📄 ইমাম আবদুল কাদের জীলানী (৫৬১ হিজরী)
সূফীকুল শিরোমনি, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, ইমাম শাইখুল ইসলাম আবু মুহাম্মাদ আবদুল কাদের ইবন আবু সালেহ জীলানী রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন সহীহ আকীদাহ বিশ্বাসের সিপাহসালার। আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণ বিষয়ক তার রয়েছে অনেক বিশুদ্ধ বক্তব্য। তিনি অন্য ইমামদের কথাও বর্ণনা করেছেন। নিচে আমরা কয়েকটি বক্তব্য তুলে ধরছি: • ইমাম আবু মুহাম্মাদ আবদুল কাদের জীলানী আল-হাম্বলী, তার আল-গুনইয়াতু লি ত্বালিবিল হক্ক গ্রন্থে বলেন,
أما معرفة الصانع بالآيات والدلالات على وجه الاختصار فهو أن يعرف ويتيقن أن الله واحد أحد». إلى أن قال: وهو بجهة العلو مستو على العرش، محتو على الملك، محيط علمه بالأشياء، إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ، يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّونَ،
وَلا يَجُوزُ وَصْفُهُ بِأَنَّهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ، بَلْ يُقَالُ إِنَّهُ فِي السَّمَاءِ عَلَى الْعَرْشِ كَمَا قَالَ الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، وينبغي إطلاق صفة الاستواء من غير تأويل، وأنه استواء الذات على العرش، وكونه سبحانه وتعالى على العرش مذكور في كل كتاب أنزل على كل نبي أرسل بلا كيف
সংক্ষিপ্তভাবে আয়াত ও প্রমাণসমূহের মাধ্যমে স্রষ্টার মা'রেফত: জানা যায় ও নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আল্লাহ এক, একক। অবশেষে তিনি বলেন, তিনি উপরের দিকে রয়েছেন, 'আরশের উপরে সমুন্নত। রাজত্বকে ধারণকারী। তাঁর ইলম সকল কিছুকে বেষ্টনকারী। "তাঁরই পানে উত্থিত হয় ভালো কথা আর নেক আমল তা উন্নীত করে।" "তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন। তারপর তা একদিন তাঁর কাছেই উঠবে। যেদিনের পরিমাণ হবে তোমাদের গণনায় হাজার বছর।"
তাঁর ক্ষেত্রে এই গুণের বর্ণনা দেয়া জায়িয নয় যে, তিনি সর্বত্র বিরাজমান। বরং বলতে হবে, তিনি আসমানের ঊর্ধ্বে 'আরশের উপরে। যেমন, তিনি বলেছেন: পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন। উচিৎ হচ্ছে উপরে উঠার গুণকে তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যা ছাড়াই ব্যবহার করা। তাঁর সত্তা 'আরশের উপরে উঠা, আল্লাহ সুবহাল্লাহু ওয়া তা'আলার 'আরশের উপর থাকার বিষয়টি প্রত্যেক নবী ও রাসূলের কাছে অবতীর্ণ প্রত্যেক কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ধরন অজানা।¹
অনুরূপভাবে এ কিতাবের অন্যত্র তিনি বলেন, (فصل) في ذكر مقالة السالمية: وهي منسوبة إلى ابن سالم. ومن قولهم: إن الله تعالى في كل مكان، ولا فرق بين العرش وغيره من الأمكنة.
"আস-সালেমিয়্যাহ, এ ফেরকাটি ইবন সালেম নামক ব্যক্তির দিকে সম্পর্কিত। তার বক্তব্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহ সব জায়গায়, 'আরশ ও অন্য কোনো জায়গার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।”²
(এ কিতাবের অন্যত্র তিনি সেটা খণ্ডণ করে বলেন) "অথচ কুরআনে কারীমে তাদেরকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন" [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] তাই বলা যাবে না, 'তিনি যমীনের উপর উঠেছেন, আরও বলা যাবে না 'তিনি গর্ভস্থ মহিলার পেটে কিংবা পাহাড়ের ভিতর, অনুরূপ জায়গায়।"
তাছাড়া তাঁর দিকে সম্পর্কিত করে যে আল-বাহজাহ গ্রন্থ রয়েছে, আর যা আবদুল ওয়াহহাব আশ-শা'রানী আল-ইউয়াক্বিতু ওয়াল জাওয়াহির গ্রন্থে বর্ণনা করেন, তাতে এসেছে,
اعلموا أن عباداتكم لا تدخل الأرض وإنما تصعد إلى السماء، قال تعالى : إليه يصعد الكلم الطيب والعمل الصالح يرفعه) [فاطر: ۱۰] فربنا سبحانه وتعالى في جهة العلو، الله على العرش استوى وعلى الملك احتوى وعلمه محيط بالأشياء، بدليل سبع آيات في القرآن العظيم في هذا المعنى، لا يمكنني ذكرها لأجل جهل الجاهل ورعونته». انتهى.
"জেনে রাখ, তোমাদের ইবাদাত যমীনে প্রবেশ করে না, বরং তা তো কেবল উপরের দিকে উত্থিত হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "তাঁর দিকেই উত্থিত হয় উত্তম বাক্যসমূহ আর সৎ আমল তিনি তা উপরে উঠিয়ে নেন।" [সূরা ফাত্বির, আয়াত: ১০] সুতরাং আমাদের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা উপরের দিকে, আল্লাহ 'আরশের উপরে উঠেছেন, সকল রাজত্বকে পরিবেষ্টন করেছেন, আর তাঁর জ্ঞান সকল কিছুকে ঘিরে আছে, এ অর্থ কুরআনের সাতটি আয়াত দ্বারা সাব্যস্ত, যা আমি উল্লেখ করতে পারছি না, কোনো মূর্খের মূর্খতা ও আহম্মকির কারণে।"³
টিকাঃ
১. গুনিয়াতুত ত্বালেবীন: (১/৫৪-৫৭); ত্ববাকাতুল হানাবিলাহ: (১/২৯৬); মাজমু'উল ফাতাওয়া (৫/৮৫); যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪৭০-৪৭২) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; আল-'উলু, ১৯৩; ইজতিমা'উল জুয়ুশ, ২৭৭।
২. আবদুল কাদের জীলানী, আল-গুনইয়াতু লি ত্বালিবী ত্বারিকিল হাক্ক (১/১১৮)।
৩. আশ-শা'রানী, আল-ইউয়াক্বীতু ওয়াল জাওয়াহির ফী বায়ানি আক্বীদাতিল আকাবির, পৃ. ৮৯।
📄 ইমাম রুশদ আল-মালেকী (৫৮০ হিজরী)
প্রখ্যাত ফকীহ, কাযী ও দার্শনিক আবুল ওয়ালীদ ইবন রুশদ বলেন,
القول بالجهة: وأما هذهِ الصَّفَةُ فلم يزل أهل الشريعة من أول الأمر يثبتونها الله سبحانه وتعالى، حتَّى نَفَتْها المعتزلة ثم تبعهم على نفيها متأخر و الأشعرية، ... وظواهر الشرع كلها تقتضي إثبات الجهة مثل قوله تعالى: ﴿يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ لِمَا تَعُدُّونَ﴾ [السجدة: 5]، ومثل قوله تعالى: { تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ ﴾ [المعارج : ٤] ومثل قوله تعالى: ﴿ أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تمورُ ﴾ [الملك: ١٦]، إلى غير ذلك من الآيات، التي إن سُلّط عليها التأويل عادَ الشَّرِعُ كُلُّهُ مُؤَوَّلًا، وَإِنْ قِيلَ فِيهَا إِنَّهَا من المتشابهات عادَ الشَّرِعُ كُلُّهُ مُتَشَابِها؛ لأنَّ الشرائع كلَّها مَبْنِيَّةٌ على أنَّ اللهَ فِي السَّماءِ، وأنَّ منه تنزل الملائكة بالوحي إلى النبيين، وأنَّ مِنَ السماء نزلت الكتب، وإليها كان الإسراء بالنبي، حتَّى قرب من سدرة المنتهى. وجميع الحكماء قَدِ اتَّفقوا أَنَّ اللَّهَ والملائكة في السَّماءِ، كما اتَّفَقَتْ جميع الشرائع على ذلك».
"আল্লাহর জন্য দিক নির্ধারণ: এ (উপরে থাকার) গুণটি একেবারে শুরু থেকেই শরী'আহবিদরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার জন্য সাব্যস্ত করে আসছেন। অবশেষে মু'তাযিলারা তা অস্বীকার করেছে, তারপর তাদের অনুসরণে পরবর্তী আশ'আরীগণ তা অস্বীকার করেছে। ... শরী'আতের বাহ্যিক সকল দলীল-প্রমাণের দাবি হচ্ছে তাঁর জন্য দিক সাব্যস্ত করা। যেমন আল্লাহর বাণী, "তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর সব কিছুই তাঁর সমীপে উত্থিত হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে তোমাদের গণনা অনুসারে হাজার বছর।” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৫] অনুরূপ আয়াতসমূহ, "তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছ যে, যিনি আসমানে রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ যমীনকে ধ্বসিয়ে দিবেন, অতঃপর তা হঠাৎ করেই থর থর করে কাঁপতে থাকবে?” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] তাতে যদি তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যার পথ উন্মুক্ত করা যায় তাহলে পুরো শরী'আতই অপব্যাখ্যার বিষয়ে পরিণত হবে। আর যদি বলা হয়, এগুলো 'মুতাশাবিহাত' অস্পষ্ট আয়াতের অন্তর্ভুক্ত, তাহলে পুরো শরী'আতই মুতাশাবিহ হয়ে যাবে। কারণ, শরী'আতের মূল কথা হচ্ছে আল্লাহ 'আরশের উপরে। তাঁর কাছ থেকেই নবীগণের কাছে ফিরিশতাগণ ওহী নিয়ে আসেন। আসমান থেকেই কিতাবসমূহ নাযিল করা হয়েছে। তাঁর দিকেই নবীর ইসরা ও মি'রাজ হয়েছিল। এমনকি তিনি সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটবর্তী হয়েছিলেন। সকল দার্শনিক এ ব্যাপারে একমত যে, আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ উপরে তাদের অবস্থান। আর এ বিষয়টির ওপর সকল আসমানী শরী'আতও একমত।”¹
এর দ্বারা বুঝা গেল যে, ইবন রুশদ নিজে দর্শনতত্ত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গেলেও তিনি শরী'আতের কিছু জিনিসকে দর্শনের সাথে মিশিয়ে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিতেন না। শরী'আতের দাবি বুঝতেন। তাই তিনি আল্লাহ তা'আলা উপরে হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন এবং এটিই যে কুরআনের কথা, হাদীসের কথা, সকল শরী'আতের কথা, পূর্ববর্তী সালাফদের আকীদাহ-বিশ্বাস ছিল তা নির্দ্বিধায় তুলে ধরেছেন।
টিকাঃ
১. ইবন রুশদ, আল-কাশফু 'আন মানাহিজিল আদিল্যাহ আন আকায়িদিল মিল্যাহ, পৃ. ১৪৫।
📄 ইমাম আবদুল গনী ইবন আবদুল ওয়াহেদ আল-মাকদেসী (৬০০ হিজরী)
ইমাম হাফেয আবদুল গনী ইবন আবদুল ওয়াহেদ আল-মাক্বদেসী সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি আল্লাহর সিফাতের অর্থ সাব্যস্ত করতেন না। কিন্তু আমরা দেখতে পাই তিনি স্পষ্টভাবে 'ইস্তেওয়া' সাব্যস্ত করছেন। তিনি তাঁর 'আল-ইক্কতিসাদু ফিল ই'তিকাদি' গ্রন্থে বলেন,
مِنْ صِفَاتِ اللهِ تَعَالَى الَّتِي وَصَفَ بِهَا نَفْسَهُ، وَنَطَقَ بِهَا كِتَابُهُ، وَأَخْبَرَ بِهَا نَبِيُّهُ : أَنَّهُ مُسْتَو عَلَى عَرْشِهِ كَمَا أَخْبَرَ عَنْ نَفْسِهِ، ثُمَّ ذَكَرَ آيَاتِ الاسْتِوَاءِ السَّبْعِ إِلَى أَنْ قَالَ: فَهَذِهِ سَبْعَةُ مَوَاضِعَ أَخْبَرَ اللهُ فِيهَا سُبْحَانَهُ أَنَّهُ عَلَى العَرْشِ. ثم ساق جملةً مِنَ الأحاديث في ذلك إلى أن قال: وفي هذه المسألة أدلَّةٌ مِنَ الكتاب والسنَّة يطول بذكرها الكتاب. وَمُنْكِرُ أَنْ يَكُونَ اللهُ فِي جِهَةِ العُلُو بعد هذه الآيات والأحاديث مُخَالِف لكتابِ اللهِ، مُنْكِرٌ لِسَنَّةِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم».
"আল্লাহর গুণাবলির অন্যতম হচ্ছে, যা দিয়ে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, তাঁর কথা যে বিষয়ে কথা বলেছে, তাঁর নবী যে বিষয়ে আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন তা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর সমুন্নত, যেমনটি তিনি নিজের ব্যাপারে নিজে সংবাদ দিয়েছেন" তারপর তিনি ইস্তেওয়া তথা 'আরশের উপর উঠা সংক্রান্ত সাতটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, “এ হচ্ছে সাতটি স্থান যেখানে আল্লাহ তা'আলা নিজে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি 'আরশের উপর রয়েছেন।"
তারপর তিনি অনেকগুলো হাদীস নিয়ে আসেন, অবশেষে বলেন, "আর এ বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ'র এত দলীল রয়েছে যে, তা বর্ণনা করতে গেলে কিতাবের কলেবর বৃদ্ধি পাবে। আর এসব আয়াত ও হাদীসের দলীল পেশ করার পর যে কেউ আল্লাহকে উপরের দিকে সাব্যস্ত অস্বীকার করবে সে আল্লাহর কিতাবের বিরোধী অনুরূপ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অস্বীকারকারী।”¹
টিকাঃ
১. আল-মাক্বদেসী, আল-ইক্কতিসাদু ফিল ই'তিক্বাদ, পৃ. ৮০-৯৪।
📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবূ বকর আল-কুরতুবী (৬৭১ হিজরী)
ইমাম কুরতুবী তার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থে প্রথমে কালামশাস্ত্রবিদদের কথা নিয়ে এসেছেন, যেভাবে অন্য তাফসীরকারগণ নিয়ে এসে থাকেন, সেখানে কালামশাস্ত্রবিদরা আল্লাহর জন্য দিক সাব্যস্ত না করার কথা বলেছিলেন, তিনি তাদের কথা বর্ণনা করার পরে সেটার প্রতিবাদ করে বলেন,
وَقَدْ كَانَ السَّلَفُ الْأَوَّلُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ لَا يَقُولُونَ بِنَفْيِ الْجِهَةِ وَلَا يَنْطِقُونَ بِذَلِكَ، بَلْ نَطَقُوا هُمْ وَالْكَافَّةُ بِإِثْبَاتِهَا ِللَّهِ تَعَالَى كَمَا نَطَقَ كِتَابُهُ وَأَخْبَرَتْ رُسُلُهُ. وَلَمْ يُنْكِرْ أَحَدٌ مِنَ السَّلَفِ الصَّالِحِ أَنَّهُ اسْتَوَى عَلَى عَرْشِهِ حَقِيقَةٌ. وَخُصَّ الْعَرْشُ بِذَلِكَ لِأَنَّهُ أَعْظَمُ مَخْلُوقَاتِهِ، وَإِنَّمَا جَهِلُوا كَيْفِيَّةُ الاسْتِوَاءِ فَإِنَّهُ لَا تُعْلَمُ حَقِيقَتُهُ. قَالَ مَالِكٌ رَحِمَهُ اللَّهُ: الاسْتِوَاءُ مَعْلُومٌ - يَعْنِي في اللغة - والكيف مَجْهُولٌ، وَالسُّؤَالُ عَنْ هَذَا بِدْعَةٌ. وَكَذَا قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا. وَهَذَا الْقَدْرُ كَافٍ، ... وَالِاسْتِوَاءُ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ هُوَ الْعُلُوُّ وَالاسْتِقْرَارُ.
"তবে প্রথম সালাফগণ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুম কখনো দিক নির্ধারণকে অস্বীকার করতেন না। আর তারা দিক নির্ধারণ অস্বীকার করে কোনো কথাই বলেননি। বরং তারা এবং সবাই মহান আল্লাহর জন্য দিক নির্ধারণ করার কথাই বলেছেন, যেমনটি আল্লাহর কিতাব বলেছে এবং তাঁর রাসূলগণ সংবাদ দিয়েছেন। সালাফে সালেহীনের কেউ এটা অস্বীকার করেননি যে, আল্লাহ যথাযথ প্রকৃত অর্থেই 'আরশের উপর উঠেছেন, 'আরশকে নির্ধারণ করা হয়েছে; কারণ এটি তাঁর সবচেয়ে বড় সৃষ্টি। তবে তারা ধরন সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, কারণ সেটার প্রকৃত রূপ জানা সম্ভব নয়। মালিক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'ইস্তেওয়া' জানা জিনিস, অর্থাৎ আভিধানিকভাবে, আর ধরন অজানা, আর ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত। আর এটি উম্মে সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহাও বলেছেন। এতটুকু পরিমাণ জানাই যথেষ্ট।... আর 'ইস্তেওয়া' শব্দটি আরবী ভাষায় উপর ও অবস্থান করা বুঝায়।”¹ অন্যত্র তিনি বলেন,
وَالاسْتِوَاءُ فِي اللُّغَةِ: الارْتِفَاعُ وَالْعُلُو عَلَى الشَّيْءِ، قَالَ اللهُ تَعَالَى: ﴿ فَإِذَا اسْتَوَيْتَ أَنْتَ وَمَنْ مَعَكَ عَلَى الْفُلْكِ) [المؤمنون: ۲۸]، وقال ﴿ لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ﴾ [الزخرف: ١٣]، وَقَالَ الشَّاعِرُ : فَأَوْرَدْتُهُمْ مَاءً بِفَيْفَاءَ قَفْرَةٍ ... وَقَدْ حَلَّقَ النَّجْمُ الْيَمَانِيُّ فَاسْتَوَى أَي ارْتَفَعَ وَعَلَا، وَاسْتَوَتِ الشَّمْسُ عَلَى رَأْسِي وَاسْتَوَاتِ الطَّيْرُ عَلَى قِمَّةِ رَأْسِي، بِمَعْنَى عَلَا.
"আর ইস্তেওয়া শব্দের অর্থ অভিধানে, উপরে উঠা, কোনো কিছুর ঊর্ধ্বে হওয়া। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "অতঃপর যখন আপনি ও আপনার সংগীরা নৌযানের উপরে স্থির হবেন।" [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ২৮] আরও বলেন, "যাতে তোমরা এর পিঠে স্থির হয়ে বসতে পার।” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ১৩]" আর কবি বলেন,
فَأَوْرَدْتُهُمْ مَاءً بِفَيْفَاءَ قَفْرَةٍ ... وَقَدْ حَلَّقَ النَّجْمُ الْيَمَانِيُّ فَاسْتَوَى.
"অতঃপর আমি তাদেরকে খালি মরু অঞ্চলে পানির ঘাটে নিয়ে গেলাম, আর তখন ইয়ামানী তারকা আকাশে চক্কর দিয়ে মাথার উপর এসে উপস্থিত হয়েছে।" অর্থাৎ উপরে উঠেছে, ঊর্ধ্বে গিয়েছে। আরও বলা হয়, সূর্য ইস্তাওয়া করেছে অর্থাৎ সোজা মাথার উপর উঠেছে। আরও বলে, পাখি আমার ঠিক মাথার উপর ইস্তেওয়া করেছে, যখন তা উপরে উঠে।"² এখানে উদ্দেশ্য এটা বলা যে, ইমাম কুরতুবী হক্ক কথা বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি তারপর সেটার অপব্যাখ্যাকারীদের বর্ণনাও নিয়ে এসেছেন, যেটা সাধারণত মুফাসসিরগণ করে থাকেন। তারা একই অধ্যায়ে যে যা বলেছে সবই নিয়ে আসেন।
টিকাঃ
১. তাফসীরে কুরতুবী (৯/২৩৮)।
২. তাফসীরে কুরতুবী (১/৩৮০-৩৮১)।