📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আল্লাহ তা‘আলার নিকটতম আসমানে অবতরণ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর

📄 আল্লাহ তা‘আলার নিকটতম আসমানে অবতরণ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর


প্রশ্ন: এটা কি বলা যাবে যে, আল্লাহ তা'আলা সত্তাগতভাবে অবতরণ করেন?
উত্তর: এ ব্যাপারে তিনটি মত পরিলক্ষিত হয়,
এক. প্রথম গোষ্ঠী বলেন, তিনি সত্তাগতভাবে অবতরণ করেন এটা বলা যাবে। এ মতটি আবুল কাসেম আল-আসবাহানীর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, এটি একদল আহলুল হাদীস ও আহলুস সুন্নাহ'র মত।
দুই. দ্বিতীয় গোষ্ঠী বলেন, তিনি সত্তাগতভাবে অবতরণ করেন না।
তিন. তৃতীয় গোষ্ঠী বলেন, বলা হবে তিনি অবতরণ করেন, কিন্তু সত্তাগত কিংবা সত্তাগতভাবে নয় কোনোটিই বলা যাবে না, সেভাবেই বলতে হবে যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর যা হতে চুপ ছিলেন তা থেকে চুপ থাকতে হবে। (৯২২) এখানে বিশুদ্ধ মত হচ্ছে তৃতীয়টি।
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলার অবতরণ কি নড়াচড়া সহ নাকি নড়াচড়া ব্যতীত?
উত্তর: এখানে চারটি মত রয়েছে।
এক. প্রথম গোষ্ঠী বলেন, অবতরণ আবার নড়াচড়া ও স্থানচ্যুত হওয়া ব্যতীত হয় নাকি, তাই নড়াচড়া ও স্থানচ্যুত হওয়া বলা যাবে। এমতটি ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আবু আবদুল্লাহ ইবন হামেদ, হারব ইবন ইসমা'ঈল আল-কিরমানীর।
দুই. দ্বিতীয় গোষ্ঠী বলেন, অবতরণ নড়াচড়া ও স্থান পরিবর্তন বলা যাবে না। এটি ইমাম আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবী, আবুল হাসান আত-তামীমী, তার দুই ছেলে আবদুল ওয়াহেদ ও আবদুল ওয়াহহাব ও ইবনুয যাগ্‌নীর মত।
তিন. তৃতীয় গোষ্ঠী বলেন, এ অর্থটি সাব্যস্ত হবে, তখন শব্দটি বলা যাবে না; কারণ তা কোনো হাদীসে আসেনি। এটি কোনো কোনো আহলুল হাদীসের মত, অনুরূপ তা ইবন আবদুল বার এরও মত। (৯২৩)
চার, চতুর্থ গোষ্ঠী বলেন, এ ব্যাপারটিতে কিছু না বলে চুপ থাকতে হবে। এ মতটি ইমাম ইবন বাত্তাহ, আবু বকর আবদুল আযীয ইবন জা'ফর, (খাল্লালের ছাত্র) এটি অনেক আহলুল হাদীস ও ফকীহগণের মত।
বস্তুত এ চতুর্থ মতটিই বিশুদ্ধ। এটি বলা যাবে না, অস্বীকারও করা যাবে না। কারণ, তা মুজমাল বা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্য বাক্য। (৯২৪)
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা যখন অবতরণ করেন, তখন কি 'আরশ শূন্য হয়ে যায়? উত্তর: এ ব্যাপারে আলেমগণের মধ্যে তিনটি মত রয়েছে (৯২৫):
এক. প্রথম গোষ্ঠী বলেন, খালি হয়ে যায়, এমতটি ইমাম আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ ইবন মানদাহ রাহিমাহুল্লাহ পোষণ করতেন।
দুই. এ ব্যাপারে কোনো কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি ইমাম আবদুল গনী আল-মাক্কদেসী ও কোনো কোনো আহলে হাদীসের মত।
তিন, 'আরশ তাঁর থেকে খালি হয় না। এটি অধিকাংশ আহলুস সুন্নাতের মত। এটি ইমাম আহমাদ, ইসহাক্ব ইবন রাহওয়াইহ, হাম্মাদ ইবন যায়েদ, উবাইদুল্লাহ ইবন বাত্ত্বাহ প্রমুখ আলেমগণের।
বস্তুত তৃতীয় মতটিই বিশুদ্ধ।(৯২৬)
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠা, 'আরশের উপর অবস্থান, নিকটতম আসমানে নেমে আসার বিষয়ে হাদ্দ বা 'পার্থক্যকারী সীমা আছে' বলা যাবে? উত্তর: এ ব্যাপারে তিনটি মত রয়েছে:
এক. প্রথম গোষ্ঠী বলেন, হাদ্দ বা সীমা আছে বলা যাবে, এ মতের সপক্ষে ছিলেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, ইসহাক্ব ইবন ইবরাহীম ইবন রাহওয়িয়াহ, হারব ইবন ইসমা'ঈল আল-কিরমানী, ইয়াহইয়া ইবন আম্মার, কাদ্বী আবু ইয়া'লা, আদ-দিশতী। আর তা ইমাম আহমাদ থেকেও একটি বর্ণনা।
দুই. দ্বিতীয় গোষ্ঠী বলেন, হাদ্দ বা সীমা আছে বলা যাবে না। এ মতের প্রবক্তাদের অন্যতম হচ্ছেন ইবন হিব্বান, আবু সালামাহ ইবনুল মাজেশূন, আবু নসর আত-তাম্মার, আবু হাতেম আল-বুসতী, আত্ব-ত্বাহাওয়ী, ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন। আর এটি ইমাম আহমাদের একটি মত।
তিন. তৃতীয় গোষ্ঠী বলেন, হাদ্দ আছে বা নেই সরাসরি বলা যাবে না, অস্বীকারও করা যাবে না। কারণ, তা মুজমাল বা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্য বাক্য। জিজ্ঞাসা করা হবে, হদ্দ বা সীমা বলতে কী বুঝ? যদি বলে যে, তা দ্বারা উদ্দেশ্য সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা অর্থে, তাহলে তা সত্য ও সঠিক, ইমামগণের মধ্যে যারা হদ্দ সাব্যস্ত করেছেন, তারা এ অর্থেই সাব্যস্ত করেছেন। আর যদি বলে হদ্দ দ্বারা উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ বুঝানো, তাহলে তা অস্বীকার করতে হবে। ইমামগণের মধ্যে যারা অস্বীকার করেছেন, তারা এ অর্থেই অস্বীকার করেছেন। (৯২৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00