📄 ইমাম আবূ ‘আওয়ানা ইয়াকুব ইবন ইসহাক আল আসফারায়িনী (৩১৬ হিজরী)
তিনি তাঁর মুস্তাখরাজ 'আলা সহীহ মুসলিম গ্রন্থের কিতাবুল ঈমানে যেসব অধ্যায় বিন্যাস করেছেন সেখানে তিনি তাঁর আকীদাহ-বিশ্বাস তুলে ধরেছেন, সেখানে তিনি আল্লাহ তা'আলাকে সাত আসমানের উপর সিদরাতুল মুনতাহার উপরে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন,
مُبْتَدَأُ أَبْوَابٍ فِي الرَّدْ عَلَى الْجُهْمِيَّةِ وَبَيَانِ أَنَّ الْجَنَّةَ مَخْلُوقَةٌ، وَأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَهَا، وَأَنَّهَا فَوْقَ السَّمَوَاتِ، وَأَنَّ السِّدْرَةَ الْمُنْتَهَى فَوْقَهَا، وَأَنَّ اللَّهَ فَوْقَهَا ... بَيَانُ ضَحِكِ الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى مِنْ عَبْدِهِ وَإِلَى عَبِيدِهِ ... بَيَانُ نُزُولِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَنَامُ، وَأَنَّهُ يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهُ، وَأَنَّ أَعْمَالَ النَّهَارِ تُرْفَعُ إِلَيْهِ كُلَّ يَوْمٍ وَأَعْمَالَ اللَّيْلِ تُرْفَعُ إِلَيْهِ كُلَّ لَيْلَةٍ.
"জাহমিয়্যাদের মতামত খণ্ডনের অধ্যায়সমূহের শুরু, আর এটা বর্ণনা করা যে, জান্নাত সৃষ্ট। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে প্রবেশ করেছেন। আর তা আসমানসমূহের উপরে, আর সীমার বরই গাছ বা সিদরাতুল মুন্তাহা আসমানসমূহের উপরে। আর আল্লাহ জান্নাতের উপরে,
আরও বর্ণনা করা যে, মহান আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা বান্দার কর্মকাণ্ডে হাসেন, তাদের প্রতি হাসেন... আর এটা বর্ণনা করা যে, আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন, আর আল্লাহ তা'আলা ঘুমান না, আর তিনি মীযানের পাল্লা নিচু করেন ও উপরে উঠান, আর তাঁর কাছে প্রতিদিনের আমল উঠানো হয় অনুরূপ তাঁর কাছে রাতের আমলও উত্থিত হয়।”(৫২৩)
📄 আবূ বকর ইবন আবী দাউদ আস-সিজিস্তানী (৩১৬ হিজরী)
ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানীর সুযোগ্য সন্তান। আকীদাহ'র উপর তার একটি পূর্ণাঙ্গ কবিতা রয়েছে, যেখানে তিনি আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক প্রতি রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসার বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যা দ্বারা তিনি তাঁর 'আরশের উপরে থাকাকেও সাব্যস্ত করলেন। তিনি বলেন,
تَمَسَّكْ بِحَبْلِ الله وَاتَّبِعِ الهُدَى ... وَلَا تَكُ بِدْعِيًّا لَعَلَّكَ تُفْلِحُ ... - ١
وَدِنْ بِكِتَابِ الله وَالسُّنَنِ الَّتِي .... أَتَتْ عَنْ رَسُولِ الله تَنْجُو وَتَرْبَحُ ... - ٢
وَقُلْ يَنْزِلُ الْجَبَّارُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ ... بِلَا كَيْفَ جَلَّ الْوَاحِدُ الْمُتَمَدَّحُ ... - ٣
إِلَى طَبَقِ الدُّنْيَا يَمُنُّ بِفَضْلِهِ ... فَتُفْرَجُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُفْتَحُ ... - ٤
يَقُولُ أَلَا مُسْتَغْفِرُ يَلْقَ غَافِرًا ... وَمُسْتَمْنِحٌ خَيْرًا وَرِزْقًا فَيُمْنَحُ ... - ٥
رَوَى ذَاكَ قَوْمٌ لا يُرَدُّ حَدِيثُهُمْ .... أَلَا خَابَ قَوْمٌ كَذَّبُوهُمْ وَقُبِّحُوا ... - ٦
"আল্লাহর রজ্জুকে ধরে রাখ, হিদায়াতের অনুসরণ কর.... বিদ'আতী হয়ো না, তাহলেই তুমি সফলকাম হতে পারবে।
আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাতের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ কর, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে এসেছে, এতে তুমি নাজাত পাবে ও লাভবান হবে....
আর বলো, মহা দাপুটে আল্লাহ প্রতি রাতে নেমে আসেন, কোনো ধরন নির্ধারণ ছাড়াই তা সাব্যস্ত কর, সে একক প্রশংসিত সত্তা কতই না প্রভাবশালী।
প্রতি রাতে তিনি নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, তাঁর দয়ার প্রদর্শনী করেন, তখন আসমানের দরজাসমূহ ফাঁকা হয় এবং খোলা হয়।
তিনি বলতে থাকেন, আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী, ক্ষমা পাবে বা ক্ষমাশীলের সাথে কথা বলবে, আর কেউ কি কল্যাণ চাইবে তাহলে তাকে তা প্রদান করা হবে?
এ হাদীসগুলো এমন লোকেরা বর্ণনা করেছেন, যাদের বর্ণিত হাদীস কখনও অস্বীকার করা
যায় না, সাবধান সেসব লোক ক্ষতিগ্রস্ত ও নিন্দিত হবে যারা এদের ওপর মিথ্যারোপ করবে।” (৫২৪) এখানে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর থাকা সাব্যস্ত হচ্ছে; কারণ তিনি 'আরশের উপর থেকেই নিকটতম আসমানে নেমে আসেন। কীভাবে নেমে আসেন সেটার ধরন আমাদের জানা নেই, আর সেটার ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাও বিদ'আত।
📄 আবূ আবদুল্লাহ আয-যুবাইর ইবন আহমাদ আয-যুবাইরী আশ-শায়েয়ী (৩১৮ হিজরী)
ইমাম আবু আবদুল্লাহ আয-যুবাইর ইবন আহমাদ ইবন সুলাইমান আয-যুবাইরী আশ-শাফে'য়ী রাহিমাহুমুল্লাহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন,
الرد على من أنكر العرش والكرسي وأن الله عز وجل وعلى العرش، وذكر القدم. قال الله تبارك وتعالى في العرش والكرسي الرحمن على العرش استوى وقال: ﴿وسع كرسيه السموات والأرض قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله يضع قدمه في جهنم فينزوي بعضها إلى بعض، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «الكرسي عند العرش كحلقة في أرض فلاة.
"যারা 'আরশ, কুরসী এবং আল্লাহ তা'আলা যে তাঁর 'আরশের উপর রয়েছেন আর তাঁর পা' কে যারা অস্বীকার করে তাদের মত খণ্ডন। আল্লাহ তা'আলা 'আরশ ও কুরসী সম্পর্কে বলেন, "রহমান 'আরশের উপর উঠেছেন”, আরও বলেন, "তাঁর কুরসী আসমান ও যমীন সবকিছুর জন্য প্রশস্ত”। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর পা রাখবেন জাহান্নামের উপর, তখন সেটার একাংশ আরেক অংশের সাথে মিশে যাবে।” নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, "কুরসী 'আরশের নিকট বিস্তীর্ণ ভূমিতে একটি রিং এর মতো”। (৫২৫)
📄 আবূ জাফর আহমাদ ইবন সালামাহ আত-তাহাবী (৩২১ হিজরী)
আবু জা'ফর আহমাদ ইবন সালামাহ আত-তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ তার 'আল-আকীদাহ' গ্রন্থে বলেন,
ذكر بيان السنة والجماعة على مذهب فقهاء الملة أبي حنيفة، وأبي يوسف، ومحمد بن الحسن، رضي الله عنهم نقول في توحيد الله معتقدين، أن الله واحد لا شريك له، ولا شيء مثله، مازال بصفاته قديماً قبل خلقه ، ... والرؤية حق لأهل الجنة بغير إحاطة ولا كيفية، وكل ما في ذلك من الصحيح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو كما قال، ومعناه على ما أراد، لا ندخل في ذلك متأولين بآرائنا، ولا يثبت قدم الإسلام إلا على ظهر التسليم
والاستسلام.... والعرش والكرسي حق كما بين في كتابه، وهو مستغن عن العرش وما دونه، محيط بكل شيء وفوقه.
"ফুকাহায়ে মিল্লাত আবু হানীফাহ, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ ইবন হাসান রাহিমাহুমুল্লাহর অনুসৃত নীতি অনুসারে এটা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ'র বর্ণনা। আমরা আল্লাহর তাওহীদে আকীদাহ রেখে বলি, নিশ্চয় আল্লাহ এক, যার কোনো শরীক নেই। তার মতো কিছুই নেই। সৃষ্টির বহু পূর্বে থেকেই তিনি তাঁর অনাদি গুণাবলিসহ বিদ্যমান ছিলেন....
জান্নাতীদের জন্য আল্লাহকে দেখার বিষয়টি সত্য। তবে সে দেখা সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত্ব করে নয়, আর তার পদ্ধতিও অজানা। আর এ ব্যাপারে যা কিছু সহীহ হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে তা যেমনটি তিনি বলেছেন সেভাবে অবিকৃত অবস্থায় গৃহীত হবে। আর সেগুলোর যে অর্থ তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন সেটাই ধর্তব্য হবে। এতে আমরা আমাদের মতের ওপর নির্ভর করে কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা করব না।
বশ্যতা স্বীকার, আত্মসমর্পণ ছাড়া কারও পা ইসলামের ওপর দৃঢ় থাকতে পারে না।... 'আরশ এবং কুরসী সত্য। যেমন তিনি তার কিতাবে বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহ 'আরশ ও অন্যান্য বস্তু থেকে অমুখাপেক্ষী। তিনি সমস্ত বস্তুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তিনি সবকিছুরই ঊর্ধ্বে। (৫২৬)