📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীত্বী (১৩৯৩ হিজরী)

📄 শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীত্বী (১৩৯৩ হিজরী)


তিনি তার অনেক গ্রন্থে আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত করার জন্য দলীল প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন। উদাহরণত আমরা কয়েকটি ভাষ্য বর্ণনা করতে পারি:
'আরশের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন,
(والعرش سرير الملك، ويطلق على السقف والمراد به هنا عرش الرحمن الذي ذكره الله عز وجل في سبعة مواضع من كتابه، واصفا نفسه باستوائه عليه جل وعلا) . (معارج الصعود ص ٤٩) .
"আর 'আরশ হচ্ছে বাদশার মহান খাট। আর তা কখনও কখনও ছাদকেও বুঝায়। তবে এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে, রহমানের 'আরশ, যার বর্ণনা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের সাত জায়গায় দিয়েছেন, সবখানেই তিনি মহীয়ান ও গরীয়ান নিজেকে সেটার উপর উঠার গুণে গুণান্বিত করেছেন।" (৭৭০)
মহান আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা এটি একটি প্রশংসনীয় গুণ। এটা সাব্যস্ত করতে তিনি বলেন,
اعلموا أن هذه الصفة التي هي صفة الاستواء صفة كمال وجلال، تمدح بها رب السموات والأرض. والقرينة على أنها صفة كمال وجلال أن الله ما ذكرها في موضع من كتابه إلا مصحوبة بما يبهر العقول من صفات جلاله وكماله
"জেনে রাখ, এই যে গুণ, যা ইস্তেওয়া বা 'আরশের উপরে উঠার গুণ নামে বিখ্যাত তা প্রশংসনীয় ও সম্মানিত গুণ। এর দ্বারা আসমান ও যমীনের রব নিজেদের প্রশংসা করেছেন। আর যে কারণে আমরা বলছি যে, এগুলো পূর্ণতাজ্ঞাপক ও মর্যাদা প্রকাশক গুণ তা হচ্ছে, আল্লাহ যখনই তা কোনো স্থানে উল্লেখ করেছেন তখন সেখানেই তাঁর এমন সব সম্মানসূচক ও পূর্ণতাজ্ঞাপক গুণাবলি বর্ণনা করেছেন যাতে বিবেক সম্পূর্ণভাবে হতভম্ব হয়ে যায়।" (৭৭১)
তারপর তিনি এ মহান গুণটির জন্য আল্লাহ তা'আলার বাণী থেকে সেসব উদ্ধৃতি প্রদান করেন, যাতে এ গুণটিকে আল্লাহ তা'আলা নিজের প্রশংসায় কুরআনে কারীমের সাত জায়গায় বর্ণনা করেছেন। সেগুলো আনয়ন করার পর তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে, এগুলো এমনসব আয়াত যাতে আল্লাহ তা'আলার পূর্ণাঙ্গ গুণ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান সাব্যস্ত করা হয়েছে, এর কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা কিংবা বিকৃতি করার সুযোগ নেই আর তার প্রয়োজনও নেই। আর তা অস্বীকারও কেউ করতে পারে না। (৭৭২)
অন্যত্র তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার এ গুণটি তাঁর জন্য সাব্যস্ত করাতে কোনো প্রকার অসম্মান বা মর্যাদার কমতি করা হয় না।
فالشاهد أن هذه الصفات التي يظن الجاهلون أنها صفة نقص، ويتهجمون على رب السموات والأرض بأنه وصف نفسه بصفة نقص، ثم يسببون عن هذا أن ينفوها ويؤولوها، مع أن الله جل وعلا تمدح بها، وجعلها من صفات الجلال والكمال، مقرونة بما يبهر من صفات الجلال والكمال. وهذا يدل على جهل وهوس من ينفي بعض صفات الله جل وعلا بالتأويل
"এটা প্রমাণ করাই উদ্দেশ্য যে, এ গুণাবলি, যেগুলোকে মূর্খ লোকেরা ত্রুটিপূর্ণ গুণ বলছে আর তারা আসমান ও যমীনের রবের ওপর আক্রমণ করে বলছে যে, তিনি তাঁর নিজেকে ত্রুটিপূর্ণ গুণে গুণান্বিত করেছেন, তারপর তারা সে কারণ দেখিয়ে উক্ত গুণাবলি দিয়ে আল্লাহকে গুণান্বিত করা থেকে নিষেধ করেছে অথবা তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যা করেছে। অথচ মহান আল্লাহ এগুলো দিয়ে নিজের প্রশংসা করেছেন, এগুলোকে সম্মানিত ও পরিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এগুলোর সাথে আরও এমন অনেক সম্মান-মর্যাদা ও পূর্ণতার গুণ জুড়ে দিয়েছেন। এটা প্রমাণ করে যে, যারা মহান আল্লাহর কোনো কোনো গুণের তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যা করে তা দিয়ে তাঁকে গুণান্বিত নয় বলেছে, তা তাদের মূর্খতা ও মস্তিষ্ক বিকৃতির ওপরই প্রমাণবহ।"(৭৭৩)
অন্যত্র তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার সাথে এ গুণটি সম্পৃক্ত হওয়া বান্দার মত হওয়া থেকে দূরে রাখতে হবে, কারণ প্রত্যেক গুণ তার সত্তা অনুসারেই হয়ে থাকে,
أن اتصاف المخلوق بالاستواء هو على ما يليق به، كما أن استواء الخالق جل وعلا على ما يليق به. وأن الصفة وإن اشتركت في المعنى، إلا أن كل صفة تتبع موصوفها. فالله تعالى يقول عن استواء الإنسان: لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ، ويقول سبحانه: ﴿فَإِذَا اسْتَوَيْتَ أَنْتَ وَمَنْ مَعَكَ عَلَى الْفُلْكِ ) الآية، ويقول عن استواء السفينة: ﴿وَاسْتَوَتْ عَلَى الْجُودِي) الآية ... وإن للخالق جل وعلا استواء لائقا بكماله وجلاله، وللمخلوق أيضاً استواء مناسب لحاله، وبين استواء الخالق والمخلوق من المنافاة ما بين الخالق والمخلوق، على نحو لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ).
"নিশ্চয় সৃষ্টির জন্য ইস্তেওয়া বা কোনো কিছুর উপরে উঠার গুণে গুণান্বিত হওয়া সেটা নির্ধারিত হবে যা তার সাথে যথোপযুক্ত। তেমনিভাবে স্রষ্টার ইস্তেওয়া বা কোনো কিছুর উপরে উঠাও তাঁর মর্যাদা ও সম্মানের সাথে উপযুক্তভাবেই নির্ধারিত হবে। আর কোনো গুণ, যদিও অর্থের দিক থেকে সকল গুণান্বিতরাই অংশীদার হয়, তবুও সেটি গুণান্বিত সত্তা অনুযায়ীই গুণটির অবস্থা ও অবস্থান নির্ধারিত হবে। যেমন, মানুষের 'ইস্তিওয়া' (কোনো কিছুর উপর উঠা) সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "যাতে তোমরা এর পিঠে স্থির হয়ে বসতে পার, তারপর তোমাদের রবের অনুগ্রহ স্মরণ করবে যখন তোমরা এর উপর স্থির হয়ে বসবে।” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ১৩] আল্লাহ আরও বলেন, "অতঃপর যখন আপনি ও আপনার সঙ্গীরা নৌযানের উপরে স্থির হবে।” [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ২৮] আবার জাহাজের 'ইস্তিওয়া' সম্পর্কে বলেন, "আর নৌকা জুদী পর্বতের উপর স্থির হলো।" [সূরা হূদ, আয়াত: ৪৪], ঠিক অনুরূপই মহান আল্লাহর 'ইস্তিওয়া' অবশ্যই তাঁর পূর্ণতা ও মর্যাদার সাথে উপযোগী পদ্ধতিতেই নির্ধারিত হবে, আর সৃষ্টিরও 'ইস্তিওয়া' নির্ধারিত হবে তার অবস্থা অনুযায়ী। সৃষ্টির 'ইস্তিওয়া' ও স্রষ্টার 'ইস্তিওয়া' এর মধ্যে বিস্তর পার্থক্য হচ্ছে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার পার্থক্যের মতো, যেমনটি তিনি বলেছেন, "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা”। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১] (৭৭৪)
অন্যত্র তিনি 'আরশের উপর উঠার' বিষয়টি সাব্যস্ত করলে তা কীভাবে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণহীন ভাবে সাব্যস্ত করতে হবে তা ব্যাখ্যা করে বলেন,
تشبيه استيلاء الله على عرشه باستيلاء بشر بن مروان على العراق هو أفظع أنواع التشبيه، وليس بلائق قطعا.
إلا أنه يقول: إن الاستيلاء المزعوم منزه عن مشابهة استيلاء الخلق، مع أنه ضرب له المثل باستيلاء بشر على العراق، والله يقول: ﴿فَلا تَضْرِبُوا الله الأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ﴾، ونحن نقول: أيها المؤول هذا التأويل: نحن نسألك إذا علمت أنه لا بد من تنزيه أحد اللفظين؛ أعني لفظ «استوى» الذي أنزل الله به الملك على النبي صلى الله عليه وسلم قرآنا يتلى، كل حرف منه عشر حسنات، ومن أنكر أنه من كتاب الله كفر. ولفظة «استولى» التي جاء بها قوم من تلقاء أنفسهم من غير استناد إلى نص من كتاب الله، ولا سنة رسوله، ولا قول أحد من السلف. فأي الكلمتين أحق بالتنزيه في رأيك؟ الأحق بالتنزيه كلمة القرآن المنزلة من الله على رسوله، أم كلمتكم التي جئتم بها من تلقاء أنفسكم من غير مستند أصلاً؟ ونحن لا يخفي علينا الجواب الصحيح عن هذا السؤال إن كنت لا تعرفه)
"বিশর ইবন মারওয়ান কর্তৃক ইরাক দখল করার সাথে আল্লাহ কর্তৃক তাঁর 'আরশ দখল করার যে সাদৃশ্য তারা সাব্যস্ত করছে তা সাদৃশ্য স্থাপনের সর্বনিকৃষ্ট প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কখনও তা আল্লাহর জন্য উপযুক্ত নয়। তবে তা'ওয়ীলকারী (অপব্যাখ্যাকারী) হয়ত বলবে, আল্লাহর সে (তথাকথিত ধারণাকৃত) দখল করার বিষয়টি সৃষ্টির দখল করার সাদৃশ্য থেকে মুক্ত। (তখন তার সে কথা মোটেই গ্রহণ করা যাবে না,) কারণ সে আল্লাহর জন্য 'আরশ দখল করার বিষয়টি সাব্যস্ত করার উদাহরণ দিচ্ছে বিশর কর্তৃক ইরাকের উপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার সাথে। অথচ আল্লাহ বলেন, "সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য উদাহরণ পেশ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৭৪] আর আমরা বলি, ওহে এরকম তা'ওয়ীলকারী (অপব্যাখ্যাকারী), আমরা তোমাকে প্রশ্ন করছি, যদি দু'টি শব্দকেই (সাব্যস্ত করতে হলে) পবিত্র (ভাবে নিয়ে সাব্যস্ত) করতে হয়, অর্থাৎ 'ইস্তাওয়া' শব্দটি, যা আল্লাহ তাঁর কাছ থেকে ফিরিশতা দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কুরআন হিসেবে নাযিল করেছেন, যা তিলাওয়াত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যার প্রতিটি হরফে দশটি করে নেকী পাওয়া যাবে, যা আল্লাহর কিতাবের অংশ হওয়া অস্বীকার করলে কাফির হয়ে যাবে, সে শব্দটি এবং 'ইস্তাওলা' শব্দটি যা এ তা'ওয়ীলকারী গোষ্ঠী নিজেদের পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছে, যে শব্দের পক্ষে না আছে আল্লাহর কিতাব থেকে কোনো ভাষ্য, আর না আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে কোনো দলীল; অনুরূপ তার ওপর না আছে সালাফে সালেহীনের কোনো বক্তব্য, তাহলে তোমার মতে এ দু'টি বাক্যের মধ্য হতে কোন বাক্যটিকে তুমি (আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে) 'পবিত্র' করার বেশি প্রয়োজনবোধ করবে? আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের ওপর নাযিল করা কুরআনের বাক্য কি পবিত্র করার বেশি প্রয়োজন? নাকি তোমাদের সে বাক্যটি পবিত্র করা বেশি প্রয়োজন যা তোমরা তোমাদের নিজেদের পক্ষ কোনো প্রকার সামান্যতম দলীলের ধার না ধরে নিয়ে এসেছ? যদি তুমি সেটার উত্তর না জান, তবে জেনে রাখ,
আমাদের কাছে এ প্রশ্নের বিশুদ্ধ উত্তর কোনোভাবেই গোপন নয়।” (৭৭৫)
অন্যত্র তিনি কালামশাস্ত্রবিদদের সন্দেহের অপনোদন করে বলেন,
وَقَدْ أَشَارَ تَعَالَى فِي سُورَةِ الْفُرْقَانِ أَنَّ وَصْفَ اللَّهِ بِالاسْتِوَاءِ صَادِرٌ عَنْ خَبِيرٍ بِاللَّهِ وَبِصِفَاتِهِ، عَالِمٌ بِمَا يَلِيقُ بِهِ، وَبِمَا لاَ يَلِيقُ وَذَلِكَ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَانُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا ﴾ [الفرقان: ٥٩].
فتأمل قولَهُ: فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا ﴾ [الفرقان: ٥٩] ، بعد قوله: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَانُ ﴾ [الفرقان: ٥٩]، تعلم أن من وصف الرحمن بالاستواء على العرش خبير بالرحمن وبصفاته لا يخفى عليه اللائقُ مِنَ الصَّفاتِ وغير اللائق. فالذي نبأنا بأنه استوى على عرشه هو العليم الخبير الذي هو الرحمن، وقد قال تعالى: ﴿وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ﴾ [فاطر: ١٤].
وبذلك تعلم أن من يدعي أنَّ الاستواء يستلزم التشبية، وأنه غير لائق غير خبير، نعم والله هو غير خبير
"আল্লাহ তা'আলা সূরা আল-ফুরক্বানে ইঙ্গিত করেছেন যে, আল্লাহকে 'ইস্তেওয়া' ('আরশের উপর উঠার) গুণে গুণান্বিত করা অভিজ্ঞ, জ্ঞানীর কাছ থেকে এসেছে, তিনি জানেন যা তাঁর রবের জন্য উপযোগী আর যা তাঁর জন্য উপযোগী নয়। আর সে ইঙ্গিতপূর্ণ আল্লাহ তা'আলার বাণী হচ্ছে, "তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু'য়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন। তিনিই 'রহমান', সুতরাং তাঁর সম্বন্ধে যে অবহিত তাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন।” [সূরা আল-ফুরক্বান, আয়াত: ৫৯]
সুতরাং চিন্তা করে দেখ, এখানে আল্লাহর বাণী "সুতরাং তাঁর সম্বন্ধে যে অবহিত তাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন।” [সূরা আল-ফুরক্বান, আয়াত: ৫৯] এটিকে আল্লাহর বাণী 'তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন।' [সূরা আল-ফুরক্বান, আয়াত: ৫৯] পরে আনা হয়েছে। যার মাধ্যমে এটা জানতে পারবে যে, নিশ্চয় যে সত্তা রহমানকে 'ইস্তেওয়া আলাল 'আরশ' বা 'আরশের উপর উঠার গুণে গুণান্বিত ঘোষণা করছেন তিনি রহমান ও তাঁর গুণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিফহাল, তাঁর কাছে আল্লাহর গুণসমূহের কোনটি উপযুক্ত আর কোনটি উপযুক্ত নয় তা গোপন নয়। সুতরাং যিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, তিনি সেই সর্বজ্ঞ, সর্বওয়াকিফহাল সত্তাই, তিনিই রহমান। আর তাই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "সর্বজ্ঞ আল্লাহর মত কেউই আপনাকে অবহিত করতে পারে না।” [সূরা ফাত্বির, আয়াত: ১৪] আর এর দ্বারা জানা গেল যে, যে ব্যক্তি দাবি করবে যে, আল্লাহর জন্য 'আরশের উপরে উঠার গুণ সাব্যস্ত করা সাদৃশ্য স্থাপনকে আবশ্যক করে, আর তা আল্লাহর জন্য উপযুক্ত নয় বলে, সে অবশ্যই অজ্ঞ, মূর্খ। হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ করে বলছি, সে অবশ্যই অজ্ঞ, মূর্খ।"(৭৭৬)

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 শাইখ কারী মুহাম্মাদ তৈয়েব ইবন হাফিয মুহাম্মাদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (১৪০০ হিজরী)

📄 শাইখ কারী মুহাম্মাদ তৈয়েব ইবন হাফিয মুহাম্মাদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবী (১৪০০ হিজরী)


শাইখ কারী মুহাম্মাদ তৈয়ব রাহিমাহুল্লাহ, যিনি উপমহাদেশের বিখ্যাত দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুওয়ী এর নাতি ছিলেন, দেওবন্দ মাদরাসার মুহতামিম ছিলেন। আকীদাগতভাবে তিনি মাতুরিদী আকীদাহ'র লোক ছিলেন। কিন্তু তিনি শারহুল আকীদাতিত ত্বাহাওয়ী গ্রন্থে বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তা'আলার গুণাবলি সম্পর্কে সালাফে সালেহীনের মতকেই প্রাধান্য দেন। যার মাধ্যমে তাদের বক্তব্যের খণ্ডনও হয়ে যাবে বর্তমান সময়ে যারা সালাফদের বক্তব্যকে নিজেদের বিভ্রান্ত মতের সপক্ষে নেয়ার জন্য অপব্যাখ্যা করে থাকে। তারা তাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় এ আলেম দীনের বক্তব্য গ্রহণ করেও হকের পথে ফিরে আসতে পারে, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ইন্নাহা লা তা'মাল আবসার, ওয়ালাকিন তা'মাল কুলুবিল্লাতি ফিস সুদূর। আমরা নিম্নে তাঁর কিছু বক্তব্য তুলে ধরার প্রয়াস পাব, তিনি বলেন,
إلا أن أسماء الأعضاء والأركان وإن أطلقت عليه سبحانه في الكتاب والسنة، مثل اليد والوجه والقدم والأصابع والأنامل والعين والساق، والخاصرة وغير ذلك، لكن ليس معناها كمعاني الأعضاء البشرية، بل معناها كما يليق بشأنه، فكما أن ذاته ليس كذواتنا وصفاته ليس كصفاتنا، وأفعاله ليس كأفعالنا، هكذا مسميات جميع هذه الأسماء ليست بمسمياتنا، فالطريق الأسلم أن تحمل هذه الأسماء على معانيها الحقيقية، ويقال كما قال الإمام مالك رحمه الله : إن معناها معلوم، والكيف مجهول، والإيمان بها واجب، والسؤال عنها بدعة؛ لأنه لا يدرك كنهها ولا يحاط بها علماً ولا يحيطون بشيء من علمه إلا بما شاء».
"আল্লাহ তা'আলা যে সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কথা কুরআনে কারীমে উল্লেখ করেছেন এবং হাদিসের মধ্যে যেগুলোর বিবরণ এসেছে যেমন- হাত, পা, মুখ, আঙ্গুল, আঙ্গুলের অগ্রভাগ, পিণ্ডলী ইত্যাদি যদিও এগুলোর আলোচনা সাধারণভাবে এসেছে এর অর্থ এই নয় যে, এগুলো মানবাঙ্গের মতই। বরং এর অর্থ হলো আল্লাহ তা'আলার শানে এগুলো যেমন হওয়া দরকার ঠিক তেমনই আছে। সুতরাং তাঁর সত্তা যেমন মানব সত্তার মতো নয় এবং তাঁর কাজ কর্ম যেমন আমাদের কাজ কর্মের মত নয়, ঠিক তেমনিভাবে তাঁর শানে ব্যবহৃত অঙ্গের নামগুলোও আমাদের অঙ্গের মত নয়। তাই আমাদের জন্য সবচেয় বেশি নিরাপদ হবে যে, এই শব্দ গুলোর ব্যবহারিক অর্থই আমরা উদ্দেশ্য নিবো। সাথে সাথে ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ যেমনটি বলেছেন আমরাও তাই বলবো যে, এই শব্দগুলোর ব্যবহারিক অর্থ আমাদের জানা থাকলেও এগুলোর আকার আকৃতি, ধরন, প্রকৃতি আমাদের জানা নেই। তবুও এর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা বিদ'আত। কারণ এগুলোর পূর্ণ পরিচিতি জানা এবং বুঝা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। হ্যাঁ, যদি আল্লাহ তা'আলা এ ব্যাপারে কোনো জ্ঞান দান করেন তাহলে তা ভিন্ন কথা”। (৭৭৭)
তিনি আরও বলেন,
(لقوله تعالى: ليس كمثله شيء وهو السميع البصير) (الشورى : ١١)، هذا النفي عام في الذات وفي الصفات وفي الأفعال وفي جميع الشؤون كما مر فذاته ليست كذاتنا، وصفاته ليس كصفاتنا، وهكذا الأفعال والشؤون وجميع المتشابهات. فهو يعلم لا كعلمنا ، ويقدر لا كقدرتنا ويرى لا كرؤيتنا، ويسمع لا كسمعنا، وهكذا يعرج لا كعر وجنا، وينزل لا كنزولنا، ويضحك لا كضحكنا، ويستوي على العرش لا كاستوائنا على عروشنا، لأنه ليس كمثلنا، فليس له مثل ولا مثال، ولله المثل الأعلى وهو العزيز الحكيم.
"আল্লাহ তা'আলা বলেন- ليس كمثله شيء وهو السميع البصير এই আয়াতে আল্লাহর সাদৃশ্যতাকে অস্বীকার করা হয়েছে। তা তাঁর জাত তথা সত্তা, গুণাবলি, কাজকর্ম, এমনকি সর্ববিষয়ে ব্যাপকভাবে তাঁর সাদৃশ্যতাকে অস্বীকার করা হয়েছে, যা পূর্বের আলোচনা দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং তিনি সত্তার অধিকারী, কিন্তু তাঁর সত্তা আমাদের সত্তার মতো নয়। তিনি গুণাবলির অধিকারী, কিন্তু তাঁর গুণাবলি আমাদের গুনাবলীর মত নয়। তিনি কর্ম সম্পাদনকারী, কিন্তু তার কর্ম সম্পাদন আমাদের কর্ম সম্পাদনের মতো নয়। এমনকি সাদৃশ্যপূর্ণ যত বিষয় আছে সর্ব ক্ষেত্রে তিনি মাখলুক থেকে ব্যতিক্রম। যেমন কোনো বিষয়ে তাঁর জানা আর মানুষের জানা এক নয়। তিনি শক্তি-সাধ্যের অধিকারী, তবে তা মানুষের মত নয়। তিনি দেখেন, তবে তাঁর দেখা আর মানুষের দেখা সমান নয়। তাঁর শোনা, তার উপরে উঠা, নিচে নামা এবং তাঁর হাসি ও তাঁর 'আরশের উপর উঠা এর কোনো কিছুই মানুষের মতো নয়। কারণ তাঁর সত্তাই তো আমাদের সত্তার মতো নয়। মোটকথা, তাঁর কোনো সাদৃশ্যতাও নেই সমকক্ষও নেই। তিনিই তাঁর উত্তম দৃষ্টান্ত। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।" (৭৭৮)
তিনি আরও বলেন,
والمذهب المنصور إثبات صفة الغضب والرضا، والعداوة والولاية، والحب والبغض، ونحو ذلك، الله تعالى كإثبات السمع والبصر والحياة والقدرة والعلم والكلام وغيرها، وهي حقيقة فيه تعالى، لا مجاز، لكن لا ندري كيفيتها، ولا يجوز التأويل الذي يصرفها عن حقائقها اللائقة بالله تعالى، فالغضب والرحمة وغيرهما، وإن أطلقت على الإنسان كما تطلق على الله جل ذكره، لكن هذا الاشتراك لفظي، لا من حيث المعنى، فيثبت معنى الرضا والغضب فيه جل ذكره، كما يليق بشأنه.
"সঠিক মাযহাব হলো, আল্লাহ তা'আলার জন্য ক্রোধ ও সন্তুষ্টি, শত্রুতা ও বন্ধুত্ব, ঘৃণা ও ভালোবাসা ইত্যাদি সাব্যস্ত করা, এ সব গুণাবলি আল্লাহ তা'আলার ক্ষেত্রে শ্রবণ ও দর্শন, জীবন ও শক্তি, জ্ঞান ও কালাম বা কথা ইত্যাদি সাব্যস্ত করার মতই। আর এ গুণাবলি বাস্তব অর্থেই আল্লাহ তা'আলার জন্য প্রযোজ্য। রূপক অর্থে নয়। কিন্তু এর ধরন ও প্রকৃতি আমাদের জানা নেই। তাই এর এমন কোনো তা'ওয়ীল করা, যা আল্লাহ তা'আলার শানে ব্যবহৃত বাস্তব অর্থকে পরিবর্তন করে দেয়, তা বৈধ নয়। সুতরাং ক্রোধ ও দয়া এবং এ ছাড়াও অন্যান্য গুণাবলি
যেমনিভাবে আল্লাহ তা'আলার জন্য তা উল্লেখ করা হয়, কিন্তু খালেক ও মাখলুকের ক্ষেত্রে এ গুণাবলির প্রয়োগ সমান অর্থে নয়। বরং তা শুধু 'ইশতিরাকে লফযী' শব্দগত সংযুক্তিতা বা মিল, অর্থগতভাবে নয়। তাই আল্লাহ তা'আলার ক্ষেত্রে ক্রোধ ও সন্তুষ্টি তাঁর শান অনুযায়ীই সাব্যস্ত হবে।" (৭৭৯)

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 শাইখ মুহাম্মাদ মুহিকল্পুল্লাহ শাহ রাশেদী সিন্ধী (১৪০৩ হিজরী)

📄 শাইখ মুহাম্মাদ মুহিকল্পুল্লাহ শাহ রাশেদী সিন্ধী (১৪০৩ হিজরী)


প্রখ্যাত আলেমে দীন শাইখ মুহিব্বুল্লাহ শাহ রাশেদী রাহিমাহুল্লাহ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, আল্লাহর পথের আহ্বানকারী, তিনি তাঁর 'ফাতাওয়া রাশেদিয়া' গ্রন্থে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপরে থাকার ব্যাপারে কুরআনে কারীমের আয়াতসমূহ নিয়ে আসার পর বিস্তারিতভাবে সালাফে সালেহীনের মত বর্ণনা করেন। (৭৮০)

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 শাইখ সায়েযাদ বাদীউদ্দীন শাহ রাশেদী সিন্ধী (১৪১৬ হিজরী)

📄 শাইখ সায়েযাদ বাদীউদ্দীন শাহ রাশেদী সিন্ধী (১৪১৬ হিজরী)


উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম শাইখ শাহ মুহিব্বুল্লাহ শাহ রাশেদী আস-সিন্ধী এর ভাই, শাইখ বাদীউদ্দীন শাহ রাশেদী সিন্ধী রাহিমাহুল্লাহ 'তাওহীদে খালেস' নামক গ্রন্থে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠার বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং দলীল-প্রমাণাদি দিয়ে সাব্যস্ত করেছেন। (৭৮১)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00