📄 আবুল হাসান আলী ইবন ‘উমার ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-কায়সীনী (৪৪২ হিজরী)
ইমাম আবুল হাসান আলী ইবন 'উমার ইবন মুহাম্মাদ আল-কাযওয়ীনী রাহিমাহুল্লাহ তার কিতাবুস সুন্নাহ'য় বলেন,
"আর আমাদের বিশ্বাসের অন্যতম হচ্ছে,
ومما نعتقد : أَنَّ للهِ عزَّ وجلَّ عَرشا، وهو على العَرْشِ، وعِلْمُهُ تعالى محيط بكل مكان، ما تسقط من ورقة إلَّا يعلمها، ولا حبة في ظلمات الأرض، ولا رطب ولا يابس إلا في كتاب مبين. والعرش فوق السَّماءِ السابعة، واللهُ تَعَالَى على العَرْشِ، قال الله تعالى: ﴿إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ ﴾ [فاطر: ١٠]، وقال عزَّ وجلَّ : إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ ) [آل عمران: ٥٥]، وقال: تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ﴾ [المعارج: ٤]، وقال: ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ ﴾ [الملك: ١٦]. وللعرش حَمَلَةٌ يحملونه على ما شاء الله من غير تكييف والاستواء معلوم والكيف مجهول».
"আমরা আরও যা বিশ্বাস করি তা হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহর জন্য রয়েছে 'আরশ, আর তিনি 'আরশের উপর রয়েছেন। আর তাঁর জ্ঞান সকল স্থানকে পরিবেষ্টন করে আছে। এমন কোনো কাগজ পতিত হয় না যা তিনি জানেন না, অনুরূপ এমন কোনো শষ্য দানা যমীনের অন্ধকারে অথবা পানিতে কিংবা ডাঙ্গায় পতিত হয় না, যা এক স্পষ্ট কিতাবে লিখা নেই।
আর 'আরশ সপ্তম আসমানের উপরে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ হয় সমুত্থিত।" [সূরা ফাতির, আয়াত: ১০] তিনি আরও বলেন, "নিশ্চয় আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব, আমার নিকট আপনাকে উঠিয়ে নিব।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫৫] তিনি আরও বলেন, "ফিরিশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।" [সূরা আল-মা'আরিজ, আয়াত: ০৪] আর 'আরশের রয়েছে বহনকারীগণ, যারা আল্লাহ যেভাবে চায় সেভাবে সেটাকে বহন করেন। কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ করা যাবে না, আর 'ইস্তেওয়া' বা 'আরশের উপরে উঠার বিষয়টি জানা, তবে তার ধরণ অজানা।”¹
টিকাঃ
১. আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (১/২৪৮-২৫০)।
📄 আবূ নাসর ‘উবাইদুল্লাহ ইবন সা‘ঈদ আন-সিজযী (৪৪৪ হিজরী)
ইমাম আবু নাসর 'উবাইদুল্লাহ ইবন সা'ঈদ আস-সিজযী স্বীয় গ্রন্থ 'রিসালাতুস সাজযী ইলা আহলি যাবীদ, আর-রাদ্দু আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাওত' এ বলেন,
وقد اتفقت الأئمة على أن الصفات لا تؤخذ إلا توقيفاً، وكذلك شرحها لا يجوز إلا بتوقيف.
فقول المتكلمين في نفي الصفات أو إثباتها بمجرد العقل أو حملها على تأويل مخالف للظاهر ضلال.
ولا يجوز أن يوصف الله سبحانه (إلا) بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، وذلك إذا ثبت الحديث، ولم يبق شبهة في صحته، فأما ما عدا ذلك من الروايات المعلولة والطرق الواهية، فلا يجوز أن يعتقد في ذات الله سبحانه ولا في صفاته ما يوجد فيها باتفاق العلماء للأثر ....
وأما تظاهرهم بخلاف ما يعتقدونه كفعل الزنادقة ففي إثبات أن الله سبحانه استوى على العرش، ومن عقدهم: أن الله سبحانه لا يجوز أن يوصف بأنه في سماء ولا في أرض، ولا على عرش ولا فوق ... وهذا مخالف لقول علماء الأمة، وقد سئل مالك بن أنس رحمة الله عليه عن هذه المسألة فأجاب: «بأن الاستواء غير مجهول، والكيفية غير معقولة الإيمان به واجب والسؤال عنه بدعة.
"ইমামগণ সবাই একমত যে, সিফাত গ্রহণের নীতি হবে তাওকীফী, তথা কুরআন ও সুন্নাহ নির্ভর। অনুরূপ তার ব্যাখ্যাও হবে কেবল তাওকীফ নির্ভর। সুতরাং কালামশাস্ত্রবিদরা যে শুধু বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে অস্বীকার করে বা সাব্যস্ত করে অথবা সেটাকে প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে ভিন্ন অর্থে নিয়ে যায় সেটা পথভ্রষ্টতা। আর আল্লাহ তা'আলাকে তিনি নিজে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো গুণে গুণান্বিত করা জায়েয নেই। আর এটা তখন হবে যখন এ ব্যাপারে হাদীস সাব্যস্ত হবে, শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ কাজ করবে না। তাছাড়া যদি দুর্বল কিংবা জাল বর্ণনায় তা আসে তবে সেটাতে যা এসেছে তা আল্লাহর সত্তা কিংবা সিফাতের জন্য বিশ্বাস করা যাবে না। এটি সকল হাদীস ও আছার অনুসারী আলেমগণের ঐকমত্যে।
তবে তা আশ'আরী ও তার মতো লোকদের বিপরীতে যারা বিবেক-বুদ্ধির যুক্তিকে প্রাধান্য দেয়, আর তাদের বিরোধিতা প্রচুর... আর তারা যে সকল বিষয়ে তাদের বিশ্বাসের বিপরীতে যা দেখিয়ে বেড়ায় তার উদাহরণ হচ্ছে, আল্লাহর 'আরশের উপরে উঠার বিষয়টি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যিন্দীক লোকদের বিশ্বাস হচ্ছে, তারা বলে, আল্লাহ তা'আলাকে আসমানে বা যমীনে বা 'আরশে বা উপরে কোনো গুণেই গুণান্বিত বলা যাবে না। অথচ এটি উম্মতের আলেমগণের মতের বিরুদ্ধে, কারণ এ ব্যাপারে ইমাম মালিক ইবন আনাস রাহিমাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, “ইস্তেওয়া বা উপরে উঠার বিষয়টি অজানা নয়, ধরন বিবেকের যুক্তি দিয়ে প্রাপ্ত হওয়ার মতো নয়, এর উপর ঈমান আনা ফরয, আর ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত।”¹
উক্ত কিতাবে আরও বলেন,
وَعِنْدَ أَهْلِ الحَقِّ أَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ مُبَايِنٌ لِخَلْقِهِ بِذَاتِهِ فَوْقَ الْعَرْشِ بِلا كَيْفِيَّةٍ.
ثم ذكر حديث الجارية إلى أنْ قَالَ: ولقد قَالَ الأوس بن حارثة بن ثعلبة عند موته قصيدةً يوصي فِيهَا إِلَى ابنه مالك وذلك قبل الإسلام فيها :
فَإِنْ تَكُنِ الأَيَّامُ أَبْلَيْنَ أَعْظُمِي ... وَشَيَّيْنَ رَأْسِي وَالمَشِيبُ مَعَ العُمُرِ فإن لنا رَبَّا عَلَى فَوْقَ عَرْشِهِ ... عليها بما تأتي من الخَيْرِ والشَّرْ
وليس في قولنا: إِنَّ اللهَ سُبْحَانَهُ فَوقَ العرش تحديد؛ وإنما التحديد يقع للمحدثاتِ. فَمِنَ العرشِ إِلَى مَا تَحتَ الثَّرى محدود، واللهُ سُبْحَانَهُ فَوقَ ذَلِكَ بحيث لا مكانَ وَلا حد .
وقد ذكر الله سُبْحَانَهُ فِي القرآنِ مَا يَشفي العَلِيلَ وَهُوَ قَولُهُ تَعَالَى: ﴿الرَّحْمَانُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى * لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى ) [طه: ٥، ٦] فخَصَّ العرش بالاستواء، ووَذَكَرَ مُلْكَهُ لسائر الأشياءِ فَعُلِمَ أن المراد به غير الاستيلاء.
"হক ও সত্যপন্থীদের মত হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, সত্তাগতভাবে তিনি 'আরশের উপরে, কোনো ধরন নির্ধারণ করা ছাড়া।” তারপর তিনি দাসীর সেই বিখ্যাত হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তারপর বললেন, "আওস ইবন হারেসাহ ইবন সা'লাবাহ তার মৃত্যুর সময় একটি কবিতা রচনা করেছিলেন, যাতে তিনি তার সন্তান মালিককে অসিয়ত করছিলেন, আর তা ছিল ইসলাম পূর্ব যুগের ঘটনা:
فَإِنْ تَكُنِ الأَيَّامُ أَبْلَيْنَ أَعْظُمِي ... وَشَيَّبْنَ رَأْسِي وَالمَشِيبُ مَعَ العُمُرِ عليها بما تأتي من الخَيْرِ والشَّرِّ فإن لنا رَبًّا عَلَى فَوْقَ عَرْشِهِ
'যদি দিন অতিবাহিত হতে হতে সেগুলো আমার হাড় পঁচিয়ে দেয়, আর আমার মাথার চুল বুড়ো করে দেয়, আর বয়সের সাথে বৃদ্ধাবস্থা তো আসবেই
তবে জেনে রাখ, আমাদের একজন সুউচ্চ রব রয়েছেন তাঁর 'আরশের উপর, তিনি সর্বজ্ঞ সেসব ব্যাপারে যা আমরা কল্যাণ কিংবা অকল্যাণ করে থাকি।'
তবে মনে রাখতে হবে, আমরা যে বলি আল্লাহ 'আরশের উপর এতে করে আল্লাহকে সীমাবদ্ধ করা হয় না। কারণ, সীমাবদ্ধ হওয়া তো সৃষ্টিকুলের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়। তাই 'আরশ থেকে পাতালের নিচ পর্যন্ত স্থান হচ্ছে সীমাবদ্ধ। আর আল্লাহ তা'আলা তো 'আরশের উপরে, সেটা (কালামশাস্ত্রবিদদের দৃষ্টিতে যেটা) স্থান কিংবা সীমাবদ্ধ (হিসেবে পরিচিত), সেটা নয়।
বস্তুত আল্লাহ তা'আলা তাঁর কুরআনে যা বর্ণনা করেছেন তা রোগ থেকে আরোগ্য দান করে, আর তা হচ্ছে, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন, আসমানে যা আছে, যমীনে যা আছে, এদুয়ের মাঝে যা আছে এবং যা মাটির নিচে আছে সবকিছুর মালিক তো তিনিই”। সুতরাং তিনি 'আরশকে উঠার জন্য নির্ধারণ করেছেন, সাথে সাথে সবকিছুর মালিকানা নিজের বলে ঘোষণা করেছেন। যা দ্বারা জানা গেল যে, 'ইস্তাওয়া' কখনও 'ইস্তাওলা' নয়।”²
অর্থাৎ ইস্তেওয়া অর্থ উপরে উঠা এটাই বিশুদ্ধ। ইস্তেওয়া শব্দকে কেউ যেন বিকৃত করে ইস্তাওলা বা অধিকার করার অর্থে না নিয়ে যায়, সে জন্য আল্লাহ তা'আলা সাথে সাথে সবকিছুর মালিক যে তিনি স্বয়ং সেটাও ঘোষণা করেছেন। তাহলে বাক্যগত অবস্থানেও বুঝা যাচ্ছে ইস্তাওয়া অর্থ কখনও ইস্তাওলা নয়। বরং ইস্তাওয়া অর্থ উপরে উঠা।
তাঁর অপর গ্রন্থ আল-ইবানায় বলেন, أئمتنا كسفيان الثوري، ومالك، وحماد بن سلمة، وحماد بن زيد، وسفيان بن عيينة، والفضيل، وابن المبارك، وأحمد، وإسحاق، متفقون على أنَّ اللهَ سُبْحَانَهُ بِذَاتِهِ فَوْقَ العَرْشِ، وَعِلْمَهُ بِكُلِّ مَكَانٍ، وَأَنَّهُ يَنْزِلُ إِلى السَّمَاءِ الدُّنيا، وأَنَّهُ يَغْضَبُ، وَيَرْضَى، وَيَتَكَلَّمُ بِمَا شَاءَ».
"আমাদের ইমামগণ, যেমন সুফইয়ান আস-সাওরী, মালিক, হাম্মাদ ইবন সালামাহ, হাম্মাদ ইবন যায়েদ, সুফইয়ান ইবন 'উয়াইনাহ, ফুদ্বাইল ইবন 'ইয়াদ্ব, ইবনুল মুবারক, আহমাদ ইবন হাম্বল, ইসহাক্ব ইবন রাহওয়াই, তারা সবাই একমত যে আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং সত্তাগতভাবে 'আরশের উপর আর তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর তিনি নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, আর তিনি রাগ করেন, তিনি সন্তুষ্ট হন, তিনি যা ইচ্ছা কথা বলেন।"³
টিকাঃ
১. রিসালাতুস সাজযী ইলা আহলি যাবীদ, আর-রাদ্দু আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাওত, পৃ. ১২১-১২৩।
২. আর-রাদ্দু আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাওতা, পৃ. ১২৯-১৩১।
৩. যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪৫১-৪৫২) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ২৬৬-২৬৭।
📄 আবূ ‘আম্র ‘উসমান ইবন সা‘ঈদ ইবন উসমান ইবন উমার আদ-দানী (৪৪৪ হিজরী)
তিনি তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আর-রিসালাতুল ওয়াফিয়াতে বলেন,
فصل: في استواء الله على عرشه وعلوه على خلقه
ومن قولهم: أنه سبحانه فوق سماواته مستو على عرشه، ومسئول على جميع خلقه، وبائن منهم بذاته، غير بائن بعلمه، بل علمه محيط بهم، يعلم سرهم وجهرهم، ويعلم ما يكسبون على ما ورد به خبره الصادق، وكتابه الناطق فقال تعالى: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ﴾ ، واستواؤه عز وجل علوه بغير كيفية، ولا تحديد، ولا مجاورة ولا مماسة.
قال جل جلاله: ﴿ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا﴾ [الحديد: ٤]. يعني أَنَّ علمَهُ محيط بهم حيثما كانوا، بدليل قوله : ﴿لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا ﴾ [الطلاق: ١٢]. وقال عزَّ وجلَّ: ﴿إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ ﴾ [فاطر: ١٠]. وقال: ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ ﴾ [الملك: ١٦]، أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا) [الملك: ١٧]، وقال: تَعْرُجُ المَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ ﴾ [المعارج: ٤]، وقال: ﴿يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ﴾ [السجدة: ٥] وقال: ﴿وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ﴾ [الأنعام: ۱۸]، وقال: ﴿يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ﴾ [النحل: ٥٠]، وقال: { يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ ﴾ [آل عمران : ٥٥] , وقال : ﴿بَلْ رَفَعَهُ اللهُ إِلَيْهِ ﴾ [النساء : ١٥٨]، وقال مخبرًا عَنْ فرعون: ﴿وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا ) [غافر : ٣٦] الآية.
قال مالك رحمه الله للذي سأله عن كيفية الاستواء: الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول والإيمان به واجب والسؤال عنه بدعة. قال عز وجل : ﴿ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا﴾ الآية يعني أن علمه محيط بهم حيثما كانوا، بدليل قوله : ﴿لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ علمًا.
وقوله تعالى: ﴿وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ ﴾ الآية، المعنى: وهو المعبود في السماوات وفي الأرض.
وقيل: وهو المنفرد بالتدبير فيهن. وقيل: ذلك على التقديم والتأخير أي: وهو الله يعلم سركم وجهركم في السماوات وفي الأرض.
وقوله تَعَالَى: ﴿وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهُ وَفِي الأَرْضِ إِلَهُ ﴾ [الزخرف: ٨٤] يعني: أَنَّهُ إِلهُ أَهلِ السَّمَاءِ، وإله أهل الأرض.
وَقَوْلُهُ سُبْحَانَهُ: ﴿إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ ﴾ [النحل: ۱۲۸]: ﴿وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ) [العنكبوت: ٦٩] و : إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى) [طه: ٤٦] يعني: أنه يحفظهم وينصرهم ويؤيدهم، لا أن ذاته معهم، تعالى الله عن ذلك علوا كبيرًا، وقوله عزَّ وجلَّ: مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ﴾ [المجادلة: ] الآية. يعني: أنه تبارك وتعالى عالم بهم وبما خَفِيَ من سرهم ونجواهم. وهذا إنما يستعمل كما ورد به في القرآن فلذلك لا يجوز أن يقال قباسا على هذا، إن الله سبحانه بالبردان وبمدينة السلام، وأنه مع الثور ومع الحمار؛ ولا أن يقال: إنه مع الفساق والمجان... قياساً على قوله إن الله مع الذين اتقوا والذين هم محسنون)، فوجب أن يكون التأويل على ما وصفناه.
ولا يجوز أن يكون معنى استوائه على العرش هو استيلاؤه عليه - كما قال الشاعر : استوى بشر على العراق *** من غير سيف ودم مهراق
لأن الاستيلاء هو القدرة والقهر ، والله تعالى لم يزل قادراً قاهراً عزيزاً مقتدراً. وقوله: ثم استوى على العرش يقتضي استفتاح هذا الوصف بعد أن لم يكن، فبطل ما قالوه.
"অধ্যায়: আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে উঠা এবং তাঁর সৃষ্টির উপর থাকা প্রসঙ্গে
আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের কথা হচ্ছে, নিশ্চয় মহান আল্লাহ তাঁর সকল আসমানের উপরে, তাঁর 'আরশের উপরে সমুন্নত। সকল সৃষ্টির উপর কর্তৃত্ববান, তাঁর সত্তাগতভাবে তাদের সকলের থেকে আলাদা, তবে তাঁর জ্ঞানে তাদের থেকে পৃথক নন। বরং তাঁর জ্ঞান সৃষ্টির সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, তিনি তাদের গোপন ও প্রকাশ্য সবই জানেন, জানেন তারা কী অর্জন করবে, যেমনটি তাঁর পক্ষ থেকে সত্য সংবাদে এসেছে এবং তাঁর বিবৃতি প্রদানকারী কিতাব বলেছে, তিনি বলেছেন, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] আর তাঁর 'আরশের উপর উঠার অর্থ হচ্ছে, উর্ধ্বে উঠা। কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ, সীমা নির্ধারণ, স্পর্শকরণ ও পার্শ্ববর্তী কিছু নির্ধারণ ব্যতীতই।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, “এরপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে বের হয়” [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ০৪] অর্থাৎ তাঁর জ্ঞানক তাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে তারা যেখানেই থাকুক না কেন। অনুরূপ আল্লাহর বাণী: "যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ্ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং জ্ঞানে আল্লাহ্ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন।” [সূরা আত-তালাক, আয়াত: ১২] তিনি আরো বলেন, "তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ উঠে যায় এবং সৎকাজ, তিনি তা করেন উন্নীত।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ১০] তিনি আরো বলেন, "তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছ যে, যিনি আসমানে রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ যমীনকে ধ্বসিয়ে দিবেন, অতঃপর তা হঠাৎ করেই থর থর করে কাঁপতে থাকবে?” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬], "অথবা তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছ যে, আসমানে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর কংকরবর্ষী ঝঞ্ঝা পাঠাবেন? তখন তোমরা জানতে পারবে কিরূপ ছিল আমার সতর্কবাণী!” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৭] তিনি আরো বলেন, “ফিরিশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।" [সূরা আল-মা'আরিজ, আয়াত: ০৪] তিনি আরো বলেন, "তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সমুদয় বিষয় পরিচালনা করেন।" [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৫] তিনি আরও বলেন, "আর তিনিই আপন বান্দাদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী।” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৮] তিনি আরো বলেন, "তারা ভয় করে তাদের উপরস্থ তাদের রবকে” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৫০] তিনি আরও বলেন, "হে ঈসা! "নিশ্চয় আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব, আমার নিকট আপনাকে উঠিয়ে নিব।" [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫৫] তিনি আরো বলেন, "বরং আল্লাহ্ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫৮] ফির'আউন সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেন,
"ফির'আউন আরও বলল, 'হে হামান! আমার জন্য তুমি নির্মাণ কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ যাতে আমি অবলম্বন পাই।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৩৬]
মালেক রাহিমাহুল্লাহ সে ব্যক্তিকে বলেন, যে 'আরশের উপর উঠার ধরন জানতে চেয়েছিল? 'উপরে উঠা' অজানা জিনিস নয়, ধরণ বিবেকের যুক্তি দিয়ে নির্ধারণের বাইরে, এর ওপর ঈমান আনা ফরয, আর ধরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত। মহান আল্লাহ বলেন, "এরপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে বের হয়।" এ আয়াতের অর্থ, তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন; কারণ আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, "যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ্ সবকিছুর উপর ক্ষমাবান এবং জ্ঞানে আল্লাহ্ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন।" আর আল্লাহর বাণী, "আর আসমানসমূহ ও যমীনে তিনিই আল্লাহ।" [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ০৩] এর অর্থ হচ্ছে, তিনি (আল্লাহ) আসমানসমূহ ও যমীনে উপাস্য। কারও কারও মতে, এর অর্থ হচ্ছে, তিনি একাই আসমান ও যমীনের পরিচালনা করেন। কেউ কেউ বলেন, এখানে আগ-পিছ রয়েছে, অর্থাৎ আর তিনিই আল্লাহ, তিনি আসমানসমূহ ও যমীনের প্রকাশ্য ও গোপন সবকিছু জানেন।
আল্লাহর বাণী: "আর তিনিই সত্য ইলাহ্ আসমানে এবং তিনিই সত্য ইলাহ্ যমীনে।” [সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৮৪] অর্থাৎ, নিশ্চয় তিনি আসমানবাসীদের ইলাহ, আর তিনি যমীনবাসীদের ইলাহ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বাণী: “নিশ্চয় আল্লাহ্ তাদের সঙ্গে আছেন যারা তাওয়া অবলম্বন করে এবং যারা মুহসিন।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৮] "আর নিশ্চয় আল্লাহ্ মুহসিনদের সঙ্গে আছেন।” [সূরা আল-'আনকাবুত, আয়াত: ৬৯] "আমি তো আপনাদের সংগে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৪৬] অর্থাৎ নিশ্চয় তিনি তাদের হেফাযত করেন, সাহায্য করেন, সহযোগিতা করেন, এই অর্থ নয় যে, তাঁর সত্তা তাদের সাথে মিশে আছেন। আল্লাহ তা'আলা এ ধরনের কথা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। অনুরূপ আল্লাহর বাণী: "তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না।” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে জানেন, আরও জানেন তাদের যাবতীয় গোপন ভেদ ও পরামর্শ। কারণ এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ্ তা জানেন?” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] আল্লাহর বাণী: "আর তিনি সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] সুতরাং আল্লাহ তা'আলা আয়াতের শুরু করেছেন 'জানা' শব্দ দিয়ে আর শেষ করেছেন সে 'জানা' শব্দ দিয়ে, তাহলে পুরো আয়াতে যে সাথে থাকার কথা এসেছে তা দ্বারা কেবল আল্লাহ তা'আলার জ্ঞানে থাকা উদ্দেশ্য।"¹ তিনি তাঁর আরেক কবিতায় বলেন,
كَلَّمَ مُوسى عبده تكليما وَلَمْ يَزَلْ مُدَبَّرًا حَكِيمًا
كلامه وقوله قديم وهو فوقَ عَرْشِهِ العَظِيمُ
والقول في كتابه المُفَضَّلُ بأَنَّهُ كلامُهُ المُنَزَّلُ
عَلَى رَسُولِهِ النَّبِيِّ الصَّادِقِ ... ليس بمخلوق ولا بِخَالِقٍ
"তিনি (আল্লাহ) তাঁর দাস মূসার সাথে কথা বলেছেন *** সর্বদা তিনি জগত পরিচালক ও প্রাজ্ঞই “তাঁর (মূল গুণ) কথা ও বাণী প্রাচীনই, *** আর তিনি মহান, 'আরশের উপর, “আর আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে অভিমত হচ্ছে *** সেটা আল্লাহর নাযিল করা বাণী, “যা তিনি নাযিল করেছেন তাঁর সত্য নবীর ওপর *** যে বাণী সৃষ্টিও নয় আবার স্রষ্টাও নয়।”²
টিকাঃ
১. আবু 'আমর আদ-দানী, আর-রিসালাতুল ওয়াফিয়াহ, পৃ. ১২৯-১৩২।
২. আবু 'আমর আদ-দানী, আল-উরজযাতুল মুনাব্বিহাহ, পৃ. ১৮০।
📄 আবুল ফাতহ সুলাইম ইবন আইউব আর-রাযী (৪৪৭ হিজরী)
শাইখ আবু হামিদ ইসফারায়ীনীর ছাত্র ইমাম ফকীহ আবুল ফাতহ সুলাইم ইবন আইউব আর- রাযী স্বীয় তাফসীরুল কুরআনে বলেন,
في قوله الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى: «قال أبو عبيدة: علا، وقال غيره استقر».
وقال في قوله خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ: «عن قتادة قال: اليوم السابع».
وقال في قوله أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء: أي ربكم الذي في السماء إن عصيتموه أن يخسف بكم الأرض» و مثل هذا القول في باقي الآيات الدالة على أن الله فوق العرش
"পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন।" আবু উবাইদাহ বলেন, অর্থাৎ উপরে উঠেছেন। অন্যরা বলেছেন, অবস্থান নিয়েছেন। আর আল্লাহর বাণী- "তিনি ছয়দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন।" -এর ব্যাখ্যায় বলেন, ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, সপ্তম দিন। আর আল্লাহর বাণী: "তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছ যে, যিনি আসমানে আছেন।" এর ব্যাখ্যায় বলেন, তোমরা আসমানের উপরের রবের নাফরমানী করলে তিনি তোমাদেরসহ যমীনকে ধসিয়ে দিবেন। যেসব আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহ 'আরশের উপরে সেসব আয়াতের তিনি এরূপ ব্যাখ্যা করেন।"¹
টিকাঃ
১. যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪৪৯-৪৫১) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৮০।