📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত-ত্বাবারী (৩১০ হিজরী)

📄 মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত-ত্বাবারী (৩১০ হিজরী)


মুহাম্মاد ইবন জারীরের লেখক সা'ঈদ আদ-দীনাওয়ারী বলেন, মুহাম্মاد ইবন জারীর তাবারীর কাছে পড়া হচ্ছিল আর আমি তার আকীদাহ শুনছিলাম। সে আকীদাহ'র মধ্যে এটাও ছিল, وَحَسْبُ امْرِئٍ مِنَ الْعِلْمِ ... أَنْ يَعْلَمَ أَنَّ رَبَّهُ هُوَ الَّذِي عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ... فَمَنْ تَجَاوَزَ ذَلِكَ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ কোনো লোকের জ্ঞানের জন্য এটা যথেষ্ট যে, সে জানবে তার রব তো তিনিই, যিনি 'আরশের উপর উঠেছেন। যে একে অতিক্রম করে অন্য কিছু বলবে সে ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে. (৫১৩)
ইমাম যাহাবী বলেন, কেউ যদি ইনসাফ চায় তবে সে যেন ইবন জারীর আত-ত্বাবারীর তাফসীরের আল্লাহর গুণাবলি ও আল্লাহর উপরে থাকা সংক্রান্ত আয়াত অধ্যয়ন করে। যেমন, আল্লাহর বাণী: অতঃপর তিনি আসমানের উপর উঠলেন। এ আয়াতের ব্যাপারে তিনি রবী' ইবন আনাস থেকে বর্ণনা করেন, اِسْتَوَى। ইস্তিওয়া মানে ঊর্ধ্বে উঠলেন. (৫১৪) আল্লাহর বাণী: ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ "অতঃপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন" সকল স্থানে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: উপরে হলেন, ঊর্ধ্বে উঠলেন. (৫১৫)
তাছাড়া তিনি বলেন, ثُمَّ وَصَفَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ قُرْبَهُ مِنْ عِبَادِهِ وَسَمَاعَهُ نَجْوَاهُمْ، وَمَا يَكْتُمُونَهُ النَّاسَ مِنْ أَحَادِيثِهِمْ، فَيَتَحَدَّثُونَهُ سِرًّا بَيْنَهُمْ، فَقَالَ: مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ مِنْ خَلْقِهِ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ يَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ، لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ أَسْرَارِهِمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ يَقُولُ : وَلَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ كَذَلِكَ ﴿وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ يَقُولُ : وَلَا أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةٍ ﴿وَلَا أَكْثَرَ مِنْ خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ إِذَا تَنَاجَوْا أَيْنَ مَا كَانُوا ﴾ [المجادلة: ٧] يَقُولُ: فِي أَي مَوْضِعِ وَمَكَانٍ كَانُوا وَعَنَى بِقَوْلِهِ : ﴿هُوَ رَابِعُهُمْ ﴾ [المجادلة: ٧] بِمَعْنَى أَنَّهُ مُشَاهِدُهُمْ بِعِلْمِهِ، وَهُوَ عَلَى عَرْشِهِ "তারপর মহান প্রশংসার অধিকারী সত্তা তাঁর নিজের গুণ বর্ণনা করলেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের নিকটে এবং তিনি তাদের গোপন শলা-পরামর্শ সবই শুনেন, আর তাদের সেসব কথাবার্তাও শুনেন যা তারা মানুষদের থেকে গোপন করে থাকে এবং নিজেদের মধ্যে গোপনে বলাবলি করে, তাই আল্লাহ বললেন, তাঁর সৃষ্টির "তিনজনের পরামর্শ হলেই তিনি সেখানে চতুর্থজন হন", তাদের গোপন রহস্য ও শলা-পরামর্শ শুনেন, তাদের গোপন কোনো কিছু তাঁর কাছে গোপন থাকে না, "অনুরূপ পাঁচজন হলেও তিনি তাদের ষষ্ঠজন হন”, বলেছেন, অনুরূপভাবে যখনই কোনো পাঁচজন গোপন শলা-পরামর্শ করে তখন তিনি তাদের ষষ্ঠজন হন। "এর চেয়ে কম হলে” অর্থাৎ তিনের কম হলেও "অনুরূপ বেশি হলেও” অর্থাৎ পাঁচজনের চেয়ে বেশি হলেও "তিনি তাদের সাথে আছেন" যখন তারা গোপন পরামর্শ করে, "যেখানেই তারা থাকুক না কেন” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] বলেন, যে জায়গায় বা যে স্থানে তারা থাকুক না কেন, আর তিনি 'তাদের চতুর্থজন' বলার অর্থ, তিনি তাদেরকে তার জ্ঞানের সাথে রাখছেন, অথচ তিনি তাঁর 'আরশের উপর." [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭](৫১৬)

টিকাঃ
৫১৩. ত্বাবারী, সরীহুس সুন্নাহ, ২৬; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাহ (১/১৮৬), নং ৩২৫; যাহাবী সিয়ার (১৪/২৮۰); আল-'উলু, পৃ. ১৫০; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'ארש, পৃ. ৭০।
৫১৪. তাফসীর তাবারী (১/১৯১); যাহাবী, আল-ארש, (২/৩৬১) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৫১৫. তাবারী (১/১৯২), (১৩/৯৪), (১৯/২৮)।
৫১৬. তাবারী (২২/৪৬৮)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবনুস সরী আয-যাজ্জাজ (৩১১ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবনুস সরী আয-যাজ্জাজ (৩১১ হিজরী)


ইমাম আবু ইসহাক্ব আয-যাজ্জাজ বলেন, ثم أخبر بعد ذلك فقال: على العرش استوى، وقالوا معنى (استوى) استولى - والله أعلم. والذي يدل عليه استوى في اللغة على ما فعله من معنى الاستواء. "তারপর আল্লাহ তা'আলা আমাদের জানালেন, তিনি বলেছেন, তিনি 'আরশের উপর উঠলেন”. আর তারা বলে, এখানে 'ইস্তাওয়া' অর্থ 'ইস্তাওলা' বা 'দখল করলেন', আল্লাহ ভালো জানেন। তবে যা ভাষার অভিধানিক অর্থে তাই প্রমাণিত হয় যা 'ইস্তেওয়া'র অর্থ তাই তিনি করেছেন.” (৫১৭) অর্থাৎ খারাপ আকীদাহ'র লোকদের কথা অস্বীকার করে তিনি সাব্যস্ত করলেন যে, আরবী ভাষাতে 'ইস্তাওয়া' বলে উঁচু হওয়া ও উপরে হওয়াকেই বুঝায়.

টিকাঃ
৫১৭. মা'আনিল কুরআন ওয়া ই'রাবুహు (৩/৩৫০)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 হাফেয ইবন আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবন ইবনুল আখরাম (৩১১ হিজরী)

📄 হাফেয ইবন আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবন ইবনুল আখরাম (৩১১ হিজরী)


হাফেয ইমাম আবু জা'ফর মুহাম্মাদ ইবনুল 'আব্বাস ইবন আইয়্যুব আল-আসবাহানী, যিনি ইমাম ইবনুল আখরাম নামে প্রসিদ্ধ তিনি বলেন,
والله تعالى على العَرْشِ وَعِلْمُهُ يُحِيطُ بالدُّنيا والآخرة».
"আর আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, তাঁর ইলম দুনিয়া ও আখেরাত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।” (৫১৮)

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইসমুল আশিরিয়া মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন খুযাইমাহ (৩১১ হিজরী)

📄 ইসমুল আশিরিয়া মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক ইবন খুযাইমাহ (৩১১ হিজরী)


ইবন খুযাইমাহ তাঁর কিতাবুত তাওহীদের শুরুতে বলেন,
الحمد الله العلي العظيم، الحليم الكريم، السميع البصير، اللطيف الخبير ... تعالى ربنا عن صفات المحدودين تقدس عن شبه المخلوقين، وتنزه عن مقالة المعطلين، علا ربنا فكان فوق سبع سمواته عاليا، ثم على عرشه استوى يعلم السر وأخفى، ويسمع الكلام والنجوى، لا يخفى عليه خافية في الأرض ولا في السماء ....
"হামদ জাতীয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সর্বোচ্চ ও মহান, সহিষ্ণু, মহা দাতা, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সূক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে খবরদার,... আমাদের রব সীমাবদ্ধ সৃষ্টিসমূহের সব রকমের গুণ থেকে মুক্ত, সৃষ্টিকুলের সাথে সদৃশ হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র, যারা আল্লাহর গুণসমূহকে অর্থশূন্য করে তাদের থেকে তিনি পবিত্র, আমাদের রব উপরে উঠেছেন, তাই তিনি হয়েছেন সাত আসমানের উপরে সর্বোচ্চে, তারপর তিনি তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, তিনি গোপন ও গোপনের চেয়ে গোপন জিনিসও জানেন, তিনি শোনেন যাবতীয় কথা ও গোপন শলা পরামর্শ, কোনো গোপন তাঁর কাছে গোপন থাকে না, যমীনেও নয়, আসমানেও নয়।”(৫১৯) তারপর তিনি বলেন,
بَابُ ذِكْرِ اسْتِوَاءِ خَالِقْنَا الْعَلِيِّ الْأَعْلَى الْفَعَالِ لِمَا يَشَاءُ، عَلَى عَرْشِهِ فَكَانَ فَوْقَهُ، وَفَوْقَ كُلِّ شَيْءٍ عَالِيًا كَمَا أَخْبَرَ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا فِي قَوْلِهِ : (الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى) [طه: ٥] ، وَقَالَ رَبُّنَا عَزَّ وَجَلَّ: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ﴾ [الأعراف: ٥٤] وَقَالَ فِي تَنْزِيلِ السَّجْدَةِ: ﴿ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ [السجدة: ٤] وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: ﴿وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ ﴾ [هود: ٧] فَنَحْنُ نُؤْمِنُ بِخَبَرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا أَنَّ خَالِقَنَا مُسْتَوِ عَلَى عَرْشِهِ، لَا نُبَدِّلُ كَلَامَ اللهُ ، وَلَا نَقُولُ قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَنَا، كَمَا قَالَتِ الْمُعَطَّلَةُ الْجَهْمِيَّةُ : إِنَّهُ اسْتَوْلَى عَلَى عَرْشِهِ، لَا اسْتَوَى، فَبَدَّلُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ، كَفِعْلِ الْيَهُودِ كَمَا أُمِرُوا أَنْ يَقُولُوا : حِطَّةٌ، فَقَالُوا: حِنْطَةٌ، مُخَالِفِينَ لِأَمْرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا كَذَلِكَ الْجُهْمِيَّةُ
“অধ্যায়: আমাদের সর্বোচ্চ স্রষ্টা, যা ইচ্ছা তা সম্পাদনকারী, তিনি তাঁর 'আরশের উপর উঠেছেন, তারপর তিনি তার উপর রয়েছেন সবকিছুর উপর সর্বোচ্চ হয়ে, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে বলেছেন, "দয়াময় (আল্লাহ্) 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ০৫] আরও বলেন, "নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৫৪] আর তিনি তানযীল আস-সাজদাহ সূরাতে বলেন, "আল্লাহ তো তিনিই, যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদুভয়ের মাঝে যা আছে তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি 'আরশের উপর উঠেছেন।” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ০৪] আরও বলেন, "আর তিনিই আসমানসমূহ ও যমীনকে ছয়দিনে সৃষ্টি করেন, আর তাঁর 'আরশ ছিল পানির উপর।” [সূরা হূদ, আয়াত: ০৭] সুতরাং আমরা
আল্লাহ প্রদত্ত এসব সংবাদের ওপর ঈমান আনি যে, আমাদের স্রষ্টা তাঁর 'আরশের উপর সমুন্নত আছেন, আমরা আল্লাহর বাণীকে পরিবর্তন করবো না, আমাদেরকে যা বলা হয়েছে তা ভিন্ন অন্য কিছু বলবো না। যেমনটি বলে থাকে মু'আত্তিলা জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়, তারা বলে, আল্লাহ 'আরশ অধিকার করেছেন, উপরে উঠেননি। এভাবে তারা সে কথাকে পরিবর্তন করেছে যে কথা তাদেরকে বলা হয়েছে। যেমন ইয়াহূদীরা করেছে, তাদেরকে 'হিত্তাতুন' (ক্ষমা) বলতে বলা হয়েছে, তারা বলেছিল 'হিনত্বাতুন', মহানুভব ও সর্বোচ্চ রবের নির্দেশের বিরোধিতা করে। ঠিক অনুরূপ কাজই করেছে জাহমিয়্যারা।”(৫২০) তারপর ইমাম ইবন খুযাইমাহ আল্লাহর 'আরশ, 'আরশে উঠা ও 'আরশে থাকা নিয়ে অনেক হাদীস ও আছার বর্ণনা করেছেন।(৫২১)
অন্যত্র তিনি বলেন,
من لم يقر أن الله على عرشه استوی فوق سبع سمواته، بائن من خلقه، فهو كافر يستتاب فإن تاب وإلا ضربت عنقه وألقي على مزبلة لئلا يتأذى برائحته أهل القبلة وأهل الذمة
"যে স্বীকার করে না, 'আল্লাহ তাঁর 'আরশের উপরে, তাঁর সাত আসমানের উপরে উঠেছেন, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা' সে কাফির। তাকে তাওবা করতে বলা হবে। তাওবা করলে (ভালো) অন্যথায় তার গর্দান উড়িয়ে দিয়ে নর্দমায় নিক্ষেপ করতে হবে; যেন তার গন্ধে মুসলিমরা ও যিম্মীরা কষ্ট না পায়। (৫২২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00