📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 মা‘মার ইবন আহমাদ ইবন মিয়াদ আল-আসাবাহানী (৪১৮ হিজরী)

📄 মা‘মার ইবন আহমাদ ইবন মিয়াদ আল-আসাবাহানী (৪১৮ হিজরী)


ইয়াহইয়া ইবন 'আম্মার, আবু নু'আইম ও তাদের যুগের সূফীদের শাইখ, ইমাম, 'আরিফ, মা'মার ইবন আহমাদ ইবন যিয়াদ আল-আসবাহানী বলেন,
আমি পছন্দ করছি যে, আমি আমার ছাত্রদের একটি অসিয়ত করবো। সে অসিয়ত হবে সুন্নাহ এবং পূর্ববর্তী পরবর্তী আহলুল হাদীস ও মা'রিফাত এবং তাসাউফপন্থীদের ইজমা'র আলোকে। তারপর তিনি অসিয়ত করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন,
وَأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اسْتَوَى عَلَى عَرْشِهِ بِلَا كَيْفَ وَلَا تَشْبِيه وَلَا تَأْوِيل، فالاستواء مَعْقُول، والكيف فيه مجهول، والإيمان به واجب، والإنكار له كفر ، وَأَنَّهُ جل جلاله مستو عَلَى عَرْشِه بِلَا كَيْفَ، وَأَنه جل جلال بائن من خلقه والخلق بالنون مِنْهُ، فَلَا حُلُول وَلَا ممازجة وَلَا اختلاط وَلَا ملاصقة لأَنَّهُ الْفَرد الْبَائِن من خلقه، الْوَاحِدِ الْغَنِي عَنِ الخلق، علمه بِكُل مكان، وَلَا يَخْلُو من علمه مكان لا يعزب عَنهُ مِثْقَال ذرة فِي الأَرْضِ وَلَا فِي السَّماء، يعلم ما تجنه البحور وما تكنه الصُّدُورِ ﴿وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كتاب مبين وَأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ سميع بَصِير ، عليم خَبِير، يتكلم ويرضى ويسخط ويضحك ويعجب ويتجلى لِعِبَادِهِ يَوْمِ الْقِيَامَة ضاحِكا، وينزل كل لَيْلَةٍ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا كَيْفَ يَشَاء.
"আর মহান আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, কোনো রকম ধরন নির্ধারণ ছাড়াই। সাদৃশ্য প্রদান ও তা'ওয়ীল করা ছাড়াই। উপরে উঠা বোধগম্য, কিন্তু ধরন অবোধগম্য, তার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, উপরে উঠাকে অস্বীকার করা কুফুরী। তিনি তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন ধরন নির্ধারণ ব্যতীতই।
আর মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা ও পৃথক, সৃষ্টিকুলও তার থেকে আলাদা। মাখলুকের মাঝে প্রবেশ করেননি, মিশে যাননি ও মিলে যাননি। কারণ, তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক একক সত্তা, সকল সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। তাঁর জ্ঞান সর্বত্র। তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো কিছু অবশিষ্ট নেই। আসমান ও যমীনের সামান্যতম জিনিসও তাঁর জ্ঞান থেকে অগোচরে থাকে না। সমুদ্রে যা গোপন রয়েছে তা তিনি জানেন, অন্তরসমূহে যা সুপ্ত তাও তিনি জানেন। "তাঁর অজানায় একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না বা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোনো বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।"
আল্লাহ তা'আলা সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী, সর্বঅবহিত, কথা বলেন, সন্তুষ্ট হন, অসন্তুষ্ট হন, হাসেন, আশ্চর্য হন। কিয়ামতের দিন তাঁর বান্দাদের সামনে প্রকাশ হবেন হাস্যোজ্জ্বল হয়ে, প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, যেভাবে ইচ্ছা করেন।'¹
টিকাঃ
১. আবুল কাসেম আত-তাইমী, আল-হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ (১/২৪৯); অনুরূপ ইবন তাইমিয়্যাহ, দার'উ তা'আরুদ্বিল আকলি ওয়ান নকল (৬/২৫৬-২৫৭); মাজমুউল ফাতাওয়া (৫/১৯১)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবুল কাসিম হিযাতুল্লাহ লালকাই (৪১৮ হিজরী)

📄 ইমাম আবুল কাসিম হিযাতুল্লাহ লালকাই (৪১৮ হিজরী)


ইমাম আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবন হাসান লালেকাঈ শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ আকীদার জগতে এক অনন্য নাম। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী লোকদের আকীদার যত ছোট ছোট গ্রন্থ, পুস্তিকা ছিল তার যতটুকু সম্ভব নিজের গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। এর মাধ্যমে পূর্বের অনেক সালাফে সালেহীনের বাণী, বক্তব্য, আছার আমাদের কাছে পৌঁছেছে। তাঁর এ মূল্যবান গ্রন্থটি শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা'আত নামে বিখ্যাত। উক্ত গ্রন্থে তিনি বলেন, سياق ما روي في قوله: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى، وأن الله على عرشه في السماء، قال عز وجل: إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيب، وقال: أأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء ، وقال وَهُوَ القَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ ، قال : فدلت هذه الآيات أنه في السماء وعلمه محيط بكل مكان، وروي ذلك عن عمر، وابن مسعود، وابن عباس، وأم سلمة، ومن التابعين ربيعة، وسليمان التيمي، ومقاتل بن حيان، وبه قال مالك، والثوري، وأحمد بن حمبل
"আল্লাহর বাণী: "পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন"-এর ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তার আলোচনা। আল্লাহ আসমানের ঊর্ধ্বে তাঁর 'আরশের উপরে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, তাঁর দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ ঊর্ধ্বে ওঠে।" আরও বলেন, "তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছ যে, যিনি আসমানে আছেন।” অন্যত্র বলেন- "আর তিনিই নিজ বান্দাদের ওপর ক্ষমতাবান" তিনি বলেন, এসব আয়াত প্রমাণ করে যে, তিনি আসমানের উপরে আর তাঁর ইলম সর্বস্থানকে বেষ্টন করে আছে। এ বক্তব্য বর্ণিত আছে 'উমার, ইবন মাসউদ, ইবন 'আব্বাস ও উম্মু সালামাহ থেকে। আর তাবে'য়ীদের মধ্যে রবী'আহ, সুলাইমান তাইমী ও মুকাতিল ইবন হাইয়ান থেকে বর্ণিত আছে। ইমাম মালিক, সাওরী ও আহমাদ ইবন হাম্বলেরও একই বক্তব্য।”¹ তিনি 'আরশের ওপর উঠার ব্যাপারে ইতোপূর্বে বর্ণিত, বিশর ইবন 'উমার, উম্মে সালামাহ, মালিক ইবন আনাস, রবী'আহ ইবন আবদুর রাহমান আর-রা'য়, ইবনুল আ'রাবী, আবুল 'আব্বাস সা'লাব, সবার কথা বর্ণনা করেছেন।²
টিকাঃ
১. লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (৩/৪২৯-৪৩৮); ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৭৯; যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪৩৯-৪৪০) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
২. লালেকাঈ, শারহু উসুলি ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ (৩/৪৪0-৪৪৬)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 সুলতানুল মুসলেমীন মাহমদু ইবন সাবুক্তগীন (৪২২ হিজরী)

📄 সুলতানুল মুসলেমীন মাহমদু ইবন সাবুক্তগীন (৪২২ হিজরী)


ইমাম আবু 'আলী ইবনুল বান্না বলেন, আলী ইবনুল হুসাইন আল-উকবারী বর্ণনা করেন, তিনি আবু মাসউদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-বাজালীকে বলতে শুনেছেন, دخل ابن فورك على السلطان محمود، فقال: لا يجوز أن يُوصف الله بالفوقية لأنَّ لازم ذلك وصفه بالتحتية، فمن جاز أن يكون له فوق، جاز أن يكون له تحت. فقال السلطان: ما أنا وصفته حتَّى يُلْزِمَنِي، بَلْ هُوَ وَصَفَ نَفْسَهُ. فبهت ابن فورك، فلما خرج من عنده مات. فيقال: انشقَّتْ مَرَارَتُه».
"বিখ্যাত কালামশাস্ত্রবিদ ইবন ফুওরাক তৎকালীন সুলতান মাহমুদের কাছে প্রবেশ করে বললেন, 'আল্লাহকে উপরে থাকার গুণে গুণান্বিত বলা যাবে না; কারণ এর দাবি হচ্ছে তাকে নিচে থাকার গুণেও গুণান্বিত করা; কারণ যার জন্য উপরে থাকা বৈধ, তার জন্য নিচে থাকাও বৈধ। তখন সুলতান মাহমূদ বললেন, আমি তো এ গুণে তাকে গুণান্বিত বলিনি যে তুমি আমাকে এভাবে তোমার কথা দ্বারা বাধ্য করবে, বরং আল্লাহ স্বয়ং তাঁর নিজেকে উক্ত গুণে গুণান্বিত করেছেন। তখন ইবন ফুওরাক হতভম্ব হয়ে গেল, কোনো জাওয়াব দিতে পারলো না। তারপর যখন ইবন ফুওরাক রাহিমাহুল্লাহ সুলতান মাহমুদের দরবারে থেকে বের হয়ে গেল তখন মারা গেল। বলা হয়ে থাকে তার মুরারাহ তথা পিত্ত ফেটে তিনি মারা গিয়েছিলেন।”¹
টিকাঃ
১. যাহাবী, সিয়ার (১৭/৪৮৭)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 বকীলাতুন মুসলিমীন কাসের বিল্লাহ, আল-ইমাম আবুল ‘আব্বাস আহমাদ ইবনুল আমীর ফযলক ইবনুল বলীয়া আল-মুতওয়াক্কিল ইবনুল মুকতাদির ইবনুল মু‘তাযিদ ইবন আলহা মুতওয়াক্কিল ইবনুল মু‘তাসিম ইবন হারুন ইবন আবূ জা‘ফর আল-মানসুর আল-হাশেমী আল-আব্বাসী আল-বাগদাদী (৪২২ হিজরী)

📄 বকীলাতুন মুসলিমীন কাসের বিল্লাহ, আল-ইমাম আবুল ‘আব্বাস আহমাদ ইবনুল আমীর ফযলক ইবনুল বলীয়া আল-মুতওয়াক্কিল ইবনুল মুকতাদির ইবনুল মু‘তাযিদ ইবন আলহা মুতওয়াক্কিল ইবনুল মু‘তাসিম ইবন হারুন ইবন আবূ জা‘ফর আল-মানসুর আল-হাশেমী আল-আব্বাসী আল-বাগদাদী (৪২২ হিজরী)


তিনি যে আকীদাহ'র গ্রন্থ তৎকালীন আহলুস সুন্নাহ'র জন্য নির্ধারণ করে লিখেন, তাতে বলেন, يجب على الإنسان أن يعلم أن الله عز وجل وحده لا شريك له لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفواً أحد، لم يتخذ صاحبة ولا ولداً، ولم يكن له شريك في الملك، وهو أول لم يزل وآخر لا يزال .... كان ربنا واحد لا شيء معه، ولا مكان يحويه، فخلق كل شيء بقدرته، وخلق العرش لا لحاجته إليه، فاستوى عليه كيف شاء وأراد، لا استقرار، راحة كما يستريح الخلق، وهو مدبّر السموات والأرضين ومدبر ما فيهما، ومن في البر والبحر، ولا مدبر غيره
"প্রতিটি মানুষের জন্য এটা জানা আবশ্যক যে, আল্লাহ তা'আলা এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি জন্ম গ্রহণ করেননি, কাউকে জন্মও দেননি, আর তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই। তিনি কোনো স্ত্রী কিংবা সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর রাজত্বেও কেউ শরীক নেই, তিনিই প্রথম, সর্বদা আছেন, তিনিই শেষ, সর্বদা থাকবেন।
আমাদের রব একাই ছিলেন, তাঁর সাথে আর কেউ ছিল না, কোনো স্থানও তাকে আবদ্ধ করতো না, তারপর তিনি সবকিছু সৃষ্টি করলেন তাঁর শক্তিতে, 'আরশ সৃষ্টি করেছেন, তবে সেটার প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে নয়, তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন যেভাবে তিনি চেয়েছেন ও ইরাদা করেছেন। তবে সেটা আরাম করার জন্য অবস্থান করা নয়, যেমনটি সৃষ্টিকুল আরাম করার জন্য করে থাকে। আর তিনি আসমান ও যমীনের পরিচালক, এ দুয়ের মাঝে যা আছে তার পরিচালক, আর যা আছে ডাঙ্গায় ও সমুদ্রে সেগুলোরও পরিচালক তিনি, তিনি ব্যতীত আর কোনো পরিচালক নেই।”¹
টিকাঃ
১. আল-ই'তিকাদুল কাদরী, ০৩; খত্বীব আল-বাগদাদী, (৪/৩৭); আল-ইসনাওয়ী, আত-ত্বাবাক্বাত (২/৩১০); আস-সাফাদী, আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত, ইবনুস সালাহ, ত্বাবাক্বাতুশ শাফে'ঈয়্যাহ (১/৩২৫); ইবন কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ (১১/৩০৯); ইবনুল জাওযী, আল-মুনাযাম (১৫/১৯৭-১৯৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00