📄 শেষ যামানার আলিমদের কিছু বৈশিষ্ট্য
(১৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"শেষ যামানায় এমন সব আলিমের আবির্ভাব ঘটবে, যারা মানুষদের আখিরাতের ব্যাপারে উৎসাহী করবে অথচ নিজেরা উৎসাহিত হবে না; যারা মানুষদের দুনিয়ার ব্যাপারে অমুখাপেক্ষী করবে অথচ নিজেরা অমুখাপেক্ষী হবে না; যারা শাসকদের দরবারে আনাগোনা করতে বারণ করবে অথচ নিজেরা নিবৃত্ত হবে না।"¹⁹
(১৪) উমর ইবনু খাত্তাব থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমিরদের পছন্দ করেন, যখন তারা আলিমগণের সংস্পর্শে যায়। আর তিনি আলিমদের অপছন্দ করেন, যখন তারা আমিরদের সঙ্গে মিলিত হয়। কেননা, আলিমরা যখন আমিরদের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তারা দুনিয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে পড়ে। আর আমিররা যখন আলিমদের সংস্পর্শে যায়, তখন তারা আখিরাতের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে থাকে।”²⁰
(১৫) হাসান থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"এই উম্মাহ ততদিন পর্যন্ত আল্লাহর আশ্রয় এবং তত্ত্বাবধানে থাকবে, যতদিন তাদের কারীগণ আমিরদের প্রতি আকৃষ্ট না হবে।”²¹
(১৬) আব্দুল্লাহ ইবনু শিখখির থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"তোমরা ধনী সম্প্রদায়ের কাছে যাতায়াত কম করো। তোমরা আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন না করার জন্য এটাই অধিকতর উপযোগী।”²²
(১৭) উমর ইবনু খাত্তাব বলেন,
"রাসুলুল্লাহ আমার কাছে আসলেন। আমি তার চেহারায় ক্রোধের ছাপ দেখতে পেলাম। তিনি তার দাড়িতে হাত রেখে বললেন, 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তার কাছেই ফিরে যাব।) আমার কাছে জিবরিল এসে বললেন, 'আপনার পরে অতি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আপনার উম্মাহ ফিতনায় নিপতিত হবে।' আমি বললাম, 'এই ফিতনার সূত্রপাত কিসের থেকে হবে?' তিনি বললেন, 'তাদের আলিম এবং শাসকদের তরফ থেকে হবে।
শাসকরা মানুষদের তাদের প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করবে, জনসাধারণকে তাদের হক প্রদান করবে না, আর আলিমরা শাসকদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবে।' আমি বললাম, 'হে জিবরিল, তাদের মধ্যে যারা নিরাপদ থাকবে, তারা কোন জিনিসের দ্বারা নিরাপদ থাকবে?' তিনি বললেন, 'বিরত থাকার মাধ্যমে এবং সবরের মাধ্যমে। তাদের যদি তাদের প্রাপ্য হক প্রদান করা হয়, তা হলে তারা তা গ্রহণ করে নেয়। আর যদি তাদের বঞ্চিত করা হয়, তা হলে তারা তা ছেড়ে দেয়।”²³
টিকাঃ
১৯. মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামি: ৩৪২২; ইতহাফুস সাদাহ: ৬/১২৬
২০. মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামি: ৫৬৬; কাশফুল খাফা: ২/২৪৪; ইতহাফুস সাদাহ: ৬/১২৫
২১. মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামি: ৭৫৯৫; তাখরিজু আহাদিসিল ইহইয়া, ইরাকি: ২/১৪৯
২২. আলমুসতাদরাক লিল হাকিম: ৪/৩১২; আলকামিল, ইবনু 'আদি: ৬/১৪৪; আযযু'আফাউল কাবির, উকায়লি: ৩/৩২৭; যাখিরাতুল হুফফায, ইবনুল কায়সারানি: ১/৪৪২; আততারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/১৬৬; মিযানুল ই'তিদাল: ৩/১৬৪; লিসানুল মিযান: ৬/৪৫
২৩. আসসুন্নাহ, ইবনু আবি আসিম: ৩০৩; আলইলালুল মুতানাহিয়াহ: ২/৩৬৮; মুসনাদুল ফারুক, ইবনু কাসির: ২/৬৫৯; তাহযিবুত তাহযিব: ৭/৪৪৫; তালখিসুল ইলালিল মুতানাহিয়াহ: ৩১৩; লিসানুল মিযান: ৬/৯৭
(১৩) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"শেষ যামানায় এমন সব আলিমের আবির্ভাব ঘটবে, যারা মানুষদের আখিরাতের ব্যাপারে উৎসাহী করবে অথচ নিজেরা উৎসাহিত হবে না; যারা মানুষদের দুনিয়ার ব্যাপারে অমুখাপেক্ষী করবে অথচ নিজেরা অমুখাপেক্ষী হবে না; যারা শাসকদের দরবারে আনাগোনা করতে বারণ করবে অথচ নিজেরা নিবৃত্ত হবে না।"¹⁹
(১৪) উমর ইবনু খাত্তাব থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমিরদের পছন্দ করেন, যখন তারা আলিমগণের সংস্পর্শে যায়। আর তিনি আলিমদের অপছন্দ করেন, যখন তারা আমিরদের সঙ্গে মিলিত হয়। কেননা, আলিমরা যখন আমিরদের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন তারা দুনিয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে পড়ে। আর আমিররা যখন আলিমদের সংস্পর্শে যায়, তখন তারা আখিরাতের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে থাকে।”²⁰
(১৫) হাসান থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"এই উম্মাহ ততদিন পর্যন্ত আল্লাহর আশ্রয় এবং তত্ত্বাবধানে থাকবে, যতদিন তাদের কারীগণ আমিরদের প্রতি আকৃষ্ট না হবে।”²¹
(১৬) আব্দুল্লাহ ইবনু শিখখির থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"তোমরা ধনী সম্প্রদায়ের কাছে যাতায়াত কম করো। তোমরা আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন না করার জন্য এটাই অধিকতর উপযোগী।”²²
(১৭) উমর ইবনু খাত্তাব বলেন,
"রাসুলুল্লাহ আমার কাছে আসলেন। আমি তার চেহারায় ক্রোধের ছাপ দেখতে পেলাম। তিনি তার দাড়িতে হাত রেখে বললেন, 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তার কাছেই ফিরে যাব।) আমার কাছে জিবরিল এসে বললেন, 'আপনার পরে অতি স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আপনার উম্মাহ ফিতনায় নিপতিত হবে।' আমি বললাম, 'এই ফিতনার সূত্রপাত কিসের থেকে হবে?' তিনি বললেন, 'তাদের আলিম এবং শাসকদের তরফ থেকে হবে।
শাসকরা মানুষদের তাদের প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করবে, জনসাধারণকে তাদের হক প্রদান করবে না, আর আলিমরা শাসকদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবে।' আমি বললাম, 'হে জিবরিল, তাদের মধ্যে যারা নিরাপদ থাকবে, তারা কোন জিনিসের দ্বারা নিরাপদ থাকবে?' তিনি বললেন, 'বিরত থাকার মাধ্যমে এবং সবরের মাধ্যমে। তাদের যদি তাদের প্রাপ্য হক প্রদান করা হয়, তা হলে তারা তা গ্রহণ করে নেয়। আর যদি তাদের বঞ্চিত করা হয়, তা হলে তারা তা ছেড়ে দেয়।”²³
টিকাঃ
১৯. মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামি: ৩৪২২; ইতহাফুস সাদাহ: ৬/১২৬
২০. মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামি: ৫৬৬; কাশফুল খাফা: ২/২৪৪; ইতহাফুস সাদাহ: ৬/১২৫
২১. মুসনাদুল ফিরদাউস, দাইলামি: ৭৫৯৫; তাখরিজু আহাদিসিল ইহইয়া, ইরাকি: ২/১৪৯
২২. আলমুসতাদরাক লিল হাকিম: ৪/৩১২; আলকামিল, ইবনু 'আদি: ৬/১৪৪; আযযু'আফাউল কাবির, উকায়লি: ৩/৩২৭; যাখিরাতুল হুফফায, ইবনুল কায়সারানি: ১/৪৪২; আততারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/১৬৬; মিযানুল ই'তিদাল: ৩/১৬৪; লিসানুল মিযান: ৬/৪৫
২৩. আসসুন্নাহ, ইবনু আবি আসিম: ৩০৩; আলইলালুল মুতানাহিয়াহ: ২/৩৬৮; মুসনাদুল ফারুক, ইবনু কাসির: ২/৬৫৯; তাহযিবুত তাহযিব: ৭/৪৪৫; তালখিসুল ইলালিল মুতানাহিয়াহ: ৩১৩; লিসানুল মিযান: ৬/৯৭
📄 ফিতনার শাসকবৃন্দ
(১৮) আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"আমার পরে এমনসব শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে, যাদের দুয়ারে উট বসার জায়গার মতো ফিতনা থাকবে। তারা কাউকে কোনো কিছু প্রদান করলে তার থেকে সে পরিমাণ দ্বীন গ্রহণ করে নেবে।”²⁴
(১৯) আব্দুল্লাহ ইবনু উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"তোমরা শাসকের দুয়ার এবং তার অনুচরবর্গ থেকে দূরে থাকো। কেননা, যে তাদের অধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত, সে আল্লাহর থেকে অধিক দূরবর্তী। যে শাসককে আল্লাহর ওপর প্রাধান্য দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ফিতনা সৃষ্টি করে দেন, তার থেকে তাকওয়া ছিনিয়ে নেন, আর তাকে অস্থিররূপে ছেড়ে রাখেন।"²⁵
টিকাঃ
২৪. আলমুসতাদরাক লিল হাকিম: ৩/৬৩৩; মাজমাউয যাওয়ায়িদ: ৫/২৪৯
২৫. কানযুল উম্মাল: ৬/৭০; আখবারু আসবাহান, আবু নুয়াইম: ২/৪২; তালখিসুল মুতাশাবিহ, আলখাতিব আলবাগদাদি: ১/৩৪১; তাখরিজু ফাযিলাতিল 'আদিলিন: ১৭৭
(১৮) আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"আমার পরে এমনসব শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে, যাদের দুয়ারে উট বসার জায়গার মতো ফিতনা থাকবে। তারা কাউকে কোনো কিছু প্রদান করলে তার থেকে সে পরিমাণ দ্বীন গ্রহণ করে নেবে।”²⁴
(১৯) আব্দুল্লাহ ইবনু উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন,
"তোমরা শাসকের দুয়ার এবং তার অনুচরবর্গ থেকে দূরে থাকো। কেননা, যে তাদের অধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত, সে আল্লাহর থেকে অধিক দূরবর্তী। যে শাসককে আল্লাহর ওপর প্রাধান্য দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ফিতনা সৃষ্টি করে দেন, তার থেকে তাকওয়া ছিনিয়ে নেন, আর তাকে অস্থিররূপে ছেড়ে রাখেন।"²⁵
টিকাঃ
২৪. আলমুসতাদরাক লিল হাকিম: ৩/৬৩৩; মাজমাউয যাওয়ায়িদ: ৫/২৪৯
২৫. কানযুল উম্মাল: ৬/৭০; আখবারু আসবাহান, আবু নুয়াইম: ২/৪২; তালখিসুল মুতাশাবিহ, আলখাতিব আলবাগদাদি: ১/৩৪১; তাখরিজু ফাযিলাতিল 'আদিলিন: ১৭৭
📄 সে সকল দুর্ভাগা মানুষের বৃত্তান্ত, যারা দুনিয়ার জন্য দ্বীনের ফিকহ অর্জন করে
(২০) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
“আমার পরে আমার উম্মাহর মধ্যে এমন কাওমের আবির্ভাব ঘটবে, যারা কুরআন পাঠ করবে, দ্বীনের ফিকহ অর্জন করবে, এরপর শয়তান তাদের কাছে এসে বলবে, 'যদি তোমরা শাসকের কাছে গমন করতে, তা হলে শাসক তোমাদের দুনিয়া ঠিক করে দিত, অনন্তর তোমরা তোমাদের দ্বীন নিয়ে তাদের থেকে সরে পড়তে।' এটা কখনো হবার নয়। কাঁটাদার উদ্ভিদ থেকে যেমন কাঁটা ছাড়া অন্য কিছু সংগ্রহ করা অসম্ভব, তেমনই শাসকগোষ্ঠীর নৈকট্য থেকে গুনাহ ছাড়া অন্যকিছু আহরণ করা অসম্ভব।”²⁶
টিকাঃ
২৬. আলফাওয়ায়িদ: ৩৬১; তাহযিবুল কামাল: ২০৮৮; আলজামিউস সাগির, সুয়ুতি: ৪৭৭৮
(২০) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন,
“আমার পরে আমার উম্মাহর মধ্যে এমন কাওমের আবির্ভাব ঘটবে, যারা কুরআন পাঠ করবে, দ্বীনের ফিকহ অর্জন করবে, এরপর শয়তান তাদের কাছে এসে বলবে, 'যদি তোমরা শাসকের কাছে গমন করতে, তা হলে শাসক তোমাদের দুনিয়া ঠিক করে দিত, অনন্তর তোমরা তোমাদের দ্বীন নিয়ে তাদের থেকে সরে পড়তে।' এটা কখনো হবার নয়। কাঁটাদার উদ্ভিদ থেকে যেমন কাঁটা ছাড়া অন্য কিছু সংগ্রহ করা অসম্ভব, তেমনই শাসকগোষ্ঠীর নৈকট্য থেকে গুনাহ ছাড়া অন্যকিছু আহরণ করা অসম্ভব।”²⁶
টিকাঃ
২৬. আলফাওয়ায়িদ: ৩৬১; তাহযিবুল কামাল: ২০৮৮; আলজামিউস সাগির, সুয়ুতি: ৪৭৭৮