📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন মুজাহিদ আত-ত্বায়ী আল-বসরী (৩৬০ এর পরে)
কালামপন্থী আলেমে দীন, ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর বিখ্যাত ছাত্র, উসূলবিদ, ইমাম আবু বকর আল-বাকেল্লানীর উস্তায, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইয়া'কূব ইবন মুজাহিদ আত-ত্বায়ী, যিনি আশ'আরী মতবাদের লোকদের নিকট ইবন মুজাহিদ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি আল্লাহ তা'আলার জন্য সর্বোচ্চ সত্তা সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন,
الإجماع التاسع من إجماعات أهل السنة وأنه تعالى فوق سماواته على عرشه دون أرضه، وقد دل على ذلك بقوله: أأمنتم من في السماء أن يخسف بكم الأرض وقال: إليه يصعد الكلم الطيب والعمل الصالح يرفعه وقال: الرحمن على العرش استوى وليس استواؤه على العرش استيلاء كما قال أهل القدر، لأنه عز وجل لم يزل مستوليا على كل شيء.
"আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের ইজমার অন্তর্ভুক্ত নবম ইজমা হচ্ছে, 'নিশ্চয় মহান আল্লাহ তাঁর সকল আসমানের উপরে 'আরশের উপরে রয়েছেন। তিনি যমীনে নন। এ বিষয়টি প্রমাণ করে আল্লাহর বাণী, “তোমরা কি আসমানের উপরে যিনি আছেন, তার ব্যাপারে নিঃশঙ্ক হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদের নিয়ে যমীন ধ্বসিয়ে দিবেন না?”। অনুরূপ অপর বাণী, "তাঁর দিকেই উত্থিত হয় বাণীসমূহ, আর সৎ আমল তিনি তা উঠিয়ে নেন"। অপর বাণীতে আল্লাহ বলেন, "রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন", আর তাঁর 'আরশের উপর উঠার বিষয়টি 'ইস্তীলা' বা অধিকার করা বা মালিক হওয়া নয়, যেমনটি কাদরিয়া (মু'তাযিলা) সম্প্রদায় বলে থাকে। কারণ মহান আল্লাহ সর্বদা সবকিছুর ওপর কর্তৃত্বশীল"।¹
এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এ সময় পর্যন্ত আশ'আরী মতবাদের ইমামগণ আল্লাহ তা'আলাকে সত্তাগত সর্বোচ্চ সত্তা সাব্যস্ত করতেন, তেমনিভাবে তারা তখনও আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠাকে অস্বীকার করেননি। বরং পরবর্তী আশায়েরাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ 'ইস্তেওয়া' কে ইস্তাওলা বা অধিকার করা নামক তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যা করাকে তারা অস্বীকার করতেন। তখনও তারা জানতেন যে, এভাবে 'ইস্তাওয়া' এর অর্থ 'ইস্তাওলা' বা 'অধিকার করা' এ অপব্যাখ্যা মু'তাযিলারা করে থাকে, আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ইবন মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ ঠিকই এভাবে অপব্যাখ্যা করে তারা যা সাব্যস্ত করতে চাচ্ছে তার খারাপ দিকটি তুলে ধরেছেন, সেটা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তো সর্বদাই সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ববান তাহলে আবার আরশের উপরে উঠাকে 'কর্তৃত্ব করা' দ্বারা তা'ওয়ীল করা কোনোভাবেই শুদ্ধ হতে পারে না।
টিকাঃ
১. রিসালাতুন ইলা আহলিস সাগার ২৩২-২৩৪; তিনি ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর এ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।
📄 হাফিয আবূশ শাইখ আসবাহানী, (৩৬৯ হিজরী)
হাফিয আবু নু'আইমের উস্তাদ হাফিয আবু মুহাম্মাদ ইবন হাইয়ান আবুশ শাইখ স্বীয় গ্রন্থ আল-'আযামাহ-তে বলেন-
ذكر عرش الرب تبارك وتعالى وكرسيه وعظم خلقهما، وعلو الرب فوق عرشه
রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার 'আরশ, তাঁর কুরসী, উভয় মাখলুকের বড়ত্ব এবং রব তাঁর 'আরশের উপরে থাকা-সংক্রান্ত আলোচনা।
তারপর তিনি এ সংক্রান্ত কিছু হাদীস দলীল হিসেবে উপস্থাপন করেন।¹ সেসব হাদীস আগে উল্লেখ করা হয়েছে।²
টিকাঃ
১. আল-'আযামাহ: ৫৪৩-৬৬৬।
২. যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪০২-৪০৩) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
📄 ইমাম আবূ মানসুর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল আযহার আল-আযহারী (৩৭০ হিজরী)
ইমাম আবু মানসূর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল আযহার আল-আযহারী আল-হারাওয়ী বলেন, إن الله تعالى على العرش، ويجوز أن يقال في المجاز: هو في السماء لقوله تعالى: ﴿أَمِنْتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ ﴾
"আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, ভাষার ভিন্ন বাকরীতিতে বলা যায়, তিনি আসমানে, যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে, "যিনি আসমানের উপর আছেন তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদের নিয়ে যমীনকে ধ্বসিয়ে দিবেন না?”¹
টিকাঃ
১. আল-'উলু, পৃ. ২৩০।
📄 ইমাম আবূ বকর আল-ইসমা‘ঈলী আল-শাফে‘য়ী (৩৭১ হিজরী)
ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবন ইবরাহীম ইবন ইসমা'ঈল আল-জুরজানী আল-ইসমা'ঈলী বলেন, اعلموا رحمنا الله وإياكم، أن مذاهب أهل السنة ومذاهب أهل الحديث والجماعة، الإقرار بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، وقبول ما نطق به كتاب الله، وما صحت به الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا معدل عما وردا به ويعتقدون أن الله مدعو بأسمائه الحسنى ، وموصوف بصفاته التي وصف بها نفسه، ووصفه بها نبيه، خلق آدم بیده، ويداه مبسوطتان بلا اعتقاد كيف استوى على العرش بلا كيف، فإنه انتهى إلى أنه استوى على العرش ولم يذكر كيف كان استواؤه
"আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ওপর রহম করুন! জেনে রাখুন- আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল হাদীস ওয়াল জামা'আতের নীতি হচ্ছে, আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতা, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের স্বীকৃতি প্রদান করা এবং কুরআন যা বলে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ করা। কুরআন ও সুন্নায় যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। তারা আকীদাহ পোষণ করে যে, আল্লাহ সুন্দর সুন্দর নামের মাধ্যমে আহুত এবং তিনি সেসব গুণে গুণান্বিত যার বর্ণনা স্বয়ং আল্লাহ নিজের ক্ষেত্রে দিয়েছেন বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। তিনি তাঁর হাত দ্বারা আদম 'আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর দুই হাত প্রসারিত, ধরন বিশ্বাস করা ছাড়াই। 'আরশের উপরে উঠেছেন, কোনোরূপ ধরন জানা ছাড়াই। কারণ আল্লাহ শুধু বলেছেন- তিনি 'আরশের উপরে উঠেছেন। “তার উপরে উঠার বিষয়টি কেমন” তা তিনি উল্লেখ করেননি।"¹ তিনি এসব আকীদাহ তুলে ধরে বলেন, এটা সমস্ত আহলে সুন্নাহ'র মত।
টিকাঃ
১. আবু বকর ইসমা'ঈলী, ই'তিকাদু আইম্মাতিল হাদীস, ৪৯- ৫১; যাহাবী, আস-সিয়ার (১৬/২৯৫); তাযকিরাতুল হুফফায (৩/৯৪৯), আল-'উলু, পৃ. ১৬৭; যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪০০) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৭৪।