📄 শাইখ মুহাম্মাদ মুহিকল্পুল্লাহ শাহ রাশেদী সিন্ধী (১৪০৩ হিজরী)
প্রখ্যাত আলেমে দীন শাইখ মুহিব্বুল্লাহ শাহ রাশেদী রাহিমাহুল্লাহ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, আল্লাহর পথের আহ্বানকারী, তিনি তাঁর 'ফাতাওয়া রাশেদিয়া' গ্রন্থে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপরে থাকার ব্যাপারে কুরআনে কারীমের আয়াতসমূহ নিয়ে আসার পর বিস্তারিতভাবে সালাফে সালেহীনের মত বর্ণনা করেন। (৭৮০)
📄 শাইখ সায়েযাদ বাদীউদ্দীন শাহ রাশেদী সিন্ধী (১৪১৬ হিজরী)
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম শাইখ শাহ মুহিব্বুল্লাহ শাহ রাশেদী আস-সিন্ধী এর ভাই, শাইখ বাদীউদ্দীন শাহ রাশেদী সিন্ধী রাহিমাহুল্লাহ 'তাওহীদে খালেস' নামক গ্রন্থে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠার বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং দলীল-প্রমাণাদি দিয়ে সাব্যস্ত করেছেন। (৭৮১)
📄 শাইখ আবুল হাসান আলী আন-নাদওয়ী (১৪২০ হিজরী)
প্রখ্যাত আলেমে দীন শাইখ সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী আন-নাদওয়ী রাহিমাহুল্লাহ অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি শাইখ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলাওয়ীর সঠিক উত্তরসূরী ছিলেন। শাহ সাহেবের মত তিনিও ইলমুল কালামের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আকীদাহ'র উৎস নির্ধারণে ভুল হওয়ার কারণেই যত খারাপ ও অশুদ্ধ আকীদাহ মুসলিমদের মাঝে প্রচার-প্রসার লাভ করে। যদি তারা নবীদেরকে আকীদাহ'র উৎস মনে করত তাহলে আর এত সন্দেহ ও ভুলে পতিত হতো না। যদি কুরআন ও সুন্নাহ'র আকীদাহ গ্রহণ করা হয়, তাহলে আল্লাহ তা'আলাকে 'আরশের উপরে বলতেই হয়। যেমন তিনি বলেন,
إن أجل علم أخذ عن الأنبياء عليهم صلوات الله وسلامه معرفة الله تعالى وعلم ذاته وصفاته وأفعاله، وذلك علم يختص بالأنبياء عليهم الصلاة والسلام؛ إذ هو علم ليست له وسائل وآلات، ومعلومات أولية وتجارب عند البشر، ولا يتناوله القياس ولا يفيد فيه الذكاء والفطنة، لفقدان أساس القياس، وتعالى الله عن الأشباه والنظائر، وسموه وتقدسه عن التشبه والتمثل، ولبعده عن كل ما عرفه البشر وألفه وجربه في عالم الحس والمادة ....
وكان الناس فى ذلك فريقين: فريق اعتمد فى ذلك على الأنبياء والرسل وعلومهم صلى الله عليهم، الذين أكرمهم الله بالنبوة وخصهم بمعرفته وتكليمه ورسالاته، وجعلهم واسطة بين الحق والخلق، في معرفة ذاته وصفاته وطرق مرضاته، أفردهم باليقين الذي ليس فوقه يقين، ونور ليس بعده نور....
وفريق اعتمد في ذلك على ذكائه وعلمه وتجاربه ومواهبه، وأطلق عنان العقل وأرخض جواد القياس، وتناول ذات الله وصفاته بالدراسة والبحث والتحليل والتجربة كهيئة كيمياوية، أو قوة طبيعية أو طاقة نباتية، وقالوا: هو كذا، وليس كذا، وكان قولهم ليس كذا أكثر من قولهم هو كذا، والنفى دائماً إذا فقد اليقين وعدم النور، أسهل من الإثبات والتقرير، وجاءت نتائج بحثهم وتقريرهم، أكثرها سلوب.... فجاءت فلسفتهم الإلهية، كما سموها.. آراء متضاربة، وتخمينات ما أنزل الله بها من سلطان، ولم يقم عليها دليل أو برهان، ولم تؤيدها تجربة أو وجدان.
وكان في مقدمة هذا الفريق وعلى رأسه، اليونان، لم يكن علم الإلهيات بجاهلهم، فجاهدوا في غير جهاد ومشوا بين شوك وقتاد، ففى بحر لجى يغشاه موج من فوقه موج من فوقه سحاب ظلمات بعضها فوق بعض ليس معهم نور يهديهم أو دليل يرشدهم، أو مقدمات ومعلومات أولية يتوصلون بها إلى المجهول.
وكان ضغثا على إبالة، أنهم كانوا أصحاب وثنية عتيقة عميقة عريقة، وأصحاب أساطير وخرافات، تغلغلت في فلسفتهم وشعورهم وأدبهم ودياناتهم، لهم فلسفة وثنية خاصة عن الأفلاك والعقول، توارثوها جيل بعد جيل، فجاءت فلسفتهم الإلهية مزيجاً من الفلسفة والوثنية....
وقد قلدهم عامة النظار والباحثين من الأمم.... وهذا داء البشر القديم....
ولا يستغرب ذلك عن الأمم التي أفلست في ثروتها الدينية من القديم وضيعت الهدى والنور، ولكنه غريب من علماء المسلمين الذين أكرمهم الله بالرسالة المحمدية على صاحبها الصلاة والسلام، والكتاب الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد، فخضع كثير منهم هذه الفلسفة.... وأخضع كثير منهم الآيات القرآنية أو أولوها تأويلاً شديداً وفسروها تفسيراً يطابق ما ثبت وتقرر في الفلسفة اليونانية الإلهية....
وكان أكثر ما دهوا به وأوتوا من قبله هو «اللوازم الفاسدة»،... ففروا من إثبات كثير من الصفات والأفعال؛ لأنها يلزم منها ما يختص بالحدث، ويثبت ما به الجسم وما يتنزه عنه (القديم)، كل ذلك قياساً على الإنسان وعلى تجاربهم المحدودة؛ إذ لا يتصور ولم يجرب وجود هذه الصفات إلا بهذه اللوازم، وفاتهم أنها صفات إلهية، يمكن وجودها بغير هذه اللوازم، وهكذا مال فريق منهم إلى نفي الصفات، وكان أحسنهم حالاً من تأولها أو فسرها تفسيرها كاد يؤدي إلى التعطيل، وفاتت أو كادت تفوت حكمة الصفات....
وكان المسلمون في حاجة إلى نوابغ مستقلين في التفكير، مجتهدين متمسكين، ثائرين مؤمنين هدامين بنائين، يجمعون
بين العلم الواسع العميق للكتاب والسنة، والنظر الدقيق والعلم الغزير للمناهج الكلامية والمذاهب الفلسفية. ويواجهون الفلسفة وآراء الفلاسفة القدماء وجها لوجه، يؤمنون بالقرآن كما أنزل، ويؤمنون بالله كما وصف نفسه من غير تحريف ولا تأويل، ويفسرون ذلك كله تفسيراً يقره العقل والمنطق ويؤيده العلم والبرهان...
وكان منهم ومن أشهرهم شيخ الإسلام الحافظ ابن تيمية الحراني الدمشقي في القرن الثامن، فقد جمع - كما شهد به أعلام هذه الأمة ونطق به كتبه - بين الإيمان القوي بكل ما جاء به الرسول ونطق به الكتاب، والاقتناع بعقيدة السلف الصالح، والاطلاع الواسع، الذي لا يرام فوقه، على ما دون في صحائف هذه الأمة في الماضي، والعلم الدقيق العميق بفلسفة اليونان ومنطقهم، والمذاهب التي نشأت في الإسلام بتأثير الفلسفة اليونانية في قليل أو كثير، والنقد القوي الحر الجريء لمناهجها وبحوثها....
"আম্বিয়ায়ে কিরামের মারফত মানুষ যেসব বিদ্যা ও মর্মজ্ঞান পেয়েছে তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শ্রেষ্ঠ ও জরুরী জ্ঞান হলো আল্লাহ তা'আলার যাত, সিফাত ও আফ'আল তথা তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও কর্মসমূহের ব্যাপারে জ্ঞান। এ জ্ঞানের উৎস ও কেন্দ্রস্থল হচ্ছেন আম্বিয়ায়ে কিরামই। এ জ্ঞানের উপায়-উপকরণ, এর প্রাথমিক জ্ঞাতব্য বিষয় ও অভিজ্ঞতা সবকিছুই মানবীয় আওতার ঊর্ধ্বে। কিয়াস ও বুদ্ধিবৃত্তির কোনো ভিত্তি নেই এখানে।
আল্লাহর কোনো নজীর নেই, তাঁর মতো বলতেও কিছু নেই। তিনি সব ধরনের উদাহরণ ও সাদৃশ্য হতে মুক্ত ও পবিত্র। সবকিছু থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। মানুষ যা ধারণা করতে পারে, যা প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম এবং যা সে অনুভব করতে সামর্থ, যেগুলোকে সে বস্তুগত ও অনুভবময় পৃথিবীতে কাজে লাগায় সেই সব ধরনের ধারণা, দেখা ও অনুভবেরও ঊর্ধ্বে। এখানে বুদ্ধি, যুক্তি, মেধা ও ধীশক্তি কিছুই সাহায্য করতে পারে না। বুদ্ধির ঘোড়া দাবড়ানোর ময়দান এ নয়। যুক্তি ও অভিজ্ঞতার ঘুড্ডি উড়ানোর আকাশও নয়।
এ জ্ঞানকে সবচেয়ে মহান এবং শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কারণ মানুষের সর্বকালের কল্যাণ ও সৌভাগ্য এর ওপরই নির্ভরশীল। আমল ও আকীদাহ, আখলাক ও তামাদ্দুন, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মূল বুনিয়াদ এ-ই। এরই মাধ্যমে মানুষ নিজের হাকীকত ও মূল সম্পর্কে অবহিত হতে পারে, বিশ্বজগতের কুহেলিকার জট খুলতে পারে, জীবনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে, বিশ্বপ্রকৃতিতে নিজের মর্যাদা ও অবস্থান নির্ণয় করতে পারে। এরই আলোকে স্বজাতিয়দের সাথে নিজের সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়, স্বীয় জীবন পথ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে এবং সম্পূর্ণ আস্থা, অন্তর্দৃষ্টি ও পরিষ্কার ধারণার সাথে নিজের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ণয় করতে সে সক্ষম হয়ে ওঠে।
আর তাই সকল জাতি ও গোষ্ঠির, সর্বযুগে ও সর্বশ্রেণিতে এই জ্ঞানকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়া হয়েছে। জীবনকে যারা উদ্দেশ্যহীন বলে মনে করে না, পরিণাম সম্পর্কে যারা সচেতন, যারা মুখলেস ও আন্তরিক, এই ধরনের সমস্ত মানুষই এই জ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ ও অনুরাগ পোষণ করেন। ইচ্ছা-অনিচ্ছা, চেতন বা অচেতন যেভাবেই হোক না কেন, এই জ্ঞান থেকে বঞ্চিত থাকা এমন এক বঞ্চনা যার পর বঞ্চনা বলতে আর কিছুই থাকে না। এ এমন এক ধ্বংস ও বরবাদী যার থেকে বড় ধ্বংস ও বড় বরবাদী বলতে আর কিছুই নেই।
এ বিষয়ে মানুষের শ্রেণি দু'টি:
এক. একটি শ্রেণি, যারা এ জ্ঞানার্জনের পথে মাধ্যম হিসেবে সেসব পয়গাম বাহক সত্তাদের ওপর নির্ভর করেছে, যাদরকে মহান আল্লাহ নবুওয়াত, বাণী ও রিসালাতের সুমহান দায়িত্ব ও মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন, যাদের দিয়েছিলেন তাঁর নিজের সত্তার সঠিক মারিফাত ও পরিচয়। স্বীয় সন্তুষ্টির কাজগুলো সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার জন্য তাঁদেরকে তিনি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, সুদৃঢ় বিশ্বাস ও ইয়াকীনের বিপুল সম্পদ তিনি তাদের দান করেছিলেন যার বেশির কোনো কল্পনাও করা যায় না। সে নূর ও অন্তর্জোতি তিনি তাদের দিয়েছিলেন, যার চেয়ে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ও আস্থাভাজন জ্যোতি আর হতে পারে না কখনো।
দুই. অপর শ্রেণি হলো তারা, যারা আপন মেধা ও জ্ঞানের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল, এ গণ্ডির মধ্যেই তাদের চিন্তাধারা সীমাবদ্ধ। নিজের বিবেক বুদ্ধিকে তারা লাগামহীন করে ছেড়ে দিয়েছে। সব জায়গায় তারা যুক্তি ও অনুমানের ঘোড়া দাবড়িয়ে বেড়ায়। আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি, তাঁর সত্তা ও গুণাবলির অধ্যয়ন ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তারা সব নিষ্ফল ও অনর্থক বিশ্লেষণ ও ব্যবচ্ছেদ করতে লেগে যায়, যেমনভাবে কোনো রাসায়নিক ল্যাবরেটরিতে প্রকৃতিজ বা উদ্ভিজ্জ কোনো বস্তুর করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কেও এরা 'তিনি এমন' বা 'তিনি এমন নন' জাতীয় কথা বেধড়কভাবে বলতে শুরু করে। আবার এদের কাছে 'তিনি এমন' জাতীয় কথার তুলনায় 'তিনি এমন নন' জাতীয় কথার পরিমাণ অনেক বেশি। এটি একটি বাস্তব সত্য, বিশ্বাস ও সত্যের জ্যোতি থেকে যখন কোনো মানুষ বঞ্চিত হয়ে যায় তার কাছে কোনো কিছুর 'না' করা তা 'হ্যাঁ' ও প্রমাণ করার তুলনায় অধিকতর সহজ হয়ে যায়। আর তাই দেখা যায়, গ্রীক দার্শনিকদের আল্লাহতত্ত্বে অধিকাংশ পর্যালোচনা ও গবেষণার পরিণাম নেতিবাচক। কিন্তু কোনো ধর্ম ও আদর্শ, কোনো তাহযীব ও তামাদ্দুন এবং কোনো জীবনব্যবস্থা অনর্থক বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে না। আম্বিয়ায়ে কিরামের অভ্যাস তা নয়। এ তাঁদের শান ও মর্যাদা থেকে অনেক দূরের। তাঁরা তো অনুভূতি, বুদ্ধির অগম্য হাকীকত ও সত্যসমূহ সম্পর্কেও রাখেন প্রত্যক্ষশীল দর্শনেন্দ্রিয় ও শোনার মতো শ্রবণেন্দ্রিয়।
গ্রীক দার্শনিকদের ইলাহতাত্ত্বিক দর্শন পরস্পরবিরোধী চিন্তাধারা, ধারণা ও অনুমানের নিশ্চিদ্র এক কণ্টকাকীর্ণ জঙ্গল বলেই প্রতীয়মান হয়। মানুষকে এ বনে পথ হারিয়ে কেবলই চক্কর কাটতে হয়। এ যেন এক বিরাট গোলকধাঁধাঁ, যাতে একবার ঢুকলে আর বেরুবার পথ পাওয়া যায় না। মেধা, প্রজ্ঞা, দার্শনিক রহস্যপ্রিয়তা, কাব্যচর্চা, জ্ঞান ও কৌশলে যেসব দার্শনিক ছিলেন অধিক প্রসিদ্ধ, এ শ্রেণির মধ্যে তাদেরকেই বেশি আগুয়ান বলে পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু ইলাহ তত্ত্বে মেধা, প্রজ্ঞা ইত্যাদি কোনোটিরই বিন্দুমাত্র দখল নেই। তাদের সকল প্রয়াস ও শ্রম নিষ্ফল ও পাহাড় কেটে কুয়া খননের নামান্তর বৈ অন্য কোনো পরিণাম বয়ে আনেনি। অন্তহীন সমুদ্রের বিপুল আঁধারে এর ডুবে সারা হচ্ছে। কুরআনের এ আয়াতটিতে এদের যে চিত্রটি আঁকা হয়েছে এর চেয়ে যথার্থ ও সুন্দর আর কিছু হতে পারে না। আল্লাহর বাণীটি হচ্ছে, “গহীন সমুদ্রের আঁধার, ছেয়ে রেখেছে তা ঢেউ, তার উপর আরেক ঢেউ, ঢেউয়ের উপরে আবার মেঘ। বিপুল আঁধার, এক আঁধারের পরতে আরেক আঁধার। যদি বের করে নিজের হাত তবে তা-ও যেন দেখা যায় না! আল্লাহ যার জন্য নির্ধারণ করেননি কোনো আলো তখন তার আর আলো কোথায়?” [সূরা আন-নূর: ৪০]
এদের কাছে হিদায়াতের কোনা আলো ছিল না, যথার্থ জ্ঞান ও মা'রিফাতেরও কোনো রৌশনী
ছিল না। এতদসম্পর্কে তাদের কোনোরূপ পূর্ব অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও উপলব্ধি, এর প্রাথমিক পূর্বশর্তসমূহের পরিচয় বা বুনিয়াদী জ্ঞান যেগুলোর মাধ্যমে লাভ হয় অজানা বিষয়টির জ্ঞান – কোনো কিছুরই আশ্রয় তাদের ঘটেনি।
অধিকন্তু এরা ছিল পুরোনো ঝুরঝুরে শির্ক ও বিদ'আতের শিকার। এদের ধমনীতে ছিল শির্ক ও বিদ'আতের প্রবাহ। ভিত্তিহীন ও বাজে কিসসা-কাহিনী ও কিংবদন্তির ওপর ভিত্তি করে গঠিত বিশ্বাস ছিল তাদের সবকিছুর বুনিয়াদ।
তাদের দর্শন, তাদের কাব্য ও কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, ধর্ম ও রীতিনীতি সর্বক্ষেত্রে এ শির্ক ও পৌত্তলিকতার ছিল সুস্পষ্ট প্রভাব। তাদের দেহ ও মনে সর্বত্রই ছিল এর জোরালো মিশ্রণ। সৌরচক্র ও তথাকথিত দশটি আকল সম্পর্কে তাদের ছিল এক শির্কী আকীদামূলক দর্শন। এ ছিল গ্রীক প্রতীমা-দর্শন ও মিথলজির এক মিকশ্চার। তারা নিজেদের চিন্তা-ভাবনা ও কাল্পনিক ধ্যান-ধারণা ও কুসংস্কারগুলোকে গালভরা ও ভারিক্কী নামে অভিহিত করে পেশ করত এবং দার্শনিক ও শাস্ত্রীয় পোশাকের ছদ্মাবরণে তা ঢেকে রাখত।
সাধারণভাবে পৃথিবীর প্রায় সকল সম্প্রদায়ের চিন্তাবিদ, ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিকরা গ্রীক দার্শনিকদেরই অনুসরণ করেছে। তাদের প্রভাবে অন্যান্য সকল জাতির প্রায় সকলেই হীনমন্যতা ও পরাজিত মানসিকতার শিকারে পরিণত হয়ে পড়েছিল এবং চোখ বুজে তাদের সবকিছুর ওপর আস্থাশীল হয়ে ওঠে। এরা তাদের গবেষণাপ্রসূত সকল ধারণাকে একটা স্বীকৃত সত্য বলে বিশ্বাস করে বসে। এগুলো সম্পর্কে আর কোনো রূপ আলোচনা ও প্রশ্নের কোনো অবকাশ নেই বলে ধারণা করতে থাকে। আর কেউ যদি এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করে বা প্রশ্ন তোলে তবে তাকে তারা অকাট্য মূর্খ ও গোঁড়া ও জেদী বলে মনে করতে থাকে।
যে সকল সম্প্রদায় ও দল সুদূর অতীত থেকেই সঠিক ধর্মীয় পুঁজি হারিয়ে ফেলেছে, হিদায়াত থেকে ও আল্লাহর নূর তথা জ্যোতি থেকে বঞ্চিত যারা, তাদের বেলায় তো এ ধরনের হীনমন্যতার শিকার হওয়া ততটা বিস্ময়ের নয়। বিস্ময় ও আশ্চর্য্য হলো, সেসব তথাকথিত মুসলিম পণ্ডিত ও চিন্তাবিদদের জন্য, যাদের আল্লাহ দান করেছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের মতো বিরাট নি'আমত এবং আল্লাহর কালামের মতো গৌরবজনক সম্পদ। এতদসত্ত্বেও তারা শিকার হলো এ মানসিকতার। এ মহান কিতাব ও এ মহান আদর্শের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো, "বাতিল এতে পারে না আসতে, না সামনে থেকে আর না পেছন থেকে; এ তো মহাপ্রাজ্ঞ ও প্রশংসিত সত্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।” [সূরা হা-মীম- আস-সাজদাহ: ৪২]
পরবর্তীতে মুসলিম জাহানের বেশ কিছু একাডেমী ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র এ গ্রীক দর্শনকে পুরোপুরি মেনে নেয় এবং এর ওপর এমনভাবে আলোচনা ও গবেষণায় লিপ্ত হয়ে পড়ে, এ যেন কিছু স্বীকৃত সত্য ও পরীক্ষিত কতিপয় বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। কল্পনাশক্তি ধারণা ও সংস্কারগুলোকে এরা সঠিক বলে ধারণা করে নেয়। এদের অনেকেই এগুলোর সমর্থনে কুরআনের আয়াতও ব্যবহার শুরু করে এবং মনগড়া ও অর্থহীন ব্যাখ্যা দিতে থাকে এবং এমন সব তাফসীর এরা করে যাতে তাদের তথাকথিত 'স্বীকৃত দর্শন' ও 'প্রমাণিত সত্য' গুলোর সাথে কুরআনের সাযুজ্য প্রকাশ পায়।
তাদের চিন্তার মূলনীতি ছিল 'ওয়াজিবুল উজুদ' বা 'অবশ্যম্ভাবী অস্তিত্বশীল সত্তা' যিনি হবেন, তাঁকে এ ধারণার জন্য ক্ষতিকর বিষয়াদি থেকে অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। এরূপ চিন্তাধারার
কারণেই মূলত এদের অধিকাংশ ভুলত্রুটি সংঘটিত হয়েছে। কারণ অবশ্যম্ভাবী অস্তিত্বশীলতার জন্য ক্ষতিকর ধারণা বলতে তারা যে বিষয়গুলোকে বুঝিয়েছে এর অধিকাংশই ছিল তাদের উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত কতক উদ্ভট ধারণা। আর কেবল এর ওপরই ভিত্তি করে তারা আল্লাহর বহু গুণবাচক নাম, গুণ ও কর্মকে স্বীকৃতি দেয়নি। এদের ধারণায় এগুলো দ্বারা আল্লাহর সাথে 'হুদুছ' বা অনিত্যতা ও অনাদিত্বতার আরোপ ঘটে বা কোনোটি দ্বারা আল্লাহর 'দেহশীল' হওয়া বুঝায় কিংবা অনাদি ও অবশ্যম্ভাবী সত্তা যেসব বিষয় থেকে পবিত্র হতে হবে, সেগুলো আরোপিত হয় ইত্যাদি। এসব নুকতা আবিষ্কারের বুনিয়াদ হলো, মূলত এরা আল্লাহকেও মানুষের মতো এবং তাঁকে নিজেদের সীমাবদ্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে ধারণা করে বসে। কেননা এদের একজন কল্পনাও করতে পারে না বা একজনের এ অভিজ্ঞতা লাভও কখনো হয় না যে, সংশ্লিষ্ট অবস্থায় সংযোজন ছাড়াও এ গুণাবলির অস্তিত্ব লাভ সম্ভব। এরা ভুলে গিয়েছিল, এগুলো হচ্ছে আল্লাহর গুণ; এগুলো কোনো অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার মুখাপেক্ষী নয়; কোনো কিছুর পাবন্দী এগুলোর জন্য জরুরী নয়। এদের মধ্যে অনেকে আল্লাহর সিফাত ও গুণাবলির সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বসে। আবার তাদের মধ্যে অনেকেই এ সিফাতগুলোর রূপক অর্থ করে বা এর মধ্যে নানা অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়, চূড়ান্ত বিশ্লেষণে এর ধরনের দূরবর্তী ব্যাখ্যাও অস্বীকারেরই নামান্তর। এতে আল্লাহর সিফাতসমূহের হিকমত বিনষ্ট হয়ে যায়।
রুচি ও প্রবণতার তারতম্য অনুসারে অনেকেই উক্ত পথে যাত্রা শুরু করে এবং ক্রমে ক্রমে 'ইলমে কালাম' নামে এক শাস্ত্রের উদ্ভব হয় এবং এতদসংক্রান্ত আলোচনা-পর্যালোচনাও বিস্তৃত থেকে বিস্তৃততর হতে থাকে।
তখন মুসলিম সমাজে একজন প্রাজ্ঞ জ্ঞানীর প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হতে থাকে, যিনি কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফ ও মহান পূর্বসূরীদের অনুসৃত আকীদা ও নীতির ওপর বুনিয়াদ রাখবেন স্বীয় আকীদাহ ও চিন্তাধারার, ঐগুলোকেই যিনি গ্রহণ করবেন মূল ভিত্তি হিসেবে; সাধারণ বিজ্ঞান, দর্শন ও এর ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত কালামশাস্ত্র ভক্তের দৃষ্টিতে নয়, বরং সমালোচকের নিরাসক্ত দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করবেন, যিনি দেখবেন এ এমন একটি বিষয়, যার কিছু অংশ গ্রহণ করা যায় আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যানও করা যায়। তিনি স্বাধীনভাবে এর একাডেমিক ও শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ করবেন, হীনমন্যতা ও পরাজিত মানসিকতার লেশমাত্র চিহ্ন থাকবে না এতে। কুরআনের ওপর তার ঈমান হবে তদ্রূপ যেরূপ তা নাযিল হয়েছিল। আল্লাহর সিফাত ও কার্যাবলী সম্পর্কে কোনোরূপ তা'ওয়ীল (রূপক ব্যাখ্যা) এবং তাহরীফ বা বিকৃতি সাধন ব্যতিরেকেই তিনি ঠিক তেমনিভাবে তা স্বীকার করে নেবেন যেমন স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা সেগুলো সম্পর্কে বলেছেন। ...
এমন একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, নেতৃস্থানীয় উলামায়ে কিরামের সাক্ষ্যানুযায়ী অষ্টম হিজরী শতকের সুপ্রসিদ্ধ আলিম শাইখুল ইসলাম হাফিয ইবন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী) অন্যতম। তাঁর রচনাবলি তাঁর এ মর্যাদার জ্বলন্ত সাক্ষী। যে সত্য ও মূল্যবোধসমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে এসেছিলেন, আল্লাহর কালামে যেসব মূল্যবোধ ব্যক্ত করা হয়েছে, এসব কিছুর ওপর যেমন তার পরিপূর্ণ ও দ্বিধাহীন ঈমান ও সুদৃঢ় প্রত্যয় ছিল, ইসলামের প্রথম যুগে প্রচলিত এবং সালাফে সালেহীন ও সুমহান মর্যাদার অধিকারী পূর্বসূরীদের অনুসৃত আকীদাহ সম্পর্কে যেমন তিনি ছিলেন সশ্রদ্ধ আস্থা ও স্বতৃপ্ত উপলব্ধির অধিকারী; তেমনি ছিলেন তখন পর্যন্ত মুসলিম উম্মার মধ্যে দর্শন ও কালামশাস্ত্রের যতটুকু চর্চা
ছিল সে দরিয়ার একজন সুকৌশলী ও সুদক্ষ সাঁতারু।
তিনি গ্রীক দর্শন, তর্কশাস্ত্র ও চিন্তাধারার সুগভীর, বিস্তৃত ও তুলনামূলক অধ্যয়ন করেছিলেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে দর্শন চিন্তা মুসলিমদের পরাজিত মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে রেখেছিল, সেসব কিছু তিনি একজন তীক্ষ্ণধী সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। যেসব দর্শন অনেকের কাছেই স্বীকৃত হয়ে আসছিল তিনি সেসবের স্বাধীন ও শক্তিশালী সমালোচক ছিলেন।"(৭৮২)
তিনি আরও বলেন, إن للعالم صانعاً قديماً، لم يزل ولا يزال... وهو الكبير المتعال، متصفاً بجميع صفات الكمال، منزها من جميع صفات النقص والزوال، وهو خالق الجميع المخلوقات .... لا يحل في غيره، ولا يتحد بغيره .. وهو فوق العرش، مرئي للمؤمنين يوم القيامة ....
"নিশ্চয় জগতের একজন স্রষ্টা রয়েছেন, যিনি সর্বপ্রথম, সর্বদা আছেন ও সর্বদা থাকবেন... তিনি সবকিছুর চেয়ে বড়, সবকিছুর উপরে, যাবতীয় পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত, যাবতীয় ত্রুটিযুক্ত গুণ ও বিনষ্ট হওয়ার গুণ থেকে পবিত্র। তিনি সকল সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা... তিনি কখনও কারও অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন না, কারও সাথে একাকার হয়ে যান না।... তিনি 'আরশের উপর, কিয়ামতের দিন তিনি ঈমানদারদের জন্য দৃশ্যমান হবেন”। (৭৮৩)
📄 শাইখ মুহাম্মাদ নাসেরউদ্দীন আল-আলবানী (১৪২০ হিজরী)
শাইখ আল-মুহাদ্দিস আবু আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নাসেরুদ্দীন আল-আলবানী রাহimhimullah হচ্ছেন বর্তমান সময়ের জন্য ঊর্ধ্ব আকাশের ধ্রুব তারার মতো। যিনি হাদীসের খেদমতে প্রসিদ্ধ হলেও দীনী ইলমের কোনো ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান কম ছিল না। আকীদাহ বিশুদ্ধকরণ, প্রচার-প্রসার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাপক অবদান ছিল। তিনি আল্লাহ সম্পর্কে সহীহ আকীদাহ'র বিষয়টি তাঁর অনেক গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে আল্লাহর নাম ও গুণের বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন।
তন্মধ্যে আল্লাহ সর্বোচ্চ পবিত্র সত্তা হওয়া, 'আরশের উপর হওয়া, 'আরশের উপর উঠা এ বিষয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তার অনেক গ্রন্থে এ ব্যাপারে বিস্তারিত লিখেছেন। এ সব লেখা পরবর্তীকালে একত্রিত করার পর তা ৩০০ পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে গেছে। (৭৮৪) তাছাড়া তিনি এ বিষয়ে লিখিত ইমাম যাহাবীর অনবদ্য গ্রন্থ 'আল-'উলূ লিল আলিয়্যিল আযীম' গ্রন্থের শুদ্ধাশুদ্ধি নির্ণয় করে সংক্ষিপ্তাকারে বের করেন। আমরা এখানে নমুনাস্বরূপ কিছু ভাষ্য তুলে ধরব।
আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা এবং কুরআন ও হাদীসে আসা আল্লাহ তা'আলাকে 'আসমানে' বলতে কী বুঝানো হয়েছে, তার ব্যাখ্যা করে বলেন,
ولا يكفي أن يعتقد المسلم فقط معنى ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ) (طه: (٥) ، ومعنى: «ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء»، دون أن يعرف أن في هنا «ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء» في هذه الظرفية في هذا الحديث هي كـ «في» في قوله تعالى: ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ ) (الملك : ١٦) أي: من على السماء، حتى إذا جاء ذلك المعتزلي أو الأشعري ووسوس إليه وقال له: أنتم تجعلون ربكم في ظرف في السماء، فيكون الجواب عنده: لا لا منافاة بين قوله تعالى: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ) (طه: ٥) ، وبين قوله: ﴿أَأَمِنتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ ) (الملك : ١٦)؛ لأن «في» هنا بمعنى «على» هناك، والدليل كثير وكثير جداً، من هذا الحديث المتداول على ألسنة الناس، وهو بمجموع طرقه والحمد لله حديث صحيح: ارحموا من في الأرض لا يعني الحشرات والديدان التي هي في الأرض، وإنما من على الأرض من الإنسان والحيوان، يرحمكم من في السماء» أي من على السماء، فمثل هذا التفصيل لا بد أن يكون المستجيبون لدعوة الحق على بينة من الأمر.
"আর মুসলিমের আকীদাহ'র জন্য শুধু "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন” এটার অর্থ বুঝাই যথেষ্ট নয়।” অনুরূপ "যমীনে যারা আছে তাদের ওপর দয়া কর, আসমানে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের ওপর রহম করবেন"। এগুলোর শুধু অর্থ জানলেই হবে না, তার জানা লাগবে যে, "ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء এ হাদীসে 'ফী' বলে সেটাই বুঝানো হয়েছে যা কুরআনের ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ﴾ (الملك : ٦١ উক্ত আয়াতে 'ফী' দ্বারা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ এগুলোতে 'ফী' বলে 'আলা' বুঝানো হয়েছে। তখন অর্থ হবে, যিনি আসমানের উপরে আছেন। এটা এজন্য বলেছি, যাতে করে কোনো মু'তাযিলী বা আশ'আরী তার কাছে এসে যদি কুমন্ত্রণা দেয় যে, তোমরা তো আল্লাহকে আসমানের ভিতরে রাখছ, তখন যেন তার কাছে উত্তর প্রস্তুত থাকে যে, না, রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন এবং আসমানের উপর যিনি আছেন এ দু'য়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; কারণ দ্বিতীয় আয়াতে আসা 'ফী' এর অর্থ 'আলা' বা উপরে, 'মধ্যে' অর্থ নয়। এর ওপর প্রমাণ অনেক অনেক যে 'ফী' হরফটি 'আলা' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء এ হাদীসটি মানুষের মুখে খুব প্রচলিত, যা তার অনেক বর্ণনার কারণে আলহামদুলিল্লাহ সহীহ। হাদীসে ارحموا من في الأرض : কখনো যমীনের মধ্যে বলে যমীনের ভিতরের পোকামাকড় বুঝানো হয়নি। বরং বুঝানো হয়েছে, যারা যমীনের উপরে আছে, মানুষ ও জীবজন্তু। তেমনিভাবে يرحمكم من في السماء বলে যিনি আসমানের উপরে আছেন তাঁকে বুঝানো হয়েছে। যারা সহীহ হক আকীদাহ'র দাওয়াতে সাড়া দিবে তাদের জন্য এ ধরনের বিস্তারিত জ্ঞান থাকা আবশ্যক; যাতে তারা বিষয়টির ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণের ওপর থাকে। ” (৭৮৫)
অন্যত্র তিনি আল্লাহর নাম ও গুণের বিষয়টি বিস্তারিত কেন জানতে হবে তা ব্যাখ্যা করে বলেন,
باب في أهمية جعل العقيدة بما في ذلك توحيد الأسماء والصفات أولى الأولويات في الدعوة، مع بيان أهمية فهم
السلف وخطورة التنكب عنه.
كل مسلم يعلم أصول الإيمان آمنت بالله وملائكته وإلى آخره، وبالقدر خيره وشره، لكن هناك إيمان بهذه الأصول إيمان مجمل وهذا هو الأصل الذي لا يعذر أحد بجهله به .. الإيمان مجملاً بالله وملائكته إلى آخره، لكن هذا الإيمان المجمل لا يكفي، لا بد من أن يقترن به الإيمان المفصل الذي جاء بيانه في كتاب الله وفي حديث رسول الله - صلى الله عليه وآله وسلم - أو سنته، وعلى منهج سلفنا الصالح، ولا بدأ الآن البيان للفرق بين الإيمان المجمل الذي هو الأصل الذي لا بد منه لكل مسلم ثم لا بد أن يقترن معه التفصيل، الإيمان بالله أصل الإيمانات .. ، كل أهل الأديان يشتركون في هذا الإيمان المجمل .. فاليهود يؤمنون بالله والنصارى يؤمنون بالله والصابئة يؤمنون بالله ... فإذا هذا الإيمان المجمل لا يكفي، لا بد من أن يكون إيماناً مبيناً مفصلاً، وكما قلت آنفاً على ما جاء في الكتاب والسنة، والآن لنضرب مثلاً من واقع حياتنا ومن جهل شبابنا المتحزب المتكتل على غير هدى من الله، إنهم جميعاً لا يعلمون أن الله عز وجل يجب أيضاً هذا الكلام مجمل لا بد من التفصيل .. لا بد من الإيمان بالله كما وصف نفسه في الكتاب والسنة .. الآن المسلمون وفيهم من أشرنا إليهم آنفاً يصدق فيهم كلمة لأحد الأمراء القدامى الأذكياء حينما سمع بعض المشائخ ... قالوا: الله عز وجل لا يوصف بأنه فوق ولا تحت ولا يمين ولا يسار ولا أمام ولا خلف ولا يقال هو داخل العالم ولا يقال هو أيضاً خارج العالم، فماذا قال ذلك الأمير الكيس الفطن الذكي قال : هؤلاء قوم أضاعوا ربهم، هذه حقيقة، المسلمون اليوم هذه عقيدتهم وهناك عقيدة أخرى قد تكون دونها شراً لكنها هي في الشر تحيا، وهي مسموعة دائماً في كل المجالس حينما يريد أحدهم أن يذكر ربه ماذا يقول الله موجود في كل الوجود، هذا ذكرهم الله موجود في كل مكان، وهذا هو الكفر بعينه، ما هو السبب انصراف المسلمين عن الكتاب والسنة، وعن منهج أرجو أن تتذكر هذه الإضافة لأنها ضرورية جداً، وعن منهج السلف الصالح؛ لما ذا؟ لأن أولئك المتكلمين أو الفلاسفة الضالين الذين وصفهم ذلك الأمير الكيس بأنهم أضاعوا ربهم، أو هؤلاء المتأخرون الضالون الذين حشروا ربهم في كل مكان، حتى القاذورات، حتى المجاري حتى المجاري حتى الكنف إلى آخره ... هؤلاء لا ينكرون كلام الله ولا ينكرون سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، بل قد يتحدون المخالفين لهم بأنهم يقولون نحن على الكتاب والسنة....
"অধ্যায়: দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত তথা আল্লাহর নাম ও গুণের তাওহীদের বিষয়টি দাওয়াত প্রদানকারীর প্রথমের প্রথমে থাকার গুরুত্ব, সাথে সাথে তার কাছে থাকতে হবে সালফে সালেহীনের বুঝ, আর এটা থেকে ভিন্ন পথে থাকার ঝুকি বা বিপদ। প্রত্যেক মুসলিমই ঈমানের মূলনীতিগুলো ভালো করে জানে, যেমন আল্লাহর উপর ঈমান, ফিরিশতাদের উপর ঈমান.... তাকদীরে ভালো ও মন্দ লেখা থাকার ওপর ঈমান, কিন্তু এ
ধরনের ঈমানের দু'টি দিক রয়েছে। এক. ঈমান মুজমাল বা সংক্ষিপ্ত ঈমান, যা না জানার ক্ষেত্রে কারও ওযর গ্রহণযোগ্য নয়। সে ঈমানে মুজমাল হচ্ছে আল্লাহর ওপর, ফিরিশতাদের ওপর.... সংক্ষিপ্ত ঈমান। কিন্তু এ ঈমানই যথেষ্ট নয়, তার সাথে অবশ্যই যুক্ত হতে হবে, ঈমানে মুফাসসাল বা আল্লাহর কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে অথবা তাঁর সুন্নাতে সে ঈমানের যে বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে তা সম্পৃক্ত থাকতে হবে। আর সেটা বুঝতে হবে আমাদের সালাফে সালেহীনের বুঝ মোতাবেক। এখন আমি শুরু করতে চাই সে ঈমানে মুজমালের বর্ণনা যা প্রতিটি মুসলিমের থাকতে হবে, তারপর তার সাথে যুক্ত হতে হবে বিস্তারিত বর্ণনা। ঈমান বিল্লাহ বা আল্লাহর ওপর ঈমান হচ্ছে সকল ঈমানের মূল।... দুনিয়াতে যত দীন প্রচলিত আছে তারা সবাই ঈমানে মুজমাল বা সংক্ষিপ্ত ঈমানে তোমার সাথে শরীক হতে পারে... ইয়াহূদীরা আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে, খ্রিষ্টানরাও আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে, সাবেঈরাও আল্লাহর উপর ঈমান রাখে... তাহলে বুঝা গেল যে, আল্লাহর ওপর এরকম সংক্ষিপ্ত ঈমান যথেষ্ট নয়। বরং ঈমান অবশ্যই বিস্তারিত বর্ণিত থাকতে হবে। তবে যেটা বলেছি ইতোপূর্বে যে, অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহ'র ওপর হতে হবে। এখন আমরা বাস্তব জীবন থেকে একটি উদাহরণ দিতে পারি, আমাদের যুবকরাও বিভিন্ন দলীয় ব্যানারে ভাগ হয়ে পড়েছে, কিন্তু তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত আদর্শের ওপর নেই, তারা সবাই জানে না যে ঈমানে মুজমাল যথেষ্ট নয়, ঈমানে মুফাসসাল লাগবে। কুরআন ও সুন্নাহ'য় যেভাবে এসেছে সেভাবে আল্লাহর ওপর ঈমান আনতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহ'য় যেভাবে আল্লাহ নিজেকে গুণান্বিত করেছেন সেভাবে ঈমান আনতে হবে।... বর্তমানে মুসলিমদের অবস্থা এমন হয়েছে যে, একবার কোনো এক বুদ্ধিমান শাসক এক বড় আলেমকে বলতে শুনলেন যে,.. আল্লাহ তা'আলাকে উপরে আছে বলে গুণান্বিত করা যাবে না, অনুরূপ তাকে নিচে, ডানে, বামে, সামনে, পিছনে এগুলোও বলা যাবে না। তাকে জগতের ভেতরে, জগতের বাইরে কোনোটিই বলা যাবে না, উক্ত বুদ্ধিমান শাসক তখন বলেছিলেন, 'এরা তো দেখি তাদের রবকে হারিয়ে বসে আছে।' এটাই হচ্ছে মুসলিমদের বাস্তবতা, মুসলিমদের বিশ্বাস আজ এ রকমই। তাছাড়া আকীদাতে এর থেকেও আকীদাহ রয়েছে, যা আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আলোচনা সভায় শুনতে পাই, তারা যখন তার রবকে স্মরণ করে তখন বলে, কী বলে? বলে, আল্লাহ সব জায়গায়। তাদের যিকিরও তাই বুঝায়। বস্তুত এটাই প্রকৃত কুফুরী। এর কারণ কী? কারণ হচ্ছে মুসলিমরা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আরও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সালাফে সালেহীনের মানহাজ থেকে। এ শেষের অংশটুকু জুড়ে দেয়া জরুরী। কারণ; কারণ পূর্ববর্তী পথভ্রষ্ট দার্শনিক কিংবা কালামশাস্ত্রবিদ, যাদেরকে উক্ত বুদ্ধিমান শাসক বলেছিলেন যে, 'এরা তো দেখি তাদের রবকে হারিয়ে ফেলেছে' অথবা তাদের পরবর্তী পথভ্রষ্ট অনুসারী গোষ্ঠী, যারা রাব্বুল আলামীনকে সব জায়গায় জমা করেছে, এমনকি ময়লার ডিপোতে, পানির লাইনে, ময়লার ড্রেনে, অনুরূপ নিকৃষ্টতম জায়গায়, তারাও কিন্তু আল্লাহর বাণী অস্বীকার করে না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত অস্বীকার করে না, বরং তারা তাদের বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ করে বলে, আমরা তো কুরআন ও সুন্নাহ'র ওপরই চলি....।”(৭৮৬)
যারা বলে থাকে যে, আল্লাহর নাম ও গুণের বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে আলোচনা
করা ঠিক নয়, অন্যত্র শাইখ তাঁদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন,
প্রশ্নঃ هل ينبغي على الدعاة أن يتجنبوا الكلام على الأسماء والصفات أمام العامة؟ জিজ্ঞাসা: আমাদের জন্য দোয়া করুন।
الجواب: جزاكم الله خيراً. بمناسبة ذكر الأسماء والصفات يقول بعض الناس: بأنه يجب على الدعاة إلى الله ألا يتحدثوا في هذا الباب أمام عامة الناس وغوغائهم؛ لأن الخوض في هذا يؤدي إلى وقوع الشك في نفوسهم، فما هو مدى صحة هذا الكلام؟ এই কথার কতটুকু সত্যতা আছে?
الشيخ: نعم. أولاً: نقول لهؤلاء: تحدثوا أنتم أمام العامة بخير من هذا الكلام, تحدثوا أنتم بخير من هذا الكلام, فإذا كان لا يعجبكم هذا الكلام فواجبكم أن تتحدثوا بما يعجبكم من غير هذا الكلام، وإن لم تفعلوا ولن تفعلوا فستستمعون ما لا يرضيكم، وهذا الذي لا يرضيكم المهم أنه يرضي ربكم، وهذا الذي وصلنا من علم السلف وندين الله به، والعامة – كما قلنا لكم آنفاً – هم على الفطرة، إذا قيل لهم: لا فوق، لا تحت استنكرته قلوبهم، لكن إذا قيل لهم: الله فوق المخلوقات كلها وليس فوقه أي مخلوق فهذا هو الذي يلتقي مع الفطر السليمة (فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ) (الروم: ৩০)
"আল্লাহর পথের দাঈগণের কি আল্লাহর নাম ও গুণাবলির আলোচনা সাধারণ জনসমক্ষে করা উচিত?
প্রশ্ন: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন, আল্লাহর নাম ও গুণের কথা আলোচনা উপলক্ষ্যে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কিছু লোক বলেন, আল্লাহর পথের দাঈদের কর্তব্য হচ্ছে, এ অধ্যায়ের আলোচনা সাধারণ জনসমুখে না করা; কারণ এসব বিষয়ে প্রবৃত্ত হওয়া তাঁদের অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক ঘটাতে পারে, এ কথাটি কতটুকু বিশুদ্ধ?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রথমে আমরা বলবো, তোমরাও সাধারণ মানুষের সামনে তোমাদের উত্তম কথাগুলো বলো। তোমরা তোমাদের উত্তম কথাগুলো সাধারণ মানুষের সামনে বলতে থাকো। যদি তোমাদের কাছে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি নিয়ে কথা বলা ভালো না লাগে তবে তোমাদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে যা তোমাদের কাছে ভালো লাগে সেটা তাঁদের কাছে বলো। তোমরা যদি সেটা না করো, আর তোমরা কখনো করবে না, তাহলে তোমরা তা শুনবে যা তোমরা অপছন্দ করো। এই যে জিনিসটি তোমাদের কাছে অপছন্দের সেটাই তোমাদের রব্বকে খুশি করবে, সন্তুষ্ট করবে, আর এটাই তো আমাদের কাছে এসেছে আমাদের সালাফে সালেহীনদের জ্ঞানের অংশ হিসেবে, আর আমরা এটাকেই আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছি। সাধারণ মানুষ, যেভাবে তোমাদেরকে আমরা বলেছি, তারা সুস্থ স্বাভাবিক প্রকৃতির ওপর আছে, তাদেরকে যদি বলা হয়, আল্লাহ উপরেও নয়, নিচেও নয়, তখন সেটা তাঁদের অন্তর মেনে নেয় না। কিন্তু যদি তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ তা'আলা সকল সৃষ্টির উপরে, তাঁর উপরে কোনো সৃষ্টি নেই, তখন সেটা তাঁদের সুস্থ স্বাভাবিক প্রকৃতির সাথে খাপ খায়। “আল্লাহর সেই ফিতরাত বা সুস্থ স্বভাবিক প্রকৃতি, যার ওপর তিনি মানুষদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টির এ ফিতরাতের পরিবর্তন নেই।” [সূরা
আর-রূম: ৩০]” (৭৮৭)
যারা বলে থাকেন আল্লাহর গুণ সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীস মুতাশাবিহাত এর অন্তর্ভুক্ত; শাইখ তাদের সন্দেহের অপনোদন করে বলেন,
باب هل آيات الصفات وأحاديثها من المتشابهات أم من المحكمات؟ سؤال: هنا يسأل سائل: هل آيات الصفات والأحاديث من المتشابهات أم من المحكمات كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية ...
الشيخ: هي من جهة من المتشابهات، وذلك فيما يتعلق بالكيفيات، وليست من المتشابهات من حيث أن لها معنى ظاهرا كما قلنا آنفًا في قول السلف: أمروها كما جاءت يعني بالمفهوم العربي والمثال عن مالك سابقا ذكرناه أيضًا، فهي بهذا الاعتبار أي بمعنى أن هذه الآيات لها معاني معروفة في اللغة العربية فهي غير متشابهة
أما باعتبار الكيفية فهي متشابهة لأنه لا يمكن أن نعرف كيفية ذات الله فبالتالي لا يمكن أن نعرف كيفية صفات الله عز وجل، ولذلك قال بعض أئمة الحديث وهو أبو بكر الخطيب صاحب التاريخ المعروف بتاريخ بغداد: يقال في الصفات ما يقال في الذات سلبًا وإيجابًا، يقال في الصفات ما يقال في الذات، فكما أننا نثبت الذات ولا ننفيها فإن هذا النفي هو الجحد المطلق، كذلك نقول في الصفات نثبتها ولا ننفيها ولكننا كما لا نكيف الذات لا نكيف الصفات، هذا جواب هذا السؤال.
أقول: إن التأويل المنفي بنص القرآن الكريم: ﴿وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا الله) (آل عمران:۷) ليس المقصود به مطلقاً والبتة: لا يعلم معناه إلا الله. وهنا يظهر خطأ الذين ينتحون ناحية التفويض في آيات الصفات وأحاديث الصفات، فيقولون: نكل معانيها إلى الله عز وجل ولا نخوض فيها، ليس لهم حجة في مثل هذه الآية ولا حجة لهم سواها، وإذا كانت حجتهم هي هذه فكما تسمعون، ربنا يقول: لا يعلم تأويلها ولم يقل: لا يعلم معانيها إلا الله، وتأويل الشيء هو معرفة عاقبة أمره وحقيقة أمره... ما يؤول إليه وينتهي إليه، نعم. فنحن حينما نقرأ بعض آيات الصفات أو أحاديث الصفات لا شك ولا ريب نفهم معانيها، كمثل قوله تبارك وتعالى في الآية المذكورة في أماكن عديدة: (الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) (طه:٥) كما نفهم حديثه عليه السلام المتواتر عنه: ينزل الله كل ليلة إلى سماء الدنيا فنفهم معنى الاستواء ونفهم معنى النزول، ولكن حقيقة ذاك الاستواء وذاك النزول لا يعلمه إلا الله، هذا هو المقصود بهذه الآية، وليس المقصود ما يزعم أهل التفويض أننا لا نعرف معاني هذه الآيات. كيف يكون ذلك معقولاً فضلاً عن أن يكون مشروعاً؟
"অধ্যায়, আল্লাহর গুণবাচক আয়াত ও হাদীস কী মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) নাকি সেগুলো মুহকাম (স্পষ্ট) আয়াত ধরা হবে?
প্রশ্ন: কোনো এক প্রশ্নকারী বলেন, আল্লাহর গুণবাচক আয়াত ও হাদীসগুলো কী মুতাশাবিহ বা অস্পষ্ট, নাকি মুহকাম বা স্পষ্ট অর্থজ্ঞাপক, যেমনটি শাইখুল ইসলাম বলেছেন?
শাইখ উত্তরে বলেন: এগুলোকে একদিক থেকে মুতাশাবিহাতের অন্তর্ভুক্ত ধরা যেতে পারে, আর তা হচ্ছে সেগুলার ধরন নির্ধারণ। তবে এগুলোর প্রকাশ্য অর্থ থাকার বিষয়ে এগুলোকে মুতাশাবিহাত আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত বলা যাবে না। যেমনটি আমরা আগে বলেছি, সালাফদের কথা 'এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে নাও' এর ব্যাখ্যায়। সালাফদের কথা, 'যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে নাও' এর অর্থ আরবী বুঝ অনুযায়ী চালিয়ে নাও, যার উদাহরণ আমরা ইমাম মালিকের বক্তব্য থেকে ইতোপূর্বে তোমাদেরকে জানিয়েছি। তাহলে সে হিসেবে অর্থাৎ এ আয়াতসমূহের জানা অর্থ রয়েছে আরবী ভাষায়, সে হিসেবে এগুলো মুতাশাবিহ বা অস্পষ্ট আয়াত বলা যাবে না।
তবে ধরন নির্ধারণের দিক থেকে এগুলো মুতাশাবিহ বা অস্পষ্ট; কারণ আমরা আল্লাহর সত্তার ধরন জানতে সক্ষম নই, তাই আমরা আল্লাহর গুণাবলির ধরনও জানতে অক্ষম। আর সেজন্যই হাদীসের ইমামগণের কেউ কেউ বলেছেন, তিনি হচ্ছেন, ইমাম আবু বকর আল-খত্বীব, বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থের লেখক, যা তারীখে বাগদাদ নামে খ্যাত, তিনি বলেন, "আল্লাহর গুণের ব্যাপারে সেটাই বলা হবে, যা তাঁর সত্তার ব্যাপারে বলা হবে, সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ও সাব্যস্ত না করার ক্ষেত্রে। গুণের ক্ষেত্রে তাই বলা হবে যা সত্তার ব্যাপারে বলা হয়। যেভাবে আমরা তাঁর সত্তাকে সাব্যস্ত করি, সত্তার অস্তিত্বকে না বলি না; কারণ এটাকে না বলা তো মূলত তাঁকে অস্বীকার করাই হয়ে যায়। সে রকম আমরা আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারেও বলি, আমরা সেগুলোকে সাব্যস্ত করি, না করি না। তবে আমরা যেভাবে সত্তার ধরণ নির্ধারণ করি না, তেমনি গুণাবলিরও ধরণ নির্ধারণ করি না। এটিই হচ্ছে এ প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর।
আর আমরা বলি, কুরআনে কারীমের ভাষ্য (آل عمران﴿:۷) وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ 'এর তা'ওয়ীল আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না' [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ০৭] এ আয়াত থেকে সরাসরি যে তা'ওয়ীলকে নিষেধ করা হয়েছে তার অর্থ কখনো ও কস্মিনকালেও এটা নয় যে, আল্লাহ ব্যতীত এর অর্থ কেউ জানে না। এখানেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কিছু মানুষের ভুল, যারা তথাকথিত 'তাফওয়ীদ্ব' বা আল্লাহর গুণাবলি বুঝাতে আসা আয়াতসমূহ ও হাদীসসমূহের শব্দাবলির অর্থ না করার নীতি অবলম্বন করেছে, তারা বলে থাকে, আমরা এগুলোর অর্থ মহান আল্লাহর দিকে সোপর্দ করছি, আমরা এগুলোর অর্থ খুঁজবো না। বস্তুত তাদের এ বক্তব্য ভুল, তাদের আয়াতাংশের ভুল ব্যাখ্যা ব্যতীত তাদের মতের সপক্ষে তারা আর কোনো দলীল-প্রমাণ পেশ করতে পারবে না। আর যদি তাদের এ 'অর্থ না করার' নীতির সপক্ষে একমাত্র এ আয়াতাংশই দলীল হয়ে থাকে, যেমনটি তোমরা শুনে থাক, তবে তাদের জানা উচিত, আমাদের রব বলেছেন, 'এগুলোর তা'ওয়ীল বা বিস্তৃত ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না', কখনও বলেননি, 'এগুলোর অর্থ আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না'। আর এটা জানা কথা যে, তা'ওয়ীল হচ্ছে, কোনো কিছুর সর্বশেষ পরিণাম ও কোনো কিছুর প্রকৃত অবস্থা, যার দিকে তা প্রত্যাবর্তন করবে বা যেখানে এসে শেষ হবে। হ্যা, এটাই তা'ওয়ীলের অর্থ। আমরা যখন আল্লাহর গুণ সংক্রান্ত কোনো আয়াত বা হাদীস পড়ি,
তখন নিঃসন্দেহে ও কোনো প্রকার সমস্যা ছাড়াই এগুলোর অর্থ বুঝি, যেমন আল্লাহর বাণী (الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) (طه:٥ "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন" [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫], এর মধ্যে আসা 'ইস্তেওয়া' গুণটি, যা তিনি কুরআনের কারীমের অনেক জায়গায় বলেছেন, অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুতাওয়াতির পর্যায়ের হাদীসে আসা 'আল্লাহ অবতরন করেন প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে'। এ আয়াত ও হাদীস দু'টিতে আসা ইস্তেওয়া ও নুযুল এর অর্থ আমরা সহজেই বুঝতে পারি। কিন্তু এ ইস্তেওয়া বা উপরে উঠা ও নুযূল বা অবতরণের প্রকৃত ধরণ আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। এ প্রকৃত ধরন না জানার বিষয়টিই উক্ত (সূরা আলে ইমরানের ৭ নং) আয়াতের উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্য সেটা নয় যা তাফওয়ীদ্ব বা অর্থশূন্যকারী গোষ্ঠী বলে থাকে যে, এ (সূরা আলে ইমরানের ৭ নং) আয়াতের উদ্দেশ্য আমরা এগুলোর অর্থ জানি না। এ ধরনের কথা-বার্তা বিবেক কীভাবে মেনে নিতে পারে? শরী'আত মেনে নেয়ার তো প্রশ্নই আসে না।"(৭৮৮)
যারা সালাফে সালেহীনের দিকে আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনায় আসা আয়াত ও হাদীসের অর্থ না করার নীতি তথা তাফওয়ীদ্ব অবলম্বন করে তাদের নীতি খণ্ডন করে শাইখ বলেন, قول الأمام أحمد أمروها كما جاءت أي افهموها كما جاءت دون أن تتعمقوا في محاولة معرفة الكيفية والذين يقولون إن مذهب السلف هو التفويض أولاً يلزمهم أمران اثنان وكما يقال أحلاهما مر يلزمهم أن الآيات التي وصف الله عز وجل نفسه بها فضلاً عن الأحاديث الكثيرة التي وصف النبي - صلى الله عليه وآله وسلم - ربه فيها كل هذه النصوص معناها على مذهب التفويض أننا لا نفهم هذه النصوص بل ولا ندري لماذا ربنا عز وجل أنزلها في كتابه ولا ندري لماذا نبيه وصف ربه بهذه الصفات والواجب علينا أن لا نفهم هذه الصفات المذكورة في القرآن والسنة علماً أن الله عز وجل نعى على قوم أنهم لا يهتمون بفهم القرآن الكريم حينما قال رب العالمين: ﴿أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا) (محمد: ٢٤).
بلا شك أن أعظم شيء يتعلق بهذا الإسلام هو معرفة الرب الذي شرع هذا الدين وعلى لسان نبيه عليه الصلاة والسلام فحينما يقال في آيات الصفات وفي أحاديث الصفات لا نفهم منها شيئاً إذا هم لم يعتبروا بمثل قوله في الآية السابقة (أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا) (محمد : ٢٤) ويشملهم أيضاً: ﴿هُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا ) (الحج : ٤٦) ، وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ) (العنكبوت: ٤٣). والآيات كلها إنما أنزلت لتعقل وتفهم عن الله عز وجل فإن كانت متعلقة بالعقيدة تبناها عقيدة وأن كانت متعلقة بالأحكام تبناها وعمل بها.
إذا إذا كانت الآيات المتعلقة بصفة الله عز وجل لا تفهم فإذا نحن لا ندري عن ربنا شيئاً إلا أن له وجوداً وعلى هذا هناك صفات مجمع عليها بين العلماء حتى علماء الخلف مثلاً: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ)
(الشورى: ۱۱). هل نفهم من السميع أن نُفَوِّض فنقول: لا ندري ما هي صفة السمع البصير لا ندري ما هي صفة البصر والقدير والحكيم والعليم إلى آخره معنى ذلك التفويض المزعوم أننا لا نفهم شيئاً من هذه الصفات إذا آمنا برب موجود لكن لا نعرف له صفة من الصفات وحينئذ كفرنا برب العباد حينما أنكرنا الصفات بزعم التفويض هذا هو الذي يرد أولاً على أولئك المفوضة زعموا.
الشيء الثاني: إذا قال الإمام أحمد أو غيره أمروها كما جاءت ترى قبل الإمام أحمد إمام دار الهجرة وهو الإمام مالك رحمه الله تعالى هل كان على هذا المذهب حينما جاءه ذاك السائل فقال له: يا مالك يا مالك الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، كيف استوى؟ قال: الاستواء معلوم فالاستواء معلوم لا يعني الاستواء مفوض معناه لا قال الاستواء معلوم، وهو العلو، ولكن الكيف مجهول، وهذا هو مذهب السلف ولذلك تمام كلام الإمام مالك رحمه الله أن قال: أخرجوا الرجل فإنه مبتدع لم يكن هذا الرجل السائل مبتدعاً لأنه سأل عن معنى خفي عليه من قوله تعالى: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ) (طه : ٥) . وإنما أخرج وبدع؛ لأنه سأل عن كيفية الاستواء فكان قول الإمام مالك هذا هو الذي يمثل منهج السلف الصالح والمتبعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
وهو أن معاني آيات الصفات وأحاديث الصفات مفهومة لغة لكن كيفياتها مجهولة تماماً. فلا يعرف كيفية الذات إلا صاحب الذات ولا يعرف كيفية الصفات إلا الذات نفسها لكن الاستواء والسمع معلوم والبصر معلوم
ইমাম আহমাদের বক্তব্য 'তোমরা এগুলোকে পরিচালিত করো যেভাবে এসেছে সেভাবে। এর অর্থ হচ্ছে, এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে বুঝ, এগুলোর গভীরে গিয়ে ধরন জানার প্রচেষ্টা চালানো ব্যতীতই। আর যারা বলে, সালাফে সালেহীনের মাযহাব ছিল তাফওয়ীদ্ব বা অর্থশূন্য করে শুধু শব্দের ওপর ঈমান আনা, প্রথমেই তাদের ওপর দু'টি বিষয় আপতিত হবে। আর যেমনটি প্রবাদে আছে, দু'টি জিনিসের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি মিষ্ট সেটিই তিতা।
সে দু'টি জিনিসের প্রথমটি হচ্ছে, এটা বলা যে, যেসব আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন সেসব আয়াত, যদিও সেসব অগণিত অসংখ্য হাদীসকে আলোচনার বাইরেও রাখি, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, সেসব যাবতীয় ভাষ্যের অর্থ তাফওয়ীদ্ব নীতি অবলম্বনের কারণে বলা হয় যে, আমরা এগুলোর অর্থ মোটেই বুঝি না, বরং আমরা জানি না কেন আমাদের মহান রব এগুলো তাঁর কিতাবে নাযিল করেছেন, আমরা তাও জানি না, কেন তাঁর নবী সেগুলো দিয়ে তার রবকে গুণান্বিত করেছেন, আমাদের কর্তব্য হচ্ছে আমরা কুরআন ও সুন্নাহ'য় আসা এসব গুণাবলির অর্থ না বুঝা ও না জানা, তাহলে আমাদের জানা উচিত আল্লাহ তা'আলা কিছু গোষ্ঠীর ব্যাপারে মারাত্মক অখুশী প্রকাশ করেছেন, যারা কুরআনে কারীম বুঝার
ব্যাপারে গুরুত্ব দেয় না, যখন রাব্বুল আলামীন বলেন, ﴾أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا) (محمد: ٢٤). 'তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা করবে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা আছে?' [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ২৪]
সন্দেহ নেই, ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে সেই রব সম্পর্কে জানা, যিনি এ দীন প্রবর্তন করেছেন, আর তা করেছেন তাঁর নবীর যবানীতে, তাহলে যখন আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসের ক্ষেত্রে বলা হয় যে, আমরা এগুলো থেকে কিছুই বুঝি না, তাহলে তো তারা আল্লাহর আয়াত ও রাসূলের হাদীস থেকে মোটেই কোনো শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি। তারা তো তখন সে আয়াতের অধীন হয়ে যাবে, যাদের সম্পর্কে পূর্বোক্ত আয়াতে বলা হয়েছে, ﴾أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا) (محمد : ٢٤) 'তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা করবে না? নাকি তাঁদের অন্তরে তালা আছে?' [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ২৪] অনুরূপ তারা সে আয়াতেরও অন্তর্ভুক্ত হবে, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, ﴾أَمْ قُلُوبُ يَعْقِلُونَ بِهَا ) (الحج : ٤٦) (তাদের রয়েছে এমন কিছু হৃদয় যার দ্বারা তারা কিছু বুঝে না' [সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৪৬] আরও বলেছেন, ﴾وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ) (العنكبوت: ٤٣). 'আর কুরআনের এসব উদাহরণ কেবল আলেমগণই বুঝতে পারে।' [সূরা আল-আনকাবূত, আয়াত: ৪৩]
আর আল্লাহর আয়াতসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল করা হয়েছে কেবল তা বুঝার জন্য, তা অনুধাবন করার জন্য, যদি সেটা আকীদাহ সম্পর্কিত হয় তাহলে সেগুলোকে আকীদাহ হিসেবে গ্রহণ করবে, আর যদি সেটি বিধি-বিধান সম্বলিত হয় তবে সেটাকে বিধান হিসেবে গ্রহণ করবে ও তার ওপর আমল করবে।
তাহলে তা যখন মহান আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত হবে আর তা বুঝা না যায় তখন তো আমরা আমাদের রব সম্পর্কে কিছুই জানতে পারলাম না, কেবল বুঝলাম যে, তাঁর একটা অস্তিত্ব আছে।
(বস্তুত এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কিছু নয় যে, আল্লাহর সৃষ্টি হয়েও তাঁর ব্যাপারে কিছুই জানতে পারিনি, তবে বাস্তব কথা হচ্ছে তারা সকল গুণের ব্যাপারে সেটা বলে না।)
যদি তাদের কথা যে 'এসব গুণাবলির আয়াত থেকে কিছুই বুঝা যায় না' এটা সত্য হয়, তাহলে সেসব আয়াতের ব্যাপারে কী বলবে, যেসব গুণ সাব্যস্তের ব্যাপারে তারা সবাই একমত, এমনকি তাদের পরবর্তী আলেমগণও, যেমন, ﴾لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ) (الشورى: ۱۱). 'তাঁর মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা'। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১] তাদের পূর্বোক্ত নীতি যদি এখানে কার্যকর করা হয় তাহলে সেটার দাবী হচ্ছে তারা এখানে আসা আল্লাহর গুণ 'আস-সামী' শব্দটিকে তাফওয়ীদ্ব করে বলা যে, এর অর্থ জানা যায় না। তাহলে সেটা অনুযায়ী আমরা কি বলবো, আমরা জানি না আস-সামী' থেকে সাম' নামক সিফাতের অর্থ কী? আর আল-বাসীর থেকে 'বাসার' নামক সিফাত এর অর্থ কী? অনুরূপ কথাই কি বলা হবে, ক্বাদীর, হাকীম, আলীম ইত্যাদি সিফাতসমূহের ব্যাপারে? বস্তুত এ তথাকথিত 'তাফওয়ীদ্ব' বা অর্থ না করার নীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা এসব গুণের গুণটির অর্থই জানি না, তখন অর্থ দাঁড়াবে, আমরা একজন রবের অস্তিত্বের ওপর ঈমান আনলাম, কিন্তু তাঁর গুণসমূহের কোনো গুণ সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। এভাবে বললে
তো আমরা বান্দাদের রব আল্লাহর সাথেই কুফুরী করলাম, যখন তথাকথিত তাফওয়ীদ্ব নীতির মাধ্যমে তাঁর গুণাবলিকে অস্বীকার করলাম। এভাবেই যারা তথাকথিত তাফওয়ীদ্ব নীতি অবলম্বন করে তাদের রদ্দ করা হবে।
দ্বিতীয় জিনিস হচ্ছে, তাদেরকে বলা যে, যদি ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা বলে থাকেন যে, 'এ গুণবাচক আয়াতগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে নিয়ে যাও' (যার অর্থ তোমাদের ধারণা অনুযায়ী, অর্থ না বুঝে পার হয়ে যাওয়া) তাহলে ইমাম আহমাদের পূর্বে দারুল হিজরাত মদীনার ইমাম মালিক ইবন আনাস রাহিমাহুল্লাহ তিনিও কি একই মাযহাব পোষণ করতেন? যখন তার কাছে সেই প্রশ্নকারী এসে জিজ্ঞেস করেছিল, হে মালিক, 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' কীভাবে উঠলেন? তিনি জবাবে বলেছিলেন, ইস্তেওয়া বা 'উপরে উঠা' জানা কথা। তিনি বলেছেন, 'ইস্তেওয়া মা'লুমুন' বা ইস্তেওয়া জানা কথা। এ কথা বলেননি যে, 'ইস্তেওয়া' এর অর্থ তাফওয়ীদ্ব কর। বরং বলেছেন, 'ইস্তেওয়া মা'লুমূন' বা ইস্তেওয়া জানা কথা আর সেটা হচ্ছে উপরে থাকা, ঊর্ধ্বে উঠা। তবে সেটার ধরন অজানা। এটাই হচ্ছে সালাফে সালেহীনের মত। আর এজন্যই ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ'র কথার বাকী অংশ হচ্ছে, এ লোকটিকে বের করে দাও; কেননা সে বিদ'আতী লোক। এ প্রশ্নকারী লোকটিকে কেবল আল্লাহর বাণী (الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: 5] এ আয়াতে তাঁর কাছে কোনো শব্দের অর্থ গোপন থাকায় সেটা জিজ্ঞেস করার কারণে বের করে দেয়া হয়নি, বিদ'আতী বলা হয়নি, বরং তাকে তো বের করে দেয়া হয়েছে ও বিদ'আতী বলা হয়েছে এ কারণে যে, সে 'ইস্তেওয়া' এর ধরন জানতে চেয়েছে। আর সে জন্যই ইমাম মালিকের এ বাণী সালাফে সালেহীন ও তাদের সুন্দর অনুসারীদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। যার মূল কথা হলো, আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত আসা যাবতীয় আয়াত ও সকল হাদীসের অর্থ আভিধানিকভাবে আমরা বুঝি; কিন্তু তার ধরন আমাদের সম্পূর্ণ আজানা। সুতরাং সে সত্তা ব্যতীত তাঁর সত্তার ধরন অন্য কেউ জানে না, অনুরূপ সে সত্তা ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর গুণাবলির ধরন জানে না। কিন্তু 'ইস্তেওয়া', সাম', বাছার এগুলোর অর্থ জ্ঞাত জিনিস।”(৭৮৯)
অন্যত্র তিনি আল্লাহ তা'আলার গুণাবলি সম্পর্কে বলেন, وصفاته عند العلماء تنقسم إلى قسمين: صفة فعل وصفة ذات، فـ الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) (طه:٥) صفة فعل، نزوله ينزل الله كل ليلة إلى السماء الدنيا صفة فعل أيضاً، لكن نزوله ليس كنزول الناس، واستواؤه ليس كاستوائنا
"আর আল্লাহর গুণাবলি দু'ভাগে বিভক্ত: কর্মগত গুণ ও সত্তাগত গুণ। সুতরাং "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] এটি কর্মগত গুণ। অনুরূপ তাঁর অবতরণ, “প্রতি রাতে আল্লাহ তা'আলা নিকটতম আসমানে নেমে আসেন" এটাও কর্মগত গুণ। কিন্তু তাঁর অবতরণ মানুষের অবতরণের মতো নয়, আর তাঁর উপরে উঠা আমাদের উপরে উঠার মতো নয়।” (৭৯০)
অন্যত্র তিনি 'আরশের উপরে বলতে কি কোনো স্থান বুঝাচ্ছে? সেটার জবাব দিয়ে বলেন,
[قال الذهبي في العلو : ]
و [ مما] يدل على أن الباري تبارك وتعالى عال على الأشياء فوق عرشه المجيد، غير حال في الأمكنة؛ قوله تعالى: وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ ) .
[قال الإمام معلقا ]:
تأمل هذه الكلمة، فإنها من الحق الذي حمل الجهل به الجماهير على جحد ما دلت عليه هذه الأدلة الكثيرة من الكتاب والسنة من علوه تعالى على عرشه، وعلى الطعن بالسلفيين المؤمنين به زاعمين أن السلفيين بإيمانهم هذا جعلوا الله عز وجل مكاناً فوق العرش، تعالى الله عما يقول الظالمون علواً كبيراً ، فهذا هو المؤلف، وهو من كبار أئمتهم يصرح بتنزيهه تعالى عن الحلول في الأمكنة كلها। وما يحمل أولئك الجماهير على ذلك إلا توهمهم. أن الإيمان بعلوه عز وجل على خلقه; يستلزم أن يكون حالا في مكان، قالوا: وهذا باطل، وما لزم منه باطل فهو باطل, وجهلوا أو تجاهلوا أن المكان أمر وجودي، وأنه ليس فوق العرش وجود حادث، وبالتالي فليس ثمة مكان إطلاقاً, فالله تبارك وتعالى فوق عرشه, وليس في مكان أصلاً।
ومن العجيب أن هؤلاء الذي لم يؤمنوا بعد بعلوه عز وجل على عرشه فراراً من الإيمان بالمكان المزعوم, قد وقعوا على أم رأسهم في الإيمان بأن الله في الأمكنة حقيقة, وذلك بقولهم: الله موجود في كل مكان।
[ইমাম যাহাবী তার আল-'উলু গ্রন্থে বলেন]
আর যা প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহ সবকিছুর উপরে, তাঁর সম্মানিত 'আরশের উপরে, তবে সেটা পরিচিত কোনো জায়গায় প্রবেশ করা নয়, তার দলীল আল্লাহর বাণী “তাঁর 'কুরসী' আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দু'টোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।” [সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৫]
শাইখ আবু আব্দির রহমান মুহাম্মাদ নাসেরুদ্দীন আল-আলবানী বলেন, এ বাক্যটি নিয়ে চিন্তা কর, এটি এমন এক সত্য ও সঠিক বক্তব্য, যা না জানার কারণে অনেক মানুষকে দেখা যায় কুরআন ও সুন্নাহ'র এসব বহুবিধ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা আল্লাহ তা'আলাকে তাঁর 'আরশের উপরে থাকাকে অস্বীকার করে যাচ্ছে। তাছাড়া তারা সালাফে সালেহীনের অনুসারীদের ওপর দোষারোপ করছে যারা এর ওপর ঈমান রাখে। এ মানুষগুলো মনে করছে যে, সালাফে সালেহীনের অনুসারীরা মহান আল্লাহর জন্য 'আরশের উপরে একটি স্থান নির্ধারণ করে নিয়েছে [যে রকম স্থান তারা দুনিয়াতে সৃষ্টিকুলের জন্য নির্ধারণ করে], যালিমরা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অনেক ঊর্ধ্বে। এই যে গ্রন্থকার [ইমাম যাহাবী] তিনি সালাফে সালেহীনের অনুসারী একজন বড় ইমাম, তিনি এভাবে স্থান নির্ধারণ থেকে আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করছেন। আল্লাহ তা'আলা কোনো প্রকার স্থানে প্রবেশ করার থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। এসব মানুষ যারা সালাফে সালেহীনের অনুসারীদেরকে এরকম দোষ দিচ্ছে, তারা যে কারণে এটা করছে তা হচ্ছে, তারা মনে করছে, মহান আল্লাহকে তাঁর
সকল সৃষ্টির উপরে বলা এটা বলা বাধ্য করে যে, তিনি কোনো স্থানে প্রবেশ করে আছেন, তারা বলে, এটা তো বাতিল, আর যা বাতিল কিছু আনতে বাধ্য করে তাও বাতিল। এ লোকগুলো জানতে পারেনি কিংবা না জানার ভান করেছে যে, স্থান তো একটি অস্তিত্ব প্রদানকৃত জিনিসের নাম, 'আরশের উপর কোনো অস্তিত্ব প্রদানকৃত জিনিস নেই। সুতরাং সেখানে এমন কোনো স্থান নেই যা মানুষের ধারণার মধ্যে আসে। সুতরাং মহান আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা 'আরশের উপর, তিনি কোনো স্থানের অভ্যন্তরে নন।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, যারা মহান আল্লাহ তা'আলাকে এখনও 'আরশের উপর থাকার উপর ঈমান আনেনি, এ তথাকথিত স্থান নির্ধারণ থেকে বাঁচার জন্য তারাই আবার পুরোপুরিভাবে এ ঈমান পোষণ করে থাকে যে, আল্লাহ তা'আলা বহু জায়গায়। আর তা তাদের সে কথার মাধ্যমে, যখন তারা বলে, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান।” (৭৯১)
অনুরূপভাবে, তিনি 'আরশের উপর উঠা এবং 'আরশের উপর থাকার বিষয়ে সালাফে সালেহীনের বক্তব্য বর্ণনা করার পর বলেন,
واعلم أن لفظة (بائن) كَثُرَ ورودُهَا فِي عقيدة السلف في قولهم: «هَوَ تَعَالَى عَلَى عَرْشِهِ، بِائِنٌ مِن خَلْقِهِ وحكاها أبو زرعة وأبو حاتم الرازيان عَنِ العلماء في جميع الأمصار ، وإنَّما نطق العلماء بهاتين اللفظتين: «بذاته» و «بائن» - بعد أن لم تكونا معروفتين في عهد الصحابة رضي الله عنهم - لما ابتدع الجهم وأتباعه القول بأنَّ الله في كل مكان، فاقتضت ضرورة البيان أن يتلفظ هؤلاء الأئمة الأعلام بلفظ «بائن» دون أن ينكره أحد منهم».
"জেনে রাখ, আল্লাহ তা'আলার জন্য "সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা” বাক্যটি সালাফে সালেহীনের আকীদায় প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছে, যখন তারা আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে বলেন, "মহান আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে, সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা" আর তা বিখ্যাত আলেমগণ থেকে ইমাম আবু যুর'আহ আর-রাযী ও ইমাম আবু হাতেম আর-রাযী বর্ণনা করেছেন। বস্তুত আলেমগণ এ দু'টি বাক্য, 'সত্তাগতভাবে' ও 'আলাদা' ব্যবহার করেছেন, কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের যুগে এভাবে ব্যবহার করা দেখা যায়নি। তার কারণ হচ্ছে, জাহম ও তার অনুসারী লোকদের এটা বলা যে, আল্লাহ তা'আলা সব জায়গায় বিরাজমান। তখন অবস্থার চাহিদা অনুযায়ী এ ইমামগণ কর্তৃক 'আলাদা' শব্দটি ব্যবহার করা জরুরী হয়ে পড়েছিল, তখন কেউ সেটার বিরোধিতা করেনি।" (৭৯২)
ইমাম আবু আব্দির রহমান মুহাম্মাদ নাসেরুদ্দীন আল-আলবানী রাহিমাহুল্লাহ আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক সকল সৃষ্টির উপরে থাকার বিষয়ে আলোচনা করে বলেন,
يجب أن نعلم في هذا الصدد أن الله تبارك وتعالى له كل صفات الكمال، وهو منزه عن جميع صفات النقصان، وأن صفات الكمال منها ما هو معلوم بمجرد العقل والفطرة السليمة، وهذا قليل، مثل كون الله عز وجل فوق المخلوقات كلها، فهذا يعرف بمجرد العلم بأن الله عز وجل يليق به كل صفات الكمال، كأن يكون الله عز وجل فوق المخلوقات ولا عكس فهو مما يُعْرَفُ ببديهة العقل، ومع ذلك فقد جاءت النصوص الكثيرة
في الكتاب والسنة تصرح تصريحاً ليس بعده تصريح بأن الله عز وجل فوق المخلوقات كلها، وبعض هذه النصوص تبين بأنه فوق العرش بصورة خاصة، كآية (الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) (طه:٥) التي تكررت في عديد من الآيات الكريمة أشهر من أن تذكر، فالعرش خلق من خلق الله عز وجل، بل هو أعظم مخلوقات الله تبارك وتعالى، فتنصيص رب العالمين على أنه فوق العرش العظيم هو من العقائد التي يجب على المسلم أن يتبناها ولا يجوز له أن ينحرف عن دلالتها الظاهرة إلى المعاني المخترعة المبتدعة والتي يذهب إليها كثير من علماء الكلام المعروفين بانحرافهم عما كان عليه السلف الصالح من الإيمان بآيات الصفات كلها وأحاديث الصفات كلها، دون أي تحريف أو تأويل.
وقد تواتر أو على الأقل اشتهر عن الإمام مالك رحمه الله أنه جاءه رجل فقال: يا مالك الرحمن على العرش استوى، كيف استوى؟ ، فكان جوابه رحمه الله أن قال: الاستواء معلوم، يعني: لغة، وهو العلو، الاستواء لغة معناه العلو، هكذا يعني الإمام مالك بقوله: الاستواء معلوم، والكيف مجهول، والسؤال عنه بدعة، والسؤال عنه أي: عن الكيف بدعة، فالإمام مالك رحمه الله يقرر في جوابه هذا للسائل العقيدة السلفية الجامعة لكل صفات الله عز وجل، فهي تثبت كما جاءت وبالمعنى الثابت لغة ولكن لا يجوز] تمثيلها وتشبيهها؛ لأن الله عز وجل يقول في القرآن الكريم: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ) (الشورى: ١١) ففي الآية نفي وهو تنزيه (ليس كمثله شيء) وفي الآية إثبات لصفتين من صفات الله عز وجل وهو أنه سميع بصير، فسمعه لا يشبه الأسماع، وبصره لا يشبه الأبصار ، لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ).
"আমাদেরকে এ বিষয়ে এটা জানা আবশ্যক যে, মহান আল্লাহ তাবারকা ও তা'আলার রয়েছে যাবতীয় পূর্ণতা প্রকাশক গুণাবলি, তিনি সকল প্রকার ত্রুটিযুক্ত গুণ থেকে মুক্ত। আর পূর্ণতা প্রকাশক গুণের মধ্যে কিছু আছে যা বিবেকের যুক্তি, সুস্থ স্বাভাবিক প্রকৃতির মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে। তবে এর সংখ্যা কম। যেমন, আল্লাহ তা'আলা সকল সৃষ্টির উপরে থাকবেন। যে কেউ এটা জানবে যে, আল্লাহর জন্য সেসব গুণাবলি উপযুক্ত যা পূর্ণতা প্রকাশক, যেমন তিনি সকল সৃষ্টিকুলের উপরে থাকবেন, বিপরীতটি নয়, তার বিবেকের একেবারে সামান্যতম ব্যবহারেই সে এর সত্যতা বুঝতে পারে। তারপরও কুরআন ও সুন্নাহ'য় এত বেশি ভাষ্যে এ বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সকল সৃষ্টির উপরে রয়েছেন, এর পরে আর স্পষ্ট করে বর্ণনা করার কিছু নেই। এসব ভাষ্যের মধ্যে কিছু ভাষ্য এটা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে 'আরশের উপর রয়েছেন, যেমন (الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طهঃ৫] রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] এ আয়াতটি, যা বেশ কয়েকটি আয়াতে বারবার বর্ণনা করা হয়েছে। বস্তুত 'আরশ মহান আল্লাহর সৃষ্টিসমূহের মধ্যে একটি সৃষ্টি। বরং তা আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মধ্যে [আমাদের জানা মতে] সবচেয়ে বড় সৃষ্টি। তাই রব্বুল আলামীন যেখানে সরাসরি নির্দিষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি সে মহা 'আরশের উপর, তাহলে সে আকীদাহ প্রত্যেক মুসলিমের গ্রহণ করা ফরয, কোনো মুসলিমের জন্য
এর প্রকাশ্য নির্দেশনা থেকে নতুন করে বানানো অর্থের দিকে নিজেকে নিয়ে যাওয়া কখনো জায়েয হবে না। যে দিকে সেসব কালামশাস্ত্রবিদ আলেমগণ গিয়েছেন যারা সালাফে সালেহীনের মত ও পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছেন। কারণ, সালাফে সালেহীন আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত সকল আয়াত ও হাদীসের ওপর কোনো ধরনের বিকৃতি কিংবা অপব্যাখ্যা ব্যতীতই ঈমান আনতেন।
মুতাওয়াতির পদ্ধতি (সন্দেহাতীতভাবে) অথবা বলবো প্রসিদ্ধ পদ্ধতিতে ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তার কাছে এক লোক এসে বললো, হে মালিক, 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' কীভাবে উঠলেন? তখন মালিক রাহিমাহুল্লাহ'র জবাব ছিল, 'ইস্তেওয়া' শব্দের অর্থ জানা, অর্থাৎ আভিধানিকভাবে, তা হচ্ছে উপরে থাকা, এটাই ইমাম মালিক তার 'ইস্তেওয়া শব্দের অর্থ জানা' এ কথা দ্বারা বুঝিয়েছেন। তারপর তিনি বলেছেন, 'তবে ধরন অজানা, সেটা সম্পর্কে অর্থাৎ ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত।' এভাবে তিনি তার উত্তরে সালাফে সালেহীনের নীতি দিয়ে উত্তর দিয়েছেন যা মহান আল্লাহর সকল গুণের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। সুতরাং সেসব গুণাবলিকে যেভাবে এসেছে সেভাবে সাব্যস্ত করা হবে, অভিধানে তার যে অর্থটি সুসাব্যস্ত সেটা অনুযায়ী, কিন্তু সাথে সাথে কোনো প্রকার উপমা কিংবা সাদৃশ্য নির্ধারণ করাও জায়েয হবে না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বলেছেন, "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।" [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১] এ আয়াতে যখন বলা হয়েছে 'তার মতো কোনো কিছু নেই' তখন কিছু জিনিস 'না' করা হয়েছে, যা দ্বারা আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করা উদ্দেশ্য। আর আয়াতে 'হ্যাঁ' করা হয়েছে মহান আল্লাহর গুণসমূহ থেকে দু'টি গুণকে, তা হচ্ছে, সাম' ও বাসার অর্থাৎ শোনা ও দেখাকে। তাই বলা হবে, তাঁর শোনা অন্য কারও শোনার মতো নয়, তাঁর দেখাও অন্য কারও দেখার মতো নয়, "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।" (৭৯৩)