📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম রুশদ আল-মালেকী (৫৮০ হিজরী)

📄 ইমাম রুশদ আল-মালেকী (৫৮০ হিজরী)


প্রখ্যাত ফকীহ, কাযী ও দার্শনিক আবুল ওয়ালীদ ইবন রুশদ বলেন,
القول بالجهة: وأما هذهِ الصَّفَةُ فلم يزل أهل الشريعة من أول الأمر يثبتونها الله سبحانه وتعالى، حتَّى نَفَتْها المعتزلة ثم تبعهم على نفيها متأخر و الأشعرية، ... وظواهر الشرع كلها تقتضي إثبات الجهة مثل قوله تعالى: ﴿يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ لِمَا تَعُدُّونَ﴾ [السجدة: 5]، ومثل قوله تعالى: { تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ ﴾ [المعارج : ٤] ومثل قوله تعالى: ﴿ أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تمورُ ﴾ [الملك: ١٦]، إلى غير ذلك من الآيات، التي إن سُلّط عليها التأويل عادَ الشَّرِعُ كُلُّهُ مُؤَوَّلًا، وَإِنْ قِيلَ فِيهَا إِنَّهَا من المتشابهات عادَ الشَّرِعُ كُلُّهُ مُتَشَابِها؛ لأنَّ الشرائع كلَّها مَبْنِيَّةٌ على أنَّ اللهَ فِي السَّماءِ، وأنَّ منه تنزل الملائكة بالوحي إلى النبيين، وأنَّ مِنَ السماء نزلت الكتب، وإليها كان الإسراء بالنبي، حتَّى قرب من سدرة المنتهى. وجميع الحكماء قَدِ اتَّفقوا أَنَّ اللَّهَ والملائكة في السَّماءِ، كما اتَّفَقَتْ جميع الشرائع على ذلك».
"আল্লাহর জন্য দিক নির্ধারণ: এ (উপরে থাকার) গুণটি একেবারে শুরু থেকেই শরী'আহবিদরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার জন্য সাব্যস্ত করে আসছেন। অবশেষে মু'তাযিলারা তা অস্বীকার করেছে, তারপর তাদের অনুসরণে পরবর্তী আশ'আরীগণ তা অস্বীকার করেছে। ... শরী'আতের বাহ্যিক সকল দলীল-প্রমাণের দাবি হচ্ছে তাঁর জন্য দিক সাব্যস্ত করা। যেমন আল্লাহর বাণী, "তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর সব কিছুই তাঁর সমীপে উত্থিত হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনা অনুসারে হাজার বছর।” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৫] অনুরূপ আয়াতসমূহ, "তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছ যে, যিনি আসমানে রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ যমীনকে ধ্বসিয়ে দিবেন, অতঃপর তা হঠাৎ করেই থর থর করে কাঁপতে থাকবে?” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] তাতে যদি তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যার পথ উন্মুক্ত করা যায় তাহলে পুরো শরী'আতই অপব্যাখ্যার বিষয়ে পরিণত হবে। আর যদি বলা হয়, এগুলো 'মুতাশাবিহাত' অস্পষ্ট আয়াতের অন্তর্ভুক্ত, তাহলে পুরো শরী'আতই মুতাশাবিহ হয়ে যাবে। কারণ, শরী'আতের মূল কথা হচ্ছে আল্লাহ 'আরশের উপরে। তাঁর কাছ থেকেই নবীগণের কাছে ফিরিশতাগণ ওহী নিয়ে আসেন। আসমান থেকেই কিতাবসমূহ নাযিল করা হয়েছে। তাঁর দিকেই নবীর ইসরা ও মি'রাজ হয়েছিল। এমনকি তিনি সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটবর্তী হয়েছিলেন। সকল দার্শনিক এ ব্যাপারে একমত যে, আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ উপরে তাদের অবস্থান। আর এ বিষয়টির ওপর সকল আসমানী শরী'আতও একমত।”¹
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, ইবন রুশদ নিজে দর্শনতত্ত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গেলেও তিনি শরী'আতের কিছু জিনিসকে দর্শনের সাথে মিশিয়ে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিতেন না। শরী'আতের দাবি বুঝতেন। তাই তিনি আল্লাহ তা'আলা উপরে হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন এবং এটিই যে কুরআনের কথা, হাদীসের কথা, সকল শরী'আতের কথা, পূর্ববর্তী সালাফদের আকীদাহ-বিশ্বাস ছিল তা নির্দ্বিধায় তুলে ধরেছেন।
টিকাঃ
১. ইবন রুশদ, আল-কাশফু 'আন মানাহিজিল আদিল্যাহ আন আকায়িদিল মিল্যাহ, পৃ. ১৪৫।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবদুল গনী ইবন আবদুল ওয়াহেদ আল-মাকদেসী (৬০০ হিজরী)

📄 ইমাম আবদুল গনী ইবন আবদুল ওয়াহেদ আল-মাকদেসী (৬০০ হিজরী)


ইমাম হাফেয আবদুল গনী ইবন আবদুল ওয়াহেদ আল-মাক্বদেসী সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি আল্লাহর সিফাতের অর্থ সাব্যস্ত করতেন না। কিন্তু আমরা দেখতে পাই তিনি স্পষ্টভাবে 'ইস্তেওয়া' সাব্যস্ত করছেন। তিনি তাঁর 'আল-ইক্কতিসাদু ফিল ই'তিকাদি' গ্রন্থে বলেন,
مِنْ صِفَاتِ اللهِ تَعَالَى الَّتِي وَصَفَ بِهَا نَفْسَهُ، وَنَطَقَ بِهَا كِتَابُهُ، وَأَخْبَرَ بِهَا نَبِيُّهُ : أَنَّهُ مُسْتَو عَلَى عَرْشِهِ كَمَا أَخْبَرَ عَنْ نَفْسِهِ، ثُمَّ ذَكَرَ آيَاتِ الاسْتِوَاءِ السَّبْعِ إِلَى أَنْ قَالَ: فَهَذِهِ سَبْعَةُ مَوَاضِعَ أَخْبَرَ اللهُ فِيهَا سُبْحَانَهُ أَنَّهُ عَلَى العَرْشِ. ثم ساق جملةً مِنَ الأحاديث في ذلك إلى أن قال: وفي هذه المسألة أدلَّةٌ مِنَ الكتاب والسنَّة يطول بذكرها الكتاب. وَمُنْكِرُ أَنْ يَكُونَ اللهُ فِي جِهَةِ العُلُو بعد هذه الآيات والأحاديث مُخَالِف لكتابِ اللهِ، مُنْكِرٌ لِسَنَّةِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم».
"আল্লাহর গুণাবলির অন্যতম হচ্ছে, যা দিয়ে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, তাঁর কথা যে বিষয়ে কথা বলেছে, তাঁর নবী যে বিষয়ে আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন তা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর সমুন্নত, যেমনটি তিনি নিজের ব্যাপারে নিজে সংবাদ দিয়েছেন" তারপর তিনি ইস্তেওয়া তথা 'আরশের উপর উঠা সংক্রান্ত সাতটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, “এ হচ্ছে সাতটি স্থান যেখানে আল্লাহ তা'আলা নিজে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি 'আরশের উপর রয়েছেন।"
তারপর তিনি অনেকগুলো হাদীস নিয়ে আসেন, অবশেষে বলেন, "আর এ বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ'র এত দলীল রয়েছে যে, তা বর্ণনা করতে গেলে কিতাবের কলেবর বৃদ্ধি পাবে। আর এসব আয়াত ও হাদীসের দলীল পেশ করার পর যে কেউ আল্লাহকে উপরের দিকে সাব্যস্ত অস্বীকার করবে সে আল্লাহর কিতাবের বিরোধী অনুরূপ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অস্বীকারকারী।”¹
টিকাঃ
১. আল-মাক্বদেসী, আল-ইক্কতিসাদু ফিল ই'তিক্বাদ, পৃ. ৮০-৯৪।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ বকর আল-কুরতুবী (৬৭১ হিজরী)

📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ বকর আল-কুরতুবী (৬৭১ হিজরী)


ইমাম কুরতুবী তার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থে প্রথমে কালামশাস্ত্রবিদদের কথা নিয়ে এসেছেন, যেভাবে অন্য তাফসীরকারগণ নিয়ে এসে থাকেন, সেখানে কালামশাস্ত্রবিদরা আল্লাহর জন্য দিক সাব্যস্ত না করার কথা বলেছিলেন, তিনি তাদের কথা বর্ণনা করার পরে সেটার প্রতিবাদ করে বলেন,
وَقَدْ كَانَ السَّلَفُ الْأَوَّلُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ لَا يَقُولُونَ بِنَفْيِ الْجِهَةِ وَلَا يَنْطِقُونَ بِذَلِكَ، بَلْ نَطَقُوا هُمْ وَالْكَافَّةُ بِإِثْبَاتِهَا ِللَّهِ تَعَالَى كَمَا نَطَقَ كِتَابُهُ وَأَخْبَرَتْ رُسُلُهُ. وَلَمْ يُنْكِرْ أَحَدٌ مِنَ السَّلَفِ الصَّالِحِ أَنَّهُ اسْتَوَى عَلَى عَرْشِهِ حَقِيقَةٌ. وَخُصَّ الْعَرْشُ بِذَلِكَ لِأَنَّهُ أَعْظَمُ مَخْلُوقَاتِهِ، وَإِنَّمَا جَهِلُوا كَيْفِيَّةُ الاسْتِوَاءِ فَإِنَّهُ لَا تُعْلَمُ حَقِيقَتُهُ. قَالَ مَالِكٌ رَحِمَهُ اللَّهُ: الاسْتِوَاءُ مَعْلُومٌ - يَعْنِي في اللغة - والكيف مَجْهُولٌ، وَالسُّؤَالُ عَنْ هَذَا بِدْعَةٌ. وَكَذَا قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا. وَهَذَا الْقَدْرُ كَافٍ، ... وَالِاسْتِوَاءُ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ هُوَ الْعُلُوُّ وَالاسْتِقْرَارُ.
"তবে প্রথম সালাফগণ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুম কখনো দিক নির্ধারণকে অস্বীকার করতেন না। আর তারা দিক নির্ধারণ অস্বীকার করে কোনো কথাই বলেননি। বরং তারা এবং সবাই মহান আল্লাহর জন্য দিক নির্ধারণ করার কথাই বলেছেন, যেমনটি আল্লাহর কিতাব বলেছে এবং তাঁর রাসূলগণ সংবাদ দিয়েছেন। সালাফে সালেহীনের কেউ এটা অস্বীকার করেননি যে, আল্লাহ যথাযথ প্রকৃত অর্থেই 'আরশের উপর উঠেছেন, 'আরশকে নির্ধারণ করা হয়েছে; কারণ এটি তাঁর সবচেয়ে বড় সৃষ্টি। তবে তারা ধরন সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, কারণ সেটার প্রকৃত রূপ জানা সম্ভব নয়। মালিক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'ইস্তেওয়া' জানা জিনিস, অর্থাৎ আভিধানিকভাবে, আর ধরন অজানা, আর ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত। আর এটি উম্মে সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহাও বলেছেন। এতটুকু পরিমাণ জানাই যথেষ্ট।... আর 'ইস্তেওয়া' শব্দটি আরবী ভাষায় উপর ও অবস্থান করা বুঝায়।”¹ অন্যত্র তিনি বলেন,
وَالاسْتِوَاءُ فِي اللُّغَةِ: الارْتِفَاعُ وَالْعُلُو عَلَى الشَّيْءِ، قَالَ اللهُ تَعَالَى: ﴿ فَإِذَا اسْتَوَيْتَ أَنْتَ وَمَنْ مَعَكَ عَلَى الْفُلْكِ) [المؤمنون: ۲۸]، وقال ﴿ لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ﴾ [الزخرف: ١٣]، وَقَالَ الشَّاعِرُ : فَأَوْرَدْتُهُمْ مَاءً بِفَيْفَاءَ قَفْرَةٍ ... وَقَدْ حَلَّقَ النَّجْمُ الْيَمَانِيُّ فَاسْتَوَى أَي ارْتَفَعَ وَعَلَا، وَاسْتَوَتِ الشَّمْسُ عَلَى رَأْسِي وَاسْتَوَاتِ الطَّيْرُ عَلَى قِمَّةِ رَأْسِي، بِمَعْنَى عَلَا.
"আর ইস্তেওয়া শব্দের অর্থ অভিধানে, উপরে উঠা, কোনো কিছুর ঊর্ধ্বে হওয়া। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "অতঃপর যখন আপনি ও আপনার সংগীরা নৌযানের উপরে স্থির হবেন।" [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ২৮] আরও বলেন, "যাতে তোমরা এর পিঠে স্থির হয়ে বসতে পার।” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ১৩]" আর কবি বলেন,
فَأَوْرَدْتُهُمْ مَاءً بِفَيْفَاءَ قَفْرَةٍ ... وَقَدْ حَلَّقَ النَّجْمُ الْيَمَانِيُّ فَاسْتَوَى.
"অতঃপর আমি তাদেরকে খালি মরু অঞ্চলে পানির ঘাটে নিয়ে গেলাম, আর তখন ইয়ামানী তারকা আকাশে চক্কর দিয়ে মাথার উপর এসে উপস্থিত হয়েছে।" অর্থাৎ উপরে উঠেছে, ঊর্ধ্বে গিয়েছে। আরও বলা হয়, সূর্য ইস্তাওয়া করেছে অর্থাৎ সোজা মাথার উপর উঠেছে। আরও বলে, পাখি আমার ঠিক মাথার উপর ইস্তেওয়া করেছে, যখন তা উপরে উঠে।"² এখানে উদ্দেশ্য এটা বলা যে, ইমাম কুরতুবী হক্ক কথা বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি তারপর সেটার অপব্যাখ্যাকারীদের বর্ণনাও নিয়ে এসেছেন, যেটা সাধারণত মুফাসসিরগণ করে থাকেন। তারা একই অধ্যায়ে যে যা বলেছে সবই নিয়ে আসেন।
টিকাঃ
১. তাফসীরে কুরতুবী (৯/২৩৮)।
২. তাফসীরে কুরতুবী (১/৩৮০-৩৮১)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 শাইখ শহাউদ্দীন আবূ শাফস ‘উমার আস-সাহরাওয়াদী (৬৩২ হিজরী)

📄 শাইখ শহাউদ্দীন আবূ শাফস ‘উমার আস-সাহরাওয়াদী (৬৩২ হিজরী)


শাইখ শিহাবউদ্দীন আবু হাফস 'উমার আস-সাহরাওয়ার্দী রাহimামুল্লাহ, যিনি বিখ্যাত আলেমে দীন আবদুল কাদের জীলানী রাহিমাহুল্লাহ'র ছাত্র ছিলেন। তার রচিত অন্যতম গ্রন্থ হচ্ছে 'আওয়ারিফুল মা'আরিফ। তিনি আকীদাহ'র ওপর রচিত তাঁর 'আকীদাতু আরবাবিত তুর্কা' গ্রন্থে আল্লাহর সিফাত সাব্যস্ত করার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন। ইমাম ইবন হাজার আল-আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ তা বর্ণনা করে বলেন,
وَقَالَ الشَّيْخُ شِهَابُ الدِّينِ السَّهْرَ وَرْدِيُّ فِي كِتَابِ الْعَقِيدَةِ لَهُ أَخْبَرَ اللهُ فِي كِتَابِهِ وَثَبَتَ عَنْ رَسُولِهِ الاسْتِوَاءُ وَالنُّزُولُ وَالنَّفْسُ وَالْيَدُ وَالْعَيْنُ فَلَا يُتَصَرَّفُ فِيهَا بِتَسْبِيهِ وَلَا تَعْطِيلٍ إِذْ لَوْلَا إِخْبَارُ اللهِ وَرَسُولِهِ مَا تَجَاسَرَ عَقْلٌ أَنْ يَحُومَ حَوْلَ ذَلِكَ الْحِمَى قَالَ الطَّيبِيُّ هَذَا هُوَ الْمُذْهَبُ المُعْتَمَدُ وَبِهِ يَقُولُ السَّلَفُ الصَّالِحُ .
"আর শাইখ শিহাব উদ্দীন আস-সাহরাওয়ার্দী তার আকীদাহ'র কিতাবে বলেন, "আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে আমাদেরকে জানিয়েছেন আর তাঁর রাসূল থেকে প্রমাণিত হয়েছে আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা, নিকটতম আসমানে অবতরণ, সত্তা, হাত, চক্ষু। সুতরাং এগুলোকে কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন করার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যাবে না, কোনো প্রকার তা'ত্বীল বা অর্থহীন করা যাবে না; কারণ যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে না জানাতেন, তাহলে কোনো বিবেকের যুক্তি তাঁর সে সংরক্ষিত এলাকার আশেপাশে যাওয়ার মত সাহস করতো না।”¹ এরপর ইবন হাজার বলেন, ইমাম ত্বীবী বলেন, এটাই হচ্ছে নির্ভরযোগ্য মাযহাব। সালাফে সালেহীন এটাই বলতেন।²
ইমাম শিহাব উদ্দীন আস-সাহراওয়ার্দী রাহيمাহুল্লাহ উক্ত কিতাবের সিফাত অধ্যায়ে বলেন,
الفصل الثالث: في صفة الله الذاتية الله تعالى الأسماء الحسنى والصفات العلى، لا نسميه إلا بما سمى به نفسه، ولا نصفه إلا بما وصف به قدسه، فكل اسم من الأسماء ينبئ عن صفة من الصفات، وله بكل صفة من صفاته أثر من آثار ربوبيته في خلقه، وهو مطالب بعبودية ملائمة لتلك الصفة، وهذه الصفات الذي أذكرها ذاتية، هي لوازم كمال الذات المقدس، وما أبرزها إلا لنعلمها، وما ذكرها إلا لنفهمها، ولولا ما أخبر وأنزل وفهم وعلَّم لعظم شأن الله أن يفوه بها لسان أو يعرب عنها بيان....
"তৃতীয় অধ্যায়, আল্লাহর সত্তাগত গুণাবলির বিষয়ে, আল্লাহ তা'আলার রয়েছে সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি। আল্লাহ তা'আলাকে কেবল তা দিয়ে নামকরণ করব, যা দিয়ে তিনি নিজেকে নামকরণ করেছেন, আর তাঁকে কেবল তা দিয়েই গুণান্বিত করব যা দিয়ে তিনি তাঁর পবিত্র সত্তাকে গুণান্বিত করেছেন। কারণ তাঁর প্রতিটি নাম তাঁর কোনো না কোনো গুণের সংবাদ দিচ্ছে। আর প্রতিটি গুণ তাঁর সৃষ্টিতে তাঁর রবুবিয়াতের প্রভাবের কথা জানাচ্ছে। তিনি চাচ্ছেন যে, বান্দা সে গুণ অনুযায়ী তাঁর ইবাদাত করুক। আর এ গুণাবলিকে আমি সত্তাগত বলছি, কারণ এগুলো তাঁর পবিত্র সত্তার পূর্ণতা জ্ঞাপক আবশ্যকীয় গুণ। আর তিনি সেগুলোকে আমাদের জন্য এজন্যই প্রকাশ করেছেন যাতে আমরা সেগুলো জেনে নিই, এজন্যই উল্লেখ করেছেন যাতে সেগুলো আমরা বুঝি। যদি তিনি সেগুলোর সংবাদ আমাদের না দিতেন, নাযিল না করতেন, না বুঝাতেন, না জানাতেন, তাহলে কোনো জিহ্বার জন্য সেগুলো মুখে উচ্চারণ করা, সেগুলো কোনো বর্ণনা দিয়ে প্রকাশ করার চেয়ে আল্লাহর মর্যাদা অনেকে ঊর্ধ্বে।”³
টিকাঃ
১. আকীদাতু আরবাবিত তুক্কা, পাণ্ডুলিপি, পাতা ২৫; ইবন হাজার আল-আসকালানী, ফাতহুল বারী (১৩/৩৯০)।
২. ইবন হাজার, প্রাগুক্ত।
৩. পাণ্ডুলিপি, পাতা, ১৩-১৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00