভের জন্য। ফলে তারা দুনিয়াবাসীদের চোখে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে। আমি তোমাদের নবি কে বলতে শুনেছি, 'যে ব্যক্তি সকল চিন্তাকে এক চিন্তায় কেন্দ্রীভূত করে-আখিরাতের চিন্তায়, আল্লাহ তার দুনিয়ার বিষয়আশয়, যা তাকে চিন্তাগ্রস্ত করতে পারে-তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি যাবতীয় পার্থিব চিন্তায় নিমগ্ন থাকবে, সে যেকোনো উন্মুক্ত প্রান্তরে ধ্বংস হোক, তাতে আল্লাহর কোনো পরোয়া নেই।"⁴²

টিকাঃ
৪১. সুনানুদ দারিমি: ১/৩৭৪, ৩৭৯
৪২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৫৭, ৪১০৬; আলমুসতাদরাক লিল-হাকিম: ২/৪৪৩, ৪/৩১০; আলকামিল, ইবনু 'আদি: ৬/২৫২২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00