📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ মানসুর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল আযহার আল-আযহারী (৩৭০ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ মানসুর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল আযহার আল-আযহারী (৩৭০ হিজরী)


ইমাম আবু মানসূর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল আযহার আল-আযহারী আল-হারাওয়ী বলেন, إن الله تعالى على العرش، ويجوز أن يقال في المجاز: هو في السماء لقوله تعالى: ﴿أَمِنْتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ ﴾
"আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, ভাষার ভিন্ন বাকরীতিতে বলা যায়, তিনি আসমানে, যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে, "যিনি আসমানের উপর আছেন তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদের নিয়ে যমীনকে ধ্বসিয়ে দিবেন না?”¹
টিকাঃ
১. আল-'উলু, পৃ. ২৩০।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ বকর আল-ইসমা‘ঈলী আল-শাফে‘য়ী (৩৭১ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ বকর আল-ইসমা‘ঈলী আল-শাফে‘য়ী (৩৭১ হিজরী)


ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবন ইবরাহীম ইবন ইসমা'ঈল আল-জুরজানী আল-ইসমা'ঈলী বলেন, اعلموا رحمنا الله وإياكم، أن مذاهب أهل السنة ومذاهب أهل الحديث والجماعة، الإقرار بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، وقبول ما نطق به كتاب الله، وما صحت به الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا معدل عما وردا به ويعتقدون أن الله مدعو بأسمائه الحسنى ، وموصوف بصفاته التي وصف بها نفسه، ووصفه بها نبيه، خلق آدم بیده، ويداه مبسوطتان بلا اعتقاد كيف استوى على العرش بلا كيف، فإنه انتهى إلى أنه استوى على العرش ولم يذكر كيف كان استواؤه
"আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ওপর রহম করুন! জেনে রাখুন- আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল হাদীস ওয়াল জামা'আতের নীতি হচ্ছে, আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতা, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের স্বীকৃতি প্রদান করা এবং কুরআন যা বলে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ করা। কুরআন ও সুন্নায় যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। তারা আকীদাহ পোষণ করে যে, আল্লাহ সুন্দর সুন্দর নামের মাধ্যমে আহুত এবং তিনি সেসব গুণে গুণান্বিত যার বর্ণনা স্বয়ং আল্লাহ নিজের ক্ষেত্রে দিয়েছেন বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। তিনি তাঁর হাত দ্বারা আদম 'আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর দুই হাত প্রসারিত, ধরন বিশ্বাস করা ছাড়াই। 'আরশের উপরে উঠেছেন, কোনোরূপ ধরন জানা ছাড়াই। কারণ আল্লাহ শুধু বলেছেন- তিনি 'আরশের উপরে উঠেছেন। “তার উপরে উঠার বিষয়টি কেমন” তা তিনি উল্লেখ করেননি।"¹ তিনি এসব আকীদাহ তুলে ধরে বলেন, এটা সমস্ত আহলে সুন্নাহ'র মত।
টিকাঃ
১. আবু বকর ইসমা'ঈলী, ই'তিকাদু আইম্মাতিল হাদীস, ৪৯- ৫১; যাহাবী, আস-সিয়ার (১৬/২৯৫); তাযকিরাতুল হুফফায (৩/৯৪৯), আল-'উলু, পৃ. ১৬৭; যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪০০) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৭৪।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমদ আত-ত্বাবারী (ইমাম আবুল হাসান আশ‘আরীর ছাত্র) (৩৭৩ হিজরী প্রায়)

📄 আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমদ আত-ত্বাবারী (ইমাম আবুল হাসান আশ‘আরীর ছাত্র) (৩৭৩ হিজরী প্রায়)


ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর ছাত্র কালামপন্থী আশ'আরী ইমাম আবুল হাসান 'আলী ইবন মাহদী আত-ত্বাবারী তাঁয় 'তা'ওয়ীলুল আয়াতিল মুশকিলাহ' গ্রন্থে আল্লাহর বাণী-রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন অধ্যায়ে বলেন-
اعلم أن الله سبحانه في السماء، فوق كل شيء، مستو على عرشه، بمعنى أنه عال عليه، ومعنى الاستواء: الاعتلاء، كما تقول العرب: استويت على ظهر الدابة، واستويت على السطح، بمعنى علوته، واستوت الشمس على رأسي واستوى الطير على قمة رأسي، بمعنى علا في الجو، فوجد فوق رأسي، فالقديم جل جلاله عال على عرشه.
وزعم البلخي أن استواء الله على العرش هو الاستيلاء عليه، مأخوذ من كلام العرب أثم استوى بشر على العراق فيقال له: ما أنكرت أن يكون عرش الله جسماً خلقه، وأمر ملائكته بحمله، قال وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ وأمية يقول:
مجدوا الله فهو للمجد أهل * ربنا في السماء أمسى كبيرا بالبناء الأعلى الذي سبق النا س وسوى فوق السماء سريرا ومما يدل على أن الاستواءها هنا ليس بالاستيلاء، أنه لو كان كذلك لم يكن ينبغي أن يخص العرش بالاستيلاء عليه دون سائر خلقه، إذ هو مستول على العرش، وعلى سائر خلقه، وليس للعرش مزية على ما وصفته، فبان بذلك فساد قوله.
ثم يقال له أيضاً: إن الاستواء ليس هو الاستيلاء الذي من قول العرب: استوى فلان على كذا، أي استولى إذا تمكن من
"জেনে রাখো, আল্লাহ সুবহানাহু আসমানের উপরে, সকল কিছুর ঊর্ধ্বে, তাঁর 'আরশের উপর সমুন্নত। অর্থাৎ তিনি তাঁর উপরে। 'ইস্তিওয়া' মানে আরোহন করা। যেমন, আরবরা বলেন استويت على السطح 3 استويت على ظهر الدابة অর্থাৎ 'আরোহীর পিঠে আরোহন করেছি এবং ছাদের উপরে আরোহণ করেছি। واستوت الشمس على رأسي، واستوى الطير على قمة رأسي অর্থাৎ 'সূর্য আমার মাথার উপরে হয়েছে ও পাখি আমার মাথার শীর্ষে উঠেছে।' অনাদি মহান আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে।
আল্লাহর বাণী: “তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছো যে, যিনি আসমানে আছেন।" আপনাকে আপনার রব উঠিয়ে নিবনে।" "তাঁরই পানে উত্থিত হয় ভালো কথা।" "তিনি আসমান থেকে যমীন পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন। তারপর তা একদিন তাঁর কাছেই উঠবে।"
বালখীর মতে- আল্লাহর 'আরশের উপরে উঠার মানে তার উপরে কর্তৃত্বলাভ করা। তার কথার উৎস হচ্ছে আরবদের ভাষা - ثم استوى بشر على العراق 'অতঃপর বিশর ইরাকের কর্তৃত্বলাভ করেছে।' সে আরও বলেছে, 'আরশ হচ্ছে রাজত্ব।
জবাবে বালখীকে বলা হবে- তুমি আল্লাহর 'আরশের বর্ণনা ও আকার-আকৃতি অস্বীকার করছ, অথচ আল্লাহ ফিরিশতাদের তা বহন করার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন- )وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبَّكَ نَوْتَهُمْ 'তোমার রবের 'আরশ তাদের উপরে বহন করছে।' আর উমাইয়‍্যাহ বলেছিলেন-
তারা আল্লাহর গুণগান করেছে। তিনি গুণগানের উপযোগী।
আমাদের রব আসমানের উপরে। উঁচু কাঠামো ('আরশ) সহকারে মহান।
সে 'আরশ মানুষের পূর্বে। আসমানের উপরে সিংহাসন সাজিয়েছেন।'
তাছাড়া এখানে 'ইস্তিওয়া' মানে 'কর্তৃত্বলাভ নয়' তার আরও প্রমাণ হচ্ছে- যদি কর্তৃত্বলাভ অর্থ হয়, তবে সমস্ত মাখলুককে বাদ দিয়ে শুধু 'আরশের কর্তৃত্বের কথা উল্লেখ করার কোনো মানে হয় না। কারণ, তিনি 'আরশের উপরেও কর্তৃত্ববান এবং সমস্ত মাখলুকের উপরেও কর্তৃত্ববান। তার বর্ণনানুসারে 'আরশের আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্যই থাকে না। এর মাধ্যমে তার কথার বাতুলতা প্রমাণ হয়।
অনুরূপভাবে তাকে আরও বলা হবে- استوى بشر على العراق বাক্যে কর্তৃত্বহীন বস্তুর ওপর কর্তৃত্বলাভ করার ক্ষেত্রে আরবেরা যে استوی শব্দ ব্যবহার করেছেন, এটা সঠিক নয়। তাই ইস্তিওয়াকে কর্তৃত্ব লাভের অর্থে ব্যবহার করা যাবে না।
(তারপর তিনি বলেন- আমাদের আবু আবদুল্লাহ নাফত্বাওয়াইহ ইবনুল আ'রাবীর সাথে সংঘটিত পূর্বের ঘটনা বর্ণনা করেছেন)
তারপর বলেন, যদি বলা হয় আল্লাহর বাণী: "তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছো যে, যিনি আসমানে আছেন।"-এর অর্থ কী?
উত্তরে বলতে হবে- এর অর্থ আসমানের ঊর্ধ্বে 'আরশের উপরে। যেমন, আল্লাহ বলেন “সুতরাং তোমরা যমীনে বিচরণ করো।” অর্থাৎ যমীনের উপর।
ফির'আউন বললো, "আমি তোমাদের খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলিবিদ্ধ করবই।” (অথচ ফির'আউনের উদ্দেশ্য ছিল খেজুর গাছের উপরে শুলিবিদ্ধ করা) অনুরূপ আল্লাহর বাণী: “তোমরা কি এ থেকে নির্ভয় হয়েছো যে, যিনি আসমানে আছেন। (এখানেও অর্থ হচ্ছে, যিনি আসমানের উপরে আছেন)
যদি বলা হয়- আর আসমানসমূহ ও যমীনে তিনিই আল্লাহ" আয়াতের ব্যাপারে কী বলেন? তখন উত্তরে বলতে হবে,
)১) কিছু কারী (কুরআনের বিখ্যাত পাঠকগণের কেউ কেউ) 'আসমানের উপরে فِي السَّمَاوَاتِ -এ ওয়াকফ করেছেন। তারপর আবার ﴾وَفِي الْأَرْضِ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهَرَكُمْ﴿ থেকে শুরু করেছেন।
(২) যদি কেউ বলে, তার রাজত্ব সিরিয়ায় ও ইরাকে। একথা দ্বারা বুঝায়, তার রাজত্ব সিরিয়ায় ও ইরাকে, স্বয়ং সে ব্যক্তি সিরিয়া ও ইরাকে নেই। [এখানেও অর্থ হচ্ছে তিনি আসমান ও যমীনে মা'বুদ; কিন্তু তার অর্থ তিনি আসমান কিংবা যমীনের অভ্যন্তরে নয়]
যদি বলা হয়, আল্লাহর বাণী- তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন কথা হয় না, যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না।"-এর ব্যাপারে কী বলবেন?
উত্তরে তাকে বলা হবে, কোনো বস্তু কোনো বস্তুর সঙ্গে কয়েকভাবে থাকতে পারে। যেমন, সাহায্যের মাধ্যমে, সঙ্গে থাকার মাধ্যমে, স্পর্শের মাধ্যমে, জ্ঞানের মাধ্যমে। আমাদের মতে, এ আয়াতের অর্থ হচ্ছে- তিনি ইলমের মাধ্যমে সৃষ্টির সঙ্গে।
বালখী বলেন, যদি আমাদের প্রশ্ন করা হয়- আসমানের দিকে আমাদের হাত তোলা এবং আল্লাহর বাণী: "তাঁরই পানে উত্থিত হয় ভালো কথা।" -এর অর্থ কী? আমরা বলব- তার ব্যাখ্যা হলো, বান্দাদের রিযিক যেহেতু আসমান থেকে আসে, তাই দো'আর সময় আমরা আসমানের দিক হাত উঠাই। আর আমাদের আমল আল্লাহর কাছে উপরে উঠানো হয় মানে আমল সংরক্ষণকারী ফিরিশতাদের আবাসস্থান আসমানে। (তাই উপরে উঠানো হয়)
(আহলুস সুন্নাহ এর পক্ষ্য থেকে) তার (বালখীর উত্তরের) জবাব হচ্ছে- আসমানে রিযিক থাকার কারণে এবং আমল সংরক্ষণকারী ফিরিশতাদের আবাসস্থান আসমান হওয়ার কারণে যদি আমরা আসমানের দিকে হাত উঠাই, তাহলে দো'আর সময় যমীনের দিকে হাত নিচু করাও বৈধ। কারণ, আল্লাহ যমীন থেকে উদ্ভিদ, খাদ্য ও জীবিকা নির্বাহ করেন। যমীন তাদের থাকার স্থান ও তা থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। আর ফিরিশতারা তাদের সঙ্গে যমীনে থাকে। অতএব, তিনি উপরের দিকে হাত উঠানোর যে কারণ বর্ণনা করেছেন- তা কোনো কারণই নয়। আল্লাহ আমাদের আদেশ দিয়েছেন আমরা যেন তাঁর দিকে আমাদের হাত তাঁর উদ্দেশ্যেই উঠাই। হাত উঠানো হয় সেই 'আরশের দিকে, যে 'আরশের উপরে তিনি সমুন্নত হয়ে আছেন। বস্তুত এ 'ইল্লত' বা কার্যকারণটি সব জায়গার জন্য যথাযথভাবে সাব্যস্ত করা সম্ভব, (অর্থাৎ উপরের দিকে হাত তোলার মূল কারণ হচ্ছে, 'আরশের উপরে রাব্বুল আলামীন থাকা) কারণ বালখী এটা বলতে পারে না, "তোমরা যমীনের দিকে হাত লাগাও; 'আরশ তো যমীনের নিচে" কারণ সবাই ভালো করেই জানে যে, 'আরশ আসমানের উপরে যমীনের নিচে নয়।"¹
টিকাঃ
১. ইবনুত ত্বাবারী, তা'ওয়ীলুল আয়াতিলি মুশকিলাহ পৃ. ১৫০; যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪০৮-৪১৩) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; আরও দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ, নাকযু তা'সীসিল জাহমিয়্যাহ, (২/৩৩৫-৩৩৭)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম হাসান আল-দারাকুতনী (৩৮৫ হিজরী)

📄 ইমাম হাসান আল-দারাকুতনী (৩৮৫ হিজরী)


ইমাম আবুল হাসান আদ-দারাকুতনী 'আরশের উপর আল্লাহর অবস্থান করার বিষয়ে কবিতা পাঠ করে বলেন,
أمروا الحديث على وجهه ... ولا تدخلوا فيه ما يفسده
"হাদীস যেভাবে এসেছে সেভাবে চালিয়ে দাও। তোমরা তাকে বাতিল করতে লেগে যেও না।"
ইমাম দারাকুতনী এতটাই প্রসিদ্ধ যে, তার পরিচিতির প্রয়োজন নেই। তিনি কিতাবুস সুনান সংকলন করেন। তার মাধ্যমে পক্ষের-বিপক্ষের সবাই ফায়দা অর্জন করে। তার সময়কাল ইমাম বুখারী ও তার স্তরের পরে হলেও তিনি সংরক্ষণের দিক থেকে তাদের মতো। তিনি ৩৮৫ হিজরীতে ৮০ বছর বয়সে মারা যান।
তিনি বাগাওয়ী, ইবন ছা'য়েদ, ইবন আবী দাউদ ছাড়াও অনেকের কাছ থেকে শুনেছেন। অনেক দেশ সফর করেন। তিনি এমন কিছু অর্জন করেন যা অন্যরা অর্জন করতে পারেনি। সুনান ছাড়াও তার আরও গ্রন্থ হচ্ছে- আর-রু'ইয়াহ, আল-আফরাদ, আল-কিরাআত অধ্যায় ভিত্তিক। কিরাআত বিষয়ে তার পূর্বে কেউ অধ্যায় ভিত্তিক গ্রন্থ সংকলন করেননি। গুণাবলি বিষয়ে তার একটি খণ্ড রয়েছে। সেখানে আল্লাহর সত্তাগত গুণ যথা হাত, পা, আঙুল, চেহারা, সূরত, হাতের কোষ হাদীস দিয়ে সাব্যস্ত করেন। আর আল্লাহর কার্যগত গুণ, যথা সন্তুষ্টি, ক্রোধ, দয়া, হাত প্রশস্ত করা, হাসা, কুরসী তার পা রাখার স্থান হওয়া বর্ণনা করার পর বলেছেন, 'সুফইয়ান ইবন 'উয়াইনাহ বলেছেন, আল্লাহ তাঁর নিজেকে যেসব গুণে গুণান্বিত করেছেন সেগুলো পড়া হচ্ছে তার ব্যাখ্যা, কোনো ধরন নির্ধারণ করা যাবে না, কোনো উপমা বা উদাহরণ দেয়াও যাবে না।' আরও বলেছেন, এ হাদীসগুলো আমরা যেভাবে এসেছে সেভাবে মেনে নিই, আর বলবো না, এটার ধরন কী? এটা কেন আসল? আরও বলেছেন, সুফইয়ান বলেন, এগুলো যেভাবে আসছে সেগুলোকে আমরা স্বীকৃতি দিই, সেগুলো বর্ণনা করি তবে আমরা ধরন নির্ধারণ করি না। তারপর বর্ণনা নিয়ে এসে বলেছেন, "নিশ্চয় আপনি 'আরশের উপরে, সাত আসমানের উপরে...মু'তাযিলারা আল্লাহর অবতরণ অস্বীকার করে, কিন্তু আমরা এ দীন নিয়েছি তাবে'য়ীদের বংশধরদের থেকে, তারা সাহাবায়ে কেরাম থেকে। অপরপক্ষে তারা কার থেকে নিয়েছে?" সর্বশেষে তিনি বলেছেন, এসব হাদীসকে যেভাবে আসছে সেভাবে অনুমোদন করে দাও, কোনো ধরণ নির্ধারণ ব্যতীতই। তারপর তিনি ইমাম আবদুল্লাহ ইবন ওহাবের সূত্রে, ইমাম মালিকের মাধ্যমে ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, "তোমরা সুন্নাতের কাছে নিজেকে সমর্পণ করো, তার বিরোধিতা করো না।”¹
টিকাঃ
১. আস-সিফাত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00