📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমদ আত-ত্বাবারী (ইমাম আবুল হাসান আশ‘আরীর ছাত্র) (৩৭৩ হিজরী প্রায়)

📄 আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমদ আত-ত্বাবারী (ইমাম আবুল হাসান আশ‘আরীর ছাত্র) (৩৭৩ হিজরী প্রায়)


ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর ছাত্র কালামপন্থী আশ'আরী ইমাম আবুল হাসান 'আলী ইবন মাহদী আত-ত্বাবারী তাঁয় 'তা'ওয়ীলুল আয়াতিল মুশকিলাহ' গ্রন্থে আল্লাহর বাণী-রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন অধ্যায়ে বলেন-
اعلم أن الله سبحانه في السماء، فوق كل شيء، مستو على عرشه، بمعنى أنه عال عليه، ومعنى الاستواء: الاعتلاء، كما تقول العرب: استويت على ظهر الدابة، واستويت على السطح، بمعنى علوته، واستوت الشمس على رأسي واستوى الطير على قمة رأسي، بمعنى علا في الجو، فوجد فوق رأسي، فالقديم جل جلاله عال على عرشه.
وزعم البلخي أن استواء الله على العرش هو الاستيلاء عليه، مأخوذ من كلام العرب أثم استوى بشر على العراق فيقال له: ما أنكرت أن يكون عرش الله جسماً خلقه، وأمر ملائكته بحمله، قال وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ وأمية يقول:
مجدوا الله فهو للمجد أهل * ربنا في السماء أمسى كبيرا بالبناء الأعلى الذي سبق النا س وسوى فوق السماء سريرا ومما يدل على أن الاستواءها هنا ليس بالاستيلاء، أنه لو كان كذلك لم يكن ينبغي أن يخص العرش بالاستيلاء عليه دون سائر خلقه، إذ هو مستول على العرش، وعلى سائر خلقه، وليس للعرش مزية على ما وصفته، فبان بذلك فساد قوله.
ثم يقال له أيضاً: إن الاستواء ليس هو الاستيلاء الذي من قول العرب: استوى فلان على كذا، أي استولى إذا تمكن من
"জেনে রাখো, আল্লাহ সুবহানাহু আসমানের উপরে, সকল কিছুর ঊর্ধ্বে, তাঁর 'আরশের উপর সমুন্নত। অর্থাৎ তিনি তাঁর উপরে। 'ইস্তিওয়া' মানে আরোহন করা। যেমন, আরবরা বলেন استويت على السطح 3 استويت على ظهر الدابة অর্থাৎ 'আরোহীর পিঠে আরোহন করেছি এবং ছাদের উপরে আরোহণ করেছি। واستوت الشمس على رأسي، واستوى الطير على قمة رأسي অর্থাৎ 'সূর্য আমার মাথার উপরে হয়েছে ও পাখি আমার মাথার শীর্ষে উঠেছে।' অনাদি মহান আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে।
আল্লাহর বাণী: “তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছো যে, যিনি আসমানে আছেন।" আপনাকে আপনার রব উঠিয়ে নিবনে।" "তাঁরই পানে উত্থিত হয় ভালো কথা।" "তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন। তারপর তা একদিন তাঁর কাছেই উঠবে।"
বালখীর মতে- আল্লাহর 'আরশের উপরে উঠার মানে তার উপরে কর্তৃত্বলাভ করা। তার কথার উৎস হচ্ছে আরবদের ভাষা - ثم استوى بشر على العراق 'অতঃপর বিশর ইরাকের কর্তৃত্বলাভ করেছে।' সে আরও বলেছে, 'আরশ হচ্ছে রাজত্ব।
জবাবে বালখীকে বলা হবে- তুমি আল্লাহর 'আরশের বর্ণনা ও আকার-আকৃতি অস্বীকার করছ, অথচ আল্লাহ ফিরিশতাদের তা বহন করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন- )وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبَّكَ نَوْتَهُمْ 'তোমার রবের 'আরশ তাদের উপরে বহন করছে।' আর উমাইয়‍্যাহ বলেছিলেন-
তারা আল্লাহর গুণগান করেছে। তিনি গুণগানের উপযোগী।
আমাদের রব আসমানের উপরে। উঁচু কাঠামো ('আরশ) সহকারে মহান।
সে 'আরশ মানুষের পূর্বে। আসমানের উপরে সিংহাসন সাজিয়েছেন।'
তাছাড়া এখানে 'ইস্তিওয়া' মানে 'কর্তৃত্বলাভ নয়' তার আরও প্রমাণ হচ্ছে- যদি কর্তৃত্বলাভ অর্থ হয়, তবে সমস্ত মাখলুককে বাদ দিয়ে শুধু 'আরশের কর্তৃত্বের কথা উল্লেখ করার কোনো মানে হয় না। কারণ, তিনি 'আরশের উপরেও কর্তৃত্ববান এবং সমস্ত মাখলুকের উপরেও কর্তৃত্ববান। তার বর্ণনানুসারে 'আরশের আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্যই থাকে না। এর মাধ্যমে তার কথার বাতুলতা প্রমাণ হয়।
অনুরূপভাবে তাকে আরও বলা হবে- استوى بشر على العراق বাক্যে কর্তৃত্বহীন বস্তুর ওপর কর্তৃত্বলাভ করার ক্ষেত্রে আরবেরা যে استوی শব্দ ব্যবহার করেছেন, এটা সঠিক নয়। তাই ইস্তিওয়াকে কর্তৃত্ব লাভের অর্থে ব্যবহার করা যাবে না।
(তারপর তিনি বলেন- আমাদের আবু আবদুল্লাহ নাফত্বাওয়াইহ ইবনুল আ'রাবীর সাথে সংঘটিত পূর্বের ঘটনা বর্ণনা করেছেন)
তারপর বলেন, যদি বলা হয় আল্লাহর বাণী: "তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছো যে, যিনি আসমানে আছেন।"-এর অর্থ কী?
উত্তরে বলতে হবে- এর অর্থ আসমানের ঊর্ধ্বে 'আরশের উপরে। যেমন, আল্লাহ বলেন “সুতরাং তোমরা যমীনে বিচরণ করো।” অর্থাৎ যমীনের উপর।
ফির'আউন বললো, "আমি তোমাদের খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলিবিদ্ধ করবই।” (অথচ ফির'আউনের উদ্দেশ্য ছিল খেজুর গাছের উপরে শুলিবিদ্ধ করা) অনুরূপ আল্লাহর বাণী: “তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছো যে, যিনি আসমানে আছেন। (এখানেও অর্থ হচ্ছে, যিনি আসমানের উপরে আছেন)
যদি বলা হয়- আর আসমানসমূহ ও যমীনে তিনিই আল্লাহ" আয়াতের ব্যাপারে কী বলেন? তখন উত্তরে বলতে হবে,
)১) কিছু কারী (কুরআনের বিখ্যাত পাঠকগণের কেউ কেউ) 'আসমানের উপরে فِي السَّمَاوَاتِ -এ ওয়াকফ করেছেন। তারপর আবার ﴾وَفِي الْأَرْضِ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهَرَكُمْ﴿ থেকে শুরু করেছেন।
(২) যদি কেউ বলে, তার রাজত্ব সিরিয়ায় ও ইরাকে। একথা দ্বারা বুঝায়, তার রাজত্ব সিরিয়ায় ও ইরাকে, স্বয়ং সে ব্যক্তি সিরিয়া ও ইরাকে নেই। [এখানেও অর্থ হচ্ছে তিনি আসমান ও যমীনে মা'বুদ; কিন্তু তার অর্থ তিনি আসমান কিংবা যমীনের অভ্যন্তরে নয়]
যদি বলা হয়, আল্লাহর বাণী- তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন কথা হয় না, যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না।"-এর ব্যাপারে কী বলবেন?
উত্তরে তাকে বলা হবে, কোনো বস্তু কোনো বস্তুর সঙ্গে কয়েকভাবে থাকতে পারে। যেমন, সাহায্যের মাধ্যমে, সঙ্গে থাকার মাধ্যমে, স্পর্শের মাধ্যমে, জ্ঞানের মাধ্যমে। আমাদের মতে, এ আয়াতের অর্থ হচ্ছে- তিনি ইলমের মাধ্যমে সৃষ্টির সঙ্গে।
বালখী বলেন, যদি আমাদের প্রশ্ন করা হয়- আসমানের দিকে আমাদের হাত তোলা এবং আল্লাহর বাণী: "তাঁরই পানে উত্থিত হয় ভালো কথা।" -এর অর্থ কী? আমরা বলব- তার ব্যাখ্যা হলো, বান্দাদের রিযিক যেহেতু আসমান থেকে আসে, তাই দো'আর সময় আমরা আসমানের দিক হাত উঠাই। আর আমাদের আমল আল্লাহর কাছে উপরে উঠানো হয় মানে আমল সংরক্ষণকারী ফিরিশতাদের আবাসস্থান আসমানে। (তাই উপরে উঠানো হয়)
(আহলুস সুন্নাহ এর পক্ষ্য থেকে) তার (বালখীর উত্তরের) জবাব হচ্ছে- আসমানে রিযিক থাকার কারণে এবং আমল সংরক্ষণকারী ফিরিশতাদের আবাসস্থান আসমান হওয়ার কারণে যদি আমরা আসমানের দিকে হাত উঠাই, তাহলে দো'আর সময় যমীনের দিকে হাত নিচু করাও বৈধ। কারণ, আল্লাহ যমীন থেকে উদ্ভিদ, খাদ্য ও জীবিকা নির্বাহ করেন। যমীন তাদের থাকার স্থান ও তা থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। আর ফিরিশতারা তাদের সঙ্গে যমীনে থাকে। অতএব, তিনি উপরের দিকে হাত উঠানোর যে কারণ বর্ণনা করেছেন- তা কোনো কারণই নয়। আল্লাহ আমাদের আদেশ দিয়েছেন আমরা যেন তাঁর দিকে আমাদের হাত তাঁর উদ্দেশ্যেই উঠাই। হাত উঠানো হয় সেই 'আরশের দিকে, যে 'আরশের উপরে তিনি সমুন্নত হয়ে আছেন। বস্তুত এ 'ইল্লত' বা কার্যকারণটি সব জায়গার জন্য যথাযথভাবে সাব্যস্ত করা সম্ভব, (অর্থাৎ উপরের দিকে হাত তোলার মূল কারণ হচ্ছে, 'আরশের উপরে রাব্বুল আলামীন থাকা) কারণ বালখী এটা বলতে পারে না, "তোমরা যমীনের দিকে হাত লাগাও; 'আরশ তো যমীনের নিচে" কারণ সবাই ভালো করেই জানে যে, 'আরশ আসমানের উপরে যমীনের নিচে নয়।"¹
টিকাঃ
১. ইবনুত ত্বাবারী, তা'ওয়ীলুল আয়াতিলি মুশকিলাহ পৃ. ১৫০; যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪০৮-৪১৩) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; আরও দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, নাকযু তা'সীসিল জাহমিয়্যাহ, (২/৩৩৫-৩৩৭)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম হাসান আল-দারাকুতনী (৩৮৫ হিজরী)

📄 ইমাম হাসান আল-দারাকুতনী (৩৮৫ হিজরী)


ইমাম আবুল হাসান আদ-দারাকুতনী 'আরশের উপর আল্লাহর অবস্থান করার বিষয়ে কবিতা পাঠ করে বলেন,
أمروا الحديث على وجهه ... ولا تدخلوا فيه ما يفسده
"হাদীস যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও। তোমরা তাকে বাতিল করতে লেগে যেও না।"
ইমাম দারাকুতনী এতটাই প্রসিদ্ধ যে, তার পরিচিতির প্রয়োজন নেই। তিনি কিতাবুস সুনান সংকলন করেন। তার মাধ্যমে পক্ষের-বিপক্ষের সবাই ফায়দা অর্জন করে। তার সময়কাল ইমাম বুখারী ও তার স্তরের পরে হলেও তিনি সংরক্ষণের দিক থেকে তাদের মতো। তিনি ৩৮৫ হিজরীতে ৮০ বছর বয়সে মারা যান।
তিনি বাগাওয়ী, ইবন ছা'য়েদ, ইবন আবী দাউদ ছাড়াও অনেকের কাছ থেকে শুনেছেন। অনেক দেশ সফর করেন। তিনি এমন কিছু অর্জন করেন যা অন্যরা অর্জন করতে পারেনি। সুনান ছাড়াও তার আরও গ্রন্থ হচ্ছে- আর-রু'ইয়াহ, আল-আফরাদ, আল-কিরাআত অধ্যায় ভিত্তিক। কিরাআত বিষয়ে তার পূর্বে কেউ অধ্যায় ভিত্তিক গ্রন্থ সংকলন করেননি। গুণাবলি বিষয়ে তার একটি খণ্ড রয়েছে। সেখানে আল্লাহর সত্তাগত গুণ যথা হাত, পা, আঙুল, চেহারা, সূরত, হাতের কোষ হাদীস দিয়ে সাব্যস্ত করেন। আর আল্লাহর কার্যগত গুণ, যথা সন্তুষ্টি, ক্রোধ, দয়া, হাত প্রশস্ত করা, হাসা, কুরসী তার পা রাখার স্থান হওয়া বর্ণনা করার পর বলেছেন, 'সুফইয়ান ইবন 'উয়াইনাহ বলেছেন, আল্লাহ তাঁর নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন সেগুলো পড়া হচ্ছে তার ব্যাখ্যা, কোনো ধরন নির্ধারণ করা যাবে না, কোনো উপমা বা উদাহরণ দেয়াও যাবে না।' আরও বলেছেন, এ হাদীসগুলো আমরা যেভাবে এসেছে সেভাবে মেনে নিই, আর বলবো না, এটার ধরন কী? এটা কেন আসল? আরও বলেছেন, সুফইয়ান বলেন, এগুলো যেভাবে আসছে সেগুলোকে আমরা স্বীকৃতি দিই, সেগুলো বর্ণনা করি তবে আমরা ধরন নির্ধারণ করি না। তারপর বর্ণনা নিয়ে এসে বলেছেন, "নিশ্চয় আপনি 'আরশের উপরে, সাত আসমানের উপরে...মু'তাযিলারা আল্লাহর অবতরণ অস্বীকার করে, কিন্তু আমরা এ দীন নিয়েছি তাবে'য়ীদের বংশধরদের থেকে, তারা সাহাবায়ে কেরাম থেকে। অপরপক্ষে তারা কার থেকে নিয়েছে?" সর্বশেষে তিনি বলেছেন, এসব হাদীসকে যেভাবে আসছে সেভাবে অনুমোদন করে দাও, কোনো ধরণ নির্ধারণ ব্যতীতই। তারপর তিনি ইমাম আবদুল্লাহ ইবন ওহাবের সূত্রে, ইমাম মালিকের মাধ্যমে ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, "তোমরা সুন্নাতের কাছে নিজেকে সমর্পণ করো, তার বিরোধিতা করো না।”¹
টিকাঃ
১. আস-সিফাত।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবী যাইদ আল-কাইরোয়ানী (৩৮৬ হিজরী)

📄 ইমাম আবী যাইদ আল-কাইরোয়ানী (৩৮৬ হিজরী)


ইমাম আবু মুহাম্মাদ ইবন আবু যাইদ মালিকী মাগরিবী, যাকে তার ইলমের কারণে 'মালেক আস-সাগীর' (ছোট ইমাম মালেক) বলা হয়, তিনি মালিকী মাযহাবের ফিকহের উপরে যে গ্রন্থ লিখেন তার নাম প্রদান করেন আর-রিসালাহ। সে কিতাবের ভূমিকাতে তিনি আকীদার আলোচনা করেন। সেটি মুকাদ্দামাতু ইবন আবী যায়েদ আল-কাইরোয়ানী নামে বিখ্যাত, সেখানে তিনি বলেন,
على العرش استوى وعلى الملك احتوى
"তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন, আপন রাজত্বকে পরিবেষ্টন করে আছেন"।¹
তিনি আরও বলেন,
وأنه فوق عرشه المجيد بذاته، وأنه في كل مكان بعلمه
আল্লাহ সত্তাগতভাবে তাঁর মহান 'আরশের উপরে আর তিনি সর্বত্র তাঁর ইলমের মাধ্যমে।²
লক্ষ্য করুন, এখানে ইমাম ইবন আবী যাইদ আল-কাইরোয়ানী 'সত্তাগতভাবে' কথাটি বলেছেন, যা একেবারেই সত্য। ইতোপূর্বে মুহাম্মাদ ইবন 'উসমান ইবন আবু শাইবাহ'র একই বক্তব্য আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তার সমকালীন যুগে কৃফার ইমাম ও মুহাদ্দিস ছিলেন। অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম আবু ইসমা'ঈল আনসারীর উস্তায ইয়াহইয়া ইবন 'আম্মার, তিনি তার রিসালাহতেও একথা বলেছেন। অনুরূপ হাফিয ইমাম আবু নাসর আস-সিজযী স্বীয় গ্রন্থ আল-ইবানাহতে বলেন,
وأئمتنا الثوري، ومالك، وابن عيينة، وحماد بن سلمة، وحماد بن زيد، وابن المبارك، وفضيل بن عياض، وأحمد وإسحاق، متفقون على أن الله فوق عرشه بذاته، وأن علمه بكل مكان
আমাদের ইমাম সাওরী, মালিক, ইবন 'উয়াইনাহ, হাম্মাদ ইবন সালামাহ, হাম্মাদ ইবন যাইদ, ইবনুল মুবারক, ফুদ্ধাইল ইবন 'ইয়াদ্ব ও আহমাদ ইবন ইসহাক একমত যে, আল্লাহ সত্তাগতভাবে তাঁর 'আরশের উপরে আর তাঁর ইলম সর্বত্র।³ অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম আবু ইসমা'ঈল আল-আনসারী বলেন,
في أخبار شتى إن الله في السماء السابعة، على العرش بنفسه
বিভিন্ন হাদীসে আছে, স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা সপ্তম আসমানের ঊর্ধ্বে 'আরশের উপর রয়েছেন। আর তার ছাত্র আবুল হাসান আল-কারজী আকীদাতু আসহাবিল হাদীস গ্রন্থে বলেন,
عقائدهم أن الإله بذاته ... على عرشه مع علمه بالغوائب
আসহাবুল হাদীসের আকীদাহ হচ্ছে, আল্লাহ সত্তাগতভাবে তাঁর 'আরশের উপর। সেখান থেকেই যাবতীয় গায়েবী বিষয় তাঁর ইলমের অন্তর্ভুক্ত। আর একই কথা বলেছেন হাফিয আহমাদ আত-ত্বারকী এবং শাইখুল ইসলাম, যার সুপথপ্রাপ্তির ব্যাপারে সবাই একমত এবং যিনি অসংখ্য কারামতের অধিকারী, শাইখ আবদুল কাদের জীলানী, অনুরূপভাবে শাইখ আবদুল আযীয ইবন মুহাম্মাদ আল-কুহাইতী ও অন্যান্যগণ।⁴
ইমাম ইবন আবী যাইদ আল-ক্বাইরোয়ানী অন্য গ্রন্থে বলেন,
فيها أجمعت عليه الأمة من أمور الديانة، ومن السنن التي خلافها بدعة وضلالة أن الله تبارك اسمه له الأسماء الحسنى والصفات العلى، لم يزل بجميع صفاته وأسمائه، له الأسماء الحسنى والصفات العلى، أحاط علما بجميع ما برأ قبل كونه وفطر الأشياء بإرادته... وأنه يسمع ويرى ويقبض ويبسط، وأن يديه مبسوطتان والأرض جميعا قبضته يوم القيامة والسماوات مطويات بيمينه، وأنه يجى يوم القيامة بعد أن لم يكن جائيا) والملك صفا صفا لعرض الأمم وحسابها وعقوبتها وثوابها، فيغفر لمن يشاء من المذنبين، ويعذب منهم من يشاء، وأنه يرضى عن الطائعين ويحب التوابين ويسخط على من كفر به ويغضب فلا يقوم شيء لغضبه، وأنه فوق سماواته على عرشه دون أرضه، وأنه في كل مكان بعلمه، وأن الله سبحانه وتعالى كرسيا كما قال (عز وجل): ﴿وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمواتِ والأرْضِ) [البقرة: ٢٥٥] ومما جاءت به الأحاديث أن الله سبحانه يضع كرسيه يوم القيامة لفصل القضاء.
"দীনের যেসব বিষয়ে উম্মতগণ একমত হয়েছেন, অনুরূপ যেসব সুন্নাতেও তারা ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন, যার বিপরীতটি বিদ'আত ও পথভ্রষ্টতা, সে ঐকমত্যের বিষয়গুলো হচ্ছে, নিশ্চয় বরকতময় নামের অধিকারী আল্লাহ তা'আলার রয়েছে সুন্দর যত নাম, সুউচ্চ যত গুণ। তিনি সর্বদা তাঁর সকল গুণ ও নামসমূহ নিয়ে আছেন। তাঁর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণসমূহ, সৃষ্টি করার আগেই যা হবে সেসবের জ্ঞান তার আয়ত্বাধীন, সকল কিছুকে তিনি তাঁর ইচ্ছায় সৃষ্টি করেছেন।... আর তিনি সবকিছু শুনেন, দেখেন, সংকীর্ণ করেন, প্রশস্ত করেন, তাঁর দু' হাত প্রসারিত, সম্পূর্ণ যমীন কিয়ামতের দিন তাঁর হাতের মুঠের ভিতর, আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা, আর তিনি কিয়ামতের দিন আসবেন, (আগে থেকেই সেখানে আসা অবস্থায় থাকবেন না), আর ফিরিশতাগণও কাতারে কাতারে, সকল উম্মতকে তার সামনে পেশ করার জন্য, তাদের হিসাবের জন্য, তাদের শাস্তি বিধানের জন্য, তাদের সাওয়াব দেয়ার জন্য, অতঃপর তিনি গোনাহগারদের যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন, আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন। আরও এটা যে, তিনি আনুগত্যশীল বান্দাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন, তিনি তাওবাকারীদের পছন্দ করেন, যারা তার সাথে কুফুরী করে তাদের ওপর রাগ করেন এবং ক্রোধান্বিত হন, তাঁর ক্রোধের কারণে কোনো কিছু দাঁড়াবে না (সুপারিশের জন্য)। আর তিনি তাঁর আসমানসমূহের উপরে, তাঁর 'আরশের উপরে যমীনের উপর নন। তবে তিনি তাঁর জ্ঞানে সর্বত্র। আর আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা'আলার জন্য রয়েছে একটি কুরসী, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন, "তাঁর কুরসীতে আসমান ও যমীন জায়গা হয়" [সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত: ২৫৫], অনুরূপভাবে অনেক হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাঁর কুরসীকে স্থাপন করবেন সৃষ্টির মাঝে বিচার-ফয়সালা করার জন্য।”⁵
টিকাঃ
১. রিসালাহ: ২১-২২।
২. কাইরাওয়ানী, আর-রিসালাহ, ৪; যাহাবী, আল-আরশ, (২/৩৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৭৮।
৩. ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউ তাআরুযিল আকল ওয়ান নাকল, (৬/২৫০)।
৪. যাহাবী, আল-'আরশ (২/৪৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৫. আল-জামে'উ ফিস সুনান ওয়াল আদাবি ওয়াল মাগাযী ওয়াত তারিখ, পৃ. ১০৭-১০৮।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ইবন বাত্তাহ আল-উকবারী (৩৮৭ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ইবন বাত্তাহ আল-উকবারী (৩৮৭ হিজরী)


ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবন বাত্তাহ আল-উকবারী রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের ইমাম। তার রয়েছে আকীদাহ বিষয়ক দু'টি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ। আল-ইবানাতুল কুবরা, আল-ইবানাতুস সুগরা। প্রথমটি শুধু আকীদার ওপর, দ্বিতীয়টিতে প্রথমে আকীদাহ পরে ফিকহের আলোচনা করেন।
তিনি তাঁর আল-ইবানাহ আল-কুবরা গ্রন্থে বলেন, باب الإيمان بأن الله على عرشه، بائن من خلقه، وعلمه محيط بخلقه.
أجمع المسلمون من الصحابة والتابعين، أن الله على عرشه فوق سمواته، بائن من خلقه... واحتج الجهمي بقوله مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ
فقال: إن الله معنا وفينا، وقد فسر العلماء أن ذلك علمه، ثم قال في آخرها إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ .
فلو كان إنما عَلِمَ ذلك بالمشاهدة، لم يكن له فضل على الخلائق، وبطل فضل علمه بعلم الغيب.
আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা এবং তাঁর ইলম তাঁর মাখলুককে বেষ্টনকারী-এসবের প্রতি ঈমান আনা বিষয়ক অধ্যায়।
সাহাবী ও তাবে'য়ী একমত যে, আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর আসমানসমূহের ঊর্ধ্বে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা।"¹...
জাহমিয়‍্যাহ দলীল হিসেবে পেশ করে: ﴿مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ "তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না" তারা বলে, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে ও আমাদের মাঝে। আলিমগণ এর ব্যাখ্যা 'ইলম' দ্বারা করেছেন। কারণ আয়াতের শেষে আল্লাহ বলেছেন: ﴾ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ﴿ "নিশ্চয় আল্লাহ সকল বিষয়ে অধিক জ্ঞাত।"
আল্লাহ যদি তা উপস্থিত হয়ে জানেন, তবে সৃষ্টির উপরে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব থাকে না এবং ইলমে গাইবের মাধ্যমে তাঁর ইলমের যে মর্যাদা তা বাতিল হয়ে যায়।²
তারপর তিনি তাদের মত উল্লেখ করেছেন যারা বলেছেন, আল্লাহর সঙ্গে থাকা ইলমের মাধ্যমে। যেমন, নু'আইম ইবন হাম্মাদ, দ্বাহহাক ইবন মুযাহিম, সুফইয়ান সাওরী, আহমাদ ইবন হাম্বল, ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ থেকে এসব কথা সনদ সহকারে উল্লেখ করেছেন।
তারপর তিনি বলেন, لَكِنَّا نَقُولُ: إِنَّ رَبَّنَا تَعَالَى فِي أَرْفَعِ الْأَمَاكِنِ، وَأَعْلَى عِلَّيِّينَ، قَدِ اسْتَوَى عَلَى عَرْشِهِ فَوْقَ سَمَاوَاتِهِ، وَعِلْمُهُ مُحِيطٌ بِجَمِيعِ خَلْقِهِ، يَعْلَمُ مَا نَأَى كَمَا يَعْلَمُ مَا دَنَا ، وَيَعْلَمُ مَا بَطَنَ كَمَا يَعْلَمُ مَا ظَهَرَ كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ تَعَالَى، فَقَالَ: ﴿وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ، وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا، وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ) [الأنعام: ٥٩] ، فَقَدْ أَحَاطَ عِلْمُهُ بِجَمِيعِ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاوَاتِ الْعُلَا، وَمَا فِي الْأَرَضِينَ السَّبْعِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى، يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى، وَيَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ، وَيَعْلَمُ الخُطْرَةَ وَالهُمَّةَ، وَيَعْلَمُ جَمِيعَ مَا تُوَسْوِسُ النُّفُوسُ بِهِ، يَسْمَع وَيَرَى، وَهُوَ بِالنَّظَرِ الْأَعْلَى لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِينَ إِلَّا وَقَدْ أَحَاطَ عِلْمُهُ بِهِ، وَهُوَ عَلَى عَرْشِهِ سُبْحَانَهُ الْعَلِيُّ الْأَعْلَى تُرْفَعُ إِلَيْهِ أَعْمَالُ الْعِبَادِ، وَهُوَ أَعْلَمُ بِهَا مِنَ المَلَائِكَةِ الَّذِينَ شَهِدُوهَا وَكَتَبُوهَا ، وَرَفَعُوا إِلَيْهِ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، فَجَلَّ رَبُّنَا وَتَعَالَى عَمَّا يَنْسُبُهُ إِلَيْهِ الْجَاحِدُونَ، وَيُشَبِّهُهُ بِهِ الْمُلْحِدُونَ.
"নিশ্চয় আমাদের রব সর্বোচ্চ স্থানে, সর্বাচ্চ ইল্লিয়‍্যীনে, তিনি আসমানসমূহের উপরে তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন। আর তাঁর জ্ঞান সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছে, যা দূরে তা জানেন যেমন যা কাছে তা জানেন। যা গোপন তা জানেন যেমন জানেন যা প্রকাশ্য। যেমনটি তিনি তাঁর নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন,
﴿وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ ﴾ [الانعام: ٥٩]
"আর গায়েবের চাবি তাঁরই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারসমূহে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত রয়েছেন, তাঁর অজানায় একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না বা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোনো বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।” [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৫৯]
"সুতরাং তাঁর জ্ঞান সাত উপরস্থ আকাশ, সাত যমীন, এর মধ্যকার সবকিছু এবং যমীনের নিচের সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছেন, গোপন সব তিনি জানেন, গোপনের চেয়েও গোপন যা তাও তিনি জানেন, তিনি জানেন চক্ষু যা খেয়ানত করে এবং যা বুকে লুকায়িত থাকে, অন্তরে বুদ্বুদ আকারে উঠা জিনিস এবং ইচ্ছাকৃত জিনিস সবই তিনি জানেন। অন্তরসমূহে যা কুমন্ত্রণা আকারে আসে তাও জানেন, শুনেন ও দেখতে পান, তিনি সর্বাচ্চ দৃষ্টিতে তা দেখেন। আসমান ও যমীনে অণু পরিমাণ জিনিসও তার দৃষ্টি এড়ায় না, সবই তিনি তার জ্ঞান দিয়ে পরিবেষ্টন করে আছেন। অথচ তিনি তার সর্বোচ্চ মহান 'আরশের উপরে আছেন, তাঁর কাছে বান্দাদের আমল উপরে তুলে ধরা হয়, অথচ তিনি তা সেসব ফিরিশতাদের চেয়ে বেশি জানেন যারা তা দেখেছে এবং লিখেছে। তারা তাঁর কাছে সেসব আমল রাত দিন উঠিয়ে তুলে ধরছেন। সুতরাং আমাদের মহান ও সম্মানিত রব অস্বীকারকারীরা যা তার দিকে সম্পৃক্ত করে এবং যা মুলহিদরা তার সাথে তুলনা করে তা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।”³ তাছাড়া তিনি তাঁর আল-ইবানাতুস সুগরায় বলেন,
ثم الإيمان بصفات الله تبارك وتعالى : بأن الله حي ... سميع بصير، يعلم السر وأخفى، يسمع ويرى وهو بالمنظر الأعلى، ويقبض ويبسط ويأخذ ويعطي، وهو على عرشه، بائن من خلقه ....
"তারপর ঈমান আনতে হবে আল্লাহ তাবারক ওয়া তা'আলার সকল সিফাতের উপর, এভাবে যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব,... সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, গোপন ও গোপনের চেয়েও গোপন জিনিসি তিনি জানেন, শুনেন-তু দেখেন, যদিও তিনি উপর থেকে দৃষ্টি দেন, তিনি মুষ্ঠিবদ্ধ করেন, প্রসারিত করেন, গ্রহণ করেন ও প্রদান করেন, আর তিনি তাঁর 'আরশের উপর, সকল সৃষ্টি থেকে আলাদা...।"⁴ অন্যত্র বলেন,
أن الله عز وجل يضع السموات على أصبع، والأرضين على أصبع، وأن الله يضع قدمه في النار فتقول قط قط، وقلوب العباد بين أصبعين من أصابع الرحمن، وأن الله عز وجل على العرش......
"নিশ্চয় মহান আল্লাহ আসমানসমূহকে এক আঙ্গুলের উপর রাখবেন, যমীনসমূহকে আরেক আঙ্গুলের উপর রাখবেন, আর আল্লাহ তা'আলা তাঁর পা রাখবেন জাহান্নামের উপর। তখন জাহান্নাম বলবে, কাত্ব, ক্বাত্ব (পূর্ণ হয়ে গেছি), আর বান্দাদের অন্তরসমূহ রহমানের দু' আঙ্গুলের মাঝখানে, আর মহান ও মর্যাদাপূর্ণ আল্লাহ 'আরশের উপর রয়েছেন। "⁵
টিকাঃ
১. আল-ইবানাহ (৩/১৩৬)।
২. আল-ইবানাহ (৩/১৪৩-১৪৬); যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪১৬) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
৩. ইবন বাত্তাহ, আল-ইবানাতুল কুবরা (৭/১৪১-১৪২)।
৪. আশ-শারহু ওয়াল ইবানাহ, পৃ. ১৮৭-১৯১।
৫. আশ-শারহু ওয়াল ইবানাহ, পৃ. ২১৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00