📄 আবুল হাসান ইবন আয়-যাগূনী (৫২৭ হিজরী)
বিখ্যাত ইমাম আবুল হাসান ইবন আয-যাগুনী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, سُبْحَانَهُ عَن قَوْلِ غَاوِ مُلْحِدِ عال على العَرْشِ الرَّفِيعَ بِذَاتِهِ "তিনি সত্তাগতভাবে সুউচ্চ 'আরশের উপর উঠেছেন, পথভ্রষ্ট ও দীন বিরোধীদের কথা থেকে তিনি কতই না পবিত্র।”¹
টিকাঃ
১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৯/৬০৬)।
📄 ইমাম আবুল হাসান আল-কাভেয়ী (৫৩২ হিজরী)
শাইখুল ইসলাম আবু ইসমা'ঈল আল-হারওয়ীর ছাত্র ইমাম আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবন আবদুল মালিক আল-কারজী তার পরিচিত আকীদায় বলেন, প্রথম লাইন হচ্ছে: وشيب فودي شيب وصل الحبائب. محاسن جسمي بدلت بالمعايب আমার দেহের সৌন্দর্য খুঁতে রূপান্তরিত হয়েছে, আমার মাথার অগ্রভাগে বার্ধক্য শুরু হয়েছে বন্ধুদের সম্পর্কের বার্ধক্যের ন্যায়। সে কবিতায় অবশেষে তিনি বলেন- وأفضل زاد في المعاد عقيدة على منهج في الصدق لاحب عقيدة أصحاب الحديث فقد عقائدهم أن الإله بذاته بأرباب دين الله أسنى المراتب على عرشه مع علمه بالغوائب
ويجهل فيه الكيف جهل الشهارب وأن استواء الرب يعقل كونه ...
আখেরাতের সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে বিশুদ্ধ সত্য আকীদাহ গ্রহণ করে যাওয়া।
আসহাবুল হাদীসের আকীদাহ, তারা আল্লাহর দীনের সর্বোৎকৃষ্ট মর্যাদাপূর্ণ দরজাটি ধরে আছে।
তাদের আকীদাহ হচ্ছে, ইলাহ সত্তাগত তাঁর 'আরশের উপরে। সেখান থেকেই যাবতীয় গায়েবী বিষয় তাঁর ইলমের অন্তর্ভুক্ত।
রবের 'আরশের উপর উঠার বিষয়টি বোধগম্য, তবে ধরন একেবারে অজানা।"¹
ইমাম যাহাবী বলেন, আবুল হাসান ছিলেন ইমাম দুনিয়াবিমুখ এবং শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। শাইখ আবু মুহাম্মাদ বাগাওয়ী এবং তার স্তরের সমসাময়িক। মাশরিক তথা প্রাচ্যদেশের শহরসমূহে তাঁর এই কবিতা খাস ও আম ব্যক্তিদের কাছে প্রসিদ্ধ।²
টিকাঃ
১. যাহাবী, আল-'আরش (২/৪৬৯-৪৭০), নং ২৮২ অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
২. যাহাবী, আল-আরش, (২/৪৭০) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
📄 আবুল কাসিম ইসমা‘ঈল ইবন মুহাম্মাদ আত-তাইমী (৫৩৫ হিজরী)
ইমাম আবুল কাসিম ইসমা'ঈল ইবন মুহাম্মাদ আত-তাইমী আল্লাহ তা'আলার গুণাবলি সম্পর্কে বলেন,
وَهُوَ الْعَلِي الْأَعْلَى، وَعَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى تبارك تَعَالَى، ظَاهر في ملكه وقدرته، قد حجب عن الخلق كنه ذاته، ودلهم عَلَيْهِ بآياته».
"তিনি সর্বোচ্চ মহান সত্তা, মহান সত্তা 'আরশের উপরে উঠেছেন, তাঁর রাজত্ব ও মালিকানার মাধ্যমে প্রকাশিত, তাঁর আপন সত্তার প্রকৃত ধরনকে সৃষ্টি থেকে পর্দাবৃত করে রেখেছেন, তাদেরকে তাঁর ব্যাপারে তাঁর বিভিন্ন নিদর্শনের মাধ্যমে জানিয়েছেন।”¹
উক্ত কিতাবে আরও এসেছে,
ويجب الإيمان بِصِفَاتِ اللهِ تَعَالَى كَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} ، وقوله: ﴿لما خلقت بيدي) فَهَذَا وَأَمْثَالِه بِمَا صَحَّ نَقله عَن رَسُول الله - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَإِن مَذْهَبْنَا فِيهِ وَمذهب السلف إثباته وإجراؤه عَلَى الظَّاهِر ونفي الْكَيْفِيَّة والتشبيه عَنهُ، وَقد نفى قوم الصفات فأبطلوا ما أثبته الله تَعَالَى، وتأولها قوم خلاف الظاهر فَخَرِجُوا من ذلك إلى ضرب من التعطيل والتشبيه، وَالْقَصْد إِنما هو سلوك الطَّرِيقَة المتوسطة بين الأمرين، لأَنَّ دين اللهِ تَعَالَى بَين الغالي والمقصر عَنهُ.
وَالْأَصْل فِي هَذَا أَنِ الْكَلَام فِي الصَّفَات فرع عَلَى الْكَلَام في الذات، وإثبات الله تَعَالَى إِنما هُوَ إِثبات وجود لَا إِثبات كيفيَّة، فَكَذَلِكَ إِثبات صفاته إنما هُوَ إِثبات وجود لَا إِثبات كَيْفيَّة، فَإِذَا قُلْنَا يَد، وسمع، وبصر، وَنَحْوهَا، فَإِنَّمَا هِيَ
صفات أثبتها الله لنَفْسِهِ ولم يقل معنى اليَد الْقُوَّة، وَلَا معنى السمع وَالْبَصَر : العلم والإدراك، وَلَا نشبهها بِالْأَيْدِي والأسماع والأبصار، ونقول إنما وجب إثباتها لأن الشرع ورد بها ، وَوَجَب نفي النَّشْبِيهِ عَنْهَا لَقَوْله تَعَالَى: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعِ الْبَصِير ) ، كَذَلِكَ قَالَ عُلَماء السلف فِي أَخْبَار الصفات: أمروها كَمَا جَاءَت.
"মহান আল্লাহর সিফাত বা গুণগুলোর উপর ঈমান আনা ফরয; যেমন আল্লাহর বাণী, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন", অনুরূপ আল্লাহর বাণী, "যা আমি নিজ দু' হাতে সৃষ্টি করেছি” এ আয়াত ও এ ধরনের যা কিছু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আসা সাব্যস্ত হয়েছে তাতে আমাদের অভিমত ও সালাফে সালেহীনের অভিমত হচ্ছে, এগুলোকে সাব্যস্ত করা, এগুলোর প্রকাশ্য অর্থের ওপর চালিয়ে যাওয়া, কোনো প্রকার ধরণ নির্ধারণ ও সাদৃশ্য স্থাপনকে অস্বীকার করা। কোনো কোনো গোষ্ঠী সিফাত বা আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে এমনভাবে যে, তারা আল্লাহ যা সাব্যস্ত করেছেন তা বাতিল করেছে, আরেক গোষ্ঠী প্রকাশ্য অর্থের বাইরে গিয়ে সেগুলোর অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে। এভাবে তারা এক ধরনের অর্থশূন্য করা ও সাদৃশ্য স্থাপন করার দিকে চলে গেছে। বস্তুত সঠিক পন্থা হচ্ছে, এতদুভয় প্রান্তিকতার মাঝখানে মধ্যপন্থা অবলম্বন। কারণ, আল্লাহর দীনের অবস্থান হচ্ছে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝখানে।
বস্তুত এ বিষয়ে মূলনীতি হচ্ছে, আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে কোনো কথা বলাকে আল্লাহর সত্তার ওপর কথা বলার শাখা হিসেবে নিতে হবে। আর আল্লাহর সত্তা সাব্যস্ত করার বিষয়টি যেহেতু আল্লাহর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা, ধরণ সাব্যস্ত করা নয়, সেহেতু আল্লাহর গুণ সাব্যস্ত করাও সেগুলোর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা, সেগুলোর ধরন সাব্যস্ত করা নয়। সুতরাং যখন আমরা বলি, হাত, শ্রবণ, দেখা ইত্যাদি, তখন এভাবে নিতে হবে যে, এগুলো এমন গুণ যা আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেননি হাত অর্থ শক্তি। আবার শ্রবণ ও দেখা অর্থও জ্ঞান ও আয়ত্ব করা বলেননি। আবার আমরা সেগুলোকে হাত, কান ও চোখের সাথে সাদৃশ্য দিয়েও সাব্যস্ত করব না। বরং বলবো, এগুলো এজন্য সাব্যস্ত করবো, কারণ শরী'আতে এগুলো সাব্যস্ত করার কথা এসেছে, তবে এ সাব্যস্তকরণের সময় কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন থেকে দূরে থাকবো। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "তার মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” অনুরূপভাবে সালাফে সালেহীন আলেমগণ বলতেন এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে নাও (কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ব্যতীতই)।"²
আরও বলেন,
قَالَ أهل السنة: خلق الله السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَكَانَ عَرْشِه عَلَى المَاء مخلوقا قبل خلق السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ. ثمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْش بعد خلق السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَلَى مَا ورد بِهِ النَّص. وَلَيْسَ مَعْنَاهُ الماسة، بل هُوَ مستو عَلَى عَرْشِه بِلَا كَيْفَ، كما أخبر عن نفسه.
"আহলুস সুন্নাহ বলেন, আল্লাহ তা'আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁর 'আরশ আসমান ও যমীন সৃষ্টির আগেই পানির উপর সৃষ্ট ছিল। তারপর তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টির পরে 'আরশের উপর উঠলেন যেমনটি কুরআন ও হাদীসের ভাষ্যে এসেছে। তবে এর অর্থ স্পর্শ করা নয়, বরং তিনি 'আরশের উপরে সমুন্নত কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ব্যতীতই, যেমন তিনি তাঁর নিজের ব্যাপারে আমাদেরকে জানিয়েছেন।”³
টিকাঃ
১. আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (১/১৮৫-১৮৬)।
২. আবুল কاسেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (১/২৬৬)।
৩. আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (২/১১৬)।
📄 ইমাম আলী ইবন মুসাফির আল-উমাওয়ী (৫৫৫ হিজরী)
ইমাম 'আদী ইবন মুসাফির আল-উমাওয়ী আল-হাক্কারী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ' গ্রন্থে বলেন, «وأنَّ اللهَ عَلى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ، كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ فِي كِتَابِهِ وعلى لِسَانِ نَبِيِّهِ بلا كَيْف، أحاطَ بِكُلِّ شيء علما وهو بكُلِّ شيء عليم».
"আর এটাও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর, সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা, যেমনটি তিনি নিজে তাঁর কিতাবে গুণান্বিত করেছেন আর তাঁর রাসূলের জবানীতে এসেছে, কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ছাড়াই”।¹
টিকাঃ
১. ই'তিক্কাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আহ, পৃ. ৩০।