📄 আল্লাহ কর্তৃক বান্দার নিকটে থাকা একটি মহৎ গুণ
আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক বান্দার নিকটে থাকা তাঁর একটি গুণ। এটি আল্লাহর পছন্দ করা কর্মগত একটি গুণ, যার পক্ষে কুরআন ও হাদীসের বাণী থেকে প্রমাণ রয়েছে। যেমন, ১- আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে একটি নাম হচ্ছে, 'আল-ক্বারীব' বা সবচেয়ে নিকটে। আল্লাহ বলেন,
﴿وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ ﴾ [البقرة: ١٨٦]
"আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে, (তখন বলে দিন যে) নিশ্চয় আমি অতি নিকটে। আহবানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই। কাজেই তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে।” [সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ১৮৬]
আরও বলেন, ﴿إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُجِيبٌ﴾ [هود: ٦١] "নিশ্চয় আমার রব খুব কাছেই, ডাকে সাড়া প্রদানকারী।” [সূরা হৃদ, আয়াত: ৬১]
আরও বলেন, ﴿قُلْ إِن ضَلَلْتُ فَإِنَّمَا أَضِلُّ عَلَى نَفْسِي وَإِنِ اهْتَدَيْتُ فَبِمَا يُوحِيَ إِلَيَّ رَبِّي إِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ﴾ [سبا: ٥٠]
"বলুন, আমি বিভ্রান্ত হলে বিভ্রান্তির পরিণাম আমারই, আর যদি আমি সৎপথে থাকি তবে তা এ জন্যে যে, আমার রব আমার প্রতি অহী পাঠান। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী।” [সূরা সাবা, আয়াত: ৫০] ২- অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসেও এসেছে,
وَمَنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ شِبْرًا، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَمَنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِذَا أَقْبَلَ إِلَيَّ يَمْشِي، أَقْبَلْتُ إِلَيْهِ أُهَرُولُ
"আর যে কেউ আমার দিকে এক বিঘত নৈকট্য লাভের দিকে এগিয়ে যাবে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাব, আর যে কেউ আমার নৈকট্য লাভে এক হাত এগিয়ে আসবে, আমি তার দিকে এক বেড় এগিয়ে যাব, আর যখন কেউ হেঁটে এগিয়ে আসবে, আমি তার
দিকে একটু দ্রুত এগিয়ে যাব।"(৮৮৫)
৩- অপর হাদীসে এসেছে, عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ - رَضِيَ اللهُ عَنْهُ - قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي سَفَرٍ، فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُنَا بِالتَّكْبِيرِ، فَقَالَ: ((أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا، إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا قَرِيبًا مُجِيبًا، وَهُوَ مَعَكُمْ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ)) . هَذَا الْحَدِيثُ فِي ((الصَّحِيحَيْنِ)) .
"আবু মূসা আল-আশ'আরী রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম, আমাদের আওয়াজসমূহ তাকবীর ধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে মানুষরা, নিজেদের ওপর তোমরা কোমলতা আরোপ কর, তোমরা তো কোনা বধির কিংবা অনুপস্থিত কাউকে ডাকছো না। তোমরা তো ডাকছ সর্বশ্রোতা, সর্বনিকট ও দো'আ কবুলকারী সত্তাকে, তিনি তোমাদের সাথে তেমন নিকটে যেমন তোমাদের কারো বাহনের ঘাঁড় তার থেকে নিকটে।”(৮৮৬)
৪- অপর হাদীসে এসেছে, عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ - رَضِيَ اللهُ عَنْهُ - أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ : ((أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الرَّبُّ مِنَ الْعَبْدِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ الْآخِرِ ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُونَ لِمَنْ يَذْكُرُ اللهَ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ فَكُنْ)) . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتَّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ، وَصَحَّحَهُ الْأَلْبَانِيُّ فِي ((صَحِيحِ التَّرْغِيبِ وَالتَّرْهِيبِ)).
"আমর ইবন আবাসা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, রাব্বুল আলামীন বান্দার সবচেয়ে নিকটে হন শেষ রাতের মধ্যভাগে। সুতরাং যদি তুমি পার তার মতো হতে যে তাঁকে সে সময় স্মরণ করে, তাহলে হও।”(৮৮৭)
৫- অপর হাদীসে এসেছে, قَالَتْ عَائِشَةُ : إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللَّهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ، مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَإِنَّهُ لَيَدْنُو، ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمُ الْمَلائِكَةَ، فَيَقُولُ: مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟»
""আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জাহান্নাম থেকে কোনো বান্দাকে মুক্ত করার ব্যাপারে 'আরাফার দিনের মতো আর কোনো দিন নেই, আল্লাহ তা'আলা নিকটবর্তী হোন, তারপর তিনি তাদের নিয়ে ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করে বলেন, এ লোকগুলো কী চায়?” (৮৮৮)
📄 আল্লাহ তা‘আলার জন্য বান্দার নিকটে থাকার গুণ সাব্যস্ত করার নীতি
আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আত ও আসহাবুল হাদীস এ বিশ্বাস রাখেন যে, আল্লাহ তা'আলা প্রকৃত অর্থে তাঁর সম্মান-মর্যাদা ও মহত্বের সাথে উপযোগীভাবে তাঁর বান্দাদের নিকটবর্তী, তবে তিনি তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টিকুল থেকে পৃথক। আবার তিনি যথাযথভাবেই তাঁর বান্দাদের নিকটবর্তী হন, তাদের কাছাকাছি হওয়াও সত্য। কিন্তু তারা কুরআন ও সুন্নাহ'য় আসা প্রত্যেক 'নিকটবর্তী' শব্দকেই স্বয়ং তাঁর নিকটবর্তী হওয়া বলেন না। বরং কখনও কখনও সেগুলো ফিরিশতাগণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে থাকেন, আর তা নির্ধারিত হবে বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত শব্দটির আগ-পিছ দেখে।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "আর তাঁর বান্দাদের কারো নিকটবর্তী হওয়া, কাছাকাছি হওয়া, এটা এমন সকল আলেমই সাব্যস্ত করে থাকেন, যারা আল্লাহ তা'আলার জন্য তিনি যা ইচ্ছা ও পছন্দ তা করার গুণ সাব্যস্ত করেন। অনুরূপ তারা আরও সাব্যস্ত করেন কিয়ামতের দিন তাঁর হাশরের মাঠে আগমন, তাঁর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ, 'আরশের উপরে আরোহন। বস্তুত এরাই হচ্ছে সালাফে সালেহীন ইমাম, ইসলামের বিখ্যাত ইমামগণ, হাদীসবেত্তাগণ। আর এ বিষয়টি তাদের থেকে মুতাওয়াতির বা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।”(৮৮৯)
অন্যত্র তিনি বলেন, "আর তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি জায়েয হওয়া এটা আবশ্যক করে না যে কুরআন ও হাদীসের যেখানে যেখানেই এ 'নিকটবর্তী' শব্দ আসবে সেটাকেই তাঁর স্বয়ং নিকটবর্তী হওয়া অর্থ নিতে হবে। বরং সেটা জায়েয পর্যায়েই থাকবে, তারপর যে ভাষ্যে তা এসেছে সে ভাষ্যের দিকে তাকাতে হবে, যদি সেটা দ্বারা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়াই বুঝা যায় তবে তাই অর্থ নিতে হবে, আর যদি অন্য অর্থ বুঝায় তখন সেটা নিতে হবে। যেমনটি আল্লাহর আসা ও আগমন এ দু'টি গুণের ক্ষেত্রে নেয়ার আলোচনা ইতোপূর্বে চলে গেছে।”(৮৯০)
অন্যত্রও শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ এ মাসআলাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।(৮১১) আরও বিস্তারিত জানার জন্য দেখা যেতে পারে, শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-উসাইমীন প্রণীত আল-কাওয়ায়িদুল মুসলা ৬৭-৭২, উদাহরণ নং ১১ ও ১২।
📄 কিছু সন্দেহ ও তার অপনোদন
প্রশ্ন: কুরআনে কারীমের বেশ কিছু আয়াতে 'নিকটবর্তী' শব্দটি এসেছে, যেমন, وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ ]حَبْلِ الْوَرِيدِ ) ) [ق: ١٦ "আর আমরা তার গলার ধমনী হতেও অধিক নিকটবর্তী।” [সূরা কাফ, আয়াত: ১৬]
অনুরূপ অন্য আয়াতে এসেছে ﴿٨٥) ]وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنكُمْ) [الواقعة: “আর তোমাদের চাইতে আমরা তার অধিক নিকটবর্তী।" [সূরা আল ওয়াকিয়াহ, আয়াত: ৮৫] কোনো কোনো তাফসীর গ্রন্থসমূহে বলা হয়েছে, উল্লিখিত দু' আয়াতে 'অধিক কাছে' বলতে ফিরিশতাদের বুঝানো হয়েছে। এ তাফসীর কি আল্লাহর 'নিকটবর্তী হওয়া' গুণ বিরোধী, নাকি তা তা'ওয়ীল?
জওয়াব: উল্লিখিত দু' আয়াতে 'অধিক নিকটবর্তী' বলতে ফিরিশতারা অধিক নিকটবর্তী বলে যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তাতে আল্লাহর বাণীকে তার বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে না। গভীরভাবে চিন্তা করলে এ বিষয়টি আমাদের বুঝে আসে।
প্রথম আয়াত: এখানে 'নিকটবর্তী থাকা'র বিষয়টি এমন কিছুর সঙ্গে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে, যার দ্বারা বুঝা যায়, এখানে 'অধিক নিকটবর্তী' বলে ফিরিশতাদেরকেই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। যেহেতু আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ ]ق: ١٥-١٨[ )
"আর অবশ্যই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার প্রবৃত্তি তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তাও আমরা জানি। আর আমরা তার গলার ধমনী হতেও অধিক কাছে। যখন ডানে ও বামে বসা দু'জন লিপিবদ্ধকারী লিখতে থাকবে তার প্রত্যেক কর্ম ও কাজ সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা উপস্থিত সংরক্ষণকারী রয়েছে।” [সূরা কাফ, আয়াত: ১৬-১৮] এখানে إِذْ يَتَلَقَّى )যখন... গ্রহণ করবে) দ্বারা এটা বুঝা যাচ্ছে যে আগের আয়াতে ونحن أقرب এর 'অধিক নিকটবর্তী' বলা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আমলনামা লিপিবদ্ধকারী দুই ফিরিশতার নিকটবর্তী হওয়া।
দ্বিতীয় আয়াত: দ্বিতীয় আয়াতে যে 'নিকটবর্তী' থাকার কথা বলা হয়েছে, তা বান্দার মৃত্যুকালীন অবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর মৃত্যুকালে বান্দার কাছে যারা উপস্থিত হন তারা হলেন ফিরিশতা। আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন: ]حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ ﴾ [الانعام: ٦١
"অবশেষে যখন তোমাদের কারো কাছে মৃত্যু আসে, আমার প্রেরিত দূতগণ তার মৃত্যু ঘটায়। আর তারা কোনো ত্রুটি করে না।" [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৬১]
মানুষের মৃত্যুকালে ফিরিশতাই যে বান্দার নিকটে আসেন, এর আরেকটি প্রমাণ হলো আল্লাহ তা'আলার কথা: ﴿وَلَكِن لَّا تُبْصِرُونَ ﴾ [الواقعة: ٨٥﴿ "কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।” [আল ওয়াকি'য়া, আয়াত: ৮৫]
কেননা এ আয়াত থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, যিনি নিকটবর্তী হন তিনি ঠিক ঐ জায়গাতেই নিকটবর্তী হন যে জায়গাতে মৃত্যুগামী ব্যক্তি রয়েছে। অথচ আমরা তাকে প্রত্যক্ষ করতে পারি না। এ বিষয়টি ফিরিশতা কর্তৃক নিকটতাকে নির্ধারণ করে দিচ্ছে; কেননা আল্লাহ তা'আলার ক্ষেত্রে এ প্রকৃতির নিকটবর্তী হওয়া অসম্ভব।
সার্বিকভাবে, সূরা কাফের উক্ত আয়াতটির অর্থ যদি আল্লাহ্ তা'আলার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়, তবে তার অর্থ তাঁর মর্যাদা ও শানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমনভাবে তিনি বান্দার নিকটে থাকেন, সৃষ্টির মধ্যে প্রবিষ্ট হিসেবে নন, বরং এর প্রকৃত ধরন আমাদের অজানা-তবে এ অর্থটাও সঠিক হবে।
একটি প্রশ্ন:
এখানে একটি প্রশ্ন এভাবে উত্থাপিত হতে পারে যে, যদি ফিরিশতাই নিকটবর্তী হবেন তাহলে আল্লাহ তা'আলা কেন বললেন যে, 'আমরা তার নিকটে'? অর্থাৎ 'নিকটবর্তী হওয়া'-কে আল্লাহ তা'আলা নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কেন উল্লেখ করলেন? এ প্রকৃতির অভিব্যক্তির উদাহরণ কি অন্য কোথাও পাওয়া যায়?
উত্তর:
আল্লাহ তা'আলা ফিরিশতাদের নিকটবর্তী হওয়াকে তাঁর নিজের নিকটবর্তী হওয়া বলে উল্লেখ করেছেন; কারণ ফিরিশতার নিকটবর্তী হওয়া আল্লাহ তা'আলার নির্দেশেই ঘটে থাকে। ফিরিশতারা হলেন তাঁর সৈন্য ও দূত।
ফিরিশতার নিকটবর্তী হওয়াকে আল্লাহ তা'আলা নিজের নিকটবর্তী হওয়া বলে ব্যক্ত করার উদাহরণ আল-কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় এসেছে, যেমন: ﴿فَإِذَا قَرَأْنَهُ فَأَتَّبِعْ قُرْءَانَهُ ﴾ [القيامة: ۱۸ “অতঃপর যখন আমরা তা পাঠ করি (জিবরীলের মাধ্যমে) তখন আপনি তার পাঠের অনুসরণ করুন।” [সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ১৮]
উক্ত আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কুরআন পাঠ মূলত ফিরিশতা জিবরীল 'আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা এ পাঠকে নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বলেছেন, 'যখন আমরা তা পাঠ করি'। এটা এ হিসেবে যে, জিবরীল 'আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহর নির্দেশেই কুরআন পাঠ করেছেন। অনুরূপভাবে আল্লাহ তা'আলার বাণী- ﴿ فَلَمَّا ذَهَبَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الرَّوْعُ وَجَاءَتْهُ الْبُشْرَى يُجَادِلُنَا فِي قَوْمِ لُوطٍ ﴾ [هود: ٧٤] “অতঃপর যখন ইবরাহীম থেকে ভয় দূর হলো এবং তার কাছে সুসংবাদ এলো, তখন সে লুতের কওম সম্পর্কে আমাদের সাথে বাদানুবাদ করতে লাগল।” [সূরা হূদ, আয়াত: ৭৪]
এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, ইবরাহীম 'আলাইহিস সালাম লূত 'আলাইহিস সালামের কওম সম্পর্কে আল্লাহর সঙ্গে বাদানুবাদ করতে লাগলেন। অথচ আমরা জানি যে, তিনি ফিরিশতাদের সঙ্গে বাদানুবাদ করতে লাগলেন। কিন্তু যেহেতু ফিরিশতারা আল্লাহর দূত হিসেবে এসেছিলেন সে হিসেবে তাদের সঙ্গে বাদানুবাদ করা এক অর্থে আল্লাহর সঙ্গেই বাদানুবাদ করা।
তাছাড়া অন্য আয়াতেও এমনটি এসেছে, যেমন:
﴿أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَنَهُمْ بَلَى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ ﴾ [الزخرف: ٨٠]
"নাকি তারা মনে করে যে, আমরা তাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণা শুনতে পাই না? অবশ্যই হ্যাঁ। আর আমাদের ফিরিশতাগণ তাদের কাছে থেকে সবকিছু লিখছে।” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮০]
আর যদি অন্য তাফসীরটি করা হয়, অর্থাৎ যদি বলা হয় যে, এসব আয়াতেও আমরা 'অধিক নিকটবর্তী' হওয়া দ্বারা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকটবর্তী হওয়াকে বুঝানো হয়, তাহলে আয়াতের অর্থ হবে ইলমের মাধ্যমে নিকটবর্তী থাকা। (৮৯২)