📄 আবূ জাফর আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইসমা‘ঈল আন-নাহহাস (৩৩৮ হিজরী)
আল্লাহর 'আরশের উপর উঠা বা ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ সম্পর্কে আবু জা'ফর আন-নাহহাসের আকীদাহ বর্ণনায় ইমাম আবুল মুযাফফার আস-সাম'আনী বলেন, যাজ্জাজ, নাহহাস ও একদল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের ইমাম বলেন,
أنه لا يُسمى الاستواء استيلاء في اللغة إلا إذا غلب غَيْرَهُ عَلَيْهِ، وَهَذَا لَا يجوز على الله تَعَالَى.
"আরবী ভাষার নিয়ম অনুযায়ী 'ইস্তেওয়া'কে 'ইস্তাওলা' বলা যাবে না। (উপরে উঠাকে অধিকার করা বলা যাবে না) কারণ, 'ইস্তাওলা তখনই বলা হবে যখন অন্য কারও উপরে বিজয়ী হয়। আর এটা আল্লাহর জন্য কখনও ব্যবহার করা জায়েয নয়।” (৫৩৫)
📄 আল-ইমাম আল-হাসান ইবন আলী আল-বারবাহারী (৩২৯ হিজরী)
আল-ইমাম হাসান ইবন আলী আল-বারবাহারী রাহিমাহুল্লাহ তার শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ বর্ণনায় বলেন,
واعلم - رحمك الله - أن الكلام في الرب محدث، وهو بدعة وضلالة، ولا يتكلم في الرب إلا بما وصف به نفسه في القرآن، وما بين رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه، وهو - جل ثناؤه - واحد ليس كمثله شيء وهو السميع البصير ربنا أول بلا متى، وآخر بلا منتهى، يعلم السر وأخفى، وهو على عرشه استوى، وعلمه بكل مكان، ولا يخلو من علمه مكان.
“জেনে রাখ, আল্লাহ তোমাকে রহম করুন, রব এর ব্যাপারে (অর্থাৎ সিফাত সাব্যস্ত না করার) কথা বলা নতুন জিনিস, এটি বিদ'আত ও পথভ্রষ্টতা, রবের ব্যাপারে শুধু সেটাই বলা যাবে যা দিয়ে তিনি নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন কুরআনে, অনুরূপ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রশংসিত সত্তা, এক "তার মতো কোনো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা” আমাদের রব প্রথম, কোনো প্রকার কখন থেকে প্রশ্ন করা ব্যতীত, তিনি সর্বশেষ কোনো প্রকার শেষ নির্ধারণ ব্যতীতই, তিনি জানেন যাবতীয় গোপন জিনিস এবং গোপনের চেয়েও গোপন আর তিনি তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, তাঁর জ্ঞান সব জায়গায়, তাঁর জ্ঞান থেকে কোনো স্থান বাদ নেই।"(৫৩৬) তিনি আরও বলেন,
واعلم أنه إنما جاء هلاك الجهمية أنهم [ فكروا ] في الرب، فأدخلوا لم وكيف، وتركوا الأثر، ووضعوا القياس، وقاسوا الدين على رأيهم فجاءوا بالكفر عيانا لا يخفي أنه كفر، وأكفروا الخلق واضطرهم الأمر حتى قالوا بالتعطيل.
“আর জেনে রাখ, জাহমিয়্যাদের ধ্বংস তো তখনই হলো, যখন তারা রবের ব্যাপারে চিন্তা করতে আরম্ভ করলো, তারা সেখানে কেন ও কীভাবে? প্রবেশ করাল, তারা ‘আছার’ (কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবীগণের মত) গ্রহণ করা ছেড়ে দিল, কিয়াস আরম্ভ করলো, দীনকে তাদের মতের ওপর কিয়াস করলো, এভাবে তারা প্রকাশ্য কুফুরীতে লিপ্ত হলো, যা কুফুরী হওয়ার ব্যাপারে কোনো কিছুই গোপন থাকেনি। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর সৃষ্টি (যারা সিফাত সাব্যস্ত করে তাদেরকে) কাফির বানালো, তাদের এসব কর্মকাণ্ড তাদেরকে এমন বাধ্য করলো যে, অবশেষে আল্লাহর সকল সিফাতকে অস্বীকার করলো, তা'ত্নীল নীতি প্রচার-প্রসার করলো।” (৫৩৭)
📄 ইমাম, মুহাদ্দিস, ওযীর আলী ইবন ‘ঈসা (৩৩৪ হিজরী)
আল-ওযীর আলী ইবন 'ঈসা রাহimhullahu, যিনি একজন ইমাম, মুহাদ্দিস, সত্যবাদী মন্ত্রী, ইনসাফকারী প্রশাসক ছিলেন। আবুল হাসান হাসান আলী ইবন 'ঈসা ইবন দাউদ ইবনুল জাররাহ আল-বাগদাদী আল-কাতিব। তিনি খলীফা মুক্তাদির ও কাহের উভয়ের মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর আকীদাহ'র এসেছে,
قال محمد بن علي بن حبيش : دخل أبو بكر الشبلي رحمه الله دار المرضى ليعالج، فدخل عليه الوزير علي بن عيسى عائدا، فقال الشبلي : ما فعلَ رَبُّكَ ؟ قَالَ: «الربُّ عزَّ وجلَّ فِي السَّمَاءِ يَقْضِي وَيُمْضِي».
“মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন হুবাইশ বলেন, আবু বকর আশ-শিবলীকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ঢুকানো হলো, তখন তাকে দেখার জন্য ওযীর আলী ইবন 'ঈসা প্রবেশ করলো, তখন শিবলী বললো, আপনার রব কী করছেন? তখন ওযীর আলী ইবন 'ঈসা বললেন, আমার মহান রব তো আসমানের উপরে, তিনি ফয়সালা করেন ও বাস্তবায়িত করেন". (৫৩৮)
📄 আবূ বকর আয-যিব‘ঈ (৩৪২ হিজরী)
ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন নাসর আবু বকর আদ্ব-দ্বিব'য়ী আল-বাগদাদী রাহimhullahu বলেন,
قَدْ تضع العرب في موضع عَلَى» قَالَ الله تَعَالَى: ﴿فَسِيحُوا فِي الأَرْضِ ) [التوبة: ٢]، وقال: ﴿وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ ﴾ [طه: ۷۱] ومعناهُ عَلَى الأرض وعلى النَّخلِ، فكذلك قوله: (مَنْ فِي السَّمَاءِ ﴾ [الملك: ١٦] أَي مَنْ عَلَى العرشِ، كَمَا صَحتِ الأخبارُ عَنْ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم».
"আরবরা 'ফী' শব্দটিকে 'আলা' এর স্থানে ব্যবহার করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, "সুতরাং
তোমরা যমীনে বিচরণ কর” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ০২] আরও বলেন, “আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলিতে চড়াব” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৭১] তার (প্রথম আয়াতের) অর্থ হচ্ছে, যমীনের উপর, আর (দ্বিতীয় আয়াতের অর্থ হচ্ছে,) খেজুর গাছের উপরে। অনুরূপ আল্লাহর বাণী “যিনি আসমানে আছেন তার অর্থ হবে, যিনি ‘আরশের উপর আছেন, যেমনটি বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে। (৫৩৯)