📄 হাফেয ইবন আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবন ইবনুল আখরাম (৩১১ হিজরী)
হাফেয ইমাম আবু জা'ফর মুহাম্মাদ ইবনুল 'আব্বাস ইবন আইয়্যুব আল-আসবাহানী, যিনি ইমাম ইবনুল আখরাম নামে প্রসিদ্ধ তিনি বলেন,
والله تعالى على العَرْشِ وَعِلْمُهُ يُحِيطُ بالدُّنيا والآخرة».
"আর আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, তাঁর ইলম দুনিয়া ও আখেরাত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।” (৫১৮)
📄 ইসমুল আশিরিয়া মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন খুযাইমাহ (৩১১ হিজরী)
ইবন খুযাইমাহ তাঁর কিতাবুত তাওহীদের শুরুতে বলেন,
الحمد الله العلي العظيم، الحليم الكريم، السميع البصير، اللطيف الخبير ... تعالى ربنا عن صفات المحدودين تقدس عن شبه المخلوقين، وتنزه عن مقالة المعطلين، علا ربنا فكان فوق سبع سمواته عاليا، ثم على عرشه استوى يعلم السر وأخفى، ويسمع الكلام والنجوى، لا يخفى عليه خافية في الأرض ولا في السماء ....
"হামদ জাতীয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বোচ্চ ও মহান, সহিষ্ণু, মহা দাতা, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সূক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে খবরদার,... আমাদের রব সীমাবদ্ধ সৃষ্টিসমূহের সব রকমের গুণ থেকে মুক্ত, সৃষ্টিকুলের সাথে সদৃশ হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র, যারা আল্লাহর গুণসমূহকে অর্থশূন্য করে তাদের থেকে তিনি পবিত্র, আমাদের রব উপরে উঠেছেন, তাই তিনি হয়েছেন সাত আসমানের উপরে সর্বোচ্চে, তারপর তিনি তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, তিনি গোপন ও গোপনের চেয়ে গোপন জিনিসও জানেন, তিনি শোনেন যাবতীয় কথা ও গোপন শলা পরামর্শ, কোনো গোপন তাঁর কাছে গোপন থাকে না, যমীনেও নয়, আসমানেও নয়।”(৫১৯) তারপর তিনি বলেন,
بَابُ ذِكْرِ اسْتِوَاءِ خَالِقْنَا الْعَلِيِّ الْأَعْلَى الْفَعَالِ لِمَا يَشَاءُ، عَلَى عَرْشِهِ فَكَانَ فَوْقَهُ، وَفَوْقَ كُلِّ شَيْءٍ عَالِيًا كَمَا أَخْبَرَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا فِي قَوْلِهِ : (الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] ، وَقَالَ رَبُّنَا عَزَّ وَجَلَّ: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ﴾ [الأعراف: ٥٤] وَقَالَ فِي تَنْزِيلِ السَّجْدَةِ: ﴿ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ [السجدة: ٤] وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: ﴿وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ ﴾ [هود: ٧] فَنَحْنُ نُؤْمِنُ بِخَبَرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا أَنَّ خَالِقَنَا مُسْتَوِ عَلَى عَرْشِهِ، لَا نُبَدِّلُ كَلَامَ اللهُ ، وَلَا نَقُولُ قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَنَا، كَمَا قَالَتِ الْمُعَطَّلَةُ الْجَهْمِيَّةُ : إِنَّهُ اسْتَوْلَى عَلَى عَرْشِهِ، لَا اسْتَوَى، فَبَدَّلُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ، كَفِعْلِ الْيَهُودِ كَمَا أُمِرُوا أَنْ يَقُولُوا : حِطَّةٌ، فَقَالُوا: حِنْطَةٌ، مُخَالِفِينَ لِأَمْرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا كَذَلِكَ الْجُهْمِيَّةُ
“অধ্যায়: আমাদের সর্বোচ্চ স্রষ্টা, যা ইচ্ছা তা সম্পাদনকারী, তিনি তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, তারপর তিনি তার উপর রয়েছেন সবকিছুর উপর সর্বোচ্চ হয়ে, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে বলেছেন, "দয়াময় (আল্লাহ্) 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] আরও বলেন, "নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৫৪] আর তিনি তানযীল আস-সাজদাহ সূরাতে বলেন, "আল্লাহ তো তিনিই, যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদুভয়ের মাঝে যা আছে তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৪] আরও বলেন, "আর তিনিই আসমানসমূহ ও যমীনকে ছয়দিনে সৃষ্টি করেন, আর তাঁর 'আরশ ছিল পানির উপর।” [সূরা হূদ, আয়াত: ০৭] সুতরাং আমরা
আল্লাহ প্রদত্ত এসব সংবাদের ওপর ঈমান আনি যে, আমাদের স্রষ্টা তাঁর 'আরশের উপর সমুন্নত আছেন, আমরা আল্লাহর বাণীকে পরিবর্তন করবো না, আমাদেরকে যা বলা হয়েছে তা ভিন্ন অন্য কিছু বলবো না। যেমনটি বলে থাকে মু'আত্তিলা জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়, তারা বলে, আল্লাহ 'আরশ অধিকার করেছেন, উপরে উঠেননি। এভাবে তারা সে কথাকে পরিবর্তন করেছে যে কথা তাদেরকে বলা হয়েছে। যেমন ইয়াহূদীরা করেছে, তাদেরকে 'হিত্তাতুন' (ক্ষমা) বলতে বলা হয়েছে, তারা বলেছিল 'হিনত্বাতুন', মহানুভব ও সর্বোচ্চ রবের নির্দেশের বিরোধিতা করে। ঠিক অনুরূপ কাজই করেছে জাহমিয়্যারা।”(৫২০) তারপর ইমাম ইবন খুযাইমাহ আল্লাহর 'আরশ, 'আরশে উঠা ও 'আরশে থাকা নিয়ে অনেক হাদীস ও আছার বর্ণনা করেছেন।(৫২১)
অন্যত্র তিনি বলেন,
من لم يقر أن الله على عرشه استوی فوق سبع سمواته، بائن من خلقه، فهو كافر يستتاب فإن تاب وإلا ضربت عنقه وألقي على مزبلة لئلا يتأذى برائحته أهل القبلة وأهل الذمة
"যে স্বীকার করে না, 'আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সাত আসমানের উপরে উঠেছেন, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা' সে কাফির। তাকে তাওবা করতে বলা হবে। তাওবা করলে (ভালো) অন্যথায় তার গর্দান উড়িয়ে দিয়ে নর্দমায় নিক্ষেপ করতে হবে; যেন তার গন্ধে মুসলিমরা ও যিম্মীরা কষ্ট না পায়। (৫২২)
📄 ইমাম আবূ ‘আওয়ানা ইয়াকুব ইবন ইসহাক আল আসফারায়িনী (৩১৬ হিজরী)
তিনি তাঁর মুস্তাখরাজ 'আলা সহীহ মুসলিম গ্রন্থের কিতাবুল ঈমানে যেসব অধ্যায় বিন্যাস করেছেন সেখানে তিনি তাঁর আকীদাহ-বিশ্বাস তুলে ধরেছেন, সেখানে তিনি আল্লাহ তা'আলাকে সাত আসমানের উপর সিদরাতুল মুনতাহার উপরে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন,
مُبْتَدَأُ أَبْوَابٍ فِي الرَّدْ عَلَى الْجُهْمِيَّةِ وَبَيَانِ أَنَّ الْجَنَّةَ مَخْلُوقَةٌ، وَأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَهَا، وَأَنَّهَا فَوْقَ السَّمَوَاتِ، وَأَنَّ السِّدْرَةَ الْمُنْتَهَى فَوْقَهَا، وَأَنَّ اللَّهَ فَوْقَهَا ... بَيَانُ ضَحِكِ الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى مِنْ عَبْدِهِ وَإِلَى عَبِيدِهِ ... بَيَانُ نُزُولِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَنَامُ، وَأَنَّهُ يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهُ، وَأَنَّ أَعْمَالَ النَّهَارِ تُرْفَعُ إِلَيْهِ كُلَّ يَوْمٍ وَأَعْمَالَ اللَّيْلِ تُرْفَعُ إِلَيْهِ كُلَّ لَيْلَةٍ.
"জাহমিয়্যাদের মতামত খণ্ডনের অধ্যায়সমূহের শুরু, আর এটা বর্ণনা করা যে, জান্নাত সৃষ্ট। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে প্রবেশ করেছেন। আর তা আসমানসমূহের উপরে, আর সীমার বরই গাছ বা সিদরাতুল মুন্তাহা আসমানসমূহের উপরে। আর আল্লাহ জান্নাতের উপরে,
আরও বর্ণনা করা যে, মহান আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা বান্দার কর্মকাণ্ডে হাসেন, তাদের প্রতি হাসেন... আর এটা বর্ণনা করা যে, আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা'আলা নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন, আর আল্লাহ তা'আলা ঘুমান না, আর তিনি মীযানের পাল্লা নিচু করেন ও উপরে উঠান, আর তাঁর কাছে প্রতিদিনের আমল উঠানো হয় অনুরূপ তাঁর কাছে রাতের আমলও উত্থিত হয়।”(৫২৩)
📄 আবূ বকর ইবন আবী দাউদ আস-সিজিস্তানী (৩১৬ হিজরী)
ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানীর সুযোগ্য সন্তান। আকীদাহ'র উপর তার একটি পূর্ণাঙ্গ কবিতা রয়েছে, যেখানে তিনি আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আকীদাহ তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক প্রতি রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসার বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যা দ্বারা তিনি তাঁর 'আরশের উপরে থাকাকেও সাব্যস্ত করলেন। তিনি বলেন,
تَمَسَّكْ بِحَبْلِ الله وَاتَّبِعِ الهُدَى ... وَلَا تَكُ بِدْعِيًّا لَعَلَّكَ تُفْلِحُ ... - ١
وَدِنْ بِكِتَابِ الله وَالسُّنَنِ الَّتِي .... أَتَتْ عَنْ رَسُولِ الله تَنْجُو وَتَرْبَحُ ... - ٢
وَقُلْ يَنْزِلُ الْجَبَّارُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ ... بِلَا كَيْفَ جَلَّ الْوَاحِدُ الْمُتَمَدَّحُ ... - ٣
إِلَى طَبَقِ الدُّنْيَا يَمُنُّ بِفَضْلِهِ ... فَتُفْرَجُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُفْتَحُ ... - ٤
يَقُولُ أَلَا مُسْتَغْفِرُ يَلْقَ غَافِرًا ... وَمُسْتَمْنِحٌ خَيْرًا وَرِزْقًا فَيُمْنَحُ ... - ٥
رَوَى ذَاكَ قَوْمٌ لا يُرَدُّ حَدِيثُهُمْ .... أَلَا خَابَ قَوْمٌ كَذَّبُوهُمْ وَقُبِّحُوا ... - ٦
"আল্লাহর রজ্জুকে ধরে রাখ, হিদায়াতের অনুসরণ কর.... বিদ'আতী হয়ো না, তাহলেই তুমি সফলকাম হতে পারবে।
আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাতের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ কর, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে এসেছে, এতে তুমি নাজাত পাবে ও লাভবান হবে....
আর বলো, মহা দাপুটে আল্লাহ প্রতি রাতে নেমে আসেন, কোনো ধরন নির্ধারণ ছাড়াই তা সাব্যস্ত কর, সে একক প্রশংসিত সত্তা কতই না প্রভাবশালী।
প্রতি রাতে তিনি নিকটতম আসমানে নেমে আসেন, তাঁর দয়ার প্রদর্শনী করেন, তখন আসমানের দরজাসমূহ ফাঁকা হয় এবং খোলা হয়।
তিনি বলতে থাকেন, আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী, ক্ষমা পাবে বা ক্ষমাশীলের সাথে কথা বলবে, আর কেউ কি কল্যাণ চাইবে তাহলে তাকে তা প্রদান করা হবে?
এ হাদীসগুলো এমন লোকেরা বর্ণনা করেছেন, যাদের বর্ণিত হাদীস কখনও অস্বীকার করা
যায় না, সাবধান সেসব লোক ক্ষতিগ্রস্ত ও নিন্দিত হবে যারা এদের ওপর মিথ্যারোপ করবে।” (৫২৪) এখানে আল্লাহ তা'আলার 'আরশের উপর থাকা সাব্যস্ত হচ্ছে; কারণ তিনি 'আরশের উপর থেকেই নিকটতম আসমানে নেমে আসেন। কীভাবে নেমে আসেন সেটার ধরন আমাদের জানা নেই, আর সেটার ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাও বিদ'আত।