📄 ইমাম আবূ ‘উমার ‘উসমান আস-সাকরাযয়ী আল-ফকীহ (বাইহাকীর সাথী)
ইমাম হাফেয ফকীহ মুহাদ্দিস আবু 'আমর উসমান ইবন আবুল হাসান ইবনুল হুসাইন আশ-শাহরাযূরী আশ-শাফে'য়ী 'উসুলুদ্দীন' নামে একটি গ্রন্থ লিখেন, তার শুরুতে তিনি বলেন, فصل: ومن صفاته تبارك وتعالى فوقيته واستواؤه على عرشه بذاته، كما وصف نفسه في كتابه، وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وآله وسلم بلا كيف، بدليل قوله تعالى: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾ [طه: ٥]، وقوله: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ ﴾ [الفرقان: ٥٩] , وقوله في خمسة مواضع أُخر : ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ)، وقوله تعالى في قصة عيسى عليه السلام: ﴿ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ ﴾ [آل عمران: ٥٥] , وساق آيات العلو - ثم قال: - وعلماء الأمة وأعيان الأئمة من السلف لم يختلفوا في أن الله سبحانه مستو على عرشه، وعرشه فوق سبع سماوات - ثم ذكر كلام عبد الله بن المبارك - : «نعرف ربنا بأنه فوق سبع سماواته على عرشه بائن من خلقه - وساق قول ابن خزيمة: «ومن لم يقر بأن الله تعالى على عرشه قد استوى فوق سبع سماواته فهو كافر».
"অধ্যায়: আর মহান আল্লাহর গুণসমূহের মধ্যে অন্যতম গুণ হচ্ছে, সত্তাগতভাবে তাঁর উপরে থাকা এবং 'আরশের উপর উঠা, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে নিজেকে গুণান্বিত করেছেন, আর তাঁর নবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানীতে সাব্যস্ত করেছেন, তবে সেটা কোনো প্রকার ধরণ নির্ধারণ ব্যতীতই। এর প্রমাণ হচ্ছে, আল্লাহর বাণী, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন। [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] অনুরূপ আল্লাহর বাণী “এরপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন, তিনি রহমান।" [সূরা আল-ফুরক্বান, আয়াত: ৫৯] অনুরূপ আরও পাঁচ জায়গায় এসেছে, "তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন"। অনুরূপ আল্লাহর বাণী, ঈসা 'আলাইহিস সালামের ব্যাপারে, "আপনাকে আমরা উপরে তুলে নিব।" [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫৫] তারপর তিনি আল্লাহর 'উলু বা উপরে থাকা সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিয়ে আসেন। তারপর বলেন, "আর উম্মাতের আলেমগণ, সালাফে সালেহীনের বিখ্যাতজনেরা কেউই এ ব্যাপারে মতভেদ করেনি যে, "আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন।” তারপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের বক্তব্য নিয়ে আসেন, যাতে তিনি বলেছেন, "আমরা চিনতে পারি আমাদের রব্বকে যে তিনি সাত আসমানের উপরে, তাঁর 'আরশের উপরে, সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা।" তারপর তিনি ইমাম ইবন খুযাইমাহ'র সে ঐতিহাসিক উক্তি বর্ণনা করেন, যাতে তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি স্বীকার করবে না যে, আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর; সাত আসমানের উপরে উঠেছেন সে কাফির।”¹
টিকাঃ
১. ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমাউল জুয়ূশ, পৃ. ১০৯; আবু ইসমাঈল আস-সাবুনী, ই'তিকাদু আহলিস সুন্নাতি ওয়া আসহাবিল হাদীস ওয়াল আয়িম্মাহ, পৃ. ১৪-২৩।
📄 আবূ ‘উমার ইবন আবদুল বার (৪৬৩ হিজরী)
আল-ইস্তিআব, আল-ইস্তেযকার, আত-তামহীদ, বায়ানু জামে'উল ইলমি ওয়া ফাদ্বলিহী ও অন্যান্য চমৎকার গ্রন্থ প্রণেতা ইমাম, মাগরিবের হাফিয আবু 'উমার ইবন আবদুল বার, মালিকী মাযহাবের ইমাম এবং হাফিযদের অন্যতম। তিনি 'ইস্তেওয়া' এর অভিধানিক অর্থ সম্পর্কে বলেন, "هو العلو والارتفاع على الشيء والاستقرار والتمكن فيه , অর্থাৎ উপরে উঠা, কোনো কিছুর উপরে থাকা ও সেখানে অবস্থান করা”।¹
তিনি আল্লাহর 'আরশের উপর উঠার আকীদাহ সাব্যস্ত করতেন। তার প্রমাণ হচ্ছে তাঁর নিম্নোক্ত বাণী,
وَالَّذِي عَلَيْهِ جَمَاعَةُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةُ أَنَّهُ لَمْ يَزَلْ بِصِفَاتِهِ وَأَسْمَائِهِ لَيْسَ لِأَوَّلِيَّتِهِ ابْتِدَاءٌ وَلَا لِآخِرِيَّتِهِ انْقِضَاءُ، هُوَ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى».
"আর যার ওপর আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ প্রতিষ্ঠিত তা হচ্ছে, তিনি তাঁর যাবতীয় গুণাবলি ও যাবতীয় নামসহ বিদ্যমান। তাঁর অনাদি হওয়ার কোনো শুরু নেই, আর তাঁর অনন্ত হওয়ারও কোনো শেষ নেই, আর তিনি তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন।”²
অন্যত্র তিনি বলেন,
وَأَمَّا احْتِجَاجُهُمْ بِقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ : مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَمَا كَانُوا فَلَا حُجَّةَ لَهُمْ فِي ظَاهِرِ هَذِهِ الْآيَةِ لِأَنَّ عُلَمَاءَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ الَّذِينَ حَمَلْتُ عَنْهُمُ التَّأْوِيلَ فِي الْقُرْآنِ قَالُوا فِي تَأْوِيلِ هَذِهِ الْآيَةِ هُوَ عَلَى الْعَرْشِ وَعِلْمُهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ.
"আর আল্লাহর বাণী "তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন যেখানেই তারা থাকুক না কেন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭]” এ আয়াত দ্বারা তাদের দলীল গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আয়াতের প্রকাশ্য ভাষ্যে তাদের দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই; কারণ সাহাবী ও তাবে'য়ী আলেমগণ, যাদের থেকে কুরআনের তাফসীর বর্ণিত হয়েছে, তারা সবাই এ আয়াতের তাফসীরে বলেছেন, "তিনি 'আরশের উপরে, আর তাঁর জ্ঞান সকল স্থানে”।³
অন্যত্র তিনি বলেন,
وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فِي السَّمَاءِ عَلَى الْعَرْشِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ وَعِلْمُهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ كَمَا قَالَتِ الْجَمَاعَةُ أَهْلُ السُّنَّةِ أَهْلُ الْفِقْهِ وَالْأَثَرِ ، وَحُجَّتُهُمْ ظَوَاهِرُ الْقُرْآنِ فِي قَوْلِهِ الرَّحْمَنُ عَلَى العرش استوى) طه ه».
"এ হাদীসে প্রমাণ রয়েছে যে, মহান আল্লাহ তিনি উপরে 'আরশের উপর, সাত আসমানের উপরে, আর তাঁর জ্ঞান সর্বত্র, যেমনটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত, আহলুল ফিকহ ওয়াল আছার বলে থাকেন, আর তাদের দলীল হচ্ছে কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ, যা আল্লাহর বাণীতে এসেছে, "রহমান তো 'আরশের উপর উঠেছেন।”⁴ তারপর তিনি ইস্তেওয়া এর অর্থ বর্ণনা করেছেন এবং সেটা যে মু'তাযিলাদের কথার বিপরীত সেটার দলীল প্রমাণাদি তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি ইমাম মালিকের সেই বিখ্যাত উক্তি, ইমাম রবী'আহর উক্তি, সুফইয়ান সাওরীর বক্তব্য, ইবনুল মুবারকের বক্তব্য, ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর বক্তব্য তুলে ধরেছেন। [২/৫২৮-৫২৯]
অনুরূপভাবে তিনি মুআত্তা মালিকের হাদীস, আমাদের রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, এর ব্যাখ্যায় বলেন,
هذا الحديث لم يختلف أهل الحديث في صحته، وفيه دليل على أن الله في السماء على العرش من فوق سبع سموات، كما قالت الجماعة، وهو من حجتهم على المعتزلة، وهذا أشهر عند العامة وأعرف من أن يحتاج إلى أكثر من حكايته، لأنه اضطرار لم يؤنبهم عليه أحد، ولا أنكره عليهم مسلم
"এই হাদীস সহীহ হওয়ার ব্যাপারে হাদীস বিশারদগণ মতানৈক্য করেননি। এ হাদীস প্রমাণ করে যে, আল্লাহ সাত আসমানের ঊর্ধ্বে 'আরশের উপরে। যেমনটি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের মত। মু'তাযিলাদের বিপক্ষে এ হাদীস বিশারদগণের দলীল। এটি আম লোকদের কাছে অতি প্রসিদ্ধ এবং এতটাই পরিচিত যে, এর চেয়ে আর বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। কেননা তা আবশ্যক বিষয়। এ আকীদাহ পোষণকারীদেরকে কেউ তিরস্কার করেনি এবং কোনো মুসলিম তাদের বিরোধিতা করেনি।"⁵ তাছাড়া সেখানে তিনি ইমাম রবী'আহ, মালিক, ইবনুল আ'রাবী প্রমুখদের বক্তব্য নিয়ে এসেছেন।
টিকাঃ
১. আত-তামহীদ (৭/১৩১)।
২. জামে'উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদ্বলিহী (১/৫৭); আরও দেখুন: আত-তামহীদ (৫/৫১০), (১৪/১৫৭- ১৫৮০)।
৩. ইবন আবদুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৮-১৩৯)।
৪. আল-ইস্তেযকার (২/৫২৭)।
৫. আত-তামহীদ, ইবন আব্দিল বার (৭/১৩৪) যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪৫৪-৪৫৬) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
📄 আবূ বকর আল-খাতীব, খতীব আল বাগদাদী (৪৬৩ হিজরী)
মুসলিম বিশ্বের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার হাফিয আবু বকর খাতীব বলেন, গুণাবলির ব্যাপারে কথা হচ্ছে-
أما الكلام في الصفات؛ فإن ما روي منها في السنن الصحاح، فمذهب السلف: إثباتها وإجراؤها على ظواهرها، ونفي الكيفية والتشبيه عنها ....
والأصل في هذا أن الكلام في الصفات فرع على الكلام في الذات، ونحتذي في ذلك حذوه ومثاله .... وإذا كان معلوماً أن إثبات رب العالمين إنما هو إثبات وجود لا إثبات تحديد وتكييف، فكذلك إثبات صفاته فإنهما هو إثبات وجود لا إثبات تحديد وتكييف....
فإذا قلنا: يد وسمع وبصر ، فإنما هو إثبات صفات أثبتها الله لنفسه، ولا نقول إن معنى اليد: القدرة، ولا نقول: إن معنى السمع والبصر : العلم، ولا نقول: إنها جوارح وأدوات الفعل....
ونقول: إنما وجب إثباتها لأن التوقيف ورد بها، ووجب نفي التشبيه عنها، لقوله تعالى لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البصير، وقوله وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
"যেসব গুণ সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেসব গুণের ক্ষেত্রে সালাফদের নীতি হচ্ছে- তা সাব্যস্ত করা ও বাহ্যিকতার ওপর প্রয়োগ করা এবং ধরণ ও সাদৃশ্য দেয়াকে নাকচ করা। এ ব্যাপারে মূলনীতি হচ্ছে- গুণাবলির ব্যাপারে কথা বলা আল্লাহর সত্তার ব্যাপারে কথা বলার একটি শাখা। তাই সিফাত বা গুণের ক্ষেত্রে জাত তথা সত্তা ও তার দৃষ্টান্তের অনুসরণ করবো।
আর যখন এটা জানা বিষয় যে, জগৎসমূহের রবকে সাব্যস্ত করা মানে তার অস্তিত্বকে সাব্যস্ত করা, তাঁর সীমা ও ধরণ সাব্যস্ত করা নয়। অনুরূপভাবে তাঁর গুণাবলিকে সাব্যস্ত করা মানে তার অস্তিত্বকে সাব্যস্ত করা, সীমা ও ধরন সাব্যস্ত করা নয়।
যখন আমরা বলি, হাত, শ্রবণ ও চোখ, তখন এর দ্বারা শুধুমাত্র গুণাবলি সাব্যস্ত করা হয়, যে গুণাবলি স্বয়ং আল্লাহ নিজের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত করেছেন। আমরা বলি না, হাত অর্থ কুদরাত বা ক্ষমতা। বলি না, শ্রবণ ও দর্শন অর্থ জ্ঞান। বলি না, এসব অঙ্গ এবং কাজের উপাদান।
আমরা বলি- শুধুমাত্র সাব্যস্ত করা ওয়াজিব। কেননা কুরআন ও সুন্নাহ'য় তা বর্ণিত হয়েছে। তাশবীহ বা সাদৃশ্য দেয়াকে নাকচ করা ওয়াজিব। কারণ, আল্লাহ বলেন: “তাঁর মত কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।" আরও বলেন- "আর তাঁর কোনো সমকক্ষও নেই।"¹
তাছাড়া খত্বীব আল-বাগদাদী রাহিমাহুল্লাহ ইমাম শাফেয়ীর প্রশংসায় বলেছেন তাতেও তার বিশুদ্ধ আকীদাহ প্রকাশ পায়। তিনি ইমাম শাফে'য়ী রাহিমাহুল্লাহ'র প্রশংসা করে বলেন, أبى الله إِلَّا رَفْعَهُ وعُلُوهُ ... وليس لما يُعْلِيْهِ ذو العرش واضِعُ.
"আল্লাহ তা'আলা উঁচু মর্যাদা ও উচ্চাসন তিনি ব্যতীত অন্য আর কারও জন্য হওয়াকে অস্বীকার করছেন। আর 'আরশের অধিপতি যাকে উপরে উঠাবেন তাকে কেউ নীচে নামাতে পারে না।”²
টিকাঃ
১. জাওয়াবু আবু বকর আল-খতীব আলা আসয়িলাতি বা'দ্বি আহলি দিমাশকা ফিস সিফাত, (সংক্ষেপিত) পৃ. ৭৩-৭৫; যা আবু বকর আল-ইসমা'ঈলীর ই'তিকাদু আহলিস সুন্নাহ এর শেষে সংযুক্তি হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে। তাহকীক, জামাল 'আযযূন, তাকদীম; শাইখ হাম্মাদ আল-আনসারী; দারুর রাইয়ান; এছাড়া তা ইমাম যাহাবীর বেশ কয়েকটি কিতাবে এসেছে, আল-'উলু, ২৫৩ (৫৭৭); আল-আরশ (২/৪৫৬-৪৫৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৮/২৮৩-২৮৪); তাযকিরাতুল হুফফায (৩/২২৫); অনুরূপভাবে তা ইবন কুদামার যাম্মুল তা'ওয়ীলেও এসেছে, পৃ. ১৫।
২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১০/৯৫)।
📄 সাদ ইবন আলী আয-যানজানী (৪৭১ হিজরী)
শাফেয়ী মাযহাবের তৎকালীন ইমাম শাইখ সা'দ ইবন 'আলী আয-যাঞ্জানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, وَهُوَ فَوْقَ عَرْشِهِ بِوُجُودِ ذَاتِهِ».
"তিনি (আল্লাহ) তাঁর 'আরশের উপর তাঁর সত্তার অস্তিত্বসহ।”¹
ইমাম যাহাবী বলেন, হাফেয সা'দ ইবন আলী রাহিমাহুল্লাহ তৎকালীন সময়ে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের প্রধান ব্যক্তিত্বদের অন্যতম, আছারী (তথা সালাফের অনুসারী) ইমামগণের একজন, তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা কালামশাস্ত্র ও তার লোকদের বিরোধিতা করতেন, বিবেক-বুদ্ধির রায় ও প্রবৃত্তির অনুসরণের নিন্দা করতেন। সুতরাং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের কল্যাণমূলক সমাপ্তি প্রদান করেন, আর আমাদেরকে ঈমান ও সুন্নাতের ওপর মৃত্যু নসীব করেন; কারণ নিরেট সুন্নাতের অনুসারীদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বরং তাদের কাউকে দেখতে পাবে সে সুন্নাত ও তার অনুসারীদের প্রশংসা করছে অথচ নিজে কালামশাস্ত্রের বিদ'আতে নিজেকে কদর্য করেছে, আল্লাহর নাম ও গুণের ক্ষেত্রে বেহুদা অনুপ্রবেশ করার মত দুঃসাহস দেখিয়েছে, অধিকন্তু সেগুলোকে অস্বীকার করার জন্য অগ্রণী হয়ে থাকে, তানযীহ বা আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণার নাম দিয়ে সীমালঙ্ঘন করেছে; বস্তুত পূর্ণ তানযীহ বা পবিত্রতা তো হচ্ছে কেবল মহান রব্বের মহত্ব তুলে ধরা আর সেসব গুণে তাকে গুণান্বিত করা যার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজেকে গুণান্বিত করেছেন।²
টিকাঃ
১. ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৯৭
২. তাযকিরাতুল হুফফায (৩/১১৭৮)