📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ সুলাইমান আল-খাত্তাবী (৩৮৮ হিজরী)

📄 আবূ সুলাইমান আল-খাত্তাবী (৩৮৮ হিজরী)


ইমাম আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবী রাহিমাহুল্লাহ আশ'আরী আকীদাহ'র লোক বলেই প্রসিদ্ধ। বস্তুত তাঁর বিভিন্ন অবস্থান ছিল। সবসময় তিনি 'তাফওয়ীদ্ব' বা সিফাতের আয়াত ও হাদীসের 'অর্থ জানা যায় না' এমন কথা বলতেন না। তিনি তাঁর আ'লামুল হাদীসে তা বলতেন, কিন্তু অন্য কিতাবে আমরা তাকে অর্থ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে সোচ্চার দেখতে পাই। তিনি স্বীয় গ্রন্থ আল-গুনিয়াতু আনিল কালামে বলেন,
فأما ما سألت عنه من الكلام في الصفات، وما جاء منها في الكتاب وروي في السنن الصحاح». وقال: «مذاهب السلف إثباتها وإجراؤها على ظواهرها، ونفي الكيفية والتشبيه عنها.
"তুমি জানতে চেয়েছো যেসব গুণ কুরআনে ও সহীহ সুন্নায় বর্ণিত হয়েছে, তার ব্যাপারে নীতি কী?
তিনি জবাবে বলেন, সালাফদের নীতি হচ্ছে- তা সাব্যস্ত করা এবং তা বাহ্যিকতার ওপর প্রয়োগ করা এবং ধরন ও সাদৃশ্য দেয়াকে নাকচ করা।”¹ অনুরূপভাবে খাত্তাবী তার আ'লামুল হাদীসেও কখনও কখনও হক কথাটি বলেছেন, যেমন তিনি বলেন,
وليس معنى قول المسلمين: إن الله على العرش، هو أنه تعالى مماس له .. . لكنه بائن من جميع خلقه، وإنما هو خبر جاء به التوقيف، فقلنا به، ونفينا عنه التكييف إذ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ).
"মুসলিমগণের কথা এর অর্থ এটা নয় যে, আল্লাহ তা'আলাকে তা স্পর্শ করে আছে... বরং তিনি সকল সৃষ্টিকুল থেকে আলাদা। এটি তো একটি সংবাদ যা কুরআন ও সুন্নাহ'র মাধ্যমে আমাদের জানানো হয়েছে, সুতরাং আমরা তা বলব, তার ধরন নির্ধারণকে আমরা অস্বীকার করব; কারণ কোনো কিছু তার মত নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।²
কিন্তু তিনি তার 'শি'আরুদদীন' গ্রন্থে পরিষ্কারভাবে এর অর্থ বুঝা যায়, বললেন এবং ধরন সম্পর্কে খোঁজ নিতে নিষেধ করলেন, الْقَوْلِ فِي أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى مُسْتَوٍ عَلَى الْعَرْشِ : هَذِهِ الْمُسْأَلَة سَبِيلَهَا التَّوْقِيف الْمُحْضِ وَلَا يَصِلَ إِلَيْهَا الدَّلِيلِ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ نَطَقَ بِهِ الْكِتَابِ فِي غَيْرِ آية ووردت بِهِ الْأَخْبَارِ الصَّحِيحَة فَقَبُوله مِنْ جِهَةِ التَّوْقِيفِ وَاجِبِ وَالْبَحْتَ عَنْهُ وَطَلَبِ الْكَيْفِيَّة غَيْرَ جَائِز
"আল্লাহ তা'আলা তাঁর 'আরশের উপর সমুন্নত হওয়ার বিষয়টির ব্যাপারে কথা হচ্ছে, এ মাসআলাটির একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে কুরআন ও সুন্নাহ'র মাধ্যমে জ্ঞান লাভ, এ দিক ছাড়া সেদিকে পৌঁছার কোনো পথ নেই, কুরআন একাধিক আয়াতে তা সাব্যস্ত করেছে, আর বহু সহীহ হাদীস দ্বারা তা এসেছে, তাই জানিয়ে দেয়া পদ্ধতিতে সেটার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, তার ব্যাপারে খোঁজাখুজি করা ও ধরন জানতে চাওয়া জায়েয নয়।"³ (তারপর তিনি ইমাম মালিক এর সেই বিখ্যাত বাণী বর্ণনা করেন এবং ইস্তাওলা বলার প্রতিবাদ করেন)
টিকাঃ
১. ইবন তাইমিয়্যাহ, হামাওয়িয়‍্যাহ, ৯৯- ১০০; যহাবী, আল-'উলু, ১৭২-১৭৩; আরবা'ঈন, ৯৩-৯৪, নং ৯৭; যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪৫৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
২. আ'লামুল হাদীস (২/১৪৭৪)।
৩. ইবন তাইমিয়্যাহ, বায়ানু তালবীসুল জাহমিয়্যাহ (৪/৪৯১); হাশিয়া ইবনুল কাইয়্যম আলা তাহযীবিস সুনান (১৩/২৫)। তাছাড়া ইমাম কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহও এ কথাগুলো ইমাম খাত্তাবীর শি'আরুদ্দীন গ্রন্থের দিকে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। দেখুন, আল-আসনা ফী আসমায়িল্লাহিল হুসনা (২/১২৩)। এর দ্বারা বুঝা যায় শাইখুল ইসলাম যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি সত্যবাদী। সুতরাং কোনো জাহমীর জন্য খাত্তাবীর এ গ্রন্থের ব্যাপারে সন্দহ করার সুযোগ থাকলো না।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আহযাদ ইবন ফায়েস ইবন যাকারিয়া আর-রাযী (৩৯৫ হিজরী)

📄 ইমাম আহযাদ ইবন ফায়েস ইবন যাকারিয়া আর-রাযী (৩৯৫ হিজরী)


ইমাম আহমাদ ইবন ফারেস রাহিমাহুল্লাহ সহীহ আকীদাহ বিশ্বাস অনুসারে চলেছেন। ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, ভাষাবিদ ইবন ফারেস আল্লাহর 'আরশের উপর উঠার বিষয়ে 'ইস্তেওয়া' শব্দের অর্থ আরবী ভাষায় 'ইস্তাওলা' হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। যখন তাকে বিশর ইবন মারওয়ান সংক্রান্ত কবিতা বর্ণনা করে সেখানে আসা 'ইস্তেওয়া' এর অর্থ 'ইস্তাওলা' করার বিষয়ে বলা হলো, তখন তিনি এ কবিতা দু'টি সম্পর্কে বলেন,
والبيتان لا يعرف قائلهما
"এ দু'টি কবিতার কবি সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না।”¹ এর দ্বারা বুঝা যায় যে, ইবন ফারেস বিশুদ্ধ আকীদাহ পোষণ করতেন।
টিকাঃ
১. যাদুল মাসীর (৩/২১৩)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন মাননাহ (৩৯৫ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন মাননাহ (৩৯৫ হিজরী)


ইমাম ইবন মানদাহ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর "কিতাবুত তাওহীদ ও মা'রিফাতি আসমায়িল্লাহি আয্যা ওয়া জাল্লা ওয়াসিফাতিহি 'আলাল ইত্তিফাকি ওয়াত-তাফাররুদ গ্রন্থে বলেন,
ومن أسماء الله عز وجل: العلي الأعلى العظيم، وذكرهما في سورة البقرة، وعن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في أسماء الله العلي العظيم، قال أهل المعرفة بالتأويل معنى العلي: تعالى على الخلق وهو أعلى من كل شيء وتعالى في كل شيء فلا شيء أعلى منه ....
"আর আল্লাহর মহান নামসমূহের মধ্যে রয়েছে, আল-আলীয়্যু, আল-আ'লা, আল-আযীমু। আল্লাহ তা'আলা সেগুলোকে সূরা আল-বাকারায় উল্লেখ করেছেন। আর আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর নাম 'আলীয়্যুল আযীম বর্ণনা করেন। যারা ব্যাখ্যা করতে জানেন, এমন আলেমগণ বলেন, 'আল-আলিয়্যু শব্দের অর্থ, তিনি সৃষ্টি থেকে উপরে উঠেছেন, তিনি সবকিছুর উপরে, সবকিছু থেকে সর্বদিক থেকে উপরে, সুতরাং তাঁর উপরে কোনো কিছু নেই।”¹
অন্যত্র তিনি বলেন,
ذكر الآي المتلوة والأخبار المأثورة في أن الله عز وجل على العرش فوق خلقه، بائناً عنهم، وبدء خلق العرش والماء، قال الله عز وجل الرحمن على العرش استوى وقال: ثم استوى على العرش الرحمن) وقال: إن ربكم الله الذي خلق السموات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش ... ثم ذكر الأحاديث التي ، منها: حديث عمران بن حصين في أول الخلق، وحديث عبد الله بن عمرو بن العاص في كتابة مقادير الخلائق، وحديث أبي هريرة في يمين الله ملاى.
"সেসব তিলাওয়াতকৃত আয়াতসমূহের বর্ণনা ও প্রমাণিত রাসূল ও সাহাবীগণ থেকে আগত আছার সমূহের বর্ণনা, যাতে এসেছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপরে, সকল সৃষ্টির উপরে, তাদের থেকে পৃথক, 'আরশ ও পানির সৃষ্টির সূচনা। মহান আল্লাহ বলেন, রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] তিনি আরও বলেন, "তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন। তিনিই 'রহমান'।” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫৯] তিনি আরও বলেন, "নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ্ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৫৪] তারপর তিনি অনেকগুলো হাদীস নিয়ে এসেছেন, তন্মধ্যে রয়েছে, সৃষ্টির শুরু সংক্রান্ত ইমরান ইবন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর হাদীস, তাকদীর লেখা সংক্রান্ত আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবনুল 'আস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমার হাদীস আর আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুর হাদীস আল্লাহর ডান হাত একেবারে পরিপূর্ণ।”
তারপর তিনি অপর একটি শিরোনাম দিয়ে বলেন,
আরেকটি বর্ণনা, যা প্রমাণ করে যে, 'আরশ আসমানসমূহের উপরে, আর আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টির উপরে, তাদের থেকে পৃথক, আর তাতে রয়েছে বিখ্যাত মেঘ এর হাদীস।
তারপর তিনি আরেকটি শিরোনাম দিয়ে বলেন,
আরেকটি বর্ণনা প্রমাণ করে যে, 'আরশ আসমানসমূহের উপরে, তারপর তিনি সেখানে বেদুঈন ও শাফা'আতের সেই বিখ্যাত হাদীস নিয়ে আসেন।
তারপর তিনি আরেকটি শিরোনাম দিয়ে বলেন,
আরেকটি বর্ণনা প্রমাণ করে যে, রহমানের 'আরশ ফিরদাউসের উপরে, তারপর তিনি সেখানে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীদের মর্যাদা সংক্রান্ত হাদীস নিয়ে আসেন।
তারপর তিনি আরেকটি শিরোনাম দিয়ে বলেন,
আরেকটি বর্ণনা যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর 'আরশের ছায়া রয়েছে, যে ছায়ায় তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে রাখবেন, তারপর তিনি সেখানে আল্লাহর জন্য পরস্পর ভালোবাসা সংক্রান্ত হাদীস নিয়ে আসেন এবং সাত শ্রেণির লোকেরা যে 'আরশের নিচে ছায়া পাবে সেটা নিয়ে আসেন।²
এ গ্রন্থের অন্যত্র তিনি বলেন,
ذكر الآيات المتلوة والأخبار المأثورة بنقل الرواة المقبولة التي تدل على أن الله تعالى فوق سماواته وعرشه وخلقه فأورد فيه حديث : أنت الظاهر فليس فوقك شيء.... قاهراً لهم عالماً بهم.
"সেসব আয়াত ও মা'সূর হাদীসসমূহের উল্লেখ, যা গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমে এসেছে, যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর আসমানসমূহের উপরে, 'আরশের উপরে, সৃষ্টির উপরে, সেখান থেকেই তাদের উপর তাঁর প্রতাপ খাটান, তাদের বিষয় তিনি জানেন.."। তারপর তিনি সেখানে সেই বিখ্যাত হাদীসটি নিয়ে আসেন, 'আল্লাহুম্মা আনতায যাহিরু ফা লাইসা ফাওক্বাকা শাই'।³
তিনি তার আস-সিফাত গ্রন্থে বলেন, فهو عز وجل موصوف غير مجهول، وهو موجود غير مدرك، ومرئي غير محاط به لقربه كأنك تراه، غير ملاصق وبعيد غير منقطع، يسمع، ويرى، وهو بالمنظر الأعلى، وعلى العرش استوى، فالقلوب تعرفه، والعقول لا تكيفه، وهو بكل شيء محيط.
"মহান আল্লাহ গুণান্বিত যা অজানা নয়; তিনি বিদ্যমান, তবে নাগালের বাইরে; তাকে দেখা যাবে, তবে বেষ্টন করা যাবে না; তার নিকটবর্তী হওয়ায় যেন তাকে দেখছো, তবে লেগে থাকার মতো নয়; দূরে তবে বিচ্ছিন্ন নন। তিনি শুনেন, দেখেন, তিনি ঊর্ধ্বের দৃশ্যপটে, 'আরশের উপরে উঠেছেন, অন্তরসমূহ তাকে চেনে, মস্তিষ্ক তার ধরন বর্ণনা করতে পারে না, তিনি সকল কিছুকে বেষ্টনকারী।"⁴
তারপর তিনি জুমু'আর দিনে আল্লাহ তাঁর 'আরশে উঠা সংক্রান্ত হাদীসটি নিয়ে আসেন। যার বর্ণনা ইমাম শাফে'য়ী থেকে ইতোপূর্বে এসেছে।⁵
টিকাঃ
১. কিতাবুত তাওহীদ ও মা'রিফাতি আসমায়িল্লাহি আয্যা ওয়া জাল্লা ওয়াসিফাতিহি 'আলাল ইত্তিফাক্কি ওয়াত-তাফাররুদ (২/১৪৭)।
২. কিতাবুত তাওহীদ ও মা'রিফাতি আসmায়িল্লাহি আয্যা ওয়া জাল্লা ওয়াসিফাতিহি 'আলাল ইত্তিফাক্কি ওয়াত-তাফাররুদ (৩/১৮৫-১৯৬)।
৩. কিতাবুত তাওহীদ, সিফাত (৩/২৬৮)।
৪. যাহাবী, আল-'আরশ (২/৪২০) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৭৭
৫. যাহাবী, আল-'আরش (২/৪২০) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবুল কাসেম খালাফ আল-সুকরী আল-আদলূসী (৩৯৩ হিজরী)

📄 ইমাম আবুল কাসেম খালাফ আল-সুকরী আল-আদলূসী (৩৯৩ হিজরী)


ইমাম আবুল কাসেম খালাফ ইবন কাসেম ইবন সাহল ইবন আসওয়াদ আল-আযদী ইবনুদ দাব্বাগ, তিনি ইমাম আবু 'আমর আদ-দানী ও ইমাম ইবন আবদুল বার এর উস্তাদ ছিলেন, তিনি বলেন,
عَنْ مَالِكٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللهِ الْأَغَرُ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ : يَنْزِلُ رَبُّنَا كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا حَتَّى يَبْقَى ثُلْثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ فَيَقُولُ : مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟ وَمَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟ وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ؟» فِي هَذَا الْحَدِيثِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهُ تَعَالَى فِي السَّمَاءِ عَلَى الْعَرْشِ فَوْقَ سَبْعِ سَمَاوَاتٍ مِنْ غَيْرِ مُمَاسَّةٍ وَلَا تَكْبِيفَ كَمَا قَالَ أَهْلُ الْعِلْمِ، وَدَلِيلُ قَوْلِهِمْ أَيْضًا مِنَ الْقُرْآنِ.
"মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি ইবন শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি আবু আব্দিল্লাহ আল-আগার ও আবু সালামাহ ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমাদের রব প্রতি রাতে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তারপর তিনি বলতে থাকেন, এমন কেউ কি আছে যে আমাকে ডাকবে, যাতে আমি তার ডাকে সাড়া দিব? কে আমার কাছে চাইবে আর আমি তাকে দিব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দিব?" এ হাদীসে প্রমাণ রয়েছে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর, 'আরশের উপর, সাত আসমানের উপর, কোনো প্রকার স্পর্শ কিংবা ধরণ নির্ধারণ ব্যতীতই। যেমনটি আলেমগণ বলেছেন। আর তাদের এ কথার দলীল কুরআনেও আছে, আল্লাহর বাণী,.......
قَوْلُهُ تَعَالَى: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: ﴿ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِي وَلَا شَفِيعٍ ) [السجدة: ٤] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {إِذًا لَابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا ﴾ [الإسراء: ٤٢] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ) [السجدة: ٥] وَقَوْلُهُ تَعَالَى : تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ ﴾ [المعارج: ٤] وَقَوْلُهُ تَعَالَى لِعِيسَى عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ : إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ ) [آل عمران: ٥٥] وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {لَيْسَ لَهُ دَافِعٌ - مِنَ اللَّهِ ذِي الْمُعَارِجِ - تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ ﴾ [المعارج: ٢ - ٤]
আর আয়াতে আসা 'উরুজ' এর অর্থ হচ্ছে 'সু'উদ' অর্থাৎ উপরে আরোহন করা, উপরে উঠা। ইমাম মালিক ইবন আনাস বলেন, আল্লাহ তা'আলা আসমানের উপর আর তাঁর ইলম সব জায়গায়, সর্বত্র। তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো স্থান খালি নেই। এ কথা দ্বারা ইমাম মালিকের উদ্দেশ্য হচ্ছে 'ফিস সামায়ি' বলে 'আলাস সামায়ি' বুঝানো হয়েছে, যেমনটি অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়াব” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৭১], অনুরূপ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, "তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ তাঁর ব্যাপারে, যিনি আসমানে আছেন? [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৬] অর্থাৎ আসমানের উপরে, 'আরশের উপরে। এটা তেমন যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "সুতরাং তোমরা যমীনে বিচরণ কর" [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ০২] অর্থাৎ যমীনের উপর।”¹ তিনি আরও বলেন,
وَقِيلَ لِمَالِكِ: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] . كَيْفَ اسْتَوَى، قَالَ مَالِكٌ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى لِقَائِلِهِ: اسْتِوَاؤُهُ مَعْقُولُ، وَكَيْفِيَّتُهُ مَجْهُولَةٌ، وَسُؤَالُكَ عَنْ هَذَا بِدْعَةٌ وَأَرَاكَ رَجُلَ سُوءٍ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: ﴿الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] أَيْ: عَلَا، قَالَ : وَتَقُولُ الْعَرَبُ : اسْتَوَيْتُ فَوْقَ الدَّابَّةِ وَفَوْقَ الْبَيْتِ، وَكُلُّ مَا قَدَّمْتُ دَلِيلٌ وَاضِحٌ فِي إِبْطَالِ قَوْلِ مَنْ قَالَ بِالْمُجَازِ فِي الاسْتِوَاءِ، وَأَنَّ اسْتَوَى بِمَعْنَى اسْتَوْلَى لِأَنَّ الإِسْتِيلَاءَ فِي اللُّغَةِ المُغَالَبَةُ وَأَنَّهُ لَا يُغَالِبُهُ أَحَدٌ وَمِنْ حَقِّ الْكَلَامِ أَنْ يُحْمَلَ عَلَى حَقِيقَتِهِ حَتَّى تَتَّفِقَ الْأُمَّةُ أَنَّهُ أُرِيدَ بِهِ الْمُجَازُ إِذْ لَا سَبِيلَ إِلَى اتِّبَاعِ مَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا مِنْ رَبِّنَا سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى إِلَّا عَلَى ذَلِكَ وَإِنَّمَا يُوَجَّهُ كَلَامُ اللهِ تَعَالَى إِلَى الْأَشْهَرِ وَالْأَظْهَرِ مِنْ وُجُوهِهِ مَا لَمْ يَمْنَعْ مِنْ ذَلِكَ مَا يَجِبُ لَهُ التَّسْلِيمُ وَلَوْ سَاغَ ادْعَاءُ الْمُجَازِ لِكُلِّ مُدَّعٍ مَا ثَبَتَ شَيْءٌ مِنَ الْعِبَادَاتِ وَجَلَّ اللَّهُ تَعَالَى عَنْ أَنْ يُخَاطِبَ إِلَّا بِمَا تَفْهَمُهُ الْعَرَبُ مِنْ مَعْهُودِ مُخَاطِبَاتِهَا بِمَا يَصِحُ مَعْنَاهُ عِنْدَ السَّامِعِينَ. وَالاسْتِوَاءُ مَعْلُومٌ فِي اللُّغَةِ وَهُوَ الْعُلُوُّ وَالارْتِفَاعُ وَالتَّمَكُنُ فِي الشَّيْءِ.
"আর ইমাম মালিককে বলা হলো, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন"? কীভাবে উঠলেন? মালিক রাহিমাহুল্লাহ বললেন, 'ইস্তেওয়া' এর অর্থ ভাষাগতভাবে জানা (অর্থাৎ উপরে উঠা), তবে তার ধরন অজানা, তোমার থেকে এ প্রশ্ন করা বিদ'আত। আমি তো তোমাকে খারাপ লোকই দেখতে পাচ্ছি। অনুরূপভাবে আবু উবাইদাহ আল্লাহর বাণী, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন" তাফসীরে বলেন, 'ইস্তেওয়া' শব্দের অর্থ 'আলা' উপরে উঠা, যেমন আরবরা বলে, 'ইস্তাওয়াইতু ফাওকাদ দাব্বাতি', 'ইস্তাওয়াইতু ফাওকাল বাইতি' (যখন বাহন কিংবা ঘরের উপরে উঠা হয়)। যা কিছু বর্ণনা করেছি তাতে যারা 'ইস্তাওয়া' শব্দটির রূপক অর্থ করে তাদের কথা বাতিল হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যারা বলে, 'ইস্তাওয়া' অর্থ 'ইস্তাওলা বা অধিকার করল। কারণ, আরবী ভাষায় 'ইস্তাওলা' তখনই বলা হয় যখন বিপরীতে কোনো কিছুর ওপর জয় লাভের বিষয় থাকে, অথচ আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করবে এমন কেউ নেই যে তাকে হারিয়ে দখল করতে হবে। তাছাড়া যেকোনো বাক্যের অধিকার হচ্ছে সেটাকে প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা যতক্ষণ না উম্মত কোনো একটি বিষয়ে একমত না হচ্ছে যে, এখানে রূপক অর্থই নিতে হবে; কারণ আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের প্রতি যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ করার জন্য এ প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ তা'আলার কথাকে তো সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও সুস্পষ্ট অর্থেই নেয়াই কর্তব্য; যতক্ষণ না সেটা গ্রহণ করতে এমন কোনো বাধা আসবে যা মানতে বাধ্য হবে। যদি এভাবে রূপক অর্থ গ্রহণ করা অনুমোদিত হয়ে যায় তবে সকল দাবিদারই সবকিছুকে রূপক বলে দাবি করতে পারবে। আর তখন আমাদের কোনো ইবাদাতই সাব্যস্ত করা যাবে না। আর মহান আল্লাহ অনেক মর্যাদাবান যে, তিনি তার আরবদেরকে এমন জিনিস দিয়ে সম্বোধন করবেন যা তাদের প্রচলিত সম্বোধনে তারা ব্যবহার করে না। বরং সে সম্বোধনই করবেন যা শ্রোতারা শোনা মাত্র বুঝতে পারে। আর এই যে, 'ইস্তেওয়া' শব্দটি। তার অভিধানিক অর্থ ভাষায় জানা। আর তা হচ্ছে, উপরে উঠা, ঊর্ধ্বে উঠা ও কোনো কিছুর উপর অবস্থান নেয়া।”²
টিকাঃ
১. ইবন আবদুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩১); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৫৭।
২. ইবন আবদুল বার, আত-তামহীদ (৭/১৩৩); ইবনুল কাইয়্যেম, ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ১৫৮-১৫৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00