📄 ইমাম আবূ ‘উমার আত-ত্বালামাকী আল-মালেকী (৪২৯ হিজরী)
ইমাম আবু 'উমার আত-ত্বালামাঙ্কী রাহimামুল্লাহ তাঁর 'আল-উসূল ইলা মা'রিফাতিল উসূল' যা দু খণ্ডে সমাপ্ত, তাতে বলেন,
أجمع المسلمون من أهل السنة على أن معنى قولِهِ : ﴿ وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ ﴾ [الحديد: ٤]، ونحو ذلك مِنَ القرآن أَنَّهُ عِلْمُهُ، وأنَّ اللهَ تعالى فوقَ السَّماواتِ بِذَاتِهِ، مستو على عَرْشِهِ كَيْفَ شَاءَ.
وقال أهلُ السُّنَّةِ في قوله: ﴿الرَّحْمَانُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] : إِنَّ الاستواء مِنَ الله عَلى عَرْشِهِ على الْحَقِيقَةِ لا على المجاز».
"মুসলিমগণের মধ্যে আহলুস সুন্নাত এ ব্যাপারে ঐকমত্য করেছেন যে, আল্লাহর বাণী 'তিনি তোমাদের সাথে আছেন যেখানেই তোমরা থাক না কেন' [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ০৪], ও অনুরূপ কুরআনের আয়াতগুলোর অর্থ, আল্লাহর ইলম বা জ্ঞান। তারা আরও একমত হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা সত্তাগতভাবে আসমানের উপরে, তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, যেমনটি তিনি চেয়েছেন। আর আহলুস সুন্নাহ বলেন, মহান আল্লাহর বাণী, 'রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন' [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর 'আরশের উপর উঠা বাস্তব অর্থেই, কোনো রূপক অর্থে নয়।”¹
টিকাঃ
১. মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ২৬৪।
📄 আবূ নু‘আইম আল-আসবাহানী (৪৩০ হিজরী)
হাফিয আবু নু'আইم আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ আসবাহানী যে আকীদাহ সংকলন করেছেন তাতে বলেন,
আমাদের তরীকাহ হচ্ছে কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমায়ে উম্মাহ'র অনুসরণকারী সালাফদের তরীকা। তারা যে আকীদাহ পোষণ করতেন, তা হলো- আল্লাহ তাঁর অনাদি গুণাবলি সহকারে সর্বদা পরিপূর্ণভাবে আছেন সেসব কখনো নিঃশেষ হবে না, সেসবের কোনো রূপান্তরও নেই। তিনি অনাদি জ্ঞান সহকারে সর্বদা জ্ঞানী, দর্শন সহকারে সর্বদ্রষ্টা, শ্রবণ সহকারে সর্বশ্রোতা, কথা সহকারে কথক। তারপর তিনি পদার্থ ছাড়াই বস্তুসমূহ সৃষ্টি করেছেন।
কুরআন আল্লাহর কালাম। অনুরূপ সমস্ত আসমানী কিতাব তাঁর কালাম। তাঁর কালাম মাখলুক নয়। কুরআন পড়া হোক, তিলাওয়াত করা হোক, সংরক্ষণ করা হোক, শোনা হোক, লেখা হোক বা উচ্চারণ করা হোক- সকল ক্ষেত্রেই প্রকৃতভাবেই তা আল্লাহর কালাম; বিবরণ কিংবা অনুবাদ নয়। কুরআন আমাদের শব্দের সাথেও আল্লাহর কালাম, মাখলুক নয়।
কুরআনের ব্যাপারে (মাখলুক কিংবা মাখলুক নয় এমন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান না করে) নীরবতা পালনকারী এবং যে বলে আমাদের শব্দের সাথে কুরআন মাখলুক, সে জাহমিয়্যাদের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি যে-কোনোভাবে যদি মনে করে আল্লাহর কালাম সৃষ্টি, তবে সালাফদের মতে সে জাহমিয়্যাদের অন্তর্ভুক্ত। আর সালাফদের মতে জাহমিয়্যারা কাফির। এরপর তিনি আরও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেন।
অবশেষে তিনি বলেন, 'আরশের ব্যাপারে ও তাঁর উপর আল্লাহর উঠার ব্যাপারে যেসব হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, তারা তা সাব্যস্ত করেন। তবে ধরন নির্ধারণ করেন না এবং দৃষ্টান্ত দেন না। তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা ও পৃথক। সৃষ্টিও তাঁর থেকে আলাদা ও পৃথক। সৃষ্টির মাঝে হুলুল বা ঢুকে যান না ও তাদের সাথে মিশেও যান না। তিনি তাঁর আসমানের ঊর্ধ্বে তাঁর 'আরশের উপরে, যমীনে নয়, তার সৃষ্টির ভিতরেও নয়।"¹ তারপর তিনি সালাফদের সকল আকীদাহ এবং এ ব্যাপারে তাদের ইজমা' তুলে ধরেন।
তাছাড়া তিনি তাঁর 'মাহাজ্জাতুল ওয়াসেকীন ও মাদরাজাতুর রামেক্বীন' গ্রন্থে বলেন,
وأجمعوا أنَّ اللهَ فَوْقَ سماواتِهِ، عالٍ عَلَى عرشِهِ، مُسْتَوِ عليهِ، لَا مُسْتولٍ عَلَيْهِ كَما تقول الجهمية : إِنَّهُ بكل مكان، خلافًا لما نزل في كتابهِ : أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ ) [الملك: ١٦]. ﴿إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ ﴾ [فاطر: ١٠]، ﴿الرَّحْمَانُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥]».
"আর মুসলিমগণ একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর, 'আরশের উপরে তাঁর অবস্থান। 'আরশের উপরে তিনি সমুন্নত হয়েছেন; সেটার উপর অধিষ্ঠিত অর্থে নয় যেমনটি জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় বলে থাকে। তারা বলে তিনি সব জায়গায়; তারা এটা বলে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তারা তার বিরোধিতা করে। আল্লাহ বলেন, “তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছ যে, যিনি আসমানে রয়েছেন।” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] তিনি আরও বলেন, “তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ হয় সমুত্থিত।” [সূরা ফাতির, আয়াত: ১০] তিনি আরও বলেন, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫]²
ইমাম যাহাবী বলেন, আবু নু'আইم হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আল-বান্নার নাতি। তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ এবং আসবাহানের অপ্রতীদ্বন্দ্বী শাইখ। আল্লাহ তাকে হাদীস, হিফয ও জ্ঞানবুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তার দরবারে দূর দূরান্ত থেকে লোকজন উপস্থিত হতেন। ইমাম ও হাফিযগণ তার দরজায় ভিড় জমাতেন। এক মাস কম ৯৪ বছর বয়সে ৪৩০ হিজরীর সফর মাসে তিনি মারা যান।³
টিকাঃ
১. ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তা'আরুদ্বিল আকলি ওয়ান নাকল (৬/২৫২); ফাতাওয়া হামাওয়িয়্যাহ, ১০০-১০১; মাজমু'উল ফাতাওয়া (৫/১৯০-১৯১); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ূশ, ২৭৯; মুখতাসারুস সওয়া'ইক (২/২১৪); আল-'উলু, পৃ. ২৪৩; আল-'আরش (২/৪৪২) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
২. মাহাজ্জাতুল ওয়াসেক্বীন ও মাদরাজাতুর রামেক্কীন, পৃ. ৩।
৩. যাহাবী, আল-আরش, (২/৪৪২) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
📄 আবুল হাসান আলী ইবন ‘উমার ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-কায়সীনী (৪৪২ হিজরী)
ইমাম আবুল হাসান আলী ইবন 'উমার ইবন মুহাম্মাদ আল-কাযওয়ীনী রাহিমাহুল্লাহ তার কিতাবুস সুন্নাহ'য় বলেন,
"আর আমাদের বিশ্বাসের অন্যতম হচ্ছে,
ومما نعتقد : أَنَّ للهِ عزَّ وجلَّ عَرشا، وهو على العَرْشِ، وعِلْمُهُ تعالى محيط بكل مكان، ما تسقط من ورقة إلَّا يعلمها، ولا حبة في ظلمات الأرض، ولا رطب ولا يابس إلا في كتاب مبين. والعرش فوق السَّماءِ السابعة، واللهُ تَعَالَى على العَرْشِ، قال الله تعالى: ﴿إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ ﴾ [فاطر: ١٠]، وقال عزَّ وجلَّ : إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ ) [آل عمران: ٥٥]، وقال: تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ﴾ [المعارج: ٤]، وقال: ﴿أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ ﴾ [الملك: ١٦]. وللعرش حَمَلَةٌ يحملونه على ما شاء الله من غير تكييف والاستواء معلوم والكيف مجهول».
"আমরা আরও যা বিশ্বাস করি তা হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহর জন্য রয়েছে 'আরশ, আর তিনি 'আরশের উপর রয়েছেন। আর তাঁর জ্ঞান সকল স্থানকে পরিবেষ্টন করে আছে। এমন কোনো কাগজ পতিত হয় না যা তিনি জানেন না, অনুরূপ এমন কোনো শষ্য দানা যমীনের অন্ধকারে অথবা পানিতে কিংবা ডাঙ্গায় পতিত হয় না, যা এক স্পষ্ট কিতাবে লিখা নেই।
আর 'আরশ সপ্তম আসমানের উপরে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ হয় সমুত্থিত।" [সূরা ফাতির, আয়াত: ১০] তিনি আরও বলেন, "নিশ্চয় আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব, আমার নিকট আপনাকে উঠিয়ে নিব।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৫৫] তিনি আরও বলেন, "ফিরিশতা এবং রূহ আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।" [সূরা আল-মা'আরিজ, আয়াত: ০৪] আর 'আরশের রয়েছে বহনকারীগণ, যারা আল্লাহ যেভাবে চায় সেভাবে সেটাকে বহন করেন। কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ করা যাবে না, আর 'ইস্তেওয়া' বা 'আরশের উপরে উঠার বিষয়টি জানা, তবে তার ধরণ অজানা।”¹
টিকাঃ
১. আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (১/২৪৮-২৫০)।
📄 আবূ নাসর ‘উবাইদুল্লাহ ইবন সা‘ঈদ আন-সিজযী (৪৪৪ হিজরী)
ইমাম আবু নাসর 'উবাইদুল্লাহ ইবন সা'ঈদ আস-সিজযী স্বীয় গ্রন্থ 'রিসালাতুস সাজযী ইলা আহলি যাবীদ, আর-রাদ্দু আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাওত' এ বলেন,
وقد اتفقت الأئمة على أن الصفات لا تؤخذ إلا توقيفاً، وكذلك شرحها لا يجوز إلا بتوقيف.
فقول المتكلمين في نفي الصفات أو إثباتها بمجرد العقل أو حملها على تأويل مخالف للظاهر ضلال.
ولا يجوز أن يوصف الله سبحانه (إلا) بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، وذلك إذا ثبت الحديث، ولم يبق شبهة في صحته، فأما ما عدا ذلك من الروايات المعلولة والطرق الواهية، فلا يجوز أن يعتقد في ذات الله سبحانه ولا في صفاته ما يوجد فيها باتفاق العلماء للأثر ....
وأما تظاهرهم بخلاف ما يعتقدونه كفعل الزنادقة ففي إثبات أن الله سبحانه استوى على العرش، ومن عقدهم: أن الله سبحانه لا يجوز أن يوصف بأنه في سماء ولا في أرض، ولا على عرش ولا فوق ... وهذا مخالف لقول علماء الأمة، وقد سئل مالك بن أنس رحمة الله عليه عن هذه المسألة فأجاب: «بأن الاستواء غير مجهول، والكيفية غير معقولة الإيمان به واجب والسؤال عنه بدعة.
"ইমামগণ সবাই একমত যে, সিফাত গ্রহণের নীতি হবে তাওকীফী, তথা কুরআন ও সুন্নাহ নির্ভর। অনুরূপ তার ব্যাখ্যাও হবে কেবল তাওকীফ নির্ভর। সুতরাং কালামশাস্ত্রবিদরা যে শুধু বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে অস্বীকার করে বা সাব্যস্ত করে অথবা সেটাকে প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে ভিন্ন অর্থে নিয়ে যায় সেটা পথভ্রষ্টতা। আর আল্লাহ তা'আলাকে তিনি নিজে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো গুণে গুণান্বিত করা জায়েয নেই। আর এটা তখন হবে যখন এ ব্যাপারে হাদীস সাব্যস্ত হবে, শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ কাজ করবে না। তাছাড়া যদি দুর্বল কিংবা জাল বর্ণনায় তা আসে তবে সেটাতে যা এসেছে তা আল্লাহর সত্তা কিংবা সিফাতের জন্য বিশ্বাস করা যাবে না। এটি সকল হাদীস ও আছার অনুসারী আলেমগণের ঐকমত্যে।
তবে তা আশ'আরী ও তার মতো লোকদের বিপরীতে যারা বিবেক-বুদ্ধির যুক্তিকে প্রাধান্য দেয়, আর তাদের বিরোধিতা প্রচুর... আর তারা যে সকল বিষয়ে তাদের বিশ্বাসের বিপরীতে যা দেখিয়ে বেড়ায় তার উদাহরণ হচ্ছে, আল্লাহর 'আরশের উপরে উঠার বিষয়টি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যিন্দীক লোকদের বিশ্বাস হচ্ছে, তারা বলে, আল্লাহ তা'আলাকে আসমানে বা যমীনে বা 'আরশে বা উপরে কোনো গুণেই গুণান্বিত বলা যাবে না। অথচ এটি উম্মতের আলেমগণের মতের বিরুদ্ধে, কারণ এ ব্যাপারে ইমাম মালিক ইবন আনাস রাহিমাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, “ইস্তেওয়া বা উপরে উঠার বিষয়টি অজানা নয়, ধরন বিবেকের যুক্তি দিয়ে প্রাপ্ত হওয়ার মতো নয়, এর উপর ঈমান আনা ফরয, আর ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদ'আত।”¹
উক্ত কিতাবে আরও বলেন,
وَعِنْدَ أَهْلِ الحَقِّ أَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ مُبَايِنٌ لِخَلْقِهِ بِذَاتِهِ فَوْقَ الْعَرْشِ بِلا كَيْفِيَّةٍ.
ثم ذكر حديث الجارية إلى أنْ قَالَ: ولقد قَالَ الأوس بن حارثة بن ثعلبة عند موته قصيدةً يوصي فِيهَا إِلَى ابنه مالك وذلك قبل الإسلام فيها :
فَإِنْ تَكُنِ الأَيَّامُ أَبْلَيْنَ أَعْظُمِي ... وَشَيَّيْنَ رَأْسِي وَالمَشِيبُ مَعَ العُمُرِ فإن لنا رَبَّا عَلَى فَوْقَ عَرْشِهِ ... عليها بما تأتي من الخَيْرِ والشَّرْ
وليس في قولنا: إِنَّ اللهَ سُبْحَانَهُ فَوقَ العرش تحديد؛ وإنما التحديد يقع للمحدثاتِ. فَمِنَ العرشِ إِلَى مَا تَحتَ الثَّرى محدود، واللهُ سُبْحَانَهُ فَوقَ ذَلِكَ بحيث لا مكانَ وَلا حد .
وقد ذكر الله سُبْحَانَهُ فِي القرآنِ مَا يَشفي العَلِيلَ وَهُوَ قَولُهُ تَعَالَى: ﴿الرَّحْمَانُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى * لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى ) [طه: ٥، ٦] فخَصَّ العرش بالاستواء، ووَذَكَرَ مُلْكَهُ لسائر الأشياءِ فَعُلِمَ أن المراد به غير الاستيلاء.
"হক ও সত্যপন্থীদের মত হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা, সত্তাগতভাবে তিনি 'আরশের উপরে, কোনো ধরন নির্ধারণ করা ছাড়া।” তারপর তিনি দাসীর সেই বিখ্যাত হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তারপর বললেন, "আওস ইবন হারেসাহ ইবন সা'লাবাহ তার মৃত্যুর সময় একটি কবিতা রচনা করেছিলেন, যাতে তিনি তার সন্তান মালিককে অসিয়ত করছিলেন, আর তা ছিল ইসলাম পূর্ব যুগের ঘটনা:
فَإِنْ تَكُنِ الأَيَّامُ أَبْلَيْنَ أَعْظُمِي ... وَشَيَّبْنَ رَأْسِي وَالمَشِيبُ مَعَ العُمُرِ عليها بما تأتي من الخَيْرِ والشَّرِّ فإن لنا رَبًّا عَلَى فَوْقَ عَرْشِهِ
'যদি দিন অতিবাহিত হতে হতে সেগুলো আমার হাড় পঁচিয়ে দেয়, আর আমার মাথার চুল বুড়ো করে দেয়, আর বয়সের সাথে বৃদ্ধাবস্থা তো আসবেই
তবে জেনে রাখ, আমাদের একজন সুউচ্চ রব রয়েছেন তাঁর 'আরশের উপর, তিনি সর্বজ্ঞ সেসব ব্যাপারে যা আমরা কল্যাণ কিংবা অকল্যাণ করে থাকি।'
তবে মনে রাখতে হবে, আমরা যে বলি আল্লাহ 'আরশের উপর এতে করে আল্লাহকে সীমাবদ্ধ করা হয় না। কারণ, সীমাবদ্ধ হওয়া তো সৃষ্টিকুলের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়। তাই 'আরশ থেকে পাতালের নিচ পর্যন্ত স্থান হচ্ছে সীমাবদ্ধ। আর আল্লাহ তা'আলা তো 'আরশের উপরে, সেটা (কালামশাস্ত্রবিদদের দৃষ্টিতে যেটা) স্থান কিংবা সীমাবদ্ধ (হিসেবে পরিচিত), সেটা নয়।
বস্তুত আল্লাহ তা'আলা তাঁর কুরআনে যা বর্ণনা করেছেন তা রোগ থেকে আরোগ্য দান করে, আর তা হচ্ছে, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন, আসমানে যা আছে, যমীনে যা আছে, এদুয়ের মাঝে যা আছে এবং যা মাটির নিচে আছে সবকিছুর মালিক তো তিনিই”। সুতরাং তিনি 'আরশকে উঠার জন্য নির্ধারণ করেছেন, সাথে সাথে সবকিছুর মালিকানা নিজের বলে ঘোষণা করেছেন। যা দ্বারা জানা গেল যে, 'ইস্তাওয়া' কখনও 'ইস্তাওলা' নয়।”²
অর্থাৎ ইস্তেওয়া অর্থ উপরে উঠা এটাই বিশুদ্ধ। ইস্তেওয়া শব্দকে কেউ যেন বিকৃত করে ইস্তাওলা বা অধিকার করার অর্থে না নিয়ে যায়, সে জন্য আল্লাহ তা'আলা সাথে সাথে সবকিছুর মালিক যে তিনি স্বয়ং সেটাও ঘোষণা করেছেন। তাহলে বাক্যগত অবস্থানেও বুঝা যাচ্ছে ইস্তাওয়া অর্থ কখনও ইস্তাওলা নয়। বরং ইস্তাওয়া অর্থ উপরে উঠা।
তাঁর অপর গ্রন্থ আল-ইবানায় বলেন, أئمتنا كسفيان الثوري، ومالك، وحماد بن سلمة، وحماد بن زيد، وسفيان بن عيينة، والفضيل، وابن المبارك، وأحمد، وإسحاق، متفقون على أنَّ اللهَ سُبْحَانَهُ بِذَاتِهِ فَوْقَ العَرْشِ، وَعِلْمَهُ بِكُلِّ مَكَانٍ، وَأَنَّهُ يَنْزِلُ إِلى السَّمَاءِ الدُّنيا، وأَنَّهُ يَغْضَبُ، وَيَرْضَى، وَيَتَكَلَّمُ بِمَا شَاءَ».
"আমাদের ইমামগণ, যেমন সুফইয়ান আস-সাওরী, মালিক, হাম্মাদ ইবন সালামাহ, হাম্মাদ ইবন যায়েদ, সুফইয়ান ইবন 'উয়াইনাহ, ফুদ্বাইল ইবন 'ইয়াদ্ব, ইবনুল মুবারক, আহমাদ ইবন হাম্বল, ইসহাক্ব ইবন রাহওয়াই, তারা সবাই একমত যে আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং সত্তাগতভাবে 'আরশের উপর আর তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর তিনি নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, আর তিনি রাগ করেন, তিনি সন্তুষ্ট হন, তিনি যা ইচ্ছা কথা বলেন।"³
টিকাঃ
১. রিসালাতুস সাজযী ইলা আহলি যাবীদ, আর-রাদ্দু আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাওত, পৃ. ১২১-১২৩।
২. আর-রাদ্দু আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাওতা, পৃ. ১২৯-১৩১।
৩. যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪৫১-৪৫২) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; মুখতাসারুল 'উলু, পৃ. ২৬৬-২৬৭।