📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন মাননাহ (৩৯৫ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন মাননাহ (৩৯৫ হিজরী)


ইমাম ইবন মানদাহ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর "কিতাবুত তাওহীদ ও মা'রিফাতি আসমায়িল্লাহি আয্যা ওয়া জাল্লা ওয়াসিফাতিহি 'আলাল ইত্তিফাকি ওয়াত-তাফাররুদ গ্রন্থে বলেন,
ومن أسماء الله عز وجل: العلي الأعلى العظيم، وذكرهما في سورة البقرة، وعن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في أسماء الله العلي العظيم، قال أهل المعرفة بالتأويل معنى العلي: تعالى على الخلق وهو أعلى من كل شيء وتعالى في كل شيء فلا شيء أعلى منه ....
"আর আল্লাহর মহান নামসমূহের মধ্যে রয়েছে, আল-আলীয়্যু, আল-আ'লা, আল-আযীমু। আল্লাহ তা'আলা সেগুলোকে সূরা আল-বাকারায় উল্লেখ করেছেন। আর আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর নাম 'আলীয়্যুল আযীম বর্ণনা করেন। যারা ব্যাখ্যা করতে জানেন, এমন আলেমগণ বলেন, 'আল-আলিয়্যু শব্দের অর্থ, তিনি সৃষ্টি থেকে উপরে উঠেছেন, তিনি সবকিছুর উপরে, সবকিছু থেকে সর্বদিক থেকে উপরে, সুতরাং তাঁর উপরে কোনো কিছু নেই।”¹
অন্যত্র তিনি বলেন,
ذكر الآي المتلوة والأخبار المأثورة في أن الله عز وجل على العرش فوق خلقه، بائناً عنهم، وبدء خلق العرش والماء، قال الله عز وجل الرحمن على العرش استوى وقال: ثم استوى على العرش الرحمن) وقال: إن ربكم الله الذي خلق السموات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش ... ثم ذكر الأحاديث التي ، منها: حديث عمران بن حصين في أول الخلق، وحديث عبد الله بن عمرو بن العاص في كتابة مقادير الخلائق، وحديث أبي هريرة في يمين الله ملاى.
"সেসব তিলাওয়াতকৃত আয়াতসমূহের বর্ণনা ও প্রমাণিত রাসূল ও সাহাবীগণ থেকে আগত আছার সমূহের বর্ণনা, যাতে এসেছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে, সকল সৃষ্টির উপরে, তাদের থেকে পৃথক, 'আরশ ও পানির সৃষ্টির সূচনা। মহান আল্লাহ বলেন, রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] তিনি আরও বলেন, "তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন। তিনিই 'রহমান'।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৯] তিনি আরও বলেন, "নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ্ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৫৪] তারপর তিনি অনেকগুলো হাদীস নিয়ে এসেছেন, তন্মধ্যে রয়েছে, সৃষ্টির শুরু সংক্রান্ত ইমরান ইবন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর হাদীস, তাকদীর লেখা সংক্রান্ত আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবনুল 'আস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার হাদীস আর আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর হাদীস আল্লাহর ডান হাত একেবারে পরিপূর্ণ।”
তারপর তিনি অপর একটি শিরোনাম দিয়ে বলেন,
আরেকটি বর্ণনা, যা প্রমাণ করে যে, 'আরশ আসমানসমূহের উপরে, আর আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টির উপরে, তাদের থেকে পৃথক, আর তাতে রয়েছে বিখ্যাত মেঘ এর হাদীস।
তারপর তিনি আরেকটি শিরোনাম দিয়ে বলেন,
আরেকটি বর্ণনা প্রমাণ করে যে, 'আরশ আসমানসমূহের উপরে, তারপর তিনি সেখানে বেদুঈন ও শাফা'আতের সেই বিখ্যাত হাদীস নিয়ে আসেন।
তারপর তিনি আরেকটি শিরোনাম দিয়ে বলেন,
আরেকটি বর্ণনা প্রমাণ করে যে, রহমানের 'আরশ ফিরদাউসের উপরে, তারপর তিনি সেখানে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীদের মর্যাদা সংক্রান্ত হাদীস নিয়ে আসেন।
তারপর তিনি আরেকটি শিরোনাম দিয়ে বলেন,
আরেকটি বর্ণনা যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর 'আরশের ছায়া রয়েছে, যে ছায়ায় তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে রাখবেন, তারপর তিনি সেখানে আল্লাহর জন্য পরস্পর ভালোবাসা সংক্রান্ত হাদীস নিয়ে আসেন এবং সাত শ্রেণির লোকেরা যে 'আরশের নিচে ছায়া পাবে সেটা নিয়ে আসেন।²
এ গ্রন্থের অন্যত্র তিনি বলেন,
ذكر الآيات المتلوة والأخبار المأثورة بنقل الرواة المقبولة التي تدل على أن الله تعالى فوق سماواته وعرشه وخلقه فأورد فيه حديث : أنت الظاهر فليس فوقك شيء.... قاهراً لهم عالماً بهم.
"সেসব আয়াত ও মা'সূর হাদীসসমূহের উল্লেখ, যা গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমে এসেছে, যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর আসমানসমূহের উপরে, 'আরশের উপরে, সৃষ্টির উপরে, সেখান থেকেই তাদের উপর তাঁর প্রতাপ খাটান, তাদের বিষয় তিনি জানেন.."। তারপর তিনি সেখানে সেই বিখ্যাত হাদীসটি নিয়ে আসেন, 'আল্লাহুম্মা আনতায যাহিরু ফা লাইসা ফাওক্বাকা শাই'।³
তিনি তার আস-সিফাত গ্রন্থে বলেন, فهو عز وجل موصوف غير مجهول، وهو موجود غير مدرك، ومرئي غير محاط به لقربه كأنك تراه، غير ملاصق وبعيد غير منقطع، يسمع، ويرى، وهو بالمنظر الأعلى، وعلى العرش استوى، فالقلوب تعرفه، والعقول لا تكيفه، وهو بكل شيء محيط.
"মহান আল্লাহ গুণান্বিত যা অজানা নয়; তিনি বিদ্যমান, তবে নাগালের বাইরে; তাকে দেখা যাবে, তবে বেষ্টন করা যাবে না; তার নিকটবর্তী হওয়ায় যেন তাকে দেখছো, তবে লেগে থাকার মতো নয়; দূরে তবে বিচ্ছিন্ন নন। তিনি শুনেন, দেখেন, তিনি ঊর্ধ্বের দৃশ্যপটে, 'আরশের উপরে উঠেছেন, অন্তরসমূহ তাকে চেনে, মস্তিষ্ক তার ধরন বর্ণনা করতে পারে না, তিনি সকল কিছুকে বেষ্টনকারী।"⁴
তারপর তিনি জুমু'আর দিনে আল্লাহ তাঁর 'আরশে উঠা সংক্রান্ত হাদীসটি নিয়ে আসেন। যার বর্ণনা ইমাম শাফে'য়ী থেকে ইতোপূর্বে এসেছে।⁵
টিকাঃ
১. কিতাবুত তাওহীদ ও মা'রিফাতি আসমায়িল্লাহি আয্যা ওয়া জাল্লা ওয়াসিফাতিহি 'আলাল ইত্তিফাক্কি ওয়াত-তাফাররুদ (২/১৪৭)।
২. কিতাবুত তাওহীদ ও মা'রিফাতি আসmায়িল্লাহি আয্যা ওয়া জাল্লা ওয়াসিফাতিহি 'আলাল ইত্তিফাক্কি ওয়াত-তাফাররুদ (৩/১৮৫-১৯৬)।
৩. কিতাবুত তাওহীদ, সিফাত (৩/২৬৮)।
৪. যাহাবী, আল-'আরশ (২/৪২০) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৭৭
৫. যাহাবী, আল-'আরش (২/৪২০) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবুল কাসেম খালাফ আল-সুকরী আল-আদলূসী (৩৯৩ হিজরী)

📄 ইমাম আবুল কাসেম খালাফ আল-সুকরী আল-আদলূসী (৩৯৩ হিজরী)


ইমাম আবুল কাসেম খালাফ ইবন কাসেম ইবন সাহল ইবন আসওয়াদ আল-আযদী ইবনুদ দাব্বাগ, তিনি ইমাম আবু 'আমর আদ-দানী ও ইমাম ইবন আবদুল বার এর উস্তাদ ছিলেন, তিনি বলেন,
عَنْ مَالِكٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللهِ الْأَغَرُ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ : يَنْزِلُ رَبُّنَا كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا حَتَّى يَبْقَى ثُلْثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ فَيَقُولُ : مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟ وَمَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟ وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ؟» فِي هَذَا الْحَدِيثِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ تَعَالَى فِي السَّمَاءِ عَلَى الْعَرْشِ فَوْقَ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ مِنْ غَيْرِ مُمَاسَّةٍ وَلَا تَكْبِيفَ كَمَا قَالَ أَهْلُ الْعِلْمِ، وَدَلِيلُ قَوْلِهِمْ أَيْضًا مِنَ الْقُرْآنِ.
"মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি ইবন শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি আবু আব্দিল্লাহ আল-আগার ও আবু সালামাহ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমাদের রব প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তারপর তিনি বলতে থাকেন, এমন কেউ কি আছে যে আমাকে ডাকবে, যাতে আমি তার ডাকে সাড়া দিব? কে আমার কাছে চাইবে আর আমি তাকে দিব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দিব?" এ হাদীসে প্রমাণ রয়েছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর, 'আরশের উপর, সাত আসমানের উপর, কোনো প্রকার স্পর্শ কিংবা ধরণ নির্ধারণ ব্যতীতই। যেমনটি আলেমগণ বলেছেন। আর তাদের এ কথার দলীল কুরআনেও আছে, আল্লাহর বাণী,.......
قَوْلُهُ تَعَالَى: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: ﴿ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِي وَلَا شَفِيعٍ ) [السجدة: ٤] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {إِذًا لَابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا ﴾ [الإسراء: ٤٢] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ) [السجدة: ٥] وَقَوْلُهُ تَعَالَى : تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ ﴾ [المعارج: ٤] وَقَوْلُهُ تَعَالَى لِعِيسَى عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ : إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ ) [آل عمران: ٥٥] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {لَيْسَ لَهُ دَافِعٌ - مِنَ اللَّهِ ذِي الْمُعَارِجِ - تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ ﴾ [المعارج: ٢ - ٤]
আর আয়াতে আসা 'উরুজ' এর অর্থ হচ্ছে 'সু'উদ' অর্থাৎ উপরে আরোহন করা, উপরে উঠা। ইমাম মালিক ইবন আনাস বলেন, আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর আর তাঁর ইলম সব জায়গায়, সর্বত্র। তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো স্থান খালি নেই। এ কথা দ্বারা ইমাম মালিকের উদ্দেশ্য হচ্ছে 'ফিস সামায়ি' বলে 'আলাস সামায়ি' বুঝানো হয়েছে, যেমনটি অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়াব” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৭১], অনুরূপ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, "তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ তাঁর ব্যাপারে, যিনি আসমানে আছেন? [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] অর্থাৎ আসমানের উপরে, 'আরশের উপরে। এটা তেমন যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "সুতরাং তোমরা যমীনে বিচরণ কর" [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ০২] অর্থাৎ যমীনের উপর।”¹ তিনি আরও বলেন,
وَقِيلَ لِمَالِكِ: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] . كَيْفَ اسْتَوَى، قَالَ مَالِكٌ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى لِقَائِلِهِ: اسْتِوَاؤُهُ مَعْقُولُ، وَكَيْفِيَّتُهُ مَجْهُولَةٌ، وَسُؤَالُكَ عَنْ هَذَا بِدْعَةٌ وَأَرَاكَ رَجُلَ سُوءٍ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] أَيْ: عَلَا، قَالَ : وَتَقُولُ الْعَرَبُ : اسْتَوَيْتُ فَوْقَ الدَّابَّةِ وَفَوْقَ الْبَيْتِ، وَكُلُّ مَا قَدَّمْتُ دَلِيلٌ وَاضِحٌ فِي إِبْطَالِ قَوْلِ مَنْ قَالَ بِالْمُجَازِ فِي الاسْتِوَاءِ، وَأَنَّ اسْتَوَى بِمَعْنَى اسْتَوْلَى لِأَنَّ الإِسْتِيلَاءَ فِي اللُّغَةِ المُغَالَبَةُ وَأَنَّهُ لَا يُغَالِبُهُ أَحَدٌ وَمِنْ حَقِّ الْكَلَامِ أَنْ يُحْمَلَ عَلَى حَقِيقَتِهِ حَتَّى تَتَّفِقَ الْأُمَّةُ أَنَّهُ أُرِيدَ بِهِ الْمُجَازُ إِذْ لَا سَبِيلَ إِلَى اتِّبَاعِ مَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا مِنْ رَبِّنَا سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى إِلَّا عَلَى ذَلِكَ وَإِنَّمَا يُوَجَّهُ كَلَامُ اللهِ تَعَالَى إِلَى الْأَشْهَرِ وَالْأَظْهَرِ مِنْ وُجُوهِهِ مَا لَمْ يَمْنَعْ مِنْ ذَلِكَ مَا يَجِبُ لَهُ التَّسْلِيمُ وَلَوْ سَاغَ ادْعَاءُ الْمُجَازِ لِكُلِّ مُدَّعٍ مَا ثَبَتَ شَيْءٌ مِنَ الْعِبَادَاتِ وَجَلَّ اللَّهُ تَعَالَى عَنْ أَنْ يُخَاطِبَ إِلَّا بِمَا تَفْهَمُهُ الْعَرَبُ مِنْ مَعْهُودِ مُخَاطِبَاتِهَا بِمَا يَصِحُ مَعْنَاهُ عِنْدَ السَّامِعِينَ. وَالاسْتِوَاءُ مَعْلُومٌ فِي اللُّغَةِ وَهُوَ الْعُلُوُّ وَالارْتِفَاعُ وَالتَّمَكُنُ فِي الشَّيْءِ.
"আর ইমাম মালিককে বলা হলো, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন"? কীভাবে উঠলেন? মালিক রাহিমাহুল্লাহ বললেন, 'ইস্তেওয়া' এর অর্থ ভাষাগতভাবে জানা (অর্থাৎ উপরে উঠা), তবে তার ধরন অজানা, তোমার থেকে এ প্রশ্ন করা বিদ'আত। আমি তো তোমাকে খারাপ লোকই দেখতে পাচ্ছি। অনুরূপভাবে আবু উবাইদাহ আল্লাহর বাণী, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন" তাফসীরে বলেন, 'ইস্তেওয়া' শব্দের অর্থ 'আলা' উপরে উঠা, যেমন আরবরা বলে, 'ইস্তাওয়াইতু ফাওকাদ দাব্বাতি', 'ইস্তাওয়াইতু ফাওকাল বাইতি' (যখন বাহন কিংবা ঘরের উপরে উঠা হয়)। যা কিছু বর্ণনা করেছি তাতে যারা 'ইস্তাওয়া' শব্দটির রূপক অর্থ করে তাদের কথা বাতিল হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যারা বলে, 'ইস্তাওয়া' অর্থ 'ইস্তাওলা বা অধিকার করল। কারণ, আরবী ভাষায় 'ইস্তাওলা' তখনই বলা হয় যখন বিপরীতে কোনো কিছুর ওপর জয় লাভের বিষয় থাকে, অথচ আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করবে এমন কেউ নেই যে তাকে হারিয়ে দখল করতে হবে। তাছাড়া যেকোনো বাক্যের অধিকার হচ্ছে সেটাকে প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা যতক্ষণ না উম্মত কোনো একটি বিষয়ে একমত না হচ্ছে যে, এখানে রূপক অর্থই নিতে হবে; কারণ আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের প্রতি যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ করার জন্য এ প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ তা'আলার কথাকে তো সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও সুস্পষ্ট অর্থেই নেয়াই কর্তব্য; যতক্ষণ না সেটা গ্রহণ করতে এমন কোনো বাধা আসবে যা মানতে বাধ্য হবে। যদি এভাবে রূপক অর্থ গ্রহণ করা অনুমোদিত হয়ে যায় তবে সকল দাবিদারই সবকিছুকে রূপক বলে দাবি করতে পারবে। আর তখন আমাদের কোনো ইবাদাতই সাব্যস্ত করা যাবে না। আর মহান আল্লাহ অনেক মর্যাদাবান যে, তিনি তার আরবদেরকে এমন জিনিস দিয়ে সম্বোধন করবেন যা তাদের প্রচলিত সম্বোধনে তারা ব্যবহার করে না। বরং সে সম্বোধনই করবেন যা শ্রোতারা শোনা মাত্র বুঝতে পারে। আর এই যে, 'ইস্তেওয়া' শব্দটি। তার অভিধানিক অর্থ ভাষায় জানা। আর তা হচ্ছে, উপরে উঠা, ঊর্ধ্বে উঠা ও কোনো কিছুর উপর অবস্থান নেয়া।”²
টিকাঃ
১. ইবন আবদুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩১); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৫৭।
২. ইবন আবদুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৩); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৫৮-১৫৯।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমদ ইবন ‘ঈসা ইবন আবী যামানিন (৩৯৯ হিজরী)

📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমদ ইবন ‘ঈসা ইবন আবী যামানিন (৩৯৯ হিজরী)


আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ঈসা ইবন আবী যামানিইন বলেন, وَمِنْ قَوْلِ أَهْلِ السُّنَّةِ : أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ خَلَقَ الْعَرْشَ وَاخْتَصَّهُ بِالْعُلُوِّ وَالارْتِفَاعِ فَوْقَ جَمِيعِ مَا خَلَقَ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَيْهِ كَيْفَ شَاءَ، كَمَا أَخْبَرَ عَنْ نَفْسِهِ فِي قَوْلِهِ: اَلرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى وَفِي قَوْلِهِ : ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا ) فَسُبْحَانَ مَنْ بَعْدَ فَلَا يُرَى، وَقَرُبَ بِعِلْمِهِ وَقُدْرَتِهِ فَسَمِعَ النَّجْوَى .... وَمِنْ قَوْلِ أَهْلِ السُّنَّةِ : أَنَّ الْكُرْسِيَّ بَيْنَ يَدَيْ الْعَرْشِ وَأَنَّهُ مَوْضِعُ الْقَدَمَيْنِ.
"আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের বক্তব্য হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা 'আরশ সৃষ্টি করেছেন, আর সেটাকে তাঁর সকল সৃষ্টির উপর উঁচু ও উপরে থাকার বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন। তারপর তিনি যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে 'আরশের উপর উঠেছেন। যেমনটি তিনি নিজরে সম্পর্কে জানিয়েছেন, তাঁর বাণীতে, "দয়াময় (আল্লাহ্) 'আরশের উপর উঠেছেন। যা আছে আসমানসমূহে ও যমীনে এবং এ দু'য়ের মধ্যবর্তী স্থানে ও ভূগর্ভে তা তাঁরই।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৫-৬]
অনুরূপ তাঁর আরেক বাণীতে বলেছেন, "তিনি ছয় দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা কিছু যমীনে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে বের হয়, আর আসমান থেকে যা কিছু অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যা কিছু উত্থিত হয়।” [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ০৪]
সুতরাং সে সত্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, যিনি দূরে আছেন তাই দেখা যায় না। আর তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতায় নিকটে আছেন তাই তিনি গোপন শলা-পরামর্শও শুনতে পান।
অনুরূপভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের বক্তব্যের মধ্যে আরও রয়েছে, কুরসী 'আরশের সামনে, আর কুরসী তাঁর দু'পা রাখার স্থান।”¹
টিকাঃ
১. উসূলুস সুন্নাহ, পৃ. ২২০-২২৩।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ বকর আল-বাকিললানী (৪০৩ হিজরী)

📄 আবূ বকর আল-বাকিললানী (৪০৩ হিজরী)


ইমাম যাহাবী বলেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আত-তাইয়িব আল-বাকিল্লানীর চেয়ে কালামপন্থী আশ'আরীদের উত্তম কেউ নেই; তার আগের কেউ না এবং পরেরও কেউ না। তিনি আল্লাহ তা'আলাকে 'আরশের উপর বিশ্বাস করতেন। তিনি তাঁর 'তামহীদ' গ্রন্থে বলেন,
فإن قيل: هل تقولون إنه في كل مكان؟ قيل له: معاذ الله، بل هو مستو على عرشه، كما أخبر في كتابه فقال : الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ، وَقَالَ: إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ، وقال: أَأَمِنْتُم مَّن فِي السَّمَاء، ولو كان في كل مكان، لكان في جوف الإنسان، وفمه، وفي الحشوش، والمواضع التي يرغب عن ذكرها - تعالى عن ذلك .. ولوجب أن يزيد بزيادة الأماكن، إذا خلق منها ما لم يكن خلقه، وينقص بنقصانها إذا بطل منها من كان، ولصح أن يرغب إليه إلى نحو الأرض، وإلى خلفنا، وإلى وراء ظهورنا، عن أيماننا وشمائلنا، وهذا قد أجمع المسلمون على خلافه وتخطئة قائله.
অতঃপর যদি বলা হয়, আপনারা কি বলেন আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান?
তাকে জবাব দিতে হবে, নাউযুবিল্লাহ! বরং তিনি তার 'আরশের উপরে রয়েছেন। যেমন, আল্লাহ বলেন,﴾الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى "পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন”, ﴾إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ "তারই দিকে আরোহন করে পবিত্র বাক্য।” ﴾أَأَمِنْتُم مَّن فِي السَّمَاء﴿ "যিনি আসমানের উপর আছেন, তোমরা তার থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ?”¹
যদি আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান হন তবে তিনি মানুষের পেটে, মুখে ও পায়খানায়, আরও কিছু জায়গায় থাকতে হয় যা উল্লেখ করা যায় না, যা থেকে আল্লাহ অনেক উর্ধ্বে। আরও আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায় যে, কোনো স্থান বড় হলে আল্লাহও বড় হবেন; যখন সে স্থানে এমন কিছু সৃষ্টি করা হয় যা ইতোপূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছিল না। অনুরূপ কোনো স্থান বিনষ্ট হলে তিনিও ছোট হয়ে যাবেন, তাছাড়া আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হতে হলে যমীনের দিকে যাওয়া, আমাদের পিছনে যাওয়া, আমাদের ডানে যাওয়া ও আমাদের বামে যাওয়া বৈধ হয়ে যায়। অথচ সকল মুসলিম এ আকীদাহ'র বিপরীতে আকীদাহ পোষণ করে এবং সকলের মতে এ মতবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবে যে, সে ভুলে লিপ্ত।
তিনি আরও বলেন,
فإن قالوا: أفليس قد قال الله عز وجل : وهو الذي في السماء إله وفي الأرض إله فأخبر أنه في السماء وفي الأرض؟ وقال: إن الله مع الذين اتقوا والذين هم محسنون؛ وقال: إنني معكما أسمع وأرى؛ وقال: ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم ولا خمسة إلا هو سادسهم ولا أدنى من ذلك ولا أكثر إلا هو معهم في نظائر لهذه الآيات، فما أنكرتم أنه في كل مكان؟
يقال لهم: قوله تعالى : وهو الذي في السماء إله وفي الأرض إليه المراد به أنه إله عند أهل السماء، وإله عند أهل الأرض، كما تقول العرب فلان نبيل مطاع بالعراق ونبيل مطاع بالحجاز يعنون بذلك أنه مطاع في المصرين وعند أهلهما، وليس يعنون أن ذات المذكور بالحجاز والعراق موجودة
وقوله : إن الله مع الذين اتقوا والذين هم محسنون يعني بالحفظ والنصر والتأييد، ولم يرد أن ذاته معهم . يتعالى عن ذلك .! وقوله : إنني معكما أسمع وأرى محمول على هذا التأويل. وقوله: ما يكون من نجوى ثلاثة إلا هو رابعهم .... يعني أنه عالم بهم وبما خفي من سرائرهم ونجواهم. وهذا إنما يستعمل كما ورد به في القرآن فلذلك لا يجوز أن يقال قباسا على هذا، إن الله سبحانه بالبردان وبمدينة السلام، وأنه مع الثور ومع الحمار؛ ولا أن يقال: إنه مع الفساق والمجان... قياساً على قوله إن الله مع الذين اتقوا والذين هم محسنون)، فوجب أن يكون التأويل على ما وصفناه.
ولا يجوز أن يكون معنى استوائه على العرش هو استيلاؤه عليه - كما قال الشاعر : استوى بشر على العراق *** من غير سيف ودم مهراق
لأن الاستيلاء هو القدرة والقهر ، والله تعالى لم يزل قادراً قاهراً عزيزاً مقتدراً. وقوله: ثم استوى على العرش يقتضي استفتاح هذا الوصف بعد أن لم يكن، فبطل ما قالوه.
"অতঃপর যদি বলা হয়, মহান আল্লাহ কি বলেননি যে, "তিনিই যিনি আসমানে ইলাহ, আর যমীনে ইলাহ” [সূরা আয-যুখরুফ: আয়াত ৮৪] এভাবে আল্লাহ তা'আলাই তো সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি আসমান ও যমীনে রয়েছেন? তাছাড়া আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করেন, যারা হচ্ছেন ইহসানকারী”। [সূরা আন-নাহল: আয়াত ১২৮] আরও বলেছেন, “নিশ্চয় আমি তোমাদের দু'জনের সাথে রয়েছি, আমি দেখি ও শুনি”। [সূরা ত্বা-হা: আয়াত ৪৮] আরও বলেছেন, "তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ: আয়াত ০৭] অনুরূপ আয়াতসমূহ। তাহলে তোমরা এসব আয়াত কীভাবে অস্বীকার করছ, যেগুলো থেকে বুঝা যায় তিনি সর্বত্র বিরাজমান?"
তখন উত্তরে বলা হবে, আল্লাহর বাণী, "তিনিই যিনি আসমানে ইলাহ, আর যমীনে ইলাহ” [সূরা আয-যুখরুফ: আয়াত ৮৪], এর দ্বারা উদ্দেশ্য, তিনিই সে সত্তা, যিনি আসমানবাসীদের কাছে ইলাহ, আর তিনি যমীনবাসীদের জন্যও ইলাহ। যেমন আরবরা বলে থাকে, 'অমুক অত্যন্ত ভদ্র, ইরাকে আনুগত্যকৃত আর হিজাযেও তিনি ভদ্র ও আনুগত্যকৃত সত্তা', এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য এটা বলা যে, তিনি উভয় নগরীতে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব, উভয় নগরীর লোকেরা তার আনুগত্য করে থাকে। তারা কখনও এটা বুঝে না যে, তার সত্তা ইরাক ও হিজাযে উভয়স্থানে অবস্থিত।
আর আল্লাহর বাণী, "নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করেন, যারা হচ্ছেন ইহসানকারী"। [সূরা আন-নাহল: আয়াত ১২৮] এর অর্থ হচ্ছে, তিনি তাদের সাথে আছেন হিফাযত করা, সাহায্য করা, সহযোগিতা করার মাধ্যমে, এখানে বলা হয়নি যে, তিনি তাদের সাথে সত্তাগতভাবে রয়েছেন। আল্লাহ তা থেকে কতই না সুউচ্চে।
আর আল্লাহর বাণী, "নিশ্চয় আমি তোমাদের দু'জনের সাথে রয়েছি, আমি দেখি ও শুনি”। [সূরা ত্বা-হা: আয়াত ৪৮] এটাও উপরে প্রদত্ত ব্যাখ্যার মতোই ব্যাখ্যা করা হবে।
আর আল্লাহর বাণী, "তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন।"। [সূরা আল-মুজাদালাহ: আয়াত ০৭] এর অর্থ, তিনি তাদের ব্যাপারে জানেন, আরো জানেন যা তাদের অন্তরে গোপন করে রাখা ভেদসমূহ ও পরামর্শসমূহ। এটা তো ব্যবহৃত করা হবে সেভাবে যেভাবে কুরআনে এসেছে। আর তাই তার ওপর কিয়াস করে এটা বলা জায়েয হবে না যে, আল্লাহ তা'আলা বারাদান ও মাদীনাতুস সালামের অভ্যন্তরে। এটাও বলা যাবে না যে, আল্লাহ তা'আলা গরুর সাথে ও গাধার সাথে, .... এটার ওপর কিয়াস করে যে আল্লাহ তো বলেছেন, 'তিনি তাকওয়ার অধিকারীদের সাথে এবং ইহসানকারীদের সাথে'। সুতরাং সেটার ব্যাখ্যা আমরা যেভাবে করেছি সেভাবে করাই সুনির্ধারিত”।
অনুরূপ এটাও বলা যাবে না যে, তাঁর 'আরশের উপরে উঠা যা 'ইস্তেওয়া' শব্দ দ্বারা বর্ণিত হয়েছে, তার অর্থ হচ্ছে দখল করা বা করায়ত্ব করা বা অধিকার করা বা মালিকানা লাভ করা, যেমনটি তারা দলীল হিসেবে কোনো কবির নিম্নোক্ত কবিতা পেশ করে থাকে, অবশ্যই বিশর ইরাকের ওপর অধিকার স্থাপন করেছে কোনো প্রকার তরবারী কিংবা রক্ত প্রবাহ ব্যতীতই
(এখানে আরবীতে ইস্তেওয়া এসেছে, যার অর্থ করা হয়েছে অধিকার স্থাপন করা)। এ কবিতা দ্বারা দলীল গ্রহণ সঠিক হবে না, কারণ 'ইস্তীলা' বা 'অধিকার করা'র অর্থ হচ্ছে ক্ষমতা ও দাপট ব্যবহার করা, আল্লাহ তা'আলা তো সর্বদাই সক্ষম ও দাপুটে, প্রবল পরাক্রমশালী, পূর্ণ শক্তিমান। যদি 'ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ' অর্থ অধিকার করা বলা হয়, তখন এর মাধ্যমে এটা আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, তিনি 'আরশের উপর অধিকার করার গুণে আগে গুণান্বিত ছিলেন না, এ সময় লাভ করলেন, আর এটা যে বাতিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই, সুতরাং তারা যা বলেছে তাও বাতিল।² তাছাড়া ইমাম বাকেল্লানী তাঁর আত-তামহীদ ও ইবানাহ উভয় গ্রন্থে বলেন,
فإن قال قائل : ففصلوا لي صفات ذاته من صفات أفعاله لأعرف ذلك. قيل له: صفات ذاته هي التي لم يزل ولا يزال موصوفاً بها، وهي: الحياة، والعلم والقدرة، والسمع والبصر، والكلام، والإرادة، والبقاء والوجه والعينان واليدان والغضب والرضا.. والرحمة والسخط والولاية والعداوة والحب والإيثار والمشيئة.....
"তারপর যদি কেউ বলে, আমাকে আল্লাহ তা'আলার সত্তাগত গুণ ও কর্মগতগুণের বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা করুন যাতে আমি তা চিনতে পারি।
তাকে বলা হবে, আল্লাহ তা'আলার সত্তাগত গুণাবলি সর্বদা তাঁর ছিল, আছে, চিরন্তনভাবে সেসব গুণাবলিতে গুণান্বিত। তাহলো জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন, কথা বলা, ইচ্ছা, অবশিষ্ট থাকা, চেহারা, দু' চোখ, দু' হাত, রাগ ও সন্তুষ্টি... রহমত, ক্রোধ, বন্ধুত্ব, শত্রুতা, ভালোবাসা, প্রাধান্য প্রদান, ইচ্ছা করা...
আর তাঁর কর্মগত গুণ হচ্ছে, সৃষ্টি করা, রিযিক দেয়া, ইনসাফ করা, দয়া প্রদর্শন, অতিরিক্ত প্রদান, নি'আমত দেয়া, সাওয়াব দেয়া, শাস্তি দেয়া, হাশর ও নশর করা।"³
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি আল্লাহ তা'আলার গুণাবলিকে দুভাগে ভাগ করেছেন, সত্তাগত গুণ ও কর্মগত গুণ, যাতে রয়েছে সালাফে সালেহীনের নীতির প্রতিফলন।
টিকাঃ
১. বাকেল্লানী, তামহীদুল আওয়ায়েল ও তালখীসুদ দালায়েল, পৃ. ২৬০। উল্লেখ্য যে, এ গ্রন্থটি প্রথম যারা বের করেন তারা তার কিছু অংশ বাকী রেখেই ছাপিয়েছেন। পরবর্তীতে পাদ্রী রিচার্ড যোসেফ মুকারথী আল-ইয়াসূ'য়ী পূর্ণ কলেবরে বের করেন। সুতরাং কেউ যদি কোনো অংশ বর্তমান ছাপায় না পান তাহলে বাগদাদী ও বৈরুতের ছাপার স্মরণাপন্ন হবেন। বৈরুতের মাকতাবাতুশ শারকিয়্যাহ ১৯৫৭ সালে পূর্ণ কপি ছাপিয়েছে। যার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, ইতোপূর্বে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ ও ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম এ কিতাব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা পূর্ণ আমানতদারীতার সাথেই বর্ণনা করেছেন। কোনো এক জাহমী এ ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ও ইবনুল কাইয়্যেমের ওপর যে অপবাদ দিয়েছিল তা আল্লাহ তা'আলা ঘুছিয়ে দিয়েছেন।
২. বাকেল্লানী, তামহীদুল আওয়ায়েল ও তালখীসুদ দালায়েল, পৃ. ২৬১-২৬২।
৩. বাকেল্লানী, তামহীদুল আওয়ায়েল ও তালখীসুদ দালায়েল, পৃ. ২৬২। আরও দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজmu'উল ফাতাওয়া (৫/৯৮-৯৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00