📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আশ-শাইখ মুহাম্মাদ ইবন নাসের আল-হাযেমী (১২৮৩ হিজরী)

📄 আশ-শাইখ মুহাম্মাদ ইবন নাসের আল-হাযেমী (১২৮৩ হিজরী)


আশ-শাইখ, আশ-শরীফ মুহাম্মাদ ইবন নাসের আল-হাযেমী রাহimাহুল্লাহ, যিনি ইমাম শাওকানীর ছাত্র ছিলেন, তিনি তার আস-সিফাত গ্রন্থে বলেন,
قولنا في آيات الصفات والأحاديث الواردة ما قاله الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم، وما قاله سلف الأمة وأئمتها من الصحابة والتابعين، والأئمة الأربعة وغيرهم من علماء المسلمين، فنصف الله تعالى بما وصف به نفسه في كتابه، وما وصفه به رسول الله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل، بل نؤمن بالله سبحانه وتعالى ليس كمثله شيء وهو السميع البصير ) [الشورى: ١١]... وهذا كتاب الله من أوله إلى آخره، وهذه سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا كلام الصحابة والتابعين وسائر الأئمة، قد دل ذلك بما هو نص أو ظاهر في أن الله سبحانه وتعالى فوق العرش استوى على عرشه.....
"আল্লাহর গুণাবলি বিষয়ক আয়াত ও হাদীসের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য তা-ই যা মহান আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যা উম্মতের সালাফে সালেহীন ও ইমামগণ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবে'য়ীনে 'ইযাম, চার ইমাম প্রমুখ মুসলিমদের আলেম সম্প্রদায় বলেছেন। সুতরাং আমরা আল্লাহকে সেসব গুণে ভূষিত করি যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, আর যা দিয়ে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে গুণান্বিত করেছেন কোনো প্রকার (শব্দ বা অর্থ) বিকৃতি, কোনো প্রকার অর্থহীন করণ ব্যতীত, অনুরূপ কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ও উপমা পেশ ব্যতীত। বরং আমরা আল্লাহ তা'আলার ওপর ঈমান আনি যে, "তার মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা”।
আর এ আল্লাহর কিতাব, তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবে'য়ীনে 'ইযাম ও সম্মানিত সকল ইমামগণের মত, যার কোনোটি সুস্পষ্টভাবে, কোনোটি প্রকাশ্যভাবে এটা সাব্যস্ত করছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর, আসমানসমূহের উপর, তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন....।"¹
টিকাঃ
১. আস-সিফাত, পৃ. ১৯ ও ২৩।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবুল হাসানাত আবদূল হাই লাখনাওয়ী (১৩০৪ হিজরী)

📄 ইমাম আবুল হাসানাত আবদূল হাই লাখনাওয়ী (১৩০৪ হিজরী)


ইমাম আবুল হাসানাত আবদুল হাই লাখনাওয়ী রাহimাহুল্লাহ তাঁর 'মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া' গ্রন্থে বলেন,
سوال در باب آیات صفات مثل (استوی علی العرش) و ید الله ) وغیرہ مسلک تاویل حق ہے یا اور کوئی مسلک؟
جواب: اس باب میں علماء کی چند مسلک ہیں، ایک مسلک تاویل که استواء بمعنی استیلاه و یہ بمعنی قدرت وجہ بمعنی ذات ہے، وعلى هذا القياس، اور بھی مختار اکثر متکلمین کا ہے. دوسرا مذہب تشابه في المعنى وفي الكيفيه، تعبيرا مسلک: معلوم المعنى متشابہ الکیفیہ اور حق ان میں مسلک ثالث ہے، اور یہی مذہب صحابہ و تابعین و ائمه مجتهدین و محدثین وفقهاء وأصوليين محققین ہے۔ شیخ الاسلام ذهبي سير النبلاء میں ترجمہ قتیبہ بن سعید میں کہتے ہیں: روی غیر واحد عن أبي العباس السراج فقال:
سمعت قتيبة يقول: هذا قول أئمة الإسلام وأهل السنة والجماعة: إن ربنا عز وجل على العرش انتهى. بہت سے لوگوں نے ابو العباس سراج سے نقل کیا ہے وہ کہتی ہیں کہ قتیبہ نے کہا ہے کہ ائمہ اسلام اور اہل سنت و جماعت کا یہ قول ہے کہ ہمارا خدا عرش پر ہے. اور ترجمہ علی بن المدینی میں کہتی ہے قال أكثر العلماء إن الله على العرش انتهى. اکثر علماء نے کہا ہے کہ اللہ تعالی عرش پر ہے. اور ترجمہ اِسحاق بن راہویہ میں لکھتے ہیں: قال حرب الکرماني قلت لإسحاق ما تقول في قوله تعالى ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم كيف تقول ؟ قال: حيث ماكنت فهو أقرب إليك، وهو بائن من خلقه. انتهى .....
প্রশ্ন: উলামায়ে দীন এ মাসআলার ব্যাপারে কী বলেন, এক আলেম বলেন, যে কেউ আল্লাহ তা'আলাকে আরশের উপর কোনো ধরন নির্ধারণ ব্যতীতই 'আরশের উপর বলবে বা জানবে সে কাফের হয়ে যাবে? এ আলেমের এ কথাটি ভুল নাকি শুদ্ধ? বিষয়টি বর্ণনা করুন এবং সাওয়াবের অধিকারী হউন।
উত্তর:
যে আলেম এমন কথা বলবে তিনি আলেমই নন, বরং তিনি জাহেল। আর এ কথা সম্পূর্ণ ভুল ও বাতিল; কেননা কুরআনে কারীমে এক নয় বরং বহু আয়াতে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে বহু হাদীসে এ কথা সাব্যস্ত হয়েছে। তবে এটা বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠার ধরন অজানা ও অজ্ঞাত। সকল সাহাবী, তাবে'য়ী, তাবে' তাবে'য়ীন, মুজতাহিদ ইমামগণ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুম সবারই এ আকীদাহ ও বিশ্বাস ছিল যে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর উঠেছেন, আর আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠার ধরন অজানা ও অজ্ঞাত। আল্লাহ তা'আলা কোনো ধরন নির্ধারণ ব্যতীত আরশের উপর হওয়া সাব্যস্ত করার ব্যাপারে কুরআনের আয়াত, রাসূলের হাদীস, দীনের ইমামগণের বক্তব্য বিস্তারিত ও বিশদ আকারে দেখতে হলে ইমাম যাহাবীর আল-উলু কিতাবটি অধ্যয়ন করা যেতে পারে।....."¹
অন্যত্র তিনি ইমাম আবু হানীফা রাহimাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন,
وقال أبو المطيع البلخي: سألت أبا حنيفة فيمن قال: لا أدري أين الله ؟ فقال أبو حنيفة أنه يكفر لأنه خالف النص، والله يقول: الرحمن على العرش استوى اقرؤوها وآمنوا به فقال أبو مطيع كيف استوى؟ فقال: آمنوا به كما جاء.
"আবু মুতী' আল-বালাখী বলেন, আমি আবু হানীফা রাহimاهুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছি সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি বলে, আমি জানি না আল্লাহ কোথায়? তখন আবু হানীফা রাহimاهুল্লাহ বললেন, সে তো কাফির হয়ে যাবে; কারণ সে কুরআনের ভাষ্যের বিরোধিতা করেছে, আল্লাহ বলেন, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন"। তোমরা এ আয়াত পড়বে এবং এর উপর ঈমান আনবে, তখন আবু মুতী' বললেন, কীভাবে তিনি উপরে উঠলেন, তখন আবু হানীফা রাহimاهুল্লাহ বললেন, "তোমরা এর উপর ঈমান আন যেমনটি এসেছে।” (অর্থাৎ ধরন নির্ধারণ করবে না)²
অন্যত্র বলেন,
اور سراج الدین علی حنفی قصیدة بدء الامالی میں کہتے ہے:
ورب العرش فوق العرش لكن بلا وصف التمكن واتصال ....
ملا علی قاری حنفی اسکی شرح میں کہتے ہے : سئل الشافعي عن الاستواء فقال: آمنت به بلا تشبيه واتهمت نفسي في الادراك أمسكت عن الخوض وأجمع السلف على أن استواءه على العرش صفة له بلا كيف، نؤمن به....
"অনুরূপভাবে সিরাজুদ্দীন আলী হানাফী 'বাদউল আমালী' কবিতায় বলেন, 'আরশের রব 'আরশের উপর, তবে *** সেটাকে আঁকড়ে আছে বলবে না, লেগে আছেও বলবে না।
আল্লামা মোল্লা আলী আল-কারী আল-হানাফী সেটার ব্যাখ্যায় বলেন, ইমাম শাফেয়ী রাহimاهুল্লাহকে 'ইস্তেওয়া' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন ব্যতীতই সেটার ওপর ঈমান এনেছি, আমি সেটার ধরন পাওয়ার বিষয়ে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি, আমি সেটার আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া থেকে বিরত থাকলাম। আর সালাফগণের ইজমা' বা ঐকমত্য রয়েছে যে, তাঁর 'আরশের উপর উঠা তাঁর একটি গুণ যার কোনো ধরন নির্ধারণ করা যাবে না, আমরা সেটার ওপর ঈমান আনি। "³
অন্যত্র তিনি আবদুল আযীয বুখারীর বক্তব্য বর্ণনা করেন, যিনি সিফাতের ব্যাপারে আশ'আরী-মাতুরিদীদের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন,
اور عبد العزیز بخاری حنفی کشف الاسرار شرح أصول البزدوی میں لکھتی ہیں: إثبات الرؤية وإثبات الوجه واليد الله حق عندنا، خلافاً لقول من قال: لا يوصف الله بالوجه واليد، بل المراد بالوجه الرضا، والذات، ومن اليد القدرة، أو القوة أو النعمة، فقال المصنف: بل الله يوصف بصفة الوجه واليد مع تنزيهه عن الجارحة؛ لأن الوجه واليد من صفات الكمال في المشاهدة؛ لأن من لا وجه له ولا يد له يعد ناقصاً، وهو موصوف بصفات الكمال، فيوصف بهما أيضاً إلا أن إثبات الكيفية مستحيل؛ فيتشابه وصفه فيجب تسليمه على اعتقاد حقيته من غير اشتغال بالتأويل. انتهى.
"আর আবদুল আযীয বুখারী হানাফী তার কাশফুল আসরার শারহু উসূলুল বাযদাওয়ীতে লিখেন, আল্লাহ তা'আলার দেখা সাব্যস্ত করা, তাঁর জন্য চেহারা সাব্যস্ত করা, হাত সাব্যস্ত করা আমাদের নিকট হক্ক বা সত্য। এটি তাদের বিপরীত যারা বলে, আল্লাহর জন্য চেহারা ও হাত সাব্যস্ত করা যাবে না। তারা বলে এখানে চেহারা বলে সন্তুষ্টি, সত্তা, আর হাত বলে শক্তি, ক্ষমা কিংবা নি'আমত বুঝানো হয়েছে। তাই গ্রন্থকার এর প্রতিবাদ করে বলেন, “বরং আল্লাহকে চেহারা, হাত গুণে গুণান্বিত করা হবে, তবে সেটাকে অঙ্গ বলা যাবে না; কারণ চেহারা ও হাত থাকা দৃশ্যমান জগতে পূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচিত। কেননা যার চেহারা নেই, হাত নেই সে তো ত্রুটিপূর্ণ। আর আল্লাহ তা'আলাকে তো পূর্ণ গুণ দিয়েই গুণান্বিত করা হবে। সুতরাং তাকে এ দু'টি গুণ দিয়ে ভূষিত করা হবে, তবে ধরন নির্ধারণ করা অসম্ভব বিষয়; সুতরাং সে ধরন সাব্যস্ত করার বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যাবে। কর্তব্য হচ্ছে সেটার অর্থ সত্য বলে সেটার অপব্যাখ্যা করা থেকে বিরত থাকা। (শেষ)”⁴ অন্যত্র বলেন,
اور ابو شكور تمهید میں لکھتے ہے : قال بعضهم: إن الله موجود في كل مكان، وهم صنف من الجهمية، واحتجوا بقوله تعالى: هو الذي في السماء إله وفي الأرض إله وقوله: وهو الله في السموات وفي الأرض وقوله: إن الله مع الذين اتقوا وقوله : ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم والجواب: أن معنى الآية الأولى: إنه إله أهل السماء وأهل الأرض، والآية الثانية: تدبيره في السموات والأرض، ومعنى الآية الثالثة: إنه معهم بالنصرة، ومعنى الرابعة: إنه سميع بمقالتهم بصير بأفعالهم، ونحن نقول: إن الله لو كان في كل مكان، يؤدي أن يكون في أفواه الدواب وأفراج النساء والإماء، وهذا كفر قبيح. انتهى
"আর আবু শাকুর তামহীদ গ্রন্থে বলেন, “তাদের (অর্থাৎ জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাদের) কেউ কেউ বলে, আল্লাহ সব জায়গায়, তারা হচ্ছে জাহমিয়্যাদের একটি সম্প্রদায়। তারা আল্লাহর বাণী "তিনি আসমানে ইলাহ ও যমীনে ইলাহ" অনুরূপ আল্লাহর বাণী, “তিনি (আল্লাহ) আসমানে এবং যমীনে..” অনুরূপ আল্লাহর বাণী নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন” অনুরূপ আল্লাহর বাণী, যখনই তিনজনের শলা-পরামর্শ হয় তখনি চতুর্থজন হন আল্লাহ" উত্তর: প্রথম আয়াতের অর্থ তিনি আসমানবাসীর ইলাহ এবং যমীনবাসীর ইলাহ। আর দ্বিতীয় আয়াতের অর্থ, তাঁরই পরিচালনায় চলছে আসমান ও যমীন। তৃতীয় আয়াতের অর্থ, তিনি তাদের সাথে আছেন, সাহায্যের মাধ্যমে। চতুর্থ আয়াতের অর্থ, তিনি তাদের কথা শুনেন, তাদের কার্য দেখেন।
আর আমরা বলি, যদি তিনি সব জায়গায় হন, তাহলে তো তাকে জীব-জন্তুর মুখের ভিতর, নারী-দাসীদের লজ্জাস্থানেও বলতে হয়, [নাউযুবিল্লাহ] এ তো নিকৃষ্টতম কুফুরী। (শেষ)”⁵ তারপর তিনি বলেন,
ان عبارات سے معلوم ہوا کہ صحابه ائمه، وغیر، ائمہ حنفیه و غیر آئمہ حنفیہ سب کا مذہب ہے کہ اللہ کی فوقیت عرش پر ہے، اور یہ دوجہ وغیرہ صفات بلا کیف ہے، اور ان سب کی تاویل صحیح نہیں ہے.... الحاصل: آیات فوقیت واستواء ويد وجه سب معانی ظاہر پر محمول ہیں، اور کیفیات ان سب کی مجہول ہیں، اور اس میں تجسیم بہی لازم نہیں آتا، کیونکہ جب کیفیت مجہول ہو گئی اور خیال لیس کمثله شیء کا نہی رہا، اور تنزیہ تام کی گئی تجسیم کسی طرح لازم نہی آئے گا. والله أعلم.
"উপরোক্ত বাক্য থেকে এটা জানা গেল যে, সাহাবায়ে কেরাম, ইমামগণ, হানাফী ইমামগণ, হানাফী ছাড়া অন্যান্য ইমামগণ সকলেরই মাযহাব হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, হাত, চেহারা ইত্যাদি আল্লাহর গুণ তবে সেটার ধরন নির্ধারণ করা যাবে না। আর এসবের তা'ওয়ীল কখনও শুদ্ধ নয়। মোটকথা, উপরে থাকা, উপরে উঠা, হাত ও চেহারা এসব প্রকাশ্য অর্থের ওপর গ্রহণ করা হবে। আর এগুলোর ধরন অজানা, এর দ্বারা দেহবাদও আবশ্যক হয় না; কেননা যখন کیفیت مجہول ہو گئی اور خیال لیس کمثله شیء کا نہی رہا، اور تنزیہ تام کی گئی تجسیم کسی طرح لازم نہی آئے گا. আল্লাহই ভালো জানেন।”⁶
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
بغیر بیان کیفیت استواء کی اللہ کی ذات کو عرش پر سمجھنا اور اسکی علم کو محیط تمام عالم اعتقاد رکہتا ہو اسکی پیچھے نماز بلا کراہت جائز ہے، یہ حکمت نبویہ میں ہے، نعتقد أنه على العرش مستو عليه استواء منزها عن التمكن والاستقرار وأنه فوق العرش، ومع ذلك هو قريب من كل وجود، وهو أقرب من حبل الوريد ولا يماثل قربه قرب الأجسام انتهى.
"ইস্তেওয়া তথা উপরে উঠার কোনো ধরন নির্ধারণ ব্যতীত আল্লাহর সত্তাকে 'আরশের উপর বুঝা, আর তাঁর জ্ঞান জগতের সকল কিছুকে বেষ্টন করে আছে এ আকীদাহ পোষণ করলে তার পিছনে কোনো প্রকার মাকরূহ হওয়া ব্যতীত তার পিছনে সালাত বিশুদ্ধ। কারণ, এটাই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা। আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন এমন উঠা যা সেটাকে ধরে রাখা কিংবা স্থির হয়ে থাকা থেকে মুক্ত। আর তিনি তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন। তারপরও তিনি সকল সৃষ্টিকুলের নিকটে, তিনি তাদের ঘাড়ের শিরা হতেও অধিক নিকটে, তবে তার এ নিকটে থাকা অন্যান্য দেহের নিকটে থাকার মতো নয়।”⁷
অন্যত্র তিনি বলেন,
اعتقاد رکہنا اس طرح پر کہ خدائی تعالی اپنی ذات سے عرش کی اوپر ہے تنزیہ کی ساتھ صحیح وحق ہے، کیونکہ یہ بات قرآن و حدیث و اجماع سلف سے ثابت ہے اور عقائد کی کتابوں میں اہل سنت و جماعت کی موجود ہے اور سلف صالحین یعنی صحابہ و تابعین و تبع تابعین و ائمه مجتہدین رضوان اللہ علیم اجمعین وغیرہ کا یہی یہی اعتقاد تھا...
"এ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সত্তাগতভাবে 'আরশের উপর সর্বপ্রকার পবিত্রতাসহ, এটা বিশুদ্ধ ও হক্ক আকীদাহ। কেননা এ কথা কুরআন, হাদীস, সালাফে সালেহীনের ইজমা' দ্বারা সাব্যস্ত। আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ'র কিতাবে অবস্থিত। সালাফে সালেহীন, অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম, তাবে'য়ীন, তাবে তাবে'য়ীন ও মুজতাহিদ ঈমামগণের সবাই এ আকীদাই পোষণ করতেন।”⁸
টিকাঃ
১. মাজমু'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৩৯।
২. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪০1
৩. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪০।
৪. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪১।
৫. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪২।
৬. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪২।
৭. মাজমু'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪৩।
৮. মাজmu'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪৭।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আল্লামা সিদ্দিক হাসান খান কুনার্জী আল-কিল্লাওয়ী (১৩০৭ হিজরী)

📄 আল্লামা সিদ্দিক হাসান খান কুনার্জী আল-কিল্লাওয়ী (১৩০৭ হিজরী)


উপমহাদেশের সহীহ আকীদাহ'র একজন দিকপাল আল্লামা শাইখ সিদ্দীক হাসান খান ভূপালী রাহিমাহুল্লাহ আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠার আকীদাহটি স্পষ্টভাবে তার তাফসীরে বর্ণনা করে বলেন,
(ثم استوى على العرش) قد اختلف العلماء في معنى هذا على أربعة عشر قولاً وأحقها وأولاها بالصواب مذهب السلف الصالح أنه استوى سبحانه عليه بلا كيف بل على الوجه الذي يليق به مع تنزهه عما لا يجوز عليه.
والاستواء في لغة العرب هو العلو والاستقرار، قال الجوهري : استوى على ظهر دابته أي استقر واستوى إلى السماء أي صعد، واستوى أي استولى وظهر وبه قال المعتزلة وجماعة من المتكلمين.
وحكي عن أبي عبيدة أن معنى استوى هنا علا وارتفع، وللشوكاني رسالة مستقلة في إثبات إجراء الصفات على ظواهرها منها صفة الاستواء، ولشيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني والحافظ الإمام محمد بن أبي بكر بن القيم الجوزي إلمام تام بمسألة الاستواء هذه وإثبات الفوقية والعلو له تعالى على خلقه ولهما في ذلك رسائل مستقلة ما بين مطولة منها ومختصرة، وكتاب العلو للحافظ الذهبي فيه جميع ما ورد في ذلك من الآيات والأحاديث وغيرها، وقد أوضحت هذا المقام في كتابي الانتقاد الرجيح في شرح الاعتقاد الصحيح.
وعن أم سلمة قالت: الاستواء غير مجهول والكيف غير معقول والإقرار به إيمان والجحود له كفر، أخرجه ابن مردويه وعن مالك بن أنس نحوه وزاد والسؤال عنه بدعة، قال النسفي وتفسير العرش بالسرير والاستواء بالاستقرار كما تقوله المشبهة باطل انتهى. وأقول يا مسكين أما شعرت أن العرش في اللغة هو السرير، والاستواء هو الاستقرار وبه فسره حبر الأمة وترجمان القرآن ابن عباس كما في البخاري، وليس في ذلك تشبيه أصلاً إنما
التشبيه في بيان الكيفية بل الإنكار عن ذلك تعطيل يخالف مذهب سلف الأمة وأئمتها، وهو إمرار الصفات كما جاءت وإجراؤها على ظواهرها بلا تكييف ولا تأويل ولا تعطيل ولا تشبيه، ويعالج التشبيه بكلمة إجمالية ليس كمثله شيء.
"তারপর তিনি (আল্লাহ) 'আরশের উপর উঠেছেন" আলেমগণ এর ব্যাখ্যায় চৌদ্দটি বক্তব্য দিয়েছেন, তবে যা হক্ক-সত্য ও বিশুদ্ধ হিসেবে স্বীকৃত তা হচ্ছে সালাফে সালেহীনের মাযহাব। তারা বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ছাড়াই, বরং যে পদ্ধতি তাঁর সাথে উপযুক্ত হবে সেভাবে, তবে সাথে সাথে তাঁর জন্য যা অসম্ভব সেটা থেকে তিনি পবিত্র।
আর আরবী ভাষাতে 'ইস্তেওয়া' এর অর্থ হলো- উপরে উঠা ও উপরে থাকা। জাওহারী বলেন, বলা হয়, 'ইস্তাওয়া 'আলা যাহরি দাব্বাতিহী' অর্থাৎ বাহনের উপরে অবস্থান নিলেন। আর 'ইস্তাওয়া ইলাস সামায়ি' এর অর্থ উপরে উঠলেন। আর ইস্তাওয়া অর্থ ইস্তাওলা বা অধিকার করল ও জয়ী হলো এটা মু'তাযিলা একদল কালামশাস্ত্রবিদদের কথা।...
আবু উবাইদাহ থেকে বর্ণিত, এখানে 'ইস্তাওয়া' অর্থ 'আলা (উপর উঠলেন) ও 'ইরতাফা'আ' বা ঊর্ধ্বে উঠলেন। ইমাম শাওকানীর এ ব্যাপারে একটি আলাদা পুস্তিকা রয়েছে, সেখানে তিনি আল্লাহর গুণসমূহকে প্রকাশ্য অর্থের উপর নিতে হবে বলেছেন, তন্মধ্যে তিনি 'ইস্তেওয়া' আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা' এ গুণটি বর্ণনা করেছেন। শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবন আবদুল হালীম ইবন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী, হাফেয ইমাম মুহাম্মাদ ইবন আবী বকর ইবন কাইয়্যেমিল জাওযিয়্যাহ 'ইস্তেওয়া' বা 'আল্লাহ কর্তৃক তাঁর 'আরশের উপর উঠা'র বিষয়ে, তাঁর জন্য উপর দিক সাব্যস্ত করা, তাঁর জন্য সৃষ্টির উপরে সর্বোচ্চে থাকার গুণটি প্রমাণ করার বিষয়টি পূর্ণ দখলে ছিল, তারা দু'জন এ ব্যাপারে বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেছেন, যার কোনোটি ছোট কোনোটি বড়। অনুরূপভাবে হাফেয যাহাবী রাহিমাহুল্লাহর কিতাবুল উলু নামক গ্রন্থে এ বিষয়ে কুরআনের আয়াত, হাদীস ও অন্যান্য দলীল প্রমাণাদি একত্রিত করেছেন। আর আমিও এ বিষয়টি আমার রচিত গ্রন্থ 'আল-ইন্তিক্কাদুর রাজীহ ফী শারহিল ই'তিক্কাদ আস-সহীহ' গ্রন্থে বিস্তারিত তুলে ধরেছি।
উম্মে সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'ইস্তেওয়া' এর অর্থ অজানা নয়, ধরণ বিবেকের যুক্তি দিয়ে পাওয়া যাবে না। তা স্বীকার করে নেয়ার নাম ঈমান, আর তা অস্বীকার করার নাম কুফুরী যা ইমাম ইবন মারদুওইয়াহ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক ইবন আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বাড়তি এসেছে, আর এর ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত।
অন্যদিকে আমরা দেখতে পাই যে, নাসাফী বলেছেন, 'আরশের তাফসীর খাট আর ইস্তেওয়া এর অর্থ ('আরশের উপর) অবস্থান করা যেমনটি সাদৃশ্য স্থাপনকারীরা বলে তা বাতিল। শেষ।
আমি বলবো, ওহে মিসকীন, তুমি কি জান না যে, ভাষায় 'আরশ বলে খাটকেই বুঝায় আর ইস্তেওয়া বলে অবস্থানকেই বুঝায়। এ তাফসীর উম্মতের বড় আলেম, কুরআনের তাফসীরকার আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস থেকেই এসেছে, যেমনটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন। এভাবে সাব্যস্ত করার মধ্যে সাদৃশ্য স্থাপন করা হয় না, সাদৃশ্য স্থাপন তো কেবল ধরণ নির্ধারণ দ্বারাই
হয়ে থাকে। বরং এর অর্থ সাব্যস্ত করাকে অস্বীকার করাই হচ্ছে তা'তীল বা অর্থশূন্যকরণ যা উম্মতের সালাফে সালেহীন ও উম্মাতের ইমামদের মতের বিপরীত। তাদের মত ছিল এসব গুণকে যেভাবে এসেছে সেভাবে পরিচালনা করা, কোনোরূপ ধরন নির্ধারণ না করে এগুলোকে প্রকাশ্য অর্থে ব্যবহার করা, তবে তারা তাতে ধরন নির্ধারণ করতেন না, অপব্যাখ্যা করতেন না, অর্থহীন করতেন না এবং সাদৃশ্যও স্থাপন করতেন না। আর সাদৃশ্য স্থাপন রোধ করার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য ব্যবহার করা হবে, আর তা হচ্ছে, 'লাইসা কামিসলিহী শাইয়্যুন' তাঁর মতো কোনো কিছু নেই।”
তাছাড়া তিনি আল্লামা শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলাওয়ী এর 'আকীদাহ হাসানা' এর في جهة এর ব্যাখ্যায় বলেন, এর দ্বারা শাহ রাহিমাহুল্লাহ'র উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন কোনো দিক অস্বীকার করা যার প্রতি আল্লাহর প্রয়োজনীয়তা বুঝাবে। কারণ, 'দিক' বলতে সাধারণত কোনো জায়গায় সীমাবদ্ধতার নির্দেশ করে আর আল্লাহ তা'আলা তো কোনো প্রকার সীমাবদ্ধ কিছুর অভ্যন্তরে থাকা থেকে মুক্ত। তারপর তিনি আল্লাহর জন্য 'আরশের উপর উঠার বিষয়টি আবদুল কাদের জীলানী, আবুল হাসান আল-আশ'আরী, ইমাম বাইহাকী কর্তৃক আনয়ন করা আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহ'র বর্ণনা, ইবন কুতাইবাহ আদ-দীনাওয়ারী, আল্লামা শাওকানী, ইবন রুশদ আল-কুরতুবী, ইবন তাইমিয়‍্যাহ, ইবনুল কাইয়্যেম থেকে বর্ণনা এনে আল্লাহ তা'আলার জন্য উপর দিক সাব্যস্ত করেন।
তারপর তিনি যারা আল্লাহ তা'আলার গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসগুলোকে মুতাশাবিহ বলে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম থেকে প্রচুর পরিমাণ ভাষ্য বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
'ইমাম আহমাদ বলেন, যারা সহীহ হাদীসের ওপর আমল করতে চায় না, তারা সাধারণত দু'টি নীতিতে থাকে, এক. হাদীসকে কুরআনের বিপরীতে দাঁড় করানো। দুই. যদি সেটা সম্ভব না হয় তখন তারা কুরআন ও হাদীসের মুহকাম বা সম্পূর্ণ স্পষ্ট অর্থ বিশিষ্ট ভাষ্যসমূহকে মুতাশাবিহ বলে পার পেতে চায়। যেমন, আল্লাহর 'আরশের ওপর উঠার ভাষ্যটি মুহকাম হওয়ার পরও সেটাকে মুতাশাবিh দাবী করা।'
তারপর তিনি আল্লাহর 'আরশের উপর থাকার ওপর উপমহাদেশের আলেমগণের মত নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন বলে উপমহাদেশের বিভিন্ন আলেমদের মত নিয়ে এসেছেন। সবশেষে তিনি বলেন,
والحاصل أن كلام العلماء في هذا الباب أكثر من أن تحصى، وأوفر من أن تستقصى، ومن لم يستشف بالقليل لم يقنع بالكثير، ومن أنكر الإجمال هان عليه التفصيل والله يقول الحق وهو يهدي السبيل (كما وصف الله به نفسه) في كتابه العزيز الرحمن على العرش استوى في سورة طه، وقال في الأعراف: إن ربكم الله الذي خلق السموات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش وقال في يونس: إن ربكم الله الذي خلق السموات والأرض في
( ستة أيام ثم استوى على العرش يدبر الأمر )
"মোটকথা, এ অধ্যায়ে আলেমগণের কথা অনেক, অসংখ্য; গুণে শেষ করা যাবে না। যে কেউ স্বল্পতে যথেষ্ট হবে না তাকে বেশি দিয়েও তুষ্ট করা যাবে না। যে কেউ সংক্ষিপ্ত কথা বুঝবে না, তার কাছে বিস্তারিত বলা মূল্যহীন। আল্লাহ তা'আলা তিনি সত্য বলেন আর তিনি সঠিক পথের দিশা দেন। তিনি তেমনি যেমনটি নিজে তাঁর সম্মানিত কিতাবের সূরা ত্বা-হায় নিজেকে গুণান্বিত করে বলেছেন, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন" অনুরূপ সূরা আল-আ'রাফে বলেছেন, "নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ্ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন।" [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৫৪] অনুরূপ সূরা ইউনুসে বলেন, "তোমাদের রব তো আল্লাহ্, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন। তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন।" [সূরা ইউনুস, আয়াত: ০৩]"

টিকাঃ
৭৪৯. ফাতহুল বায়ান ফী মাকাসিদিল কুরআন (৪/৩৭৪-৩৭৫)।
৭৫০. আল-ইন্তিকাদুর রাজীহ ফী শারহিল ই'তিক্বাদিস সহীহ, ৬০-৬৮।
৭৫১. আল-ইন্তিক্বাদুর রাজীহ ফী শারহির ই'তিক্বাদিস সহীহ, ৭৩-৭৪।
৭৫২. আল-ইস্তিক্বাদুর রাজীহ ফী শারহিল ই'তিক্বাদিস সহীহ, ৯৩-৯৪।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আল্লামা মিয়া নযীর হুসাইন দেহলাওয়ী (১৩২০ হিজরী)

📄 আল্লামা মিয়া নযীর হুসাইন দেহলাওয়ী (১৩২০ হিজরী)


আল্লামা মিয়া নাযীর হুসাইন দেহলাওয়ী রাহিমাহুল্লাহ এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না। তাকে বলা হয় শাইখুল কুল ফিল কুল। কুরআন, হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তির পাশাপাশি তিনি সকল মা'কুলাত বিষয়ে অনন্য জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলাওয়ীর (মেয়ের ঘরের) নাতি আল্লামা শাহ মুহাম্মাদ ইসহাক্ক ছিলেন মিয়া নাযীর হুসাইন এর প্রিয় উস্তাদ। তাঁরই জায়গায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। আর ছাত্রদের মধ্যে আরব ও আজমের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ববর্গ রয়েছেন, যেমন, শাইখ আব্দুল্লাহ গাযনাওয়ী, মুহাম্মাদ গাযনাওয়ী, আব্দুল জাব্বার গাযনাওয়ী, মুহাম্মাদ বশীর সাহসাওয়ানী, আব্দুল্লাহ গাযীপুরী, শামসুল হক্ক আযীমাবাদী, আব্দুর রহমান মুবারকপুরী, সানাউল্লাহ অমৃতসরী। আরবদের মাঝে, ইসহাক্ক ইবন আব্দুর রহমান আলুশ শাইখ, সা'দ ইবন হামাদ ইবন আতীক, আলী ইবন নাসের আবু ওয়াদী, আবু বকর খুওকীর, আব্দুল্লাহ ইদ্রীস আস-সামূমুসী আল-মাগরেবী প্রমুখ। এ মহান ব্যক্তিত্বের আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা সংক্রান্ত আকীদা বর্ণনা করব। তিনি বলেন,
سوال: کیا فرماتی ہیں علمائی دین اس مسئلہ میں کہ ایک عالم کہتا ہے کہ جو شخص خداوند کریم کو بلا کیف عرش بر سمجھے یا جانے کافر ہے، بس اس عالم کا یہ قول غلط ہے یا صحیح؟ بینوا توجروا
الجواب: جو عالم یہ کہتا ہے وہ عالم نہیں ہے، بلکہ وہ جاہل ہے، اور اس کا یہ قول سراسر غلط و باطل ہے، کیونکہ قرآن مجید کی ایک نہیں، بلکہ بہت سے آیتوں سے اللہ تعالی کی عرش پر مستوی ہونا ثابت ہے، اور اسی طرح بہت سے احادیث سے بہی یہ بات ثابت ہے، مگر اللہ تعالی کی عرش پر مستوی ہونے کی کیفیت مجہول و نا معلوم ہے، تمام صحابہ اور تابعین و تبع تابعین اور ائمه مجتہدین رضوان اللہ علیہم اجمعین کا یہی قول واعتقاد تھا کہ اللہ تعالی عرش پر مستوی ہے، اور استواء علی العرش کی کیفیت
مجہول ونا معلوم ہے، اللہ تعالی کی عرش پر بلا کیف ہونے کی ثبوت میں آیات قرآنیہ اور احادیث نبویہ اور اقوال ائمہ دین کو بسط و تفصیل کی ساتھ دیکھنا ہو تو کتاب العلو للحافظ الذہبی کو مطالعہ کرنا چاہئے۔...
"প্রশ্ন: উলামায়ে দীন এ মাসআলার ব্যাপারে কী বলেন, এক আলেম বলেন, যে কেউ আল্লাহ তা'আলাকে আরশের উপর কোনো ধরন নির্ধারণ ব্যতীতই 'আরশের উপর বলবে বা জানবে সে কাফের হয়ে যাবে? এ আলেমের এ কথাটি ভুল নাকি শুদ্ধ? বিষয়টি বর্ণনা করুন এবং সাওয়াবের অধিকারী হউন।
উত্তর:
যে আলেম এমন কথা বলবে তিনি আলেমই নন, বরং তিনি জাহেল। আর এ কথা সম্পূর্ণ ভুল ও বাতিল; কেননা কুরআনে কারীমে এক নয় বরং বহু আয়াতে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে বহু হাদীসে এ কথা সাব্যস্ত হয়েছে। তবে এটা বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠার ধরন অজানা ও অজ্ঞাত। সকল সাহাবী, তাবে'য়ী, তাবে' তাবে'য়ীন, মুজতাহিদ ইমামগণ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুম সবারই এ আকীদাহ ও বিশ্বাস ছিল যে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর উঠেছেন, আর আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠার ধরন অজানা ও অজ্ঞাত। আল্লাহ তা'আলা কোনো ধরন নির্ধারণ ব্যতীত আরশের উপর হওয়া সাব্যস্ত করার ব্যাপারে কুরআনের আয়াত, রাসূলের হাদীস, দীনের ইমামগণের বক্তব্য বিস্তারিত ও বিশদ আকারে দেখতে হলে ইমাম যাহাবীর আল-উলু কিতাবটি অধ্যয়ন করা যেতে পারে।....."
তারপর তিনি কুরআন থেকে আল্লাহ তা'আলার আরশের উপরে উঠার দলীলসমূহ তুলে ধরেন। প্রথমেই সূরা আল-আ'রাফ, সূরা রা'দ, সূরা ত্বাহা থেকে তিনটি আয়াত নিয়ে আসেন। তারপর দুটি হাদীস নিয়ে আসেন; যাতে 'আরশের উপর তাঁর কাছে রাখা কিতাব, তারপর হাশরের মাঠে আল্লাহ তা'আলা মহান আল্লাহর অবস্থানে নিচে যাবেন, যখন তিনি 'আরশের উপর থাকবেন সংক্রান্ত হাদীস উদ্ধৃত করেন। তারপর চার ইমামের বক্তব্য তুলে ধরেন।

টিকাঃ
৭৫৩. ফাতাওয়া নাযীরীয়াহ, প্রথম খণ্ড, কিতাবুল ঈমান ওয়াল আকায়িদ, পৃ. ৫৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00