📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নিকটতম আসমানে নেমে আসা তাঁর ‘আরশের উপরে থাকার সাথে সাংঘর্ষিক নয়-

📄 আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নিকটতম আসমানে নেমে আসা তাঁর ‘আরশের উপরে থাকার সাথে সাংঘর্ষিক নয়-


সাহাবায়ে কেরাম, তাবে'য়ীনে 'ইযাম, আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন, ফুকাহা, মুহাদ্দিসীন যুগ যুগ ধরে বিশ্বাস করে এসেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, তিনি 'আরশের উপর সমুন্নত। তিনি 'আরশের উপর যেমন সত্য, তেমনি তিনি নিকটতম আসমানে নেমে আসেন এটাও সত্য। এর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
কিন্তু দেখা যায় যুগ যুগ ধরে কিছু মানুষ আল্লাহ তা'আলার এ গুণটিকে অস্বীকার করে থাকে, তাদের কেউ বলে, স্থান পরিবর্তন আল্লাহর অতুলনীয়ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক। কেউ কেউ বলেন, তিনি 'আরশ থেকে অবতরণ করলে 'আরশ কি শূন্য থাকে? তারা সাধারণত দু'ভাগে তা অস্বীকার করে থাকে:
এক. তা'ত্নীল বা অর্থহীন করার মাধ্যমে। এ বিশেষণটিকে প্রাচীনকালে কিছু পথভ্রষ্ট ফির্কা জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলারা অস্বীকার করতো। এখনো আশায়েরা ও মাতুরিদিয়াদের একটি গোষ্ঠী এটাকে নিজেদের মত হিসেবে ব্যক্ত করে, তবে সরাসরি না বলে এগুলোকে মুতাশাবিহ আয়াত বা হাদীস বলে অর্থ কেবল আল্লাহ জানে, এটা বলে তথাকথিত তাফওয়ীদ্ব নীতি অবলম্বন করে থাকে।
দুই. বিভিন্নভাবে তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তার মূল স্পষ্ট অর্থকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে। এ কাজটি সবচেয়ে বেশি করে পরবর্তী আশায়েরা ও মাতুরিদী সম্প্রদায়ের লোকেরা। (৯১৩) তাদের এসব অপব্যাখ্যার নীতিকে তারা নিম্নোক্তভাবে ব্যক্ত করে:
১- কেউ কেউ বলেন, অবতরণ অর্থ নৈকট্য লাভ করা। (৯১৪)
২- কেউ কেউ বলে, অবতরণ করার অর্থ বিশেষ করুণা। (৯১৫)
৩- কারও কারও মতে, এর অর্থ ফিরিশতা অবতরণ করা। (৯১৬)
৪- কারও কারও মতে, অবতরণ করা অর্থ, তাদের দিকে নজর দেয়া। (৯১৭)
তাদের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে পূর্বে বর্ণিত সহীহ সুন্নাহ'র ভাষ্য বিরোধী। এভাবে হাদীসের অর্থ বিকৃত করার এ নীতি তারা জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাদের থেকেই নিয়েছে। মূল কারণ হচ্ছে স্রষ্টার গুণকে সৃষ্টির গুণের সাথে তুলনা করা। তারপর সে গুণগুলোকে অস্বীকার কিংবা অপব্যাখ্যা করা। (৯১৮)
প্রকৃতপক্ষে মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করে চিন্তা করাটাই একটা ভুল চিন্তা। স্রষ্টা আর সৃষ্টি কখনো এক নয়, স্রষ্টা ও সৃষ্টির ক্ষেত্রে একই স্ট্যান্ডার্ড দিয়ে চিন্তা করাটা একটা ত্রুটিপূর্ণ ও দূষিত চিন্তা। আল্লাহ তা'আলার গুণাবলি সম্পর্কে ইমাম আবু জাফর ত্বাহাবী বলেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মানবীয় কোনো গুণ আরোপ করবে, সে কাফির হয়ে যাবে। অতএব, যে ব্যক্তি এতে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে সে শিক্ষা নিতে সক্ষম হবে। আর (আল্লাহ সম্পর্কে) কাফিরদের মতো নিরর্থক কথা বলা হতে বিরত থাকবে এবং সে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর গুণাবলিতে মানুষের মতো নন।”
কাজেই আল্লাহ তা'আলাকে মানুষ বা সৃষ্টিজগতের মাত্রা বা dimension থেকে চিন্তা করাটা কোনো ইসলামী বিশ্বাস নয়। এখানেই যত বিভ্রান্তি লুকায়িত।
আহলুস সুন্নাতের ইমামগণ অন্যান্য গুণের মত আল্লাহ তা'আলার 'অবতরণ' সিফাতটিকেও তুলনামুক্তভাবে মেনে নেন। তিনি যখন এবং যেভাবে ইচ্ছা অবতরণ করেন। তাঁর অবতরণ কোনোভাবেই কোনো সৃষ্টির অবতরণের মতো নয়। তাঁর অবতরণের স্বরূপ ও প্রকৃতি কি তা আমরা জানি না এবং জানার চেষ্টাও করি না। ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহকে মহান আল্লাহর অবতরণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি উত্তরে বলেন: ينزل بلا كيف “[মহান আল্লাহ] অবতরণ করেন, কোনোরূপ পদ্ধতি বা স্বরূপ ব্যতিরেকে।” (৯১৯)
সহীহ বুখারীতে সিফাত-সংক্রান্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন ইবন রজব আল-হাম্বলী রাহিমাহুল্লাহ। তাতে এসেছে,
"...আমি আবু আবদুল্লাহকে [আহমাদ ইবন হাম্বল] বললাম, "আল্লাহ কি দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন? তিনি বললেন, “হ্যাঁ”। আমি বললাম, "তাঁর অবতরণ কি ইলম (জ্ঞান) দিয়ে অথবা কী দিয়ে?” তিনি বললেন, "এই বিষয়ে চুপ করো। তোমার কী দরকার এ বিষয়ে? হাদীসে যেভাবে 'কীভাবে' বা সীমা ছাড়া বর্ণিত হয়েছে সেভাবে মেনে নাও। তবে কোনো আছার বা হাদীস যদি বর্ণিত হয়, তাহলে ভিন্ন কথা অথবা যদি কিতাবে বর্ণিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, "অতএব, আল্লাহর কোনো সদৃশ সাব্যস্ত করো না।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৭৪] এর পরে ইবন রজব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "[আল্লাহর] 'অবতরণ' বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তার উপর নড়াচড়া, স্থানান্তর, 'আরশ থেকে খালি হওয়া, না থাকা এ সকল কিছু সাব্যস্ত করা বিদ'আত। এ ব্যাপারে গভীরে অনুসন্ধান করা কোনো প্রশংসনীয় কাজ নয়।” (৯২০)
ইমাম আবু জাফর আত-ত্বাহাওয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "আর 'আরশ এবং কুরসী সত্য। আর আল্লাহ তা'আলা 'আরশ ও অন্যান্য বস্তু থেকে অমুখাপেক্ষী। তিনি সমস্ত বস্তুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তিনি সবকিছুরই ঊর্ধ্বে। সৃষ্টিজগত তাঁকে পূর্ণভাবে আয়ত্ব করতে অক্ষম।” আরও বলেন, "আল্লাহ তা'আলা স্থান ও সময়ের স্রষ্টা।”
আল্লাহ তা'আলা ব্যক্তি, বস্তু, সময় বা স্থান কোনো কিছুরই মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি এগুলোর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। কাজেই আল্লাহ তা'আলার জন্য এটা খুবই সহজ যে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে থাকবেন এবং শেষ রাতে নিকটতম আসমানে অবতরণ করবেন। পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সব সময়ে শেষ রাত থাকলেও আল্লাহ তা'আলার জন্য তা কঠিন কিছু নয়।
আল্লাহ তা'আলার 'আরশের ঊর্ধ্বারোহন কিংবা শেষ আসমানে অবতরণ মোটেও মানুষ বা অন্য কোনো সৃষ্টির মতো নয়। পথভ্রষ্ট বিদ'আতী আকীদাহ'র মানুষেরা সৃষ্টির সাথে আল্লাহ তা'আলার গুণাবলিকে মিলিয়ে ফেলে ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা'আলার সিফাত সংক্রান্ত হাদীসে কোনো প্রকারের অসঙ্গতি বা অযৌক্তিক কিছু নেই।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহimhimullah বলেন,
"এখানে সালাফগণের সে কথাটিই বিশুদ্ধ, যাতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন আর 'আরশ তার থেকে খালি হয় না। একজন মানুষের রূহ তার শরীরে থাকে, রাত-দিন আমৃত্যু তার সাথে থাকে, ঘুমের সময় উপরে উঠে যায়, 'আরশের নিচে সাজদাহ করে, অথচ সেটা তার শরীর ছেড়ে একেবারে চলে যায়নি। অনুরূপভাবে মানুষ যখন সাজদায় থাকে তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটে থাকে অথচ তার রূহ তার শরীরেই রয়েছে। আর রূহের বিধান শরীরের বিধানের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তাহলে ফিরিশতাদের অবস্থা তো আরও ব্যতিক্রম। আর রাব্বুল আলামীনের অবস্থা যে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর রাতেরও রয়েছে বিভিন্ন অবস্থা, প্রাচ্যে যখন রাতের এক- তৃতীয়াংশ হয় তখন সেটা পাশ্চাত্যের এক-তৃতীয়াংশের আগে হবেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর অবতরণ করার জন্য যে সময় প্রাচ্যের লোকদের জন্য তাদের আসমানে ঘোষণা করেছেন তা অবশ্যই পাশ্চাত্যের লোকদের আসমানের সময় থেকে ভিন্ন হবেই। বস্তুত আল্লাহ তা'আলা এমন এক সত্তা, যাঁর কোনো অবস্থা অপর কোনো অবস্থার জন্য বাঁধা হয় না। অনুরূপভাবে কারও কথা শোনা অপর কারও শোনা থেকে বাঁধা হয় না। অনবরত অসংখ্য একই সাথে করা চাওয়া তাঁর কোনো সমস্যা তৈরি করে না। বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর বান্দাদের সাথে কিয়ামতের দিন কথা বলবেন, তাদের হিসাব নিবেন, একটি করতে অপরটি তার জন্য বাঁধা হবে না। ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন সবার সাথে একই সময় কীভাবে কথা বলবেন? তখন তিনি বলেন, যেমন তিনি সবাইকে একই সময় রিযিক দিচ্ছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে আহ্বানকারীদের আহ্বান, তাঁর কাছে যাচঞাকারীদের প্রার্থিত জিনিস প্রদান করেন, যদিও তাদের ভাষা হয় বিবিধ, তাদের প্রয়োজনও বহুবিধ। তাছাড়া মানুষের মাঝেও কারও কারও শ্রবণশক্তি এমন ক্ষুরধার হয় যে, এক সাথে কয়েকজনের কথা শুনতে সক্ষম হন, যেমনটি দেখা যায় কোনো কোনো কারী সাহেব একাধিক ছাত্রের পড়া একসময় শুনেন, তবে সেটা খুব স্বল্প সংখ্যক লোকের মাঝেই তা হতে পারে। অনুরূপ কাউকে কাউকে দেখা যায় তার অন্তরে সে উপস্থিত অনুপস্থিত কারও প্রতি টান, নৈকট্য ও ঝোঁক অনুভব করে, সে সময়েই তিনি অপরের জন্য তা অনুভব করেন না। এ যদি হয় মানুষের অবস্থা, তাহলে মহান রব তো অনেক বেশি প্রশস্ত জ্ঞানী, যাঁর শোনা যাবতীয় আওয়াজকে একই সাথে ধারণ করতে পারে, তাঁর দান তো সকল প্রয়োজন পূরণের জন্য যথেষ্ট। মানুষের মাঝে কেউ কেউ এ জায়গায় ভুল করে, সে মনে করে থাকে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য মানুষের নড়াচড়া জাতীয় কিছু বুঝি, যখন সে কোনো দিকে ঝুঁকে তখন সে অন্য দিক থেকে প্রত্যাবর্তন করেই তা করতে হয়, সে তার অন্তরের কর্মকে দেখতে পায় যে, তা তার শরীরের কর্মের বিপরীত করে চলেছে। তারপরও সে দেখতে পায় তার অন্তর অনেক মানুষের নৈকট্য লাভ করেছে অথচ তাদের কারও নৈকট্য লাভ করতে তাকে অপর কারও কাছ থেকে সরে আসতে হয়নি।”(৯২১)

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আল্লাহ তা‘আলার নিকটতম আসমানে অবতরণ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর

📄 আল্লাহ তা‘আলার নিকটতম আসমানে অবতরণ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর


প্রশ্ন: এটা কি বলা যাবে যে, আল্লাহ তা'আলা সত্তাগতভাবে অবতরণ করেন?
উত্তর: এ ব্যাপারে তিনটি মত পরিলক্ষিত হয়,
এক. প্রথম গোষ্ঠী বলেন, তিনি সত্তাগতভাবে অবতরণ করেন এটা বলা যাবে। এ মতটি আবুল কাসেম আল-আসবাহানীর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়। ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন, এটি একদল আহলুল হাদীস ও আহলুস সুন্নাহ'র মত।
দুই. দ্বিতীয় গোষ্ঠী বলেন, তিনি সত্তাগতভাবে অবতরণ করেন না।
তিন. তৃতীয় গোষ্ঠী বলেন, বলা হবে তিনি অবতরণ করেন, কিন্তু সত্তাগত কিংবা সত্তাগতভাবে নয় কোনোটিই বলা যাবে না, সেভাবেই বলতে হবে যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর যা হতে চুপ ছিলেন তা থেকে চুপ থাকতে হবে। (৯২২) এখানে বিশুদ্ধ মত হচ্ছে তৃতীয়টি।
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলার অবতরণ কি নড়াচড়া সহ নাকি নড়াচড়া ব্যতীত?
উত্তর: এখানে চারটি মত রয়েছে।
এক. প্রথম গোষ্ঠী বলেন, অবতরণ আবার নড়াচড়া ও স্থানচ্যুত হওয়া ব্যতীত হয় নাকি, তাই নড়াচড়া ও স্থানচ্যুত হওয়া বলা যাবে। এমতটি ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, আবু আবদুল্লাহ ইবন হামেদ, হারব ইবন ইসমা'ঈল আল-কিরমানীর।
দুই. দ্বিতীয় গোষ্ঠী বলেন, অবতরণ নড়াচড়া ও স্থান পরিবর্তন বলা যাবে না। এটি ইমাম আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবী, আবুল হাসান আত-তামীমী, তার দুই ছেলে আবদুল ওয়াহেদ ও আবদুল ওয়াহহাব ও ইবনুয যাগ্‌নীর মত।
তিন. তৃতীয় গোষ্ঠী বলেন, এ অর্থটি সাব্যস্ত হবে, তখন শব্দটি বলা যাবে না; কারণ তা কোনো হাদীসে আসেনি। এটি কোনো কোনো আহলুল হাদীসের মত, অনুরূপ তা ইবন আবদুল বার এরও মত। (৯২৩)
চার, চতুর্থ গোষ্ঠী বলেন, এ ব্যাপারটিতে কিছু না বলে চুপ থাকতে হবে। এ মতটি ইমাম ইবন বাত্তাহ, আবু বকর আবদুল আযীয ইবন জা'ফর, (খাল্লালের ছাত্র) এটি অনেক আহলুল হাদীস ও ফকীহগণের মত।
বস্তুত এ চতুর্থ মতটিই বিশুদ্ধ। এটি বলা যাবে না, অস্বীকারও করা যাবে না। কারণ, তা মুজমাল বা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্য বাক্য। (৯২৪)
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলা যখন অবতরণ করেন, তখন কি 'আরশ শূন্য হয়ে যায়? উত্তর: এ ব্যাপারে আলেমগণের মধ্যে তিনটি মত রয়েছে (৯২৫):
এক. প্রথম গোষ্ঠী বলেন, খালি হয়ে যায়, এমতটি ইমাম আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মাদ ইবন মানদাহ রাহিমাহুল্লাহ পোষণ করতেন।
দুই. এ ব্যাপারে কোনো কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি ইমাম আবদুল গনী আল-মাক্কদেসী ও কোনো কোনো আহলে হাদীসের মত।
তিন, 'আরশ তাঁর থেকে খালি হয় না। এটি অধিকাংশ আহলুস সুন্নাতের মত। এটি ইমাম আহমাদ, ইসহাক্ব ইবন রাহওয়াইহ, হাম্মাদ ইবন যায়েদ, উবাইদুল্লাহ ইবন বাত্ত্বাহ প্রমুখ আলেমগণের।
বস্তুত তৃতীয় মতটিই বিশুদ্ধ।(৯২৬)
প্রশ্ন: আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠা, 'আরশের উপর অবস্থান, নিকটতম আসমানে নেমে আসার বিষয়ে হাদ্দ বা 'পার্থক্যকারী সীমা আছে' বলা যাবে? উত্তর: এ ব্যাপারে তিনটি মত রয়েছে:
এক. প্রথম গোষ্ঠী বলেন, হাদ্দ বা সীমা আছে বলা যাবে, এ মতের সপক্ষে ছিলেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইমাম উসমান ইবন সা'ঈদ আদ-দারেমী, ইসহাক্ব ইবন ইবরাহীম ইবন রাহওয়িয়াহ, হারব ইবন ইসমা'ঈল আল-কিরমানী, ইয়াহইয়া ইবন আম্মার, কাদ্বী আবু ইয়া'লা, আদ-দিশতী। আর তা ইমাম আহমাদ থেকেও একটি বর্ণনা।
দুই. দ্বিতীয় গোষ্ঠী বলেন, হাদ্দ বা সীমা আছে বলা যাবে না। এ মতের প্রবক্তাদের অন্যতম হচ্ছেন ইবন হিব্বান, আবু সালামাহ ইবনুল মাজেশূন, আবু নসর আত-তাম্মার, আবু হাতেম আল-বুসতী, আত্ব-ত্বাহাওয়ী, ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন। আর এটি ইমাম আহমাদের একটি মত।
তিন. তৃতীয় গোষ্ঠী বলেন, হাদ্দ আছে বা নেই সরাসরি বলা যাবে না, অস্বীকারও করা যাবে না। কারণ, তা মুজমাল বা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্য বাক্য। জিজ্ঞাসা করা হবে, হদ্দ বা সীমা বলতে কী বুঝ? যদি বলে যে, তা দ্বারা উদ্দেশ্য সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা অর্থে, তাহলে তা সত্য ও সঠিক, ইমামগণের মধ্যে যারা হদ্দ সাব্যস্ত করেছেন, তারা এ অর্থেই সাব্যস্ত করেছেন। আর যদি বলে হদ্দ দ্বারা উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ বুঝানো, তাহলে তা অস্বীকার করতে হবে। ইমামগণের মধ্যে যারা অস্বীকার করেছেন, তারা এ অর্থেই অস্বীকার করেছেন। (৯২৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00