📄 আল-ইমাম আল-হাফিম আবূল কাসিম আত-ত্বাবারানী (৩৬০ হিজরী)
হাফিয আবুল কাসিম আত-তবরানী সুলাইমান ইবন আহমাদ ইবন আইউব স্বীয় গ্রন্থ আস- সুন্নাহ-তে বলেন:
باب ما جاء في استواء الله تعالى على عرشه، وأنه بائن من خلقه.
আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে উঠেছেন এবং তাঁর সৃষ্টি থেকে তিনি আলাদা সংক্রান্ত বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে- তার আলোচনা।
তারপর তিনি বর্ণনা করেন, আবু রাযীনের হাদীস- আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের রব কোথায় ছিলেন? এবং 'আবদুল্লাহ ইবন খালীফার বরাতে 'উমারের হাদীস- বকরী ও 'আরশ তাদের পিঠের উপরে হওয়া, আর আল্লাহ তার উপরে থাকা¹ ও অন্যান্য হাদীস।
টিকাঃ
১. আস-সুন্নাহ, হাদীস নং ২৪; যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪০৩-৪০৪) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
📄 আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন মুজাহিদ আত-ত্বায়ী আল-বসরী (৩৬০ এর পরে)
কালামপন্থী আলেমে দীন, ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর বিখ্যাত ছাত্র, উসূলবিদ, ইমাম আবু বকর আল-বাকেল্লানীর উস্তায, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইয়া'কূব ইবন মুজাহিদ আত-ত্বায়ী, যিনি আশ'আরী মতবাদের লোকদের নিকট ইবন মুজাহিদ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি আল্লাহ তা'আলার জন্য সর্বোচ্চ সত্তা সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন,
الإجماع التاسع من إجماعات أهل السنة وأنه تعالى فوق سماواته على عرشه دون أرضه، وقد دل على ذلك بقوله: أأمنتم من في السماء أن يخسف بكم الأرض وقال: إليه يصعد الكلم الطيب والعمل الصالح يرفعه وقال: الرحمن على العرش استوى وليس استواؤه على العرش استيلاء كما قال أهل القدر، لأنه عز وجل لم يزل مستوليا على كل شيء.
"আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের ইজমার অন্তর্ভুক্ত নবম ইজমা হচ্ছে, 'নিশ্চয় মহান আল্লাহ তাঁর সকল আসমানের উপরে 'আরশের উপরে রয়েছেন। তিনি যমীনে নন। এ বিষয়টি প্রমাণ করে আল্লাহর বাণী, “তোমরা কি আসমানের উপরে যিনি আছেন, তার ব্যাপারে নিঃশঙ্ক হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদের নিয়ে যমীন ধ্বসিয়ে দিবেন না?”। অনুরূপ অপর বাণী, "তাঁর দিকেই উত্থিত হয় বাণীসমূহ, আর সৎ আমল তিনি তা উঠিয়ে নেন"। অপর বাণীতে আল্লাহ বলেন, "রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন", আর তাঁর 'আরশের উপর উঠার বিষয়টি 'ইস্তীলা' বা অধিকার করা বা মালিক হওয়া নয়, যেমনটি কাদরিয়া (মু'তাযিলা) সম্প্রদায় বলে থাকে। কারণ মহান আল্লাহ সর্বদা সবকিছুর ওপর কর্তৃত্বশীল"।¹
এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এ সময় পর্যন্ত আশ'আরী মতবাদের ইমামগণ আল্লাহ তা'আলাকে সত্তাগত সর্বোচ্চ সত্তা সাব্যস্ত করতেন, তেমনিভাবে তারা তখনও আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর উঠাকে অস্বীকার করেননি। বরং পরবর্তী আশায়েরাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ 'ইস্তেওয়া' কে ইস্তাওলা বা অধিকার করা নামক তা'ওয়ীল বা অপব্যাখ্যা করাকে তারা অস্বীকার করতেন। তখনও তারা জানতেন যে, এভাবে 'ইস্তাওয়া' এর অর্থ 'ইস্তাওলা' বা 'অধিকার করা' এ অপব্যাখ্যা মু'তাযিলারা করে থাকে, আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ইবন মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ ঠিকই এভাবে অপব্যাখ্যা করে তারা যা সাব্যস্ত করতে চাচ্ছে তার খারাপ দিকটি তুলে ধরেছেন, সেটা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তো সর্বদাই সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ববান তাহলে আবার আরশের উপরে উঠাকে 'কর্তৃত্ব করা' দ্বারা তা'ওয়ীল করা কোনোভাবেই শুদ্ধ হতে পারে না।
টিকাঃ
১. রিসালাতুন ইলা আহলিস সাগার ২৩২-২৩৪; তিনি ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর এ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।
📄 হাফিয আবূশ শাইখ আসবাহানী, (৩৬৯ হিজরী)
হাফিয আবু নু'আইমের উস্তাদ হাফিয আবু মুহাম্মাদ ইবন হাইয়ান আবুশ শাইখ স্বীয় গ্রন্থ আল-'আযামাহ-তে বলেন-
ذكر عرش الرب تبارك وتعالى وكرسيه وعظم خلقهما، وعلو الرب فوق عرشه
রব তাবারাকা ওয়া তা'আলার 'আরশ, তাঁর কুরসী, উভয় মাখলুকের বড়ত্ব এবং রব তাঁর 'আরশের উপরে থাকা-সংক্রান্ত আলোচনা।
তারপর তিনি এ সংক্রান্ত কিছু হাদীস দলীল হিসেবে উপস্থাপন করেন।¹ সেসব হাদীস আগে উল্লেখ করা হয়েছে।²
টিকাঃ
১. আল-'আযামাহ: ৫৪৩-৬৬৬।
২. যাহাবী, আল-আরশ, (২/৪০২-৪০৩) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ।
📄 ইমাম আবূ মানসুর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল আযহার আল-আযহারী (৩৭০ হিজরী)
ইমাম আবু মানসূর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল আযহার আল-আযহারী আল-হারাওয়ী বলেন, إن الله تعالى على العرش، ويجوز أن يقال في المجاز: هو في السماء لقوله تعالى: ﴿أَمِنْتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ ﴾
"আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, ভাষার ভিন্ন বাকরীতিতে বলা যায়, তিনি আসমানে, যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে, "যিনি আসমানের উপর আছেন তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদের নিয়ে যমীনকে ধ্বসিয়ে দিবেন না?”¹
টিকাঃ
১. আল-'উলু, পৃ. ২৩০।