📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবুল হাসান আল-কাভেয়ী (৫৩২ হিজরী)

📄 ইমাম আবুল হাসান আল-কাভেয়ী (৫৩২ হিজরী)


শাইখুল ইসলাম আবু ইসমা'ঈল আল-হারওয়ীর ছাত্র ইমাম আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবন আবদুল মালিক আল-কারজী তার পরিচিত আকীদায় বলেন, প্রথম লাইন হচ্ছে: وشيب فودي شيب وصل الحبائب. محاسن جسمي بدلت بالمعايب আমার দেহের সৌন্দর্য খুঁতে রূপান্তরিত হয়েছে, আমার মাথার অগ্রভাগে বার্ধক্য শুরু হয়েছে বন্ধুদের সম্পর্কের বার্ধক্যের ন্যায়। সে কবিতায় অবশেষে তিনি বলেন- وأفضل زاد في المعاد عقيدة على منهج في الصدق لاحب عقيدة أصحاب الحديث فقد عقائدهم أن الإله بذاته بأرباب دين الله أسنى المراتب على عرشه مع علمه بالغوائب
ويجهل فيه الكيف جهل الشهارب وأن استواء الرب يعقل كونه ...
আখেরাতের সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে বিশুদ্ধ সত্য আকীদাহ গ্রহণ করে যাওয়া।
আসহাবুল হাদীসের আকীদাহ, তারা আল্লাহর দীনের সর্বোৎকৃষ্ট মর্যাদাপূর্ণ দরজাটি ধরে আছে।
তাদের আকীদাহ হচ্ছে, ইলাহ সত্তাগত তাঁর 'আরশের উপরে। সেখান থেকেই যাবতীয় গায়েবী বিষয় তাঁর ইলমের অন্তর্ভুক্ত।
রবের 'আরশের উপর উঠার বিষয়টি বোধগম্য, তবে ধরন একেবারে অজানা।"¹
ইমাম যাহাবী বলেন, আবুল হাসান ছিলেন ইমাম দুনিয়াবিমুখ এবং শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। শাইখ আবু মুহাম্মাদ বাগাওয়ী এবং তার স্তরের সমসাময়িক। মাশরিক তথা প্রাচ্যদেশের শহরসমূহে তাঁর এই কবিতা খাস ও আম ব্যক্তিদের কাছে প্রসিদ্ধ।²
টিকাঃ
১. যাহাবী, আল-'আরش (২/৪৬৯-৪৭০), নং ২৮২ অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
২. যাহাবী, আল-আরش, (২/৪৭০) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবুল কাসিম ইসমা‘ঈল ইবন মুহাম্মাদ আত-তাইমী (৫৩৫ হিজরী)

📄 আবুল কাসিম ইসমা‘ঈল ইবন মুহাম্মাদ আত-তাইমী (৫৩৫ হিজরী)


ইমাম আবুল কাসিম ইসমা'ঈল ইবন মুহাম্মাদ আত-তাইমী আল্লাহ তা'আলার গুণাবলি সম্পর্কে বলেন,
وَهُوَ الْعَلِي الْأَعْلَى، وَعَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى تبارك تَعَالَى، ظَاهر في ملكه وقدرته، قد حجب عن الخلق كنه ذاته، ودلهم عَلَيْهِ بآياته».
"তিনি সর্বোচ্চ মহান সত্তা, মহান সত্তা 'আরশের উপরে উঠেছেন, তাঁর রাজত্ব ও মালিকানার মাধ্যমে প্রকাশিত, তাঁর আপন সত্তার প্রকৃত ধরনকে সৃষ্টি থেকে পর্দাবৃত করে রেখেছেন, তাদেরকে তাঁর ব্যাপারে তাঁর বিভিন্ন নিদর্শনের মাধ্যমে জানিয়েছেন।”¹
উক্ত কিতাবে আরও এসেছে,
ويجب الإيمان بِصِفَاتِ اللهِ تَعَالَى كَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} ، وقوله: ﴿لما خلقت بيدي) فَهَذَا وَأَمْثَالِه بِمَا صَحَّ نَقله عَن رَسُول الله - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَإِن مَذْهَبْنَا فِيهِ وَمذهب السلف إثباته وإجراؤه عَلَى الظَّاهِر ونفي الْكَيْفِيَّة والتشبيه عَنهُ، وَقد نفى قوم الصفات فأبطلوا ما أثبته الله تَعَالَى، وتأولها قوم خلاف الظاهر فَخَرِجُوا من ذلك إلى ضرب من التعطيل والتشبيه، وَالْقَصْد إِنما هو سلوك الطَّرِيقَة المتوسطة بين الأمرين، لأَنَّ دين اللهِ تَعَالَى بَين الغالي والمقصر عَنهُ.
وَالْأَصْل فِي هَذَا أَنِ الْكَلَام فِي الصَّفَات فرع عَلَى الْكَلَام في الذات، وإثبات الله تَعَالَى إِنما هُوَ إِثبات وجود لَا إِثبات كيفيَّة، فَكَذَلِكَ إِثبات صفاته إنما هُوَ إِثبات وجود لَا إِثبات كَيْفيَّة، فَإِذَا قُلْنَا يَد، وسمع، وبصر، وَنَحْوهَا، فَإِنَّمَا هِيَ
صفات أثبتها الله لنَفْسِهِ ولم يقل معنى اليَد الْقُوَّة، وَلَا معنى السمع وَالْبَصَر : العلم والإدراك، وَلَا نشبهها بِالْأَيْدِي والأسماع والأبصار، ونقول إنما وجب إثباتها لأن الشرع ورد بها ، وَوَجَب نفي النَّشْبِيهِ عَنْهَا لَقَوْله تَعَالَى: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعِ الْبَصِير ) ، كَذَلِكَ قَالَ عُلَماء السلف فِي أَخْبَار الصفات: أمروها كَمَا جَاءَت.
"মহান আল্লাহর সিফাত বা গুণগুলোর উপর ঈমান আনা ফরয; যেমন আল্লাহর বাণী, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন", অনুরূপ আল্লাহর বাণী, "যা আমি নিজ দু' হাতে সৃষ্টি করেছি” এ আয়াত ও এ ধরনের যা কিছু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আসা সাব্যস্ত হয়েছে তাতে আমাদের অভিমত ও সালাফে সালেহীনের অভিমত হচ্ছে, এগুলোকে সাব্যস্ত করা, এগুলোর প্রকাশ্য অর্থের ওপর চালিয়ে যাওয়া, কোনো প্রকার ধরণ নির্ধারণ ও সাদৃশ্য স্থাপনকে অস্বীকার করা। কোনো কোনো গোষ্ঠী সিফাত বা আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে এমনভাবে যে, তারা আল্লাহ যা সাব্যস্ত করেছেন তা বাতিল করেছে, আরেক গোষ্ঠী প্রকাশ্য অর্থের বাইরে গিয়ে সেগুলোর অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। এভাবে তারা এক ধরনের অর্থশূন্য করা ও সাদৃশ্য স্থাপন করার দিকে চলে গেছে। বস্তুত সঠিক পন্থা হচ্ছে, এতদুভয় প্রান্তিকতার মাঝখানে মধ্যপন্থা অবলম্বন। কারণ, আল্লাহর দীনের অবস্থান হচ্ছে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝখানে।
বস্তুত এ বিষয়ে মূলনীতি হচ্ছে, আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে কোনো কথা বলাকে আল্লাহর সত্তার ওপর কথা বলার শাখা হিসেবে নিতে হবে। আর আল্লাহর সত্তা সাব্যস্ত করার বিষয়টি যেহেতু আল্লাহর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা, ধরণ সাব্যস্ত করা নয়, সেহেতু আল্লাহর গুণ সাব্যস্ত করাও সেগুলোর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা, সেগুলোর ধরন সাব্যস্ত করা নয়। সুতরাং যখন আমরা বলি, হাত, শ্রবণ, দেখা ইত্যাদি, তখন এভাবে নিতে হবে যে, এগুলো এমন গুণ যা আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেননি হাত অর্থ শক্তি। আবার শ্রবণ ও দেখা অর্থও জ্ঞান ও আয়ত্ব করা বলেননি। আবার আমরা সেগুলোকে হাত, কান ও চোখের সাথে সাদৃশ্য দিয়েও সাব্যস্ত করব না। বরং বলবো, এগুলো এজন্য সাব্যস্ত করবো, কারণ শরী'আতে এগুলো সাব্যস্ত করার কথা এসেছে, তবে এ সাব্যস্তকরণের সময় কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন থেকে দূরে থাকবো। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "তার মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” অনুরূপভাবে সালাফে সালেহীন আলেমগণ বলতেন এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে নাও (কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ব্যতীতই)।"²
আরও বলেন,
قَالَ أهل السنة: خلق الله السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَكَانَ عَرْشِه عَلَى المَاء مخلوقا قبل خلق السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ. ثمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْش بعد خلق السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَلَى مَا ورد بِهِ النَّص. وَلَيْسَ مَعْنَاهُ الماسة، بل هُوَ مستو عَلَى عَرْشِه بِلَا كَيْفَ، كما أخبر عن نفسه.
"আহলুস সুন্নাহ বলেন, আল্লাহ তা'আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁর 'আরশ আসমান ও যমীন সৃষ্টির আগেই পানির উপর সৃষ্ট ছিল। তারপর তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টির পরে 'আরশের উপর উঠলেন যেমনটি কুরআন ও হাদীসের ভাষ্যে এসেছে। তবে এর অর্থ স্পর্শ করা নয়, বরং তিনি 'আরশের উপরে সমুন্নত কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ব্যতীতই, যেমন তিনি তাঁর নিজের ব্যাপারে আমাদেরকে জানিয়েছেন।”³
টিকাঃ
১. আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (১/১৮৫-১৮৬)।
২. আবুল কاسেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (১/২৬৬)।
৩. আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (২/১১৬)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আলী ইবন মুসাফির আল-উমাওয়ী (৫৫৫ হিজরী)

📄 ইমাম আলী ইবন মুসাফির আল-উমাওয়ী (৫৫৫ হিজরী)


ইমাম 'আদী ইবন মুসাফির আল-উমাওয়ী আল-হাক্কারী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ' গ্রন্থে বলেন, «وأنَّ اللهَ عَلى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ، كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ فِي كِتَابِهِ وعلى لِسَانِ نَبِيِّهِ بلا كَيْف، أحاطَ بِكُلِّ شيء علما وهو بكُلِّ شيء عليم».
"আর এটাও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর, সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা, যেমনটি তিনি নিজে তাঁর কিতাবে গুণান্বিত করেছেন আর তাঁর রাসূলের জবানীতে এসেছে, কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ছাড়াই”।¹
টিকাঃ
১. ই'তিক্কাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ, পৃ. ৩০।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আল্লামা ইয়াহইয়া ইবন আবুল মায়ের আল-‘ইমরানী (৫৫৮ হিজরী)

📄 আল্লামা ইয়াহইয়া ইবন আবুল মায়ের আল-‘ইমরানী (৫৫৮ হিজরী)


আল্লামা ইয়াহইয়া ইবন আবুল খায়ের আল-'ইমরানী তাঁর 'আল-ইন্তিসার ফির রাদ্দি আলাল মু'তাযিলাতিল কাদারিয়‍্যাতিল আশরার' গ্রন্থে বলেন, قد ذكرنا في أول الكتاب أن عند أصحاب الحديث والسنة أن الله سبحانه بذاته، بائن عن خلقه، على العرش استوى فوق السموات، غير مماس له ، وعِلْمُهُ محيط بالأشياء كلها. وقالت الكرامية : إنه مماس للعرش. وقالت المعتزلة : إن ذات الله بكل مكان حتى بالحشوش وأجواف الحيوان. قيل لبشر المريسي: فهو في جوف حمارك هذا؟ قال: نعم، وهذا قول الحلولية وهو كفر صريح لا إشكال فيه. وقالت الأشعرية: لا يجوز وصفه بأنه على العرش ولا في السماء.
ثم ذكر آيات وأحاديث دالة على علو الله إلى أن قال: ولأن المسلمين مجمعون عند الدعاء على رفع أبصارهم وأكفهم إلى نحو السماء؛ فدل على صححة ما قلناه. ويقال لهم: إذا لم يكن الله فوق العرش بمعنى يختص بالعرش كما قال أصحاب الحديث، وكان بكل مكان، فقولوا: إنه تحت الأرض والسماء فوقها فهو تحت التحت وأنه فوق الفوق والأشياء تحته وهذا متناقض.
فإن احتجوا بقوله تعالى : ﴿مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ﴾ [المجادلة: ٧]، وبقوله تعالى: ﴿وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ ﴾ [الحديد: ٤].
فالجواب: أن المراد بالآية ﴿مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَة﴾ [المجادلة: ٧] أي من حديث بَيْنَ ثلاثة إلا هو رابعهم بالإحاطة والعِلْمِ ... وكذلك المعنى في قوله تعالى: ﴿وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ ﴾ [المجادلة: 7]. إلى قوله ﴿إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ﴾ [المجادلة: 7]، يريد بالإحاطة والعِلْمِ لا بالذَّاتِ والحلول.
يَدُلُّ على صحة هذا التأويل قوله تعالى: ﴿أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثلاثة ﴾ [المجادلة: ٧] الآية .. إلى قوله : ﴿إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ﴾ [المجادلة: ٧] فبدأ الآيةَ بالعِلْمِ وختمها بالعِلْمِ، فَدَلَّ على أنَّ المراد بذلك كُلِّهِ الإخبارُ عَنْ عِلْمِهِ وَإِحَاطَتِهِ بهم في جميع هذه الحالات.
فإن احْتَجوا بقوله تعالى: ﴿وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهُ وَفِي الْأَرْضِ إِلَهُ ﴾ [الزخرف: ٨٤] فأخبر أنه إله بكل واحد منهما।
فالجواب: أنَّ المراد بالآية أنه عند أهلِ السَّماءِ إله وعند أهل الأرض إله كما يقال : فلان نبيل مطاع في العراق ونبيل مطاع في الحجاز, يَعْنُونَ أَنَّهُ نبيل مطاع فيهما وليس يَعْنُونَ أنَّ ذاتَهُ في العراق وفي الحجاز.
فإن احتجوا بقوله تعالى: ﴿إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا ﴾ [النحل : ۱۲۸] وبقوله تعالى: ﴿إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى﴾ [طه: ٤٦].
فالجواب : أن المراد على أنه أراد بالحفظ والرعاية والنصر والتأييد مع الذين اتقوا ومع المحسنين ومع موسى وهارون عليهما السلام, فلا يُقَاسُ على هذا أنه مع الفساق والكفَّارِ، ولا مَعَ الكلاب والخنازير تعالى الله عن ذلك عُلُوًّا كبيرًا.
وَتَأَوَّلَتِ المعتزلة ومَنْ تَابَعَهُم قول الله سبحانه: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾ [طه: ٥] على أن الاستواء هو الاستيلاء والقهر واحتجوا بقول الشاعر : قد استوى بشر على العراق ... مِنْ غَيْرِ سَيْفٍ وَلَا دَمٍ مِهْرَاقِ
والجواب: أَنَّهُ لا يُقَالُ هذا إلا لمن كان عاجزا عن قهر شيء ثم قهره واستولى عليه، والله سبحانه قاهر ومُسْتَول على كل شيء.
ثم نقل كلام ابن الأعرابي في إبطال تفسير الاستواء بالاستيلاء ثم قال:
ولو كان ما ذكروه صحيحًا لجاز أنْ يُقالَ: إِنَّ الله مُسْتَو على الحشوش والأمكنة التي يرغبُ عَنْ ذِكرِهَا لأَنَّهُ مُسْتَول عليها، ولو كان كذلك لم يكن لذكره للعرش معنى.
وأما الأشعرية فقالوا: إذا قلتم إنَّه على العرش أفضى إلى أنه يكون محدودًا أو أنَّه يفتقر إلى مكان وجهة تحيط به، وتعالى الله عن ذلك.
والجواب: أنا وإن قلنا إنَّهُ على العرش كما أخبر بكتابه وأخبر به نبيه صلى الله عليه وسلم فلا نقول إنَّه محدود، ولا إنَّهُ يفتقر إلى مكان، ولا تحيط به جهة ولا مكان، بل كان ولا مكان ولا زمان ثمَّ خلق المكان والزمان، واستوى على العرش بلا كيفية، ولم يخلق العرش لحاجته إليه، بل كما حكي عن ذي النون المصري لما قيل له: ما أراد الله بخلق العرش؟ فقال: أراد الله أن لا تتية قلوب العارفين ولم يَخْلُقه لحاجته إليه، فإذا قيل للعبد المؤمن أينَ اللهُ؟ قال: عَلَى العرش.
"আমরা এ কিতাবের শুরুতে বলেছি যে, আসহাবুল হাদীস ও আহলুস সুন্নাহ'র নিকট আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং সত্তাগতভাবে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, 'আরশের উপর উঠেছেন, আসমানসমূহের উপরে, তবে সেটাকে স্পর্শ করে নয়, তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
কাররামিয়‍্যাহ ফেরকার লোকেরা বলে, তিনি 'আরশের স্পর্শে আছেন। মু'তাযিলারা বলে, নিশ্চয় তাঁর সত্তা সর্বত্র, এমনকি ময়লা ও জীবজন্তুর পেটেও।
বিশর আল-মারীসীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কি তোমার এ গাধার পেটেও? সে বলেছিল, হ্যাঁ। বস্তুত এটি হুলুলী সম্প্রদায়ের মত, এটা স্পষ্ট কুফুরী, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর আশ'আরী ফেরকার লোকেরা বলে, তাঁকে 'আরশের উপর কিংবা আসমানের উপর এ গুণে গুণান্বিত করা যাবে না।"
তারপর গ্রন্থকার আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন সেটা সাব্যস্ত করার জন্য কুরআনের আয়াত ও রাসূলের হাদীস থেকে অনেক দলীল নিয়ে আসেন। অবশেষে বলেন,
আরও যে কারণে আল্লাহকে উপরে মানতে হবে তা হচ্ছে, মুসলিমগণ তাদের দো'আর সময় চক্ষু উপরে উঠানো, হাতসমূহ উপরের দিকে প্রসারিত করার ব্যাপারে একমত যা প্রমাণ করে যে, আমরা যা বলেছি তা বিশুদ্ধ।
আর তাদেরকে বলা হবে, যদি আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর না থাকেন, 'আরশের সাথে বিশেষ অর্থে, যেমনটি আসহাবুল হাদীসগণ বলে থাকেন, আর যদি তিনি সব জায়গায় থাকেন, তাহলে তোমরা বল, তিনি যমীনের নিচে আর আসমান যমীনের উপরে, সে হিসেবে তিনি তো নিচের নিচে হয়ে যান। আবার সব জায়গায় থাকার মর্ম অনুসারে তিনি উপরেরও উপরে থাকতে হয়, আর সবকিছু তাঁর নিচে থাকতে হয়, এভাবে তো পরস্পর বিরোধী বিষয়ে পরিণত হয়।
তারপর যদি তারা বলে, "তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] অনুরূপ "তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন যেখানেই তোমরা থাক না কেন।” [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ০৪] এ বাণীসমূহের কী অর্থ?
উত্তর হবে, সূরা মুজাদালার "তিনজনের শলা-পরামর্শের তিনি অবশ্যই তাদের চতুর্থজন হন" [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭], এর অর্থ আয়ত্ব ও জ্ঞানের মাধ্যমে। অনুরূপভাবে "ছয়জনের মাঝেও তিনি ষষ্ঠজন হন" [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] এর অর্থও অনুরূপ। তারপর আল্লাহ বলেছেন, "তবে তিনি তাদের সাথেই আছেন যেখানেই তারা থাকুক না কেন" অর্থাৎ তিনি আয়ত্ব ও ইলমে তাদের সাথে আছেন, সত্তাগতভাবে বা সৃষ্টির ভিতরে প্রবেশের মাধ্যমে নয়।
এ ব্যাখ্যা বিশুদ্ধ হওয়ার প্রমাণ হচ্ছে, আল্লাহর বাণী, "পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না।" [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] এতে আয়াতের শুরু হয়েছে ইলম বা জ্ঞান দিয়ে, আর শেষ হয়েছে, ইলম বা জ্ঞান দিয়ে। সুতরাং বুঝা গেল যে, এ পুরো আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাঁর জ্ঞানের সংবাদ প্রদান করা এবং সকল অবস্থাতেই তিনি সকলকে (জ্ঞান ও কুদরতে) পরিবেষ্টন করে আছেন সেটার সংবাদ প্রদান করা।
আর যদি তারা আল্লাহর বাণী, “আর তিনি এমন সত্তা যিনি আসমানেও মা'বুদ, যমীনেও মা'বুদ" [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮৪] এ আয়াত দিয়ে দলীল গ্রহণ করতে চায় এবং বলে যে, এখানে তো বলা হয়েছে তিনি আসমান ও যমীনের প্রত্যেকটিতে ইলাহ।
তখন জবাব বল, আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, তিনি আসমানের অধিবাসীদেরও মা'বুদ, আবার তিনি যমীনের অধিবাসীদেরও মা'বুদ। যেমন বলা হয়, "অমুক ইরাকে ভদ্র ও আনুগত্য পাওয়ার অধিকারী, অনুরূপভাবে সে হিজাযেও ভদ্র ও আনুগত্য পাওয়ার অধিকারী” তখন তার অর্থ হয়, সে উভয় স্থানেই আনুগত্য পায়, তার অর্থ এটা নয় যে, তার সত্তা ইরাকে ও হিজাযে অবস্থিত।
তারপর যদি তারা আল্লাহর বাণী, "নিশ্চয় আল্লাহ যারা তাকওয়াবান তাদের সাথে আছেন" [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৮], অনুরূপ আল্লাহর বাণী "আমি তোমাদের দু' জনের সাথে আছি, শুনছি ও দেখছি” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৪৬] আয়াতদ্বয় দিয়ে দলীল দেয়, তখন তার উত্তর হবে, এগুলোতে উদ্দেশ্য হচ্ছে, হিফাযত, দেখা-শোনা, সাহায্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি নেককারদের সাথে, মুহসিনদের সাথে, মূসা ও হারুনের সাথে আছেন। এটাকে কখনও কিয়াস করে বদকার, কাফির লোকদের সাথে, কিংবা কুকুর ও শূকরের সাথে থাকার কথা বলা যায় না, আল্লাহ তাদের এসব কথা থেকে কতই না ঊর্ধ্বে।
আর মু'তাযিলা ও তাদের অনুসারীরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বাণী "রহমান 'আরশের উপর 'ইস্তাওয়া' করেছেন” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] এর অপব্যাখ্যা করে বলে, এখানে ইস্তেওয়া বলে 'ইস্তাওলা' তথা অধিকার করা, অধীনস্থ করা বুঝানো হয়েছে। তারা দলীল হিসেবে এক কবির কবিতাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে থাকে, সে কবিতাটি হচ্ছে,
قَدِ اسْتَوَى بِشْرٌ عَلَى الْعِرَاقِ ... مِنْ غَيْرِ سَيْفٍ وَلاَ دَمِ مِهْرَاقِ
'বিশর ইরাক অধিকার করেছে, *** কোনো প্রকার তরবারী ও রক্ত প্রবাহিত করা ছাড়াই'
তার উত্তর হচ্ছে, অধিকার করা এটি তখনই বলা হবে যখন কেউ কোনো কিছু অধিকার করতে অক্ষম হওয়ার পর প্রচেষ্টা ব্যয় করার পর সেটাকে দাপট খাটিয়ে অধিকার করে নেয়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তো পূর্ব থেকেই দাপুটে নামের অধিকারী এবং সবকিছুই তাঁর অধিকারে।"¹
তারপর তিনি ইবনুল আ'রাবীর সে বক্তব্য নিয়ে এসেছেন, যেখানে ইস্তেওয়াকে ইস্তাওলা দ্বারা ব্যাখ্যা করাকে বাতিল হিসেবে গণ্য করেছেন। তারপর বলেন,
"যদিও তারা যা বলে শুদ্ধ হতো তবে এটা বলাও তো শুদ্ধ হতে হয় যে, তিনি (আল্লাহ) ময়লার জায়গা ও অনুরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত স্থানের উপরও অধিষ্ঠিত হয়েছেন; কারণ তিনি সেটা অধিকারে রেখেছেন। যদি সেটাই অর্থ হয় তো 'আরশের কথা বর্ণনা করার কোনো মানে থাকে না। আশ'আরীরা বলে, যদি আল্লাহ তা'আলাকে 'আরশের উপর বলা হয়, তবে তাঁকে তো সীমাবদ্ধ করা হয়ে গেল, তাঁর জন্য এমন স্থানের প্রয়োজন দেখা দিল যা তাকে ঘিরে রাখবে, আর আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।
এর উত্তর হচ্ছে, আমরা যদিও বলি যে, তিনি 'আরশের উপরে যেমনটি আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাদীসে আমাদের জানিয়েছেন, কিন্তু আমরা এর দ্বারা কখনও বলি না যে, তিনি সীমাবদ্ধ, অনুরূপ তাঁর স্থানের প্রয়োজন রয়েছে এটাও আমরা বলি না, আরও বলি না যে, দিক বা স্থান তাঁকে ঘিরে রাখতে পারে, বরং তিনি ছিলেন তখনও যখন কোনো স্থান ছিল না, কাল ছিল না, তারপর তিনি স্থান ও কাল সৃষ্টি করেছেন। আর 'আরশের উপর উঠেছেন কোনো ধরন নির্ধারণ ছাড়াই। তিনি তাঁর প্রয়োজন পূরণের জন্য 'আরশ সৃষ্টি করেননি। বরং যেমনটি যুন-নূন আল-মিসরী থেকে বর্ণিত আছে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহ তা'আলা 'আরশ সৃষ্টি দ্বারা কী ইচ্ছা করেছেন? তিনি উত্তরে বললেন, আল্লাহ তা'আলা ইচ্ছা করলেন যেন তাকে যারা চিনে জানে তাদের অন্তর দিগভ্রান্ত বা হতভম্ব হয়ে হারিয়ে না যায়, আল্লাহ তা'আলা 'আরشকে নিজের প্রয়োজনে সৃষ্টি করেননি। সুতরাং যখন ঈমানদার দাসকে জিজ্ঞেস করা হবে, আল্লাহ কোথায়? সে জবাবে বলবে, 'আরশের উপর।”²
টিকাঃ
১. আল-ইন্তিসার ফির রাদ্দি আলাল মু'তাযিলাতিল কাদারিয়‍্যাতিল আশরার' (২/৬০৭-৬২২)।
২. আল-ইন্তিসার ফির রাদ্দি আলাল মু'তাযিলাতিল কাদারিয়‍্যাতিল আশরার' (২/৬০৭-৬২২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00