📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমামুল হারামাইন আবুল মা‘আলী আল-জুয়াইনী (৪৭৮ হিজরী)

📄 ইমামুল হারামাইন আবুল মা‘আলী আল-জুয়াইনী (৪৭৮ হিজরী)


ইমামুল হারামাইন আবুল মা'আলী আল-জুওয়াইনী রাহিমাহুল্লাহ কুল্লাবী-আশ'আরী আকীদাহ প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে জীবনের বেশিরভাগ শ্রম ব্যয় করেছেন। কিন্তু কখনও কখনও মানুষ নিজের ফিত্বরাতকে অস্বীকার করতে পারে না। তাঁর স্বভাবজাত যে বিশ্বাস দিয়ে আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন সেটার কাছে তার ভুল শিক্ষা পরাজিত হয়ে যায়। এমনি একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন, হাফেয হুজ্জাহ আবদুল কাদের আর-রাহাওয়ী, তিনি বলেন, আমি আবদুর রহীম ইবন আবিল ওয়াফাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবন ত্বাহের আল-মাক্বদেসীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল হাসান আল-ক্বাইরোয়ানীকে নিসাপুরে বলতে শুনেছি, যিনি উস্তাদ আবুল মা'আলী আল-জুওয়াইনীর দারসে হাজির হতেন, তিনি তার কাছে কালামশাস্ত্র পড়তেন, তিনি বলেন, 'আবুল মা'আলী বলেছেন, 'হে আমার সাথীরা (ছাত্ররা), তোমরা কালামশাস্ত্র নিয়ে রত হয়ো না, যদি আমি জানতাম যে, কালামশাস্ত্র আমাকে যে পর্যায়ের সমস্যায় নিপতিত করেছে, তাতে নিপতিত করবে, তাহলে অবশ্যই আমি তা শিক্ষায় রত হতাম না।'
ইমাম আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবন আলী আল-ফকীহ বলেন, আমরা ইমাম আবুল মা'আলীর মৃত্যুর সময় তাকে দেখতে প্রবেশ করলাম, তিনি বসে পড়লেন এবং আমাদের বললেন, "আমি তোমাদেরকে সাক্ষ্য বানাচ্ছি যে, আমি আমার প্রত্যেক কথা থেকে প্রত্যাবর্তন করছি যা আমি সালাফে সালেহীনের মতের বাইরে প্রদান করেছি। আমি নাইসাপুরের বৃদ্ধারা যার ওপর মারা যায় আমি তার ওপর মারা যাচ্ছি।"¹
ইবন তাইমিয়্যাহ ও যাহাবী রাহিমাহুমাল্লাহ এর ওপর মন্তব্য করে বলেন, কারণ বৃদ্ধাদের ফিতরী বা স্বভাবজাত আকীদাহ কালামশাস্ত্রের এসব কুফুরী ও শির্কী আকীদাহ গ্রহণের চেয়ে অনেক ভালো।²
তার একটি ঘটনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, যা ইমাম ইয়াহইয়া ইবন আবি মানসূর আল-ফক্বীহ তার কিতাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাফেয আবদুল কাদের থেকে, তিনি বলেন, আমাদেরকে আবুল 'আলা আল-হামাযানী (মৃত ৫৩১) বলেন, তিনি বলেন, আবু জা'ফার আল-হাফেয বলেন, আমি শুনছিলাম যে আবুল মা'আলীকে ﴾ الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন” এটা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'আল্লাহ ছিলেন, কোনো 'আরশ ছিল না', তারপর বাকী উত্তর দিতে গিয়ে বারবার আড়ষ্ট হয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আমি তাকে বললাম, যা আবশ্যকীয়ভাবে এসে যায় তা প্রতিরোধ করার আপনার কাছে কি কোনো উপায় আছে? তিনি তখন বললেন, তুমি কোন দিকে ইঙ্গিত করছ? আমি বললাম, যখনই আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী কোনো লোক, হে রব! বলে, তখনই তার জিহ্বা নড়াচড়া করার আগেই তার অভ্যন্তরভাগ থেকে একটি ইচ্ছা ডান-বাম না তাকিয়ে সোজা উপরের দিকে চলে যায়, আপনার কাছে কি এ আবশ্যক জিনিসটি প্রতিরোধ করার কোনো উপায় আছে? তাহলে আমাদেরকে তা জানান, এর মাধ্যমে আমরা উপর-নিচ এর ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে পারি? আমি কেঁদে দিলাম, উপস্থিত সবাই কেঁদে দিল। তখন তিনি তাঁর হাতের আস্তিন বিচানার উপর মারলেন এবং পেরেশান হওয়ার মতো চীৎকার করলেন, কাপড় ছিঁড়ে ফেললেন, মসজিদে যেন কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেল, তিনি তার বিচানা থেকে নামলেন এবং বললেন, বন্ধু, আমি হয়রান ও পেরেশান হয়ে গেছি আমার ওপর ভীতি কাজ করছে।³
টিকাঃ
১. মুখতাসারুল 'উলু, ২৭৫।
২. দেখুন: বায়ানু তালবীসুল জাহমিয়্যাহ (১/১২২); আল-'উলু, ১৩৪৫।
৩. যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৮/৪৭৭)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম ইসমা‘ঈল আল-আনসারী (৪৮১ হিজরী)

📄 ইমাম ইসমা‘ঈল আল-আনসারী (৪৮১ হিজরী)


সূফীকুল শিরোমনি, শাইখুল ইসলাম আবু ইসমা'ঈল আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আনসারী স্বীয় গ্রন্থ আল-ফারূক ফিস-সিফাতে বলেন-
باب إثبات استواء الله على عرشه فوق السماء السابعة، بائناً من خلقه، من الكتاب والسنة. في أخبار شتى أن الله عز وجل في السماء السابعة على العرش بنفسه، وهو ينظر كيف تعملون، علمه، وقدرته، واستماعه، ونظره، ورحمته في كل مكان.
কিতাব ও সুন্নাহ থেকে আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক সপ্তম আসমানের ঊর্ধ্বে 'আরশের উপরে উঠার বিষয়টি সাব্যস্তকরণ এবং তিনি তাঁর সৃষ্টিকুল থেকে পৃথক ও আলাদা হওয়া -সংক্রান্ত অধ্যায়। তারপর তিনি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলীলাদি উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন হাদীসে রয়েছে আল্লাহ সত্তাগতভাবে সপ্তম আসমানের ঊর্ধ্বে 'আরশের উপরে। তিনি দেখেন তোমরা কীভাবে আমল করছো। তাঁর ইলম, তাঁর ক্ষমতা, তাঁর শ্রবণ, তাঁর দৃষ্টি এবং তাঁর রহমত সর্বত্র।¹ তাছাড়া তিনি আরও বলেন,
إِلهُنَا مَرْنِي عَلى العَرْشِ مُسْتَو ... كَلَامُهُ أَزَلِيٌّ رَسُولُهُ عَرَبِيٌّ مَذْهَبُنَا مَذْهَبٌ حَنْيَلِي ... كُلُّ مَنْ قَالَ غَيْرَ هَذَا أَشْعَرِيٌّ
"আমাদের ইলাহ, তাকে দেখা যাবে, তিনি 'আরশের উপর সমুন্নত আছেন, তাঁর বাণী সর্বপ্রাচীন, তাঁর রাসূল আরবী ভাষাভাষী। যারাই এটার বিপরীত বলবে তারা আশ'আরী, আমাদের মাযহাব হচ্ছে হাম্বলী তথা ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের মাযহাব।”²
টিকাঃ
১. যাহাবী, আল-আরش, (২/৪৬৫-৪৬৬) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; যাহাবী, আল-'উলু, ১৮৯।
২. আয-যাইলু আলা ত্বাবাক্বাতিল হানাবিলাহ (১/১২১)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-কাইরোয়ানী (৪৮৯ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-কাইরোয়ানী (৪৮৯ হিজরী)


ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-হাদ্বরামী আল-ক্বাইরোয়ানী তার 'আল-ঈমা ইলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া' গ্রন্থে ইমাম ত্বাবারী, ইবন আবী যাইদ আল-ক্বাইরোয়ানী, ক্বাযী আবদুল ওয়াহহাব প্রমুখের সেসব বক্তব্য নিয়ে এসেছেন যাতে এসেছে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপরে উঠেছেন এবং তিনি সেখানে সত্তাগতভাবে বিদ্যমান। তারপর তিনি বলেন,
وأطلقوا في بعض الأماكن أَنَّهُ فَوْقَ عرشه. ثمَّ قَالَ: وهذا هُوَ الصَّحِيحُ الَّذِي أَقولُ بِهِ مِنْ غيرِ تحديدٍ، وَلَا تَكُن فِي مكان، ولا كون فيه ولا مماسة».
"আর এসব মনীষী কোনো কোনো জায়গায় নিঃশর্তভাবে বলেছেন যে, আল্লাহ 'আরশের উপর। তারপর তিনি বলেন, আর এটিই বিশুদ্ধ মত, যা আমি বলি, কোনো প্রকার সীমা নির্ধারণ ব্যতীতই, কোনো স্থানে ঝেঁকে থাকা ব্যতীতই, অভ্যন্তরে থাকা ছাড়াই, কোনো প্রকার স্পর্শ ছাড়াই”।¹
ইমাম যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ এ ভাষ্য বর্ণনা করার পর বলেন, (সীমা, বেঁকে থাকা, স্পর্শ) এসব জিনিস নাই বলা কিংবা সাব্যস্ত করা দলীল নির্ভর। যদি কোনো কিছু আসত তো আমরা সেটা উচ্চারণ করতাম, যেহেতু আসেনি আমাদের উচিত এ ব্যাপারে চুপ থাকা। এসব কথা বলা থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে সালাফে সালেহীনের আদর্শ। কারণ, এগুলোতে প্রবৃত্ত হওয়া মানেই হচ্ছে ধরণ নির্ধারণে লেগে যাওয়া; যা অজানা। অনুরূপ আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই কুরআন, সুন্নাহ বা আছার ব্যতীত তাঁর 'আরশের উপর উঠাকে স্পর্শ, বেঁকে থাকা সাব্যস্ত করা থেকে। বরং আমরা মোটের উপর এটাই জানি যে, তিনি তাঁর 'আরশের উপরে আছেন যেমনটি কুরআন ও হাদীসের ভাষ্য দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে।²
আল্লামা ইবন উসাইমীন বলেন, কোনো কোনো লোককে দেখা যায় এটা বলতে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন কোনো প্রকার স্পর্শ ছাড়া!! আমরা বলবো, স্পর্শ ছাড়া কিংবা স্পর্শ সহকারে এ দু'য়ের কোনোটিই বলার অধিকার তোমার নেই। এটা ছাড়, যা সাহাবীগণ ইলমের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও, আল্লাহর প্রতি অধিক সম্মান থাকার পরও তারা এগুলো বলা ছেড়ে দিয়েছেন, তাই 'স্পর্শ সহকারে কিংবা স্পর্শ ব্যতীত' এসব বাক্য বাদ দেয়া কর্তব্য।³
টিকাঃ
১. মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ২৭৯।
২. যাহাবী, আল-'উলু, ২৭৯।
৩. শারহুস সাফারীনীয়্যাহ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবুল মুযাফফার মানসুর আস-সাম‘আনী (৪৯৯ হিজরী)

📄 আবুল মুযাফফার মানসুর আস-সাম‘আনী (৪৯৯ হিজরী)


ইমাম আবুল মুযাফফার মানসূর ইবন মুহাম্মাদ আস-সাম'আনী রাহيمাহুল্লাহ তার বিভিন্ন গ্রন্থে সহীহ আকীদাহ-বিশ্বাস তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে তাঁর আকীদাহ- বিশ্বাস সালাফে সালেহীনের আকীদাহ অনুযায়ী ছিল, তিনি সেটা প্রচার-প্রসার করেছেন, তার বিপরীত আকীদাহ'র খণ্ডন করেছেন। যেমন, * আল্লাহ্র গুণাবলি সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি উত্তরে বলেন, عليكم بدين العجائز وصبيان الكتاتيب "তোমরা বৃদ্ধ এবং মক্তবের শিশুদের আকীদাহ গ্রহণ কর।”¹ উদ্দেশ্য হচ্ছে, তাদের আকীদাহ এখনো নষ্ট হয়নি। তারা কালামশাস্ত্র ও তার লোকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়নি। তাদের বিশুদ্ধ আকীদাই তোমরা গ্রহণ করে নাও। * তিনি তাঁর তাফসীরে আল্লাহ্র লজ্জা, চেহারা, নৈকট্য, আসা, ভালোবাসা, হাত ইত্যাদি বিভিন্ন সিফাত সাব্যস্ত করেছেন। আর তিনি আল্লাহর 'আরশের উপর উঠার আকীদাহ সাব্যস্ত করতে গিয়ে বলেন, ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ إِلَى ٱلسَّمَاءِ قَالَ ابْن عَبَّاس وَأكثر المفسّرين من السلف: أي ارتفع وعلا إِلَى ٱلسَّماء.
"আল্লাহর বাণী, 'তারপর তিনি আসমানের উপর উঠলেন' এখানে ইস্তেওয়া এর অর্থ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইবন 'আব্বাস ও অধিকাংশ সালাফে সালেহীন তাফসীরকারগণ বলেন, এর অর্থ হলো, আসমানের উপরে উঠলেন ও ঊর্ধ্বে উঠলেন।”²
অন্যত্র সূরা আল-আ'রাফের ৫৪ নং আয়াতে আসা 'ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরش' এর তাফসীরে বলেন,
(ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ ) أول المعتزلة الاستواء بِالاسْتِيلاء، وأنشدوا فِيهِ: قد اسْتَوَى بشر على العراق ... من غير سيف ودم مهراق)
( وأما أهل السنة فيتبرءون من هَذَا التَّأْوِيل، وَيَقُولُونَ : إِن الاستواء على الْعَرْشِ صفة الله - تَعَالَى - بِلَا كَيْفَ، وَالْإِيمَانِ بِهِ وَاجِب، كَذَلِكَ يُحكى عَن مالك بن أنس، وغيره من السلف، أَنهم قَالُوا فِي هَذِهِ الْآيَةِ: الْإِيمَانَ بِهِ وَاجِب، وَالسُّؤَالِ عَنهُ بِدعة.
"আল্লাহ বলেন, 'তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন', এখানে মু'তাযিলা সম্প্রদায় 'ইস্তেওয়া' শব্দকে 'ইস্তিইলা' বা দখল করা অর্থে অপব্যাখ্যা করেছে। তারা তাদের সে দাবির সপক্ষে দলীল হিসেবে যে কবিতা পেশ করেছেন তা হচ্ছে, বিশর ইরাকের দখলদারিত্ব গ্রহণ করল কোনো প্রকার তরবারী কিংবা রক্তপাত ছাড়াই
তারা বলেন, এখানে 'ইস্তেওয়া' শব্দটি দখলদারিত্বের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত তাদের এসব অপব্যাখ্যা থেকে নিজেদের মুক্ত ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, 'আল্লাহর 'আরশে উঠা, আল্লাহ তা'আলার একটি গুণ। কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ ব্যতিরেকে তার ওপর ঈমান আনা কর্তব্য। যেমনটি ইমাম মালিক ইবন আনাস ও অন্যান্য সালাফগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে। তারা সবাই বলেছেন, এর অর্থের ওপর ঈমান আনা ফরয। তার ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত।”³
অন্যত্র সূরা ত্বা-হা এর ৫ নং আয়াতের তাফসীরে বলেন,
وَقَوْلُهُ: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ( اعْلَمْ أَنَّ مخارج الاستواء فِي اللُّغَةِ كَثِيرَة: وَقد يكون بِمَعْنَى الْعُلُو، وَقد يكون بِمَعْنى الاسْتِقْرَار، وقد يكون بِمَعْنى الاستيلاء - على بعد - وقد يكون بِمَعْنى الإقبال. والمذهب عِنْد أهل السنة أَنه يُؤْمِن بِهِ وَلَا يكيف.
"আল্লাহর বাণী, 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন', জেনে রাখ, 'ইস্তেওয়া' শব্দটির ভাষাগত বিবিধ অর্থ বের করা যায়, কখনও কখনও অর্থ হয়, উপরে উঠা, কখনও কখনও অর্থ করা হয়, উপরে থাকা। আবার কখনো কখনো 'অধিকার করা' অর্থও করা হয়ে থাকে তবে সেটা অনেক দূরবর্তী অর্থ, আবার কখনো কখনো অগ্রসর হওয়ার অর্থ হয়।
আর আহলুস সুন্নাহ এর মত হচ্ছে, এটার উপর ঈমান আনতে হবে, ধরন নির্ধারণ করা যাবে না।”⁴
টিকাঃ
১. ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (১২/১৬৪)।
২. তাফসীর আস-সাম'আনী (১/৬৩)।
৩. তাফসীর আস-সাম'আনী (২/১৮৮)।
৪. তাফসীর আস-সাম'আনী (৩/৩২০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00