📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবুল মুযাফফার মানসুর আস-সাম‘আনী (৪৯৯ হিজরী)

📄 আবুল মুযাফফার মানসুর আস-সাম‘আনী (৪৯৯ হিজরী)


ইমাম আবুল মুযাফফার মানসূর ইবন মুহাম্মাদ আস-সাম'আনী রাহيمাহুল্লাহ তার বিভিন্ন গ্রন্থে সহীহ আকীদাহ-বিশ্বাস তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে তাঁর আকীদাহ- বিশ্বাস সালাফে সালেহীনের আকীদাহ অনুযায়ী ছিল, তিনি সেটা প্রচার-প্রসার করেছেন, তার বিপরীত আকীদাহ'র খণ্ডন করেছেন। যেমন, * আল্লাহ্র গুণাবলি সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি উত্তরে বলেন, عليكم بدين العجائز وصبيان الكتاتيب "তোমরা বৃদ্ধ এবং মক্তবের শিশুদের আকীদাহ গ্রহণ কর।”¹ উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের আকীদাহ এখনো নষ্ট হয়নি। তারা কালামশাস্ত্র ও তার লোকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়নি। তাদের বিশুদ্ধ আকীদাই তোমরা গ্রহণ করে নাও। * তিনি তাঁর তাফসীরে আল্লাহ্র লজ্জা, চেহারা, নৈকট্য, আসা, ভালোবাসা, হাত ইত্যাদি বিভিন্ন সিফাত সাব্যস্ত করেছেন। আর তিনি আল্লাহর 'আরশের উপর উঠার আকীদাহ সাব্যস্ত করতে গিয়ে বলেন, ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ إِلَى ٱلسَّمَاءِ قَالَ ابْن عَبَّاس وَأكثر المفسّرين من السلف: أي ارتفع وعلا إِلَى ٱلسَّماء.
"আল্লাহর বাণী, 'তারপর তিনি আসমানের উপর উঠলেন' এখানে ইস্তেওয়া এর অর্থ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইবন 'আব্বাস ও অধিকাংশ সালাফে সালেহীন তাফসীরকারগণ বলেন, এর অর্থ হলো, আসমানের উপরে উঠলেন ও ঊর্ধ্বে উঠলেন।”²
অন্যত্র সূরা আল-আ'রাফের ৫৪ নং আয়াতে আসা 'ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরش' এর তাফসীরে বলেন,
(ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ ) أول المعتزلة الاستواء بِالاسْتِيلاء، وأنشدوا فِيهِ: قد اسْتَوَى بشر على العراق ... من غير سيف ودم مهراق)
( وأما أهل السنة فيتبرءون من هَذَا التَّأْوِيل، وَيَقُولُونَ : إِن الاستواء على الْعَرْشِ صفة الله - تَعَالَى - بِلَا كَيْفَ، وَالْإِيمَانِ بِهِ وَاجِب، كَذَلِكَ يُحكى عَن مالك بن أنس، وغيره من السلف، أَنهم قَالُوا فِي هَذِهِ الْآيَةِ: الْإِيمَانَ بِهِ وَاجِب، وَالسُّؤَالِ عَنهُ بِدعة.
"আল্লাহ বলেন, 'তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন', এখানে মু'তাযিলা সম্প্রদায় 'ইস্তেওয়া' শব্দকে 'ইস্তিইলা' বা দখল করা অর্থে অপব্যাখ্যা করেছে। তারা তাদের সে দাবির সপক্ষে দলীল হিসেবে যে কবিতা পেশ করেছেন তা হচ্ছে, বিশর ইরাকের দখলদারিত্ব গ্রহণ করল কোনো প্রকার তরবারী কিংবা রক্তপাত ছাড়াই
তারা বলেন, এখানে 'ইস্তেওয়া' শব্দটি দখলদারিত্বের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত তাদের এসব অপব্যাখ্যা থেকে নিজেদের মুক্ত ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, 'আল্লাহর 'আরশে উঠা, আল্লাহ তা'আলার একটি গুণ। কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ব্যতিরেকে তার ওপর ঈমান আনা কর্তব্য। যেমনটি ইমাম মালিক ইবন আনাস ও অন্যান্য সালাফগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে। তারা সবাই বলেছেন, এর অর্থের ওপর ঈমান আনা ফরয। তার ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত।”³
অন্যত্র সূরা ত্বা-হা এর ৫ নং আয়াতের তাফসীরে বলেন,
وَقَوْلُهُ: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ( اعْلَمْ أَنَّ مخارج الاستواء فِي اللُّغَةِ كَثِيرَة: وَقد يكون بِمَعْنَى الْعُلُو، وَقد يكون بِمَعْنى الاسْتِقْرَار، وقد يكون بِمَعْنى الاستيلاء - على بعد - وقد يكون بِمَعْنى الإقبال. والمذهب عِنْد أهل السنة أَنه يُؤْمِن بِهِ وَلَا يكيف.
"আল্লাহর বাণী, 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন', জেনে রাখ, 'ইস্তেওয়া' শব্দটির ভাষাগত বিবিধ অর্থ বের করা যায়, কখনও কখনও অর্থ হয়, উপরে উঠা, কখনও কখনও অর্থ করা হয়, উপরে থাকা। আবার কখনো কখনো 'অধিকার করা' অর্থও করা হয়ে থাকে তবে সেটা অনেক দূরবর্তী অর্থ, আবার কখনো কখনো অগ্রসর হওয়ার অর্থ হয়।
আর আহলুস সুন্নাহ এর মত হচ্ছে, এটার উপর ঈমান আনতে হবে, ধরন নির্ধারণ করা যাবে না।”⁴
টিকাঃ
১. ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (১২/১৬৪)।
২. তাফসীর আস-সাম'আনী (১/৬৩)।
৩. তাফসীর আস-সাম'আনী (২/১৮৮)।
৪. তাফসীর আস-সাম'আনী (৩/৩২০)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবুল ফাতহ নসর ইবন ইবরাহীম আল-মাকদেসী, আশ শাফে‘য়ী (৪৯০ হিজরী)

📄 ইমাম আবুল ফাতহ নসর ইবন ইবরাহীম আল-মাকদেসী, আশ শাফে‘য়ী (৪৯০ হিজরী)


ইমাম আবুল ফাতহ নাসর ইবন ইবরাহীম আল-মাক্বদেসী, আশ-শাফে'য়ী বলেন,
وَأَنَّ اللهَ تَعَالَى مُسْتَو، بَائِنُ مِنْ خَلْقِهِ، كَمَا قَالَ فِي كِتَابِهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ، أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا، وَأَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ عَدَدًا، لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ)
"আর নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপরে উঠেছেন, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, যেমনটি আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় তাঁর কিতাবে বলেছেন, "তিনি সবকিছু ইলম দিয়ে পরিবেষ্টন করে আছেন", "আর তিনি সবকিছুকে যথাযথ হিসেব করে রেখেছেন" তাঁর মত কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা”।¹
টিকাঃ
১. মুখতাসার আল-হুজ্জাহ 'আলা তারিকিল মাহাজ্জাহ (২/১); মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ২৭৪।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ মুহাম্মাদ হুসাইন ইবন মাসউদ আল-বাগাভী (৫১০ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ মুহাম্মাদ হুসাইন ইবন মাসউদ আল-বাগাভী (৫১০ হিজরী)


ইমাম, মুহিউস সুন্নাহ আবু মুহাম্মাদ হুসাইন ইবন মাসউদ আল-বাগাওয়ী সহীহ আকীদাহ'র প্রচার ও প্রসারে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন, তিনি আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে সালাফে সালেহীনের আকীদাহ'র ধারক-বাহক ছিলেন। তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে আল্লাহ তা'আলার জন্য আঙ্গুল, নফস, চেহারা, চোখ, হাত, পা, আসা, আগমন করা, অবতরণ করা, হাসা, শোনা, দেখা ইত্যাদি গুণসমূহ সাব্যস্ত করেছেন। যেমন ইমাম বাগাওয়ী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলেন,
وَالإِصْبَعُ المُذْكُورَةُ فِي الْحَدِيثِ صِفَةٌ مِنْ صِفَاتِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَكَذَلِكَ كُلُّ مَا جَاءَ بِهِ الْكِتَابُ أَوِ السُّنَّةُ مِنْ هَذَا الْقَبِيلِ فِي صِفَاتِ اللهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى، كَالنَّفْسِ، وَالْوَجْهِ وَالْعَيْنِ، وَالْيَدِ، وَالرِّجْلِ، وَالإِثْيَانِ، وَالْمَجِيءِ، وَالنُّزُولِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، وَالِاسْتِوَاءِ عَلَى الْعَرْشِ، وَالضَّحِكِ، وَالْفَرَحِ.
قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى لِمُوسَى: وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي [ طه : ٤١ ] ، وَقَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي [طه: ٣٩]، وَقَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى: كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلا وَجْهَهُ [ الْقَصَص: ۸۸]، وَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ [الرَّحْمَن : ۲۷] ، وَقَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ [الْمَائِدَة: ٦٤]، وَقَالَ: يَا إِبْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ [ ص: ٧٥]، وَالأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ [الزمر: ٦٧]، هَلْ يَنْظُرُونَ إِلا أَنْ يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِنَ الْغَمَامِ [الْبَقَرَةِ: ٢١٠]، وَقَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى: وَجَاءَ رَبُّكَ وَالمَلَكُ صَفًّا صَفًّا [الْفَجْر : ۲۲] ، وَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى [طه: ٥] ، وَقَالَ اللهُ تَعَالَى : ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ [الْفَرْقَانِ: ٥٩].
وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَنْزِلُ رَبُّنَا كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ». وَرَوَى أَنَسٌ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ يُلْقَى فِيهَا، وَتَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ، حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا قَدَمَهُ.
وَفِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي آخِرِ مَنْ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ : فَيَضْحَكُ اللَّهُ مِنْهُ، ثُمَّ يَأْذَنُ لَهُ فِي دُخُولِ الْجَنَّةِ». وَفِي حَدِيثِ جَابِرٍ : فَيَتَجَلَّى هُمْ يَضْحَكُ».
وَفِي حَدِيثِ أَنَسٍ، وَغَيْرِهِ: «اللَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدٍ مِنْ أَحَدِكُمْ يَسْقُطُ عَلَى بَعِيرِهِ وَقَدْ أَضَلَّهُ فِي أَرْضِ فَلَاةٍ».
فَهَذِهِ وَنَظَائِرُهَا صِفَاتُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَرَدَ بِهَا السَّمْعُ، يَجِبُ الإِيمَانُ بِهَا، وَإِمْرَارُهَا عَلَى ظَاهِرِهَا مُعْرِضًا فِيهَا عَنِ التَّأْوِيلِ، مُجْتَنِبًا عَنِ التَّشْبِيهِ، مُعْتَقِدًا أَنَّ الْبَارِي سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى لَا يُشْبِهُ شَيْءٌ مِنْ صِفَاتِهِ صِفَاتِ الْخَلْقِ، كَمَا لَا تُشْبِهُ ذَاتُهُ ذَوَاتِ الْخَلْقِ، قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ [الشورى: ١١].
وَعَلَى هَذَا مَضَى سَلَفُ الأُمَّةِ وَعُلَمَاءُ السُّنَّةِ، تَلَقَّوْهَا جَمِيعًا بِالإِيمَانِ وَالْقَبُولِ، وَتَجَنَّبُوا فِيهَا عَنِ التَّمْثِيلِ وَالتَّأْوِيلِ، وَوَكَلُوا الْعِلْمَ فِيهَا إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، كَمَا أَخْبَرَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَنِ الرَّاسِخِينَ فِي الْعِلْمِ، فَقَالَ عَزَّ وَجَلَّ: وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا [آل عمران: ٧].
قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: كُلُّ مَا وَصَفَ اللهُ تَعَالَى بِهِ نَفْسَهُ فِي كِتَابِهِ، فَتَفْسِيرُهُ قِرَاءَتُهُ، وَالسُّكُوتُ عَلَيْهِ، لَيْسَ لأَحَدٍ أَنْ يُفَسِّرَهُ إِلَّا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَرُسُلُهُ.
وَسَأَلَ رَجُلٌ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ عَنْ قَوْلِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى [طه: ٥] كَيْفَ اسْتَوَى؟ فَقَالَ : الاسْتِوَاءُ غَيْرُ مَجْهُولٍ، وَالْكَيْفُ غَيْرُ مَعْقُولٍ، وَالإِيمَانُ بِهِ وَاجِبٌ، وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ، وَمَا أَرَاكَ إِلَّا ضَالًا، وَأَمَرَ بِهِ أَنْ يُخْرَجَ مِنَ الْمُجْلِسِ.
وقَالَ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ: سَأَلْتُ الأَوْزَاعِيَّ، وَسُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، وَمَالِكَ بْنَ أَنَسٍ عَنْ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ فِي الصَّفَاتِ وَالرُّؤْيَةِ، فَقَالَ: أَمِرُّوهَا كَمَا جَاءَتْ بِلا كَيْفِ.
وَقَالَ الزُّهْرِيُّ: عَلَى اللهِ الْبَيَانُ، وَعَلَى الرَّسُولِ الْبَلاغُ، وَعَلَيْنَا التَّسْلِيمُ. وَقَالَ بَعْضُ السَّلَفِ : قَدَمُ الإِسْلامِ لَا تَثْبُتُ إِلَّا عَلَى قَنْطَرَةِ التَّسْلِيمِ.
قَالَ أَبُو الْعَالِيَةِ : ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ [الْبَقَرَةِ: ۲۹] ارْتَفَعَ فَسَوَّى خَلْقَهُنَّ. وَقَالَ مُجَاهِدٌ : اسْتَوَى [الْبَقَرَةِ: ۲۹]: عَلا عَلَى الْعَرْشِ.
"আর হাদীসে বর্ণিত আঙুল আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে একটি গুণ। অনুরূপভাবে কুরআন ও সুন্নায় আল্লাহ তা'আলার এ রকম যত গুণ এসেছে যেমন, নফস, চেহারা, চোখ, হাত পা, আসা, আগমন করা, নিকটতম আসমানে অবতরণ করা, 'আরশের উপরে উঠা, হাঁসা ও খুশি হওয়া।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা মূসা 'আলাইহিস সালামকে বলেন, "আর আমি আপনাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছি।" [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৪১] তিনি আরও বলেন, "আর যাতে আপনি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হন।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৩৬] তিনি আরও বলেন, "নেই, আল্লাহর সত্তা ছাড়া সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল।” [সূরা আল- ক্বাসাস, আয়াত: ৮৮] তিনি আরও বলেন, "আর অবিনশ্বর শুধু আপনার রবের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব।” [সূরা আর-রহমান, আয়াত: ২৭] তিনি আরও বলেন, “বরং আল্লাহর উভয় হাতই প্রসারিত।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৬৪] তিনি আরও বলেন, “হে ইবলীস! আমি যাকে আমার দু'হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সাজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?” [সূরা সাদ, আয়াত: ৭৫] তিনি আরও বলেন, "অথচ কিয়ামতের দিন সমস্ত যমীন থাকবে তাঁর হাতের মুঠিতে এবং আসmanসমূহ থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৭] তিনি আরও বলেন, "তারা কি শুধু এর প্রতীক্ষায় রয়েছে যে, আল্লাহ ও ফিরিশতাগণ মেঘের ছায়ায় তাদের কাছে উপস্থিত হবেন?" [সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২১০] তিনি আরও বলেন, "আর যখন আপনার রব আগমন করবেন ও সারিবদ্ধভাবে ফিরিশতাগণও।” [সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২২] তিনি আরও বলেন, “দয়াময় (আল্লাহ) 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] তিনি আরও বলেন, "তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৯]
অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমাদের রব প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে।”
আর আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, "জাহান্নামে ফেলা হতেই থাকবে, আর জাহান্নাম বলতেই থাকবে, আরও বেশি আছে কি? যতক্ষণ না রব্বুল ইয্যত আল্লাহ তা'আলা তাঁর পা সেটার উপর রাখছেন।"
আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে, সর্বশেষ যে জাহান্নাম থেকে বের হবে, তাতে এসেছে, "অতঃপর আল্লাহ তার ব্যাপারে হাঁসবেন, তারপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে।"
জাবের রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর হাদীসে "তখন আল্লাহ হেঁসে তাদের জন্য প্রকাশিত হবেন।"
আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু ও অন্যান্যদের হাদীসে এসেছে, "আল্লাহ তা'আলা কোনো বান্দার তাওবাতে তাঁর চেয়েও বেশি খুশী হন, যখন তোমাদের কেউ তার উট পেয়ে যাবে, অথচ সে মরুভূমিতে সেটাকে হারিয়ে ফেলেছিল"।
এগুলো এবং অনুরূপ আরও যা এসেছে, সবই আল্লাহর গুণাবলি। কুরআন ও সুন্নায় তা এসেছে, সেগুলোর অর্থের ওপর ঈমান আনতে হবে, সেগুলোকে তার প্রকাশ্য অর্থে পরিচালিত করতে হবে, তা'ওয়ীল বা অপব্যখ্যা করে দূরবর্তী অর্থ গ্রহণ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে হবে। তাশবীহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে যে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর কোনো গুণ সৃষ্টির কোনো গুণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। যেমন তাঁর সত্তা সৃষ্টির কোনো সত্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। মহান আল্লাহ সুবাহানাহু বলেন, "তাঁর মতো কোনো কিছু নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১]
আর এ নীতির ওপরই উম্মতের সালাফে সালেহীন, সুন্নাহর ইমামগণ সবাই গত হয়েছেন। তারা এগুলোর ওপর ঈমান এনেছেন এগুলোকে গ্রহণ করে নিয়েছেন। এগুলো থেকে তামছীল (অনুরূপ) ও তা'ওয়ীল (অপব্যাখ্যা) করা থেকে দূরে থেকেছেন। তারা এগুলোর প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে সোপর্দ করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ইলমে মজবুত লোকদের সম্পর্কে বলেছেন, "আর যারা ইলমে সুদৃঢ় তারা বলে, আমরা এগুলোর ওপর ঈমান আনলাম, এসবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে।" [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ০৭]
ইমাম সুফইয়ান ইবন 'উয়াইনাহ বলেন, "মহান আল্লাহ তাঁর কুরআনে যা দিয়ে নিজেকে গুণান্বিত করেছেন সেগুলোর ব্যাখ্যা হচ্ছে, সেগুলো পাঠ করে বুঝে নিয়ে চুপ থাকা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত কারও জন্য সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার অধিকার নেই"।
এক ব্যক্তি ইমাম মালেক ইবন আনাস রাহিমাহুল্লাহকে মহান আল্লাহর বাণী "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে উঠলেন? তিনি জবাবে বললেন, "উপরে উঠার বিষয়টি অজানা নয়, এর ধরন বিবেকের যুক্তি দ্বারা প্রাপ্য বিষয় নয়, আর এর ওপর ঈমান আনা ফরয, এর ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত। আর আমি তো তোমাকে একজন পথভ্রষ্ট লোকই দেখতে পাচ্ছি, আর তাকে মজলিস থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলো।"
ইমাম ওয়ালীদ ইবন মুসলিম বলেন, আমি ইমাম আওযা'ঈ, সুফইয়ান ইবন 'উয়াইনাহ, মালেক ইবন আনাসকে আল্লাহ তা'আলার গুণাবলি ও আল্লাহ তা'আলাকে দেখার ব্যাপারে আসা হাদীসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তারা সবাই বলেছেন, “এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে বুঝে চালু করে দাও, তবে ধরন নির্ধারণ করো না।"
ইমাম যুহরী বলেন, "আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সেটা পৌঁছানো হয়েছে আর আমাদের ওপর কর্তব্য হচ্ছে সেটা মেনে নেয়া।"
সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন, ইসলামে কারও পা দৃঢ় ততক্ষণ হবে না, যতক্ষণ না মেনে নেয়ার সাঁকোতে আরোহন করবে।"
আবুল আলীয়া বলেন, 'ইস্তেওয়া ইলাস সামায়ি' [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৯] এর অর্থ হচ্ছে, "উপরে উঠলেন তারপর সেগুলোর সৃষ্টিকে সুন্দর করলেন।"
মুজাহিদ বলেন, 'ইস্তেওয়া' [সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৯] 'আরশের উপর উঠলেন”।"¹
• তিনি তার মা'আলিমুত তানযীল তাফসীরে বলেন-
ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ: قال الكلبي، ومقاتل استقر. وقال أبو عبيدة: صعد. وأولت المعتزلة الاستواء بالاستيلاء، وأما أهل السنة فيقولون: الاستواء على العرش صفة الله، بلا كيف، يجب الإيمان به.
আল্লাহর বাণী: ﴿ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ﴾ "পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন।" কালবী এবং মুকাতিল বলেছেন- তিনি অবস্থান নিয়েছেন। আবু উবায়দাহ বলেছেন- তিনি উপরে উঠেছেন। মু'তাযিলারা 'ইস্তিওয়া' শব্দটির তাওয়ীল বা অপব্যাখ্যামূলক অর্থ করেছে 'ইস্তাওলা' বা দখল করা। আহলুস সুন্নাহ বলে- 'আরশের উপরে উঠা আল্লাহর গুণ। তবে ধরন অজানা। এর প্রতি বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব।"²
অনুরূপভাবে, তিনি আল্লাহর বাণী: ﴿اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ﴾ "তারপর তিনি আসমানের উপর উঠলেন এমতাবস্থায় যে, তা ছিল ধোঁয়া" এর ব্যাখ্যায় বলেন, ইবন 'আব্বাস ও সালাফদের অধিকাংশ মুফাসসির বলেছেন: 'এখানে 'ইস্তাওয়া ইলাস সামা-য়ি' এর অর্থ, তিনি আকাশের উপরে উঠেছেন।"³
অন্যত্র তিনি আল্লাহর বাণী- ﴿وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ﴾ “আর আসমানসমূহ ও যমীনে তিনিই আল্লাহ" -এর ব্যাখ্যায় বলেন- يعني وهو إله في السموات والأرض، قال الزجاج فيه تقديم وتأخير تقديره، وهو الله يعلم سركم وجهركم في السموات والأرض অর্থাৎ তিনি আসমানসমূহে ও যমীনে ইলাহ। যাজ্জাজ বলেন, এখানে পূর্ব ও পর করা হয়েছে। আসল বাক্য হচ্ছে- তিনি আল্লাহ, আসমান ও যমীনে তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য জিনিস জানেন।⁴
অনুরূপভাবে তিনি আল্লাহর বাণী- ﴿مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ﴾ “তিনজনে এমন কোনো পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন না থাকেন" -এর ব্যাখ্যায় বলেন, জ্ঞানের দ্বারা থাকেন।⁵
টিকাঃ
১. শারহুস সুন্নাহ (১/১৬৯-১৭১)।
২. তাফসীর বাগাওয়ী (২/১৬৫)।
৩. তাফসীর বাগাওয়ী (১/৫৯)।
৪. তাফসীর বাগাওয়ী (২/৮৪-৮৫)।
৫. তাফসীর বাগাওয়ী (৪/৩০৭)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ আহমাদ উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনুল হামাদ (মৃত্যু ৫২৭)

📄 আবূ আহমাদ উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনুল হামাদ (মৃত্যু ৫২৭)


ইমাম আবু আহমাদ উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবন আহমাদ ইবনুল হাসান আল-আসবাহানী, আশ-শাফে'য়ী, যিনি ইবনুল হাদ্দাদ নামে খুব পরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁর আকীদাহ বর্ণনায় বলেন,
فالذي يجب على العبد اعتقاده ويلزمه في ظاهره وباطنه اعتماده ما دل عليه كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وإجماع الصدر الأول من علماء السلف وأئمتهم الذين هم أعلام الدين، وقدوة من بعدهم من المسلمين؛ وذلك أن يعتقد العبد ويقر ويعترف بقلبه ولسانه أن الله واحد أحد ... وأنه سبحانه مستو على عرشه فوق جميع خلقه، كما أخبر في كتابه وعلى ألسنة رسله صلى الله عليهم وسلم؛ من غير تشبيه ولا تعطيل، ولا تحريف ولا تأويل».
"বান্দার যা বিশ্বাস করা কর্তব্য, তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যে জিনিসকে মেনে নিবে, তা হচ্ছে: যা মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত প্রমাণ করে আর যা সালাফ তথা প্রথম যুগের পূর্বসূরী আলেম ও ইমামগণের ঐকমত্যের সাথে অনুমোদন করেছেন; কারণ তারা হচ্ছেন, হিদায়াতের মশাল বরদার, তাদের পরবর্তী মুসলিমদের জন্য আদর্শ। আর তা হচ্ছে, বান্দা তার অন্তর ও মুখে এটা বিশ্বাস করবে ও স্বীকার করবে ও মেনে নিবে যে, আল্লাহ এক ও একক সত্তা... আর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন, যা তাঁর সকল সৃষ্টির উপর, যেমনটি আল্লাহ তাঁর কিতাবে জানিয়েছেন এবং তাঁর রাসূলগণের জবানীতে ঘোষণা করেছেন; কোনো প্রকার সাদৃশ্য বিধান ছাড়াই, অর্থশূন্য করা ছাড়াই, বিকৃতি কিংবা অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয়া ব্যতীতই।”¹
টিকাঃ
১. ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমাউল জুয়ূশিল ইসলামিয়্যাহ, ১৭৫-১৭৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00