📄 শাহ ইসমা‘ঈল ইবন আবদুল গনী ইবন ওয়ালীউল্লাহ আদ-দেহলাভী (১২৪৬ হিজরী)
শাহ ইসমা'ঈল ইবন আবদুল গনী ইবন ওয়ালিউল্লাহ আদ-দেহলাওয়ী রাহimাহুল্লাহ সহীহ আকীদাহ'র একজন মুজাহিদ ছিলেন। যিনি একাধারে কলম, মুখ ও হাত সবকিছু দিয়ে জিহাদ করেছেন আর এ পথেই ইনশাআল্লাহ শহীদ হিসেবে দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন। তার জীবনের অধিকাংশ জিহাদ ইংরেজদের বিরুদ্ধে, উপমহাদেশের মানুষের শির্ক ও বিদ'আতের বিরুদ্ধে। তবে আল্লাহর নাম ও গুণের ক্ষেত্রেও তিনি অবদান রেখেছেন। নিম্নে আমরা অনুরূপ কয়েকটি ভাষ্য বর্ণনা করব। তিনি তাঁর 'তাযকীরুল ইখওয়ান' গ্রন্থে বলেন,
والمراد بالإيمان بالله أن يعتقد اعتقاداً جازماً بأن الله هو الخالق المالك الذي يقضي حوائجه، ويكشف غمومه ويرزقه، ويعتقد فيه جميع المحامد والمحاسن، وجميع أوصاف الكمال وينزهه من جميع العيوب ويتوجه إليه في كل حال، ويشكره في العسر واليسر .
"আল্লাহর ওপর ঈমানের উদ্দেশ্য, দৃঢ়ভাবে এ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা'আলা তিনিই স্রষ্টা, মালিক, যিনি তার প্রয়োজন পূরণ করেন, বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, রিযিক দেন। আর এ বিশ্বাস করা যে, সে সত্তার জন্যই যাবতীয় হামদ ও যাবতীয় উত্তম সৌন্দর্য, যাবতীয় পূর্ণ গুণাবলি, তাঁকে যাবতীয় দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত ঘোষণা করা, তাঁর কাছেই সর্বাবস্থায় ধর্ণা দেয়া, কষ্ট ও আনন্দ সর্বাবস্থায় তাঁর শুকর করা।"¹ তিনি রাদ্দুল ইশরাক গ্রন্থে বলেন,
ومعنى الألوهية: أن يعتقد في حقه أنه بلغ في الاتصاف بصفات الكمال من العلم المحيط أو التصرف بمجرد القهر والإرادة مبلغاً جل عن المماثلة والمجانسة مع سائر المخلوقين».
"আর 'উলুহিয়াত' বা মা'বুদ বলা অর্থ হচ্ছে, যাকে ইলাহ মানছে তার ব্যাপারে এ বিশ্বাস করা যে, তিনি সর্বব্যাপী জ্ঞান অথবা ইচ্ছা ও দাপটে শক্তিতে গুণান্বিত হওয়ার মাধ্যমে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, সকল সৃষ্টিকুলের মাঝে তাঁর কোনো উপমা কিংবা সমপর্যায়ের হওয়া থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।”² অন্যত্র তিনি বলেন,
وإعمال العقل في آيات الصفات لا يجوز كإعماله في مفهوم آية الرحمن على العرش استوى) [طه: ٥] فإني أعتقد أن لا يتدخل فيه العقل، وهذا أمر مشهور ومسلم بأن أئمة السلف كانوا يعتقدون هذا المعتقد، الاستواء معلوم والكيف مجهول، وهذا هو الثابت في باب الاستواء، وإني أتذكر الآن بأن المتأخرين أولوها في شرح عقائد نسفي .....
"আর আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে বিবেকের যুক্তি খাটানো জায়েয নেই, যেমনটি জায়েয নেই "আর-রহমান 'আলাল 'আরশ ইস্তাওয়া”, রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন, [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫]; কারণ আমি বিশ্বাস করি এতে বিবেকের যুক্তি খাটানো যাবে না। আর এটি বিখ্যাত ও স্বীকৃত নিয়ম যে, সালাফগণ এ বিশ্বাসই পোষণ করতেন, ইস্তেওয়া এর অর্থ জানা, ধরন অজানা। আর এটাই 'ইস্তেওয়া' এর অধ্যায়ে সাব্যস্ত নীতি। আমার মনে পড়ে পরবর্তীরা 'শারহে আকায়েদে নাসাফী' তে এগুলোতে অপব্যাখ্যা করেছে"।³ এখানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইস্তেওয়া এর ধরণ নির্ধারণে বিবেকের যুক্তি খাটানো জায়েয নেই। তারপর তিনি সহীহ আকীদাহ-বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্বকারী ইমাম মালিকের সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি নিয়ে আসেন। অন্যত্র তিনি বলেন,
فجميع الأنبياء والأولياء إذا قيسوا بعظمة الله وجبروته، كانوا أقل من ذرة، وإن العرش الذي أحاط بالسماوات والأرضين كالقبة، لينط به أطيط الرحل بالراكب، فليس في طاقة مخلوق أن يشرح عظمته أو أن يتخيلها، فمن يجرؤ على أن يتدخل في مملكته، وينفذ فيها أمره، إنه يفعل ما يشاء ويحكم ما يريد، ولا يحتاج في ذلك إلى وزير أو مشير، يصرف أمورا لا يأتي عليها الإحصاء، ولا يبلغها الاستقصاء، في أقل من طرفة عين، فكيف يشفع عند غيره، ومن الذي يستبد بالأمور دونه ؟ .
يا للعجب إن محمدا صلى الله عليه وسلم الذي شرفه الله على جميع خلقه لا يكاد يسمع من أعرابي جلف كلمة تدل على جهله بالله، وقصور عقله، أن يملأه الخوف أو المهابة، فيفيض في بيان عظمة الله التي ملأت العالم من العرش إلى الفرش، وما بال أقوام طالت ألسنتهم، وحملهم الطيش والجرأة، فتشدقوا بكلام تكاد السماوات يتفطرن منه، وتنشق الأرض، وتخر الجبال هدا، وبدأوا يتكلمون عن الله جلت عظمته، كأن بينه وبينهم دالة أو قرابة، فقال بعضهم: إني اشتريت ربي بدانق، ومنهم من يقول: أنا أكبر من ربي بسنتين، ويقول الثالث: إذا تجلى ربي في صورة غير صورة شيخي، لم أرفع إليه بصري».
"আর সকল নবী-রাসূল, সকল ওলীগণ, যদি তাদেরকে আল্লাহর বড়ত্ব ও ক্ষমতার দিক থেকে কিয়াস করা হয় তবে তারা সবাই একটি সরিষা দানার চেয়ে ছোট বিবেচিত হবেন, আর তাঁর 'আরশ, যা আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টন করে আছে সেগুলোর উপরে গম্বুজের মতো হয়ে, তাকে নিয়ে এমন ভার জনিত শব্দ করে যা সাওয়ারী নিয়ে কোনো বাহন করে থাকে। তাহলে একজন সৃষ্টি কীভাবে তাঁর বড়ত্ব ব্যাখ্যা করতে পারে বা ধারণ করতে পারে? কে এমন আছে যে তাঁর রাজত্বে অনুপ্রবেশ করার দুঃসাহস দেখাতে পারে বা কে এমন আছে যে সে রাজত্বে তার নির্দেশ চালু করতে পারে? তিনিই তো কেবল যা ইচ্ছা করতে পারেন, যা ইরাদা করেন তা নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তাঁর কোনো মন্ত্রী কিংবা পরামর্শদাতার প্রয়োজন পড়ে না। ক্ষণিকের মাঝে এত বেশি বিষয় তিনি পরিচালনা করেন যার ওপর কোনো পরিসংখ্যান অনুষ্ঠিত হয়নি, যা হিসেব করে শেষ করা যাবে না। তাহলে সে সত্তা কীভাবে অন্যের কাছে সুপারিশ করবে? আর তিনি ব্যতীত এমন কে আছে যে সকল কাজ যেভাবে ইচ্ছা করতে পারে?
আশ্চর্যের বিষয়, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহ যাকে সকল সৃষ্টির উপর মর্যাদাবান করেছেন, বেদুঈন থেকে একটি বাক্য, যে বাক্যে বুঝা গিয়েছিল যে, সে আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে-বুঝেই তা বলেছে, উক্ত বাক্য শোনা মাত্রই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তর আল্লাহর ভয়ে পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশক বর্ণনা দিলেন, যিনি জানিয়ে দিলেন, তাঁর বড়ত্ব 'আরশ থেকে ফরাস পর্যন্ত সবকিছু থেকে বেশি, তাহলে কিছু মানুষের কী হলো যে, তারা তাদের জিহ্বা লম্বা করে আজেবাজে কথা বলে, তারা পাগলামীপূর্ণ বাক্য ও দুঃসাহস দেখিয়ে কথা বলছে, এর মাধ্যমে তারা এমনসব কথা বিনা বাধায় অনর্গল বলে চলেছে যার কারণে আসমান ফেটে পড়ার উপক্রম হয়, যমীন ফেটে চৌছির হয়ে যেতে চায়, পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার মতো হয়ে যায়, তারা মহান আল্লাহর ব্যাপারে এমনসব কথা বলে যাতে মনে হচ্ছে যেন আল্লাহর সাথে তাদের দুলালীপনা চলে অথবা আল্লাহর সাথে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলে, আমি আমার রবকে এক পয়সার বিনিময়ে কিনে নিয়েছি, তাদের অপর কেউ বলে, আমি আমার রবের চেয়ে দু' বছরের বড়, তাদের তৃতীয়জন বলে, যদি আমার রব আমার পীর সাহেবের সূরত ছাড়া অন্য কোনো সূরতে প্রকাশ পায় তাহলে তার দিকে আমি চোখ তুলে তাকাবো না।"⁴... আল্লাহর কাছে তাঁর সাথে আদব ও শিষ্টাচার রক্ষার তাওফীক চাই; কারণ বেআদব আল্লাহর দয়া থেকে বঞ্চিত হয়।
অন্যত্র শাহ ইসমাঈল শহীদ রাহimاهুল্লাহ আল্লাহ তা'আলার সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করে বলেন,
والعجب أن أرباب الشرائع صلوات الله عليهم لم ينصبوا قرينة على صرف الكلام عن الظاهر، ولم يذكروا مدة عمرهم قط من أن الرب تبارك وتعالى منزه عما نسند إليه، كيف ولم يثبت حديث صحيح ولا ضعيف يطابق ما يدعيه هؤلاء من نفي أمثال تلك الأحكام عنه، فكأنهم ينسبون الإضلال إلى أرباب الشرائع، نعوذ بالله، بل ينجر هذا إلى الاعتراض عليه تبارك وتعالى بأنه اختار لهداية الناس رجالاً لم يكشفوا لهم قط عما هو العمدة من أبواب الهداية، وهو الإلهيات، بل علموهم ما لا يطابق الواقع أصلاً ، سبحانك هذا بهتان عظيم، فأولئك قد خلعوا ربقة الشريعة من عنقهم فليسوا من أهل السنة في شيء، وإن يسم بعضهم نفسه به، بل أهل السنة في الحقيقة هم الصحابة وأتباعهم، فلسنا ننكص على أعقابنا بعد إذ سمعنا أن الرحمن على العرش استوى، وأنه ينزل كل ليلة إلى السماء الدنيا»، وأنه يحول بين المرء وقلبه، وأنه نادى من جانب الطور الأيمن من البقعة المباركة من الشجرة أن يا موسى، وأنه تجلى على الجبل فجعله دكا، وأنه رآه محمد صلى الله عليه وسلم فوضع يده بين كتفيه حتى وجد برد أنامله بين ثدييه وقال يا محمد فيم يختصم الملأ الأعلى؟ وأن العرش ينط به أطيط الرحل بالراكب»، وأنه «يضحك» و«يتبشبش» و «يحب» و «يعادي» و «يرضى» و«يسخط» و يتردد في قبض نفس عبده المؤمن، وأنه بين العبد وبين قبلته في الصلاة وأنه إذا حفظه عبده وجده تجاهه، وأن العبد لا يزال يتقرب إليه بالنوافل حتى يصير سمعه وبصره ويده ورجله وأنه سيتجلى غداً في المحشر ويكلم العبد ليس بينه وبينه ترجمان» وأنه سيظهر في صورة لا يعرفه المؤمنون بها ثم في أخرى يعرفونها، وأنه سيرونه عياناً رؤية القمر ليلة البدر .... وسيطلع عليهم في الجنة من فوق، فيقول: السلام عليكم وأمثال ذلك كثيرة لا تعد ولا تحصى، ربنا آمنا بما أنزلت واتبعنا الرسول فاكتبنا مع الشاهدين. وما ادعاه أولئك من سلب أمثال هذه الأحكام عنه فليس لهم عليه حجة إلا ما هو أوهن من نسج العنكبوت.
আশ্চর্যের বিষয়, শরী'আত প্রচারক নবী রাসূলগণ কখনও আল্লাহর বাণীকে প্রকাশ্য অর্থ থেকে ভিন্ন অর্থে পরিচালিত করার সামান্যতম প্রমাণও প্রতিষ্ঠা করেননি। তাদের সারা জীবনে কখনো বলেননি যে, মহান রবের দিকে আমরা যা সম্পর্কিত করছি তা থেকে তিনি পবিত্র। তাছাড়া এসব ভাষ্যের তা'ওয়ীলকারী তথা অপব্যাখ্যাকারীরা যেসব অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে এসব গুণাবলির বিধান আল্লাহ থেকে অস্বীকার করেছে সেসব দাবীর পক্ষে কোনো সহীহ হাদীস কিংবা কোনো দুর্বল হাদীস দিয়েও তারা প্রমাণ করতে পারেনি। বস্তুত এভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীর অপব্যাখ্যা করার মাধ্যমে তারা শরী'আত প্রচারক নবী-রাসূলগণের দিকে পথভ্রষ্ট করার দোষ চাপাচ্ছে, 'আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই' বরং এদের এসব কর্মকাণ্ড মহান আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলার ওপর অভিযোগ-আপত্তি তোলারই নামান্তর; কারণ তাদের এসব কর্মকাণ্ডের অর্থ হচ্ছে তারা যেন বলতে চাচ্ছে আল্লাহর যেসব লোকদেরকে হিদায়াতের জন্য পছন্দ করে নিয়েছেন হিদায়াতের অধ্যায়সমূহের এ অধ্যায়, অর্থাৎ ইলাহিয়াত বা আল্লাহর সংক্রান্ত আকীদাহ কী হবে, যা শরীআতের প্রধান স্তম্ভরূপে বিবেচিত, তাতে তারা হক কথা প্রকাশ করেননি, বরং তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন এমন কিছু যা বাস্তবের সাথে কোনো মিল নেই। 'আল্লাহ তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, এ তো প্রকাশ্য অপবাদ'। বরং এসব লোকেরা শরী'আতের বাঁধন তাদের ঘাঁড় থেকে খুলে ফেলেছে, তারা কোনো কিছুতেই আহলুস সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও তাদের কেউ কেউ নিজেদেরকে এ নামে ভূষিত করে থাকে। বরং সত্যিকারের আহলুস সুন্নাত হচ্ছে, সাহাবায়ে কেরাম ও তাদের সুন্দর অনুসারীগণ। সুতরাং আমরা কখনো আমাদের পিছনের দিকে প্রত্যাবর্তন করবো না, যখন আমরা শুনব,
১- রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন।
২- তিনি প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে নেমে আসেন।
৩- তিনি বান্দা ও অন্তরের মাঝে বাধা হয়ে যান।
৪- তিনি মূসাকে ডেকেছেন ডান দিকের পাহাড় থেকে পবিত্র ভূমি থেকে, গাছ থেকে, হে মূসা!
৫- তিনি পাহাড়ের উপর তাজাল্লী বা নিজের আলো ফেলেছেন, তাতে পাহাড়কে তিনি চূর্ণ করে দিয়েছেন।
৬- তিনি এমন সত্তা, যাকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখেছেন, আল্লাহ তাঁর হাত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু' কাধের মাঝখানে রেখেছেন এমনকি তিনি তার দু' স্তনের মাঝখানে আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের ঠাণ্ডার পরশ পেয়েছেন এবং বলেছেন, হে মুহাম্মাদ উপরস্থ সভাষদের লোকেরা কী নিয়ে বাক-বিতণ্ডা করছে?
৭- তাঁর 'আরশ ভারজনিত শব্দ করে, যেমন কোনো বাহন তার বাহককে নিয়ে ভারজনিত শব্দ করে।
৮- তিনি হাসেন।
৯- তিনি খুঁশিতে পূর্ণ হয়ে যান।
১০-তিনি ভালোবাসেন।
১১- তিনি শত্রুতা করেন (তাঁর শত্রুদের সাথে)।
১২-তিনি সন্তুষ্ট হোন।
১৩-তিনি ক্রোধান্বিত হন।
১৪- তিনি তাঁর ঈমানদার বান্দার জান কবজ করতে দ্বিধা করেন।
১৫-তিনি বান্দা ও তার কিবলার মাঝে সালাতের সময় থাকেন।
১৬-তিনি এমন এক সত্তা, যার (তাওহীদের) হিফাযত করলে, বান্দা তাঁকে তার কাছে পায়।
১৭- বান্দা নফল আমল দিয়ে তাঁর নৈকট্য অর্জন করতে করতে এমন হয় যে, তিনি তাঁর শোনা, দেখা, হাত, পা হয়ে যান। (সুতরাং বান্দা তখন এসব অঙ্গকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত পরিচালনা করে না।)
১৮-তিনি সে আগামী দিন হাশরের মাঠে নিজেকে প্রকাশ করবেন।
১৯-তিনি বান্দার সাথে কথা বলবেন, তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো অনুবাদক থাকবে না।
২০-তিনি হাশরের মাঠে ঈমানদারদের সামনে এমন সূরতে আসবেন যে সূরতে ঈমানদাররা তাঁকে চিনবে না, তারপর আবার এমন সূরতে আসবেন যে সূরতে তারা তাঁকে চিনবে।
২১- আর জান্নাতীরা রাব্বুল আলামীনকে চাক্ষুষ এমনভাবে দেখবে যেমন চাঁদকে পূর্ণিমার রাতে দেখা যায়।
২২-তিনি তাদের জন্য জান্নাতের উপর থেকে নিজেকে দেখাবেন এবং বলবেন, আসসালামু 'আলাইকুম।
অনুরূপ আরও বহু বর্ণনা, যা অগণিত, অসংখ্য। হে রব, আপনি যা নাযিল করেছেন তার ওপর ঈমান আনলাম। সুতরাং আমাদেরকে আপনি সাক্ষী হিসেবে লিখে নিন। এর বিপরীতে তারা (ঐসব অপব্যাখ্যাকারীরা) কুরআন ও হাদীসের এসব ভাষ্যের বিধানকে নিষেধ করছে তাদের মতের সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, যদি কিছু তারা বলেও থাকে তবে তা মাকড়শার জালের চেয়েও বেশি দুর্বল।”⁵
টিকাঃ
১. তাযকীরুল ইখওয়ান, পৃ. ৭৫।
২. রাদ্দুল ইশরাক, পৃ. ১৬।
৩. আব্দুস সালাম গাউস, জুহুদুশ শাহ ইসমা'ঈল আদ-দেহলাওয়ী ফিল আকীদাহ, পৃ. ২৭৩।
৪. তাক্বওয়িয়াতুল ঈমান, পৃ. ১৬১।
৫. 'আবাক্বাত: ৯০-৯১।
📄 আল্লামা মুহাম্মাদ ইবন আলী আশ-শাওকানী (১২৫০ হিজরী)
ইমাম শাওকানী থেকে আল্লাহর 'আরশের উপর উঠার গুণটি সুস্পষ্টভাবে সাব্যস্ত করার অনেক ভাষ্য দেখা যায়। এখানে এমন কয়েকটি ভাষ্য উল্লেখ করা হলো: তিনি তার তাফসীর গ্রন্থে বলেন, مَذْهَبُ السَّلَفِ الصَّالِحِ أنه استوى سبحانه عليه بلا كيف عَلَى الْوَجْهِ الَّذِي يَلِيقُ بِهِ مَعَ تَنَزَّهِهِ عَمَّا لَا يَجُوزُ عَلَيْهِ، وَالاسْتِوَاءُ فِي لُغَةِ الْعَرَبِ: هُوَ الْعُلُوُّ وَالِاسْتِقْرَارُ.
"সালাফে সালেহীনের মাযহাব হচ্ছে, আল্লাহু সুবাহানাহু ওয়া তা'আলা 'আরশের উপর উঠেছেন কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ব্যতীত, যেভাবে তাঁর জন্য সেটা উপযোগী; তবে যা তাঁর জন্য উপযোগী নয় এমন কোনো কিছু থেকে তিনি পবিত্র। আর 'ইস্তেওয়া' শব্দটি আরবী ভাষার অভিধান অনুযায়ী অর্থ হচ্ছে, উপরে উঠা এবং অবস্থান করা।”¹ তিনি 'আত-তুহাফ ফী মাযাহিবিস সালাফ' গ্রন্থে বলেন,
ومن جملة الصفات التي أمرها السلف على ظاهرها وأجروها على مَا جَاءَ بِهِ الْقُرْآنِ وَالسِّنة من دون تكلّف وَلَا تَأْوِيل صفة الاستواء الَّتِي ذكرها السَّائِل يَقُولُونَ نَحن نثبت ما أثبته الله لنفسه من استوائه على عرشه على هَيْئَة لا يعلمها إِلَّا هُوَ وَكَيْفِيَّة لَا يُدْرِي بهَا سواهُ وَلَا نكلف أَنْفُسَنَا غير هَذَا فَلَيْسَ كمثله شَيْء لَا فِي ذَاتِهِ وَلَا فِي صِفَاتِهِ وَلَا يحيط عباده بِهِ علما وَهَكَذَا يَقُولُونَ فِي مَسْأَلَة الْجِهَةِ الَّتِي ذكرها السَّائِلِ وَأَشَارَ إِلَى بعض مَا فِيهِ دَلِيل عَلَيْهَا والأدلة فِي ذَلِكَ طَوِيلَة كَثِيرَة في الكتاب والسنة وقد جمع أهل العلم مِنْهَا لا سيما أهل الحديث مباحث طولوها بذكر آيات قرآنية وَأَحَادِيث صحيحة وقد وقفت من ذلك على مؤلف بسيط في مجلد جمعه مؤرخ الإسلام الحافِظُ الذَّهَبِيِّ رَحمه الله استوفى فِيهِ كل ما فيه دلالة على الجهة من كتاب أو سنة أو قول صاحب مَذْهَب وَالمُسْأَلَة أوضح من أَن تَلْتَبِس على عَارِف وَأبين من أن يحتاج فِيهَا إِلَى التَّطْوِيل ولكنها لما وقعت تلك القلاقل والزلازل الكائنة بين بعض الطوائف الإسلامية كثر الْكَلَام فِيهَا وَفِي مَسْأَلَة الاستواء وَطَالَ وسيما بين الحنابلة وغيرهم من أهل المذاهب فَلَهم فِي ذَلِكَ الْفِتَنِ الْكُبْرَى والملاحم الْعُظْمَى وَمَا زَالُوا هَكَذَا فِي عصر بعد عصر والحق هُوَ مَا عرفناك من مَذْهَب السلف الصالح فالاستواء على العرش والكون في تِلْكَ الجهة قد صرح بهِ الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ فِي مَوَاطِن يكثر حصرها ويطول نشرها وَكَذَلِكَ صرح بِهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غير حديث بل هَذَا مِمَّا يجده كل فرد من أفراد الناس في نفسه وتحسه في فطرته وتجذبه إِلَيْهِ طَبِيعَته كَمَا نَرَاهُ فِي كل من اسْتَغَاثَ بِاللَّهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى والتجأ إِلَيْهِ وَوجه أدعيته إلى جنابه الرفيع وعزه المنيع فَإِنَّهُ يُشِيرِ عِنْد ذَلِك بكفه أَو يَرْمِي إِلَى السَّمَاء بطرفه وَيَسْتَوِي فِي ذَلِكَ عِنْد عروض أَسبَابِ الدُّعَاء وحدوث بواعث الاستغاثة وَوُجُود مقتضيات الإزعاج وظهور دواعي الالتجاء عالم الناس وجاهلهم والماشي على طريقة السلف والمقتدي بِأَهْل التَّأْوِيل الْقَائِلِينَ بِأَن الاستواء هُوَ الِاسْتِيلاء كَمَا قَالَ جُمهور المتأولين والأقيال كما قَالَه أَحمد بن يحيى ثَعْلَب والزجاج والفراء وَغَيرهم أو كِنَايَة عَن الملك وَالسُّلْطَان كَمَا قَالَهُ آخَرُونَ فالسلامة والنجاة في إمرار ذلك على الظاهر والإذعان بأن الاستواء والكون على ما نطق به الكتاب والسنة من دون تكييف ولا تكلّف وَلَا قيل وَلَا قَالَ وَلَا قُصُورٍ فِي شَيْءٍ مِن الْمُقَالَ فَمَن جَاوز هَذَا الْمِقْدَار بإفراط أو تَفْرِيط فَهُوَ غير مقتد بالسلف وَلَا وَاقِف فِي طريق النجاة ولا معتصم عن الخطأ وَلَا سالك في طريق السلامة والاستقامة|
"সালাফে সালেহীন কুরআন ও সুন্নাহ'য় আসা আল্লাহ তা'আলার যেসব গুণাবলিকে কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা ও কৃত্তিমতার আশ্রয় গ্রহণ ছাড়াই প্রকাশ্য অর্থে যেভাবে এসেছে সেভাবে পরিচালিত করার নীতি গ্রহণ করেছেন, তন্মধ্যে একটি হচ্ছে 'ইস্তেওয়া' ('আরশের উপর উঠা) গুণটি। যে ব্যাপারে প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করেছে, আমাদের সালাফগণ বলতেন, আমরা তা অবশ্যই সাব্যস্ত করি যা আল্লাহ তাঁর নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, যেমন আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা, এমনভাবে উঠা যা কেবল তিনি ব্যতীত কেউ জানে না, এমন ধরনের উঠা যা তিনি ব্যতীত কেউ অবগত নয়। আমরা আমাদের নিজেদেরকে এর চেয়ে বেশি দায়িত্বে ফেলবো না; কারণ তাঁর মতো কোনো সত্তা নেই, তাঁর সত্তাতেও নয়, গুণেও নয়। আর তাঁর বান্দাগণের কেউই তাঁকে জ্ঞানে পরিবেষ্টন করতে সক্ষম নন। ঠিক সালাফগণ একই নীতি অবলম্বন করেন 'দিক নির্ধারণের মাসআলায়' যে মাসআলাটি প্রশ্নকারীর প্রশ্নে এসেছে এবং সে এ বিষয়ে সেসব দলীল প্রমাণ এসেছে তার কিছু উল্লেখ করেছে। বস্তুত এর ওপর কুরআন ও সুন্নাহ'র প্রমাণ অনেক দীর্ঘ। বহু আলেম, বিশেষ করে হাদীসশাস্ত্রবিদগণ, এ বিষয়ে কুরআনের আয়াত ও সহীহ হাদীস দিয়ে অনেক দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে আমি এক খণ্ডের একটি বিস্তৃত গ্রন্থ দেখেছি, যা ইসলামের ঐতিহাসিক হাফেয যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ একত্রিত করেছেন। সেখানে তিনি এ বিষয়ক সবকিছুই নিয়ে এসেছেন, যাতে 'দিক' সাব্যস্তকারী কুরআন, সুন্নাহ, মাযহাবের ইমামগণের মত জমা করেছেন। মূলত মাসআলাটি কোনো জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে গোপন থাকবে সে রকম বিষয় নয়, আর সেটা এতোই স্পষ্ট যে, এটার জন্য লম্বা লেখার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু বিভিন্ন ইসলামী উপদলের দ্বারা যখন এ (দিক সাব্যস্ত করার) মাসআলায় বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা তৈরি করা শুরু করলো, অনুরূপভাবে তারা 'আল্লাহর 'আরশের উপর উঠার মাসআলাতেও বিশৃঙ্খলা তৈরি করলো ও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করলো, বিশেষ করে হাম্বলী আলেমগণ ও অন্যান্য মাযহাবের আলেমগণের মাঝে টানাপোড়ন আরম্ভ হলো, বস্তুত এভাবে তাদের মাঝে এ সমস্যা যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে, তখন সত্যটি তুলে ধরতেই হলো, যাতে আমরা সালাফে সালেহীনের মত আপনাকে জানিয়েছি। আর সেটা হচ্ছে, 'আরশের উপর উঠা এবং ঐ দিকে হওয়ার বিষয়টি কুরআনে কারীম অগণিত অসংখ্য জায়গায় সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে যা আলোচনায় সীমাবদ্ধ করা কঠিন আর যা প্রচার করতেও দীর্ঘ গ্রন্থ লাগবে। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামও বহু হাদীসে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। বরং এটি এমন এক বিষয় যা সত্য হওয়ার বিষয়টি প্রত্যেক মানুষই তার নিজের অন্তরের কন্দরে, তার আবেগ-অনুভূতিতে, স্রষ্টা কর্তৃক প্রদত্ত প্রকৃতি দ্বারা অনুভব করতে পারে। তাই তো আমরা দেখতে পাই, কেউ যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছে উদ্ধার কামনা করে, তাঁর দিকেই আশ্রয় নেয়, কেউ যখন তার দো'আ মহান উঁচু ও মর্যাদাবান সত্তা আল্লাহর জন্য নিবেদিত করে তখন সে তাঁর দিকে তার হাতের কব্জি তুলে নেয় অথবা আসমানের দিকে তাঁর চোখের কোণ নিবদ্ধ করে। এটা সবসময় সমানভাবে করতে থাকে যখন তার দো'আ করার কোনো কারণ সংঘটিত হয়, যখন উদ্ধার পাওয়ার ইচ্ছা জাগ্রত হয়, যখন সমস্যা সঙ্কুল অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চায় অথবা মুক্তি পাওয়ার কারণ প্রকাশ পায়, তখন সে ব্যক্তি আলেম হোক কিংবা জাহেল, সালাফে সালেহীনের পথে বিচরণকারী হোক কিংবা তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যাকারীদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী লোকই হোক। বস্তুত নিরাপত্তা ও নাজাতের পথ হচ্ছে, এ গুণটিকে তার প্রকাশ্য অর্থে পরিচালিত করা এবং এটার স্বীকৃতি প্রদান যে, 'আরশের উপর হওয়া এবং এ দিকে হওয়ার বিষয়টি মেনে নেয়া, যেমনটি কুরআন ও সুন্নাহ'য় এসেছে, তাতে কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ না করে, কোনো প্রকার কৃত্তিমতার আশ্রয় না নিয়ে, কোনো প্রকার আজে-বাজে কথা না বলে অথবা অবুজ কোনো কথা থেকে বিরত থেকে। যে কেউ এ সীমা অতিক্রম করবে বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ি দিয়ে, সে সালফে সালেহীনের পথে চলতে চলতে পারেনি। নাজাতপ্রাপ্তদের থেকেও অবস্থান করতে পারেনি। ভুল থেকেও নিরাপত্তা লাভ করতে পারেনি। নিরাপত্তা ও সরল-সহজ পথে চলতেও সক্ষম হয়নি।"²
টিকাঃ
১. ফাতহুল কাদীর (২/২৫৯-২৬০)।
২. আশ-শাওকানী, আত-তুহাফ ফী মাযাহিবিস সালাফ, পৃ. ২৮।
📄 আশ-শাইখ মুহাম্মাদ ইবন নাসের আল-হাযেমী (১২৮৩ হিজরী)
আশ-শাইখ, আশ-শরীফ মুহাম্মাদ ইবন নাসের আল-হাযেমী রাহimাহুল্লাহ, যিনি ইমাম শাওকানীর ছাত্র ছিলেন, তিনি তার আস-সিফাত গ্রন্থে বলেন,
قولنا في آيات الصفات والأحاديث الواردة ما قاله الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم، وما قاله سلف الأمة وأئمتها من الصحابة والتابعين، والأئمة الأربعة وغيرهم من علماء المسلمين، فنصف الله تعالى بما وصف به نفسه في كتابه، وما وصفه به رسول الله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل، بل نؤمن بالله سبحانه وتعالى ليس كمثله شيء وهو السميع البصير ) [الشورى: ١١]... وهذا كتاب الله من أوله إلى آخره، وهذه سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا كلام الصحابة والتابعين وسائر الأئمة، قد دل ذلك بما هو نص أو ظاهر في أن الله سبحانه وتعالى فوق العرش استوى على عرشه.....
"আল্লাহর গুণাবলি বিষয়ক আয়াত ও হাদীসের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য তা-ই যা মহান আল্লাহ বলেছেন, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যা উম্মতের সালাফে সালেহীন ও ইমামগণ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবে'য়ীনে 'ইযাম, চার ইমাম প্রমুখ মুসলিমদের আলেম সম্প্রদায় বলেছেন। সুতরাং আমরা আল্লাহকে সেসব গুণে ভূষিত করি যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, আর যা দিয়ে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে গুণান্বিত করেছেন কোনো প্রকার (শব্দ বা অর্থ) বিকৃতি, কোনো প্রকার অর্থহীন করণ ব্যতীত, অনুরূপ কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ও উপমা পেশ ব্যতীত। বরং আমরা আল্লাহ তা'আলার ওপর ঈমান আনি যে, "তার মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা”।
আর এ আল্লাহর কিতাব, তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবে'য়ীনে 'ইযাম ও সম্মানিত সকল ইমামগণের মত, যার কোনোটি সুস্পষ্টভাবে, কোনোটি প্রকাশ্যভাবে এটা সাব্যস্ত করছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর, আসমানসমূহের উপর, তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন....।"¹
টিকাঃ
১. আস-সিফাত, পৃ. ১৯ ও ২৩।
📄 ইমাম আবুল হাসানাত আবদূল হাই লাখনাওয়ী (১৩০৪ হিজরী)
ইমাম আবুল হাসানাত আবদুল হাই লাখনাওয়ী রাহimাহুল্লাহ তাঁর 'মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া' গ্রন্থে বলেন,
سوال در باب آیات صفات مثل (استوی علی العرش) و ید الله ) وغیرہ مسلک تاویل حق ہے یا اور کوئی مسلک؟
جواب: اس باب میں علماء کی چند مسلک ہیں، ایک مسلک تاویل که استواء بمعنی استیلاه و یہ بمعنی قدرت وجہ بمعنی ذات ہے، وعلى هذا القياس، اور بھی مختار اکثر متکلمین کا ہے. دوسرا مذہب تشابه في المعنى وفي الكيفيه، تعبيرا مسلک: معلوم المعنى متشابہ الکیفیہ اور حق ان میں مسلک ثالث ہے، اور یہی مذہب صحابہ و تابعین و ائمه مجتهدین و محدثین وفقهاء وأصوليين محققین ہے۔ شیخ الاسلام ذهبي سير النبلاء میں ترجمہ قتیبہ بن سعید میں کہتے ہیں: روی غیر واحد عن أبي العباس السراج فقال:
سمعت قتيبة يقول: هذا قول أئمة الإسلام وأهل السنة والجماعة: إن ربنا عز وجل على العرش انتهى. بہت سے لوگوں نے ابو العباس سراج سے نقل کیا ہے وہ کہتی ہیں کہ قتیبہ نے کہا ہے کہ ائمہ اسلام اور اہل سنت و جماعت کا یہ قول ہے کہ ہمارا خدا عرش پر ہے. اور ترجمہ علی بن المدینی میں کہتی ہے قال أكثر العلماء إن الله على العرش انتهى. اکثر علماء نے کہا ہے کہ اللہ تعالی عرش پر ہے. اور ترجمہ اِسحاق بن راہویہ میں لکھتے ہیں: قال حرب الکرماني قلت لإسحاق ما تقول في قوله تعالى ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم كيف تقول ؟ قال: حيث ماكنت فهو أقرب إليك، وهو بائن من خلقه. انتهى .....
প্রশ্ন: উলামায়ে দীন এ মাসআলার ব্যাপারে কী বলেন, এক আলেম বলেন, যে কেউ আল্লাহ তা'আলাকে আরশের উপর কোনো ধরন নির্ধারণ ব্যতীতই 'আরশের উপর বলবে বা জানবে সে কাফের হয়ে যাবে? এ আলেমের এ কথাটি ভুল নাকি শুদ্ধ? বিষয়টি বর্ণনা করুন এবং সাওয়াবের অধিকারী হউন।
উত্তর:
যে আলেম এমন কথা বলবে তিনি আলেমই নন, বরং তিনি জাহেল। আর এ কথা সম্পূর্ণ ভুল ও বাতিল; কেননা কুরআনে কারীমে এক নয় বরং বহু আয়াতে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে বহু হাদীসে এ কথা সাব্যস্ত হয়েছে। তবে এটা বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠার ধরন অজানা ও অজ্ঞাত। সকল সাহাবী, তাবে'য়ী, তাবে' তাবে'য়ীন, মুজতাহিদ ইমামগণ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুম সবারই এ আকীদাহ ও বিশ্বাস ছিল যে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর উঠেছেন, আর আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠার ধরন অজানা ও অজ্ঞাত। আল্লাহ তা'আলা কোনো ধরন নির্ধারণ ব্যতীত আরশের উপর হওয়া সাব্যস্ত করার ব্যাপারে কুরআনের আয়াত, রাসূলের হাদীস, দীনের ইমামগণের বক্তব্য বিস্তারিত ও বিশদ আকারে দেখতে হলে ইমাম যাহাবীর আল-উলু কিতাবটি অধ্যয়ন করা যেতে পারে।....."¹
অন্যত্র তিনি ইমাম আবু হানীফা রাহimাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন,
وقال أبو المطيع البلخي: سألت أبا حنيفة فيمن قال: لا أدري أين الله ؟ فقال أبو حنيفة أنه يكفر لأنه خالف النص، والله يقول: الرحمن على العرش استوى اقرؤوها وآمنوا به فقال أبو مطيع كيف استوى؟ فقال: آمنوا به كما جاء.
"আবু মুতী' আল-বালাখী বলেন, আমি আবু হানীফা রাহimاهুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছি সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি বলে, আমি জানি না আল্লাহ কোথায়? তখন আবু হানীফা রাহimاهুল্লাহ বললেন, সে তো কাফির হয়ে যাবে; কারণ সে কুরআনের ভাষ্যের বিরোধিতা করেছে, আল্লাহ বলেন, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন"। তোমরা এ আয়াত পড়বে এবং এর উপর ঈমান আনবে, তখন আবু মুতী' বললেন, কীভাবে তিনি উপরে উঠলেন, তখন আবু হানীফা রাহimاهুল্লাহ বললেন, "তোমরা এর উপর ঈমান আন যেমনটি এসেছে।” (অর্থাৎ ধরন নির্ধারণ করবে না)²
অন্যত্র বলেন,
اور سراج الدین علی حنفی قصیدة بدء الامالی میں کہتے ہے:
ورب العرش فوق العرش لكن بلا وصف التمكن واتصال ....
ملا علی قاری حنفی اسکی شرح میں کہتے ہے : سئل الشافعي عن الاستواء فقال: آمنت به بلا تشبيه واتهمت نفسي في الادراك أمسكت عن الخوض وأجمع السلف على أن استواءه على العرش صفة له بلا كيف، نؤمن به....
"অনুরূপভাবে সিরাজুদ্দীন আলী হানাফী 'বাদউল আমালী' কবিতায় বলেন, 'আরশের রব 'আরশের উপর, তবে *** সেটাকে আঁকড়ে আছে বলবে না, লেগে আছেও বলবে না।
আল্লামা মোল্লা আলী আল-কারী আল-হানাফী সেটার ব্যাখ্যায় বলেন, ইমাম শাফেয়ী রাহimاهুল্লাহকে 'ইস্তেওয়া' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন ব্যতীতই সেটার ওপর ঈমান এনেছি, আমি সেটার ধরন পাওয়ার বিষয়ে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি, আমি সেটার আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া থেকে বিরত থাকলাম। আর সালাফগণের ইজমা' বা ঐকমত্য রয়েছে যে, তাঁর 'আরশের উপর উঠা তাঁর একটি গুণ যার কোনো ধরন নির্ধারণ করা যাবে না, আমরা সেটার ওপর ঈমান আনি। "³
অন্যত্র তিনি আবদুল আযীয বুখারীর বক্তব্য বর্ণনা করেন, যিনি সিফাতের ব্যাপারে আশ'আরী-মাতুরিদীদের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন,
اور عبد العزیز بخاری حنفی کشف الاسرار شرح أصول البزدوی میں لکھتی ہیں: إثبات الرؤية وإثبات الوجه واليد الله حق عندنا، خلافاً لقول من قال: لا يوصف الله بالوجه واليد، بل المراد بالوجه الرضا، والذات، ومن اليد القدرة، أو القوة أو النعمة، فقال المصنف: بل الله يوصف بصفة الوجه واليد مع تنزيهه عن الجارحة؛ لأن الوجه واليد من صفات الكمال في المشاهدة؛ لأن من لا وجه له ولا يد له يعد ناقصاً، وهو موصوف بصفات الكمال، فيوصف بهما أيضاً إلا أن إثبات الكيفية مستحيل؛ فيتشابه وصفه فيجب تسليمه على اعتقاد حقيته من غير اشتغال بالتأويل. انتهى.
"আর আবদুল আযীয বুখারী হানাফী তার কাশফুল আসরার শারহু উসূলুল বাযদাওয়ীতে লিখেন, আল্লাহ তা'আলার দেখা সাব্যস্ত করা, তাঁর জন্য চেহারা সাব্যস্ত করা, হাত সাব্যস্ত করা আমাদের নিকট হক্ক বা সত্য। এটি তাদের বিপরীত যারা বলে, আল্লাহর জন্য চেহারা ও হাত সাব্যস্ত করা যাবে না। তারা বলে এখানে চেহারা বলে সন্তুষ্টি, সত্তা, আর হাত বলে শক্তি, ক্ষমা কিংবা নি'আমত বুঝানো হয়েছে। তাই গ্রন্থকার এর প্রতিবাদ করে বলেন, “বরং আল্লাহকে চেহারা, হাত গুণে গুণান্বিত করা হবে, তবে সেটাকে অঙ্গ বলা যাবে না; কারণ চেহারা ও হাত থাকা দৃশ্যমান জগতে পূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচিত। কেননা যার চেহারা নেই, হাত নেই সে তো ত্রুটিপূর্ণ। আর আল্লাহ তা'আলাকে তো পূর্ণ গুণ দিয়েই গুণান্বিত করা হবে। সুতরাং তাকে এ দু'টি গুণ দিয়ে ভূষিত করা হবে, তবে ধরন নির্ধারণ করা অসম্ভব বিষয়; সুতরাং সে ধরন সাব্যস্ত করার বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যাবে। কর্তব্য হচ্ছে সেটার অর্থ সত্য বলে সেটার অপব্যাখ্যা করা থেকে বিরত থাকা। (শেষ)”⁴ অন্যত্র বলেন,
اور ابو شكور تمهید میں لکھتے ہے : قال بعضهم: إن الله موجود في كل مكان، وهم صنف من الجهمية، واحتجوا بقوله تعالى: هو الذي في السماء إله وفي الأرض إله وقوله: وهو الله في السموات وفي الأرض وقوله: إن الله مع الذين اتقوا وقوله : ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم والجواب: أن معنى الآية الأولى: إنه إله أهل السماء وأهل الأرض، والآية الثانية: تدبيره في السموات والأرض، ومعنى الآية الثالثة: إنه معهم بالنصرة، ومعنى الرابعة: إنه سميع بمقالتهم بصير بأفعالهم، ونحن نقول: إن الله لو كان في كل مكان، يؤدي أن يكون في أفواه الدواب وأفراج النساء والإماء، وهذا كفر قبيح. انتهى
"আর আবু শাকুর তামহীদ গ্রন্থে বলেন, “তাদের (অর্থাৎ জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাদের) কেউ কেউ বলে, আল্লাহ সব জায়গায়, তারা হচ্ছে জাহমিয়্যাদের একটি সম্প্রদায়। তারা আল্লাহর বাণী "তিনি আসমানে ইলাহ ও যমীনে ইলাহ" অনুরূপ আল্লাহর বাণী, “তিনি (আল্লাহ) আসমানে এবং যমীনে..” অনুরূপ আল্লাহর বাণী নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন” অনুরূপ আল্লাহর বাণী, যখনই তিনজনের শলা-পরামর্শ হয় তখনি চতুর্থজন হন আল্লাহ" উত্তর: প্রথম আয়াতের অর্থ তিনি আসমানবাসীর ইলাহ এবং যমীনবাসীর ইলাহ। আর দ্বিতীয় আয়াতের অর্থ, তাঁরই পরিচালনায় চলছে আসমান ও যমীন। তৃতীয় আয়াতের অর্থ, তিনি তাদের সাথে আছেন, সাহায্যের মাধ্যমে। চতুর্থ আয়াতের অর্থ, তিনি তাদের কথা শুনেন, তাদের কার্য দেখেন।
আর আমরা বলি, যদি তিনি সব জায়গায় হন, তাহলে তো তাকে জীব-জন্তুর মুখের ভিতর, নারী-দাসীদের লজ্জাস্থানেও বলতে হয়, [নাউযুবিল্লাহ] এ তো নিকৃষ্টতম কুফুরী। (শেষ)”⁵ তারপর তিনি বলেন,
ان عبارات سے معلوم ہوا کہ صحابه ائمه، وغیر، ائمہ حنفیه و غیر آئمہ حنفیہ سب کا مذہب ہے کہ اللہ کی فوقیت عرش پر ہے، اور یہ دوجہ وغیرہ صفات بلا کیف ہے، اور ان سب کی تاویل صحیح نہیں ہے.... الحاصل: آیات فوقیت واستواء ويد وجه سب معانی ظاہر پر محمول ہیں، اور کیفیات ان سب کی مجہول ہیں، اور اس میں تجسیم بہی لازم نہیں آتا، کیونکہ جب کیفیت مجہول ہو گئی اور خیال لیس کمثله شیء کا نہی رہا، اور تنزیہ تام کی گئی تجسیم کسی طرح لازم نہی آئے گا. والله أعلم.
"উপরোক্ত বাক্য থেকে এটা জানা গেল যে, সাহাবায়ে কেরাম, ইমামগণ, হানাফী ইমামগণ, হানাফী ছাড়া অন্যান্য ইমামগণ সকলেরই মাযহাব হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, হাত, চেহারা ইত্যাদি আল্লাহর গুণ তবে সেটার ধরন নির্ধারণ করা যাবে না। আর এসবের তা'ওয়ীল কখনও শুদ্ধ নয়। মোটকথা, উপরে থাকা, উপরে উঠা, হাত ও চেহারা এসব প্রকাশ্য অর্থের ওপর গ্রহণ করা হবে। আর এগুলোর ধরন অজানা, এর দ্বারা দেহবাদও আবশ্যক হয় না; কেননা যখন کیفیت مجہول ہو گئی اور خیال لیس کمثله شیء کا نہی رہا، اور تنزیہ تام کی گئی تجسیم کسی طرح لازم نہی آئے گا. আল্লাহই ভালো জানেন।”⁶
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
بغیر بیان کیفیت استواء کی اللہ کی ذات کو عرش پر سمجھنا اور اسکی علم کو محیط تمام عالم اعتقاد رکہتا ہو اسکی پیچھے نماز بلا کراہت جائز ہے، یہ حکمت نبویہ میں ہے، نعتقد أنه على العرش مستو عليه استواء منزها عن التمكن والاستقرار وأنه فوق العرش، ومع ذلك هو قريب من كل وجود، وهو أقرب من حبل الوريد ولا يماثل قربه قرب الأجسام انتهى.
"ইস্তেওয়া তথা উপরে উঠার কোনো ধরন নির্ধারণ ব্যতীত আল্লাহর সত্তাকে 'আরশের উপর বুঝা, আর তাঁর জ্ঞান জগতের সকল কিছুকে বেষ্টন করে আছে এ আকীদাহ পোষণ করলে তার পিছনে কোনো প্রকার মাকরূহ হওয়া ব্যতীত তার পিছনে সালাত বিশুদ্ধ। কারণ, এটাই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা। আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন এমন উঠা যা সেটাকে ধরে রাখা কিংবা স্থির হয়ে থাকা থেকে মুক্ত। আর তিনি তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন। তারপরও তিনি সকল সৃষ্টিকুলের নিকটে, তিনি তাদের ঘাড়ের শিরা হতেও অধিক নিকটে, তবে তার এ নিকটে থাকা অন্যান্য দেহের নিকটে থাকার মতো নয়।”⁷
অন্যত্র তিনি বলেন,
اعتقاد رکہنا اس طرح پر کہ خدائی تعالی اپنی ذات سے عرش کی اوپر ہے تنزیہ کی ساتھ صحیح وحق ہے، کیونکہ یہ بات قرآن و حدیث و اجماع سلف سے ثابت ہے اور عقائد کی کتابوں میں اہل سنت و جماعت کی موجود ہے اور سلف صالحین یعنی صحابہ و تابعین و تبع تابعین و ائمه مجتہدین رضوان اللہ علیم اجمعین وغیرہ کا یہی یہی اعتقاد تھا...
"এ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সত্তাগতভাবে 'আরশের উপর সর্বপ্রকার পবিত্রতাসহ, এটা বিশুদ্ধ ও হক্ক আকীদাহ। কেননা এ কথা কুরআন, হাদীস, সালাফে সালেহীনের ইজমা' দ্বারা সাব্যস্ত। আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ'র কিতাবে অবস্থিত। সালাফে সালেহীন, অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম, তাবে'য়ীন, তাবে তাবে'য়ীন ও মুজতাহিদ ঈমামগণের সবাই এ আকীদাই পোষণ করতেন।”⁸
টিকাঃ
১. মাজমু'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৩৯।
২. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪০1
৩. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪০।
৪. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪১।
৫. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪২।
৬. মাজমূ'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪২।
৭. মাজমু'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪৩।
৮. মাজmu'আতুল ফাতাওয়া, পৃ. ৪৭।