📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ বকর আয-যিব‘ঈ (৩৪২ হিজরী)

📄 আবূ বকর আয-যিব‘ঈ (৩৪২ হিজরী)


ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন নাসর আবু বকর আদ্ব-দ্বিব'য়ী আল-বাগদাদী রাহimhullahu বলেন,
قَدْ تضع العرب في موضع عَلَى» قَالَ الله تَعَالَى: ﴿فَسِيحُوا فِي الأَرْضِ ) [التوبة: ٢]، وقال: ﴿وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ ﴾ [طه: ۷۱] ومعناهُ عَلَى الأرض وعلى النَّخلِ، فكذلك قوله: (مَنْ فِي السَّمَاءِ ﴾ [الملك: ١٦] أَي مَنْ عَلَى العرشِ، كَمَا صَحتِ الأخبارُ عَنْ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم».
"আরবরা 'ফী' শব্দটিকে 'আলা' এর স্থানে ব্যবহার করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "সুতরাং
তোমরা যমীনে বিচরণ কর” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ০২] আরও বলেন, “আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলিতে চড়াব” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৭১] তার (প্রথম আয়াতের) অর্থ হচ্ছে, যমীনের উপর, আর (দ্বিতীয় আয়াতের অর্থ হচ্ছে,) খেজুর গাছের উপরে। অনুরূপ আল্লাহর বাণী “যিনি আসমানে আছেন তার অর্থ হবে, যিনি ‘আরশের উপর আছেন, যেমনটি বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে। (৫৩৯)

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইবন শাবান আল-মালেকী (৩৫৫ হিজরী)

📄 ইবন শাবান আল-মালেকী (৩৫৫ হিজরী)


আল্লামা আবু ইসহাক্ক মুহাম্মাদ ইবনুল কাসেম ইবন শা'বান ইবন মুহাম্মাদ ইবন রবী'আহ আল-আম্মারী আল-মিসরী রাহimhullahu, যিনি মিসরে মালেকী মাযহাবের তৎকালীন শাইখ ছিলেন, তাঁর ব্যাপারে ইমাম যাহাবী বলেন, رأيت له تأليفا في تسمية الرواة عن مالك, أوله الحمد الله الحميد, ذي الرشد والتسديد, والحمد لله أحق ما بدي, وأولى من شكر, الواحد الصَّمَدِ, جَلَّ عَنِ المَثَلِ فلا شَبَهَ لَهُ ولا عَدْلَ , عَالٍ على عَرْشِهِ, فَهُوَ دَانٍ بِعِلْمِهِ, وذكر باقي الخطبة.
“আমি তাঁর রচিত একটি গ্রন্থ দেখেছি, যেখানে ইমাম মালিক এর হাদীসের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তার শুরুতে এসেছে, সকল হামদ আল্লাহর জন্যই যিনি হামীদ, সঠিক পথের দিশা দানকারী, সঠিক পথ প্রদর্শনকারী, আল্লাহর জন্যই সকল হামদ, আর তিনিই এমন যে তাকে দিয়ে শুরু করাই বেশি উপযোগী, তাঁর শুকরিয়া করাই সর্বোত্তম, তাঁর সাদৃশ্যপূর্ণ কিছু হওয়া থেকে তিনি কতই না মহান, তাঁর অনুরূপ কেউ নেই, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই, তিনি তাঁর ‘আরশের উপর উঠেছেন, তাঁর জ্ঞান দিয়ে সবার নিকটে তিনি রয়েছেন। তারপর তিনি বাকী খুতবা প্রদান করেন”। (৫৪০)

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ আহমাদ আল-আসসাল (৩৪১ হিজরী)

📄 আবূ আহমাদ আল-আসসাল (৩৪১ হিজরী)


কাযী আবু আহমাদ আল-'আসসাল, যিনি হাদীসের হাফিয, আসবাহান নগরীর অধিবাসী, তিনি গুণাবলি সংক্রান্ত স্বীয় গ্রন্থ আল-মারিফাহ-এ "রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন" -এ আয়াতের তাফসীরে ইমামদের মতামত বর্ণনা করেছেন। যেমন, রাবী'আহ, মালিক, দ্বাহহাক, আবু 'ঈসা ইয়াহইয়া ইবন রাফে', আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও কা'ব আল-আহবার। আরও উল্লেখ করেছেন, ইবন মাসউদের হাদীস-কুরসী ও পানির মধ্যে পাঁচশ' বছর। 'আরশ পানির উপর, আর আল্লাহ 'আরশের উপরে। তাঁর কাছে তোমাদের কোনো আমল গোপন নেই। (৫৪১)

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররী (৩৬০ হিজরী)

📄 আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররী (৩৬০ হিজরী)


ইমাম আবু বকর আল-আজুররী স্বীয় গ্রন্থ আশ-শারী'আহ-তে বলেন,
باب في التحذير من مذهب الحلولية الذي يذهب إليه أهل العلم، أن الله عز وجل على عرشه، فوق سمواته، وعلمه محيط بكل شيء، قد أحاط علمه بجميع ما خلق في السموات العلى، وبجميع ما في سبع أراضين، وما بينهما وما تحت الثرى، يعلم السر وأخفى ويعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور ... يسمع ويرى .. وهو على عرشه سبحانه العلي الأعلى، ترفع إليه أعمال العباد.
ফإن قال قائل: إيش يكون معنى قوله مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ﴾ الآية التي [احتجوا] بها؟. قيل له: علمه، والله عز وجل على عرشه، وعلمه محيط بهم، وبكل شيء من خلقه، كذا فسره أهل العلم، والآية يدل أولها وآخرها على أنه العلم.
فإن قال قائل : كيف؟ قيل: قال الله عز وجل: ﴿ أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ فابتدأ الله عز وجل الآية بالعلم وختمها بالعلم، فعلمه عز وجل محيط بجميع خلقه، وهو على عرشه، وهذا قول المسلمين.
"সর্বেশ্বরবাদ-অহংবাদ মতবাদের ব্যাপারে সতর্কীকরণ অধ্যায়।"
আলিমগণ এ দিকে গিয়েছেন যে, নিশ্চয় মহান আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে তাঁর আসমানসমূহের ঊর্ধ্বে, তাঁর ইলম সবকিছুকে বেষ্টনকারী। তাঁর ইলম বেষ্টন করেছে ঊর্ধ্ব আসমানসমূহে যা সৃষ্টি করেছেন সবকিছুকে এবং সাত যমীনে যা কিছু আছে সবকিছুকে। আর যা এ দুয়ের মাঝখানে আছে সে সকল কিছুকে, আর যা মাটির নিচে সেটাকে। তিনি গোপন জিনিস জানেন, আরও জানেন যা গোপনের চেয়েও গোপন, চোখসমূহ যা খেয়ানত করে এবং যা অন্তরে গোপন রাখা হয়। তিনি শুনেন ও দেখেন অথচ তিনি তাঁর সর্বোচ্চ মহা 'আরশের উপর। তাঁর কাছে বান্দাদের আমল উঠানো হয়।...
যদি কেউ বলে, “তিন ব্যক্তির এমন কোনো পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন" আয়াতের অর্থ কী? যে আয়াতের মাধ্যমে তারা দলীল পেশ করে।
তাকে বলতে হবে, এর অর্থ হলো তাঁর জ্ঞান, আর মহান আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে। তাঁর ইলম তাদের বেষ্টন করে আছে। আলিমগণ এমনটি ব্যাখ্যা করেছেন। আয়াতের প্রথম ও শেষ অংশ প্রমাণ করে যে, এর অর্থ ইলম।
তারপর যদি কেউ বলে সেটা কেমন?
উত্তরে বলা হবে, মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ্ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি থাকেন না এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি হোক তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন তারা যেখানেই থাকুক না কেন। তারপর তারা যা করে, তিনি তাদেরকে কিয়ামতের দিন তা জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] এখানে আল্লাহ তা'আলা আয়াতটি শুরু করেছেন ইলম বা 'জানা' দিয়ে, শেষ করেছেন ইলম বা 'জানা' দিয়ে। সুতরাং তাঁর ইলম তাঁর সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছে, কিন্তু তিনি তাঁর 'আরশের উপরে। এটাই মুসলিমদের কথা ।
আরও বলেন, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন ইবন মাখলাদ, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন হাম্বল, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন সুরাইজ ইবন নু'মান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন নাফে', তিনি বলেন, মালিক বলেছেন, আল্লাহ আসমানের উপরে, তাঁর ইলম সর্বত্র, তাঁর ইলম থেকে কোনো স্থান খালি নেই।
তারপর তিনি তার নিজস্ব সনদে আল্লাহর ঊর্ধ্বে থাকা সংক্রান্ত কিছু হাদীস উল্লেখ করেন। তন্মধ্যে ইবন 'আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহুমা থেকে সে হাদীসটি উল্লেখ করেন, যাতে এসেছে,
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اسْتَوَى عَلَى عَرْشِهِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ شَيْئًا فَكَانَ أَوَّلَ مَا خَلَقَ الْقَلَمُ فَأَمَرَهُ أَنْ يَكْتُبَ مَا هُوَ كَائِنُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَإِنَّمَا يَجْرِي النَّاسُ فِي أَمْرٍ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ»
"নিশ্চয় মহান আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টির পূর্বে তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, তারপর প্রথম যা সৃষ্টি করলেন তা হচ্ছে, কলম। অতঃপর তাকে নির্দেশ দিলেন কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে তা লিখতে। মানুষ তো এখন সেসব অনুসারেই চলে যে ব্যাপারটি পূর্বেই সমাধা হয়ে গেছে।”¹
টিকাঃ
১. আশ-শরী'আহ, হাদীস নং ৬৬৬; হাসান সনদে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00