📄 যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সাজী (৩০৭ হিজরী)
যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সাজী, তিনি ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর শিক্ষক ছিলেন, এ যাকারিয়া আস-সাজী রাহimahuallah থেকে তিনি ফিকহ ও হাদীস গ্রহণ করেন। ইমাম যাকারিয়া আস-সাজী বলেন, القول في السنة التي رأيت عليها أصحابنا أهل الحديث، أن الله تعالى على عرشه، في سمائه، يقرب من خلقه كيف شاء "আমি যে নীতির উপরে আমাদের আহলে হাদীস সাথীদের দেখেছি তা হলো- আল্লাহ আসমানে 'আরশের উপরে। তিনি যেভাবে চান সেভাবে তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হন।” তারপর তিনি সমস্ত আকীদাহ বর্ণনা করেন. (৫১২)
টিকাঃ
৫১২. ইবন তাইমিয়્યاه, নাকছু তা'সীسيل জাহמיয়्यاه (২/৫২৭-৫২৮); যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৫০; আল-ארশ (২/৩৫৪), অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৭০।
📄 মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত-ত্বাবারী (৩১০ হিজরী)
মুহাম্মاد ইবন জারীরের লেখক সা'ঈদ আদ-দীনাওয়ারী বলেন, মুহাম্মاد ইবন জারীর তাবারীর কাছে পড়া হচ্ছিল আর আমি তার আকীদাহ শুনছিলাম। সে আকীদাহ'র মধ্যে এটাও ছিল, وَحَسْبُ امْرِئٍ مِنَ الْعِلْمِ ... أَنْ يَعْلَمَ أَنَّ رَبَّهُ هُوَ الَّذِي عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ... فَمَنْ تَجَاوَزَ ذَلِكَ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ কোনো লোকের জ্ঞানের জন্য এটা যথেষ্ট যে, সে জানবে তার রব তো তিনিই, যিনি 'আরশের উপর উঠেছেন। যে একে অতিক্রম করে অন্য কিছু বলবে সে ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে. (৫১৩)
ইমাম যাহাবী বলেন, কেউ যদি ইনসাফ চায় তবে সে যেন ইবন জারীর আত-ত্বাবারীর তাফসীরের আল্লাহর গুণাবলি ও আল্লাহর উপরে থাকা সংক্রান্ত আয়াত অধ্যয়ন করে। যেমন, আল্লাহর বাণী: অতঃপর তিনি আসমানের উপর উঠলেন। এ আয়াতের ব্যাপারে তিনি রবী' ইবন আনাস থেকে বর্ণনা করেন, اِسْتَوَى। ইস্তিওয়া মানে ঊর্ধ্বে উঠলেন. (৫১৪) আল্লাহর বাণী: ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ "অতঃপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন" সকল স্থানে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: উপরে হলেন, ঊর্ধ্বে উঠলেন. (৫১৫)
তাছাড়া তিনি বলেন, ثُمَّ وَصَفَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ قُرْبَهُ مِنْ عِبَادِهِ وَسَمَاعَهُ نَجْوَاهُمْ، وَمَا يَكْتُمُونَهُ النَّاسَ مِنْ أَحَادِيثِهِمْ، فَيَتَحَدَّثُونَهُ سِرًّا بَيْنَهُمْ، فَقَالَ: مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ مِنْ خَلْقِهِ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ يَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ، لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ أَسْرَارِهِمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ يَقُولُ : وَلَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ كَذَلِكَ ﴿وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ يَقُولُ : وَلَا أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةٍ ﴿وَلَا أَكْثَرَ مِنْ خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ إِذَا تَنَاجَوْا أَيْنَ مَا كَانُوا ﴾ [المجادلة: ٧] يَقُولُ: فِي أَي مَوْضِعِ وَمَكَانٍ كَانُوا وَعَنَى بِقَوْلِهِ : ﴿هُوَ رَابِعُهُمْ ﴾ [المجادلة: ٧] بِمَعْنَى أَنَّهُ مُشَاهِدُهُمْ بِعِلْمِهِ، وَهُوَ عَلَى عَرْشِهِ "তারপর মহান প্রশংসার অধিকারী সত্তা তাঁর নিজের গুণ বর্ণনা করলেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের নিকটে এবং তিনি তাদের গোপন শলা-পরামর্শ সবই শুনেন, আর তাদের সেসব কথাবার্তাও শুনেন যা তারা মানুষদের থেকে গোপন করে থাকে এবং নিজেদের মধ্যে গোপনে বলাবলি করে, তাই আল্লাহ বললেন, তাঁর সৃষ্টির "তিনজনের পরামর্শ হলেই তিনি সেখানে চতুর্থজন হন", তাদের গোপন রহস্য ও শলা-পরামর্শ শুনেন, তাদের গোপন কোনো কিছু তাঁর কাছে গোপন থাকে না, "অনুরূপ পাঁচজন হলেও তিনি তাদের ষষ্ঠজন হন”, বলেছেন, অনুরূপভাবে যখনই কোনো পাঁচজন গোপন শলা-পরামর্শ করে তখন তিনি তাদের ষষ্ঠজন হন। "এর চেয়ে কম হলে” অর্থাৎ তিনের কম হলেও "অনুরূপ বেশি হলেও” অর্থাৎ পাঁচজনের চেয়ে বেশি হলেও "তিনি তাদের সাথে আছেন" যখন তারা গোপন পরামর্শ করে, "যেখানেই তারা থাকুক না কেন” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] বলেন, যে জায়গায় বা যে স্থানে তারা থাকুক না কেন, আর তিনি 'তাদের চতুর্থজন' বলার অর্থ, তিনি তাদেরকে তার জ্ঞানের সাথে রাখছেন, অথচ তিনি তাঁর 'আরশের উপর." [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭](৫১৬)
টিকাঃ
৫১৩. ত্বাবারী, সরীহুس সুন্নাহ, ২৬; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাহ (১/১৮৬), নং ৩২৫; যাহাবী সিয়ার (১৪/২৮۰); আল-'উলু, পৃ. ১৫০; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'ארש, পৃ. ৭০।
৫১৪. তাফসীর তাবারী (১/১৯১); যাহাবী, আল-ארש, (২/৩৬১) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৫১৫. তাবারী (১/১৯২), (১৩/৯৪), (১৯/২৮)।
৫১৬. তাবারী (২২/৪৬৮)।
📄 ইমাম আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবনুস সরী আয-যাজ্জাজ (৩১১ হিজরী)
ইমাম আবু ইসহাক্ব আয-যাজ্জাজ বলেন, ثم أخبر بعد ذلك فقال: على العرش استوى، وقالوا معنى (استوى) استولى - والله أعلم. والذي يدل عليه استوى في اللغة على ما فعله من معنى الاستواء. "তারপর আল্লাহ তা'আলা আমাদের জানালেন, তিনি বলেছেন, তিনি 'আরশের উপর উঠলেন”. আর তারা বলে, এখানে 'ইস্তাওয়া' অর্থ 'ইস্তাওলা' বা 'দখল করলেন', আল্লাহ ভালো জানেন। তবে যা ভাষার অভিধানিক অর্থে তাই প্রমাণিত হয় যা 'ইস্তেওয়া'র অর্থ তাই তিনি করেছেন.” (৫১৭) অর্থাৎ খারাপ আকীদাহ'র লোকদের কথা অস্বীকার করে তিনি সাব্যস্ত করলেন যে, আরবী ভাষাতে 'ইস্তাওয়া' বলে উঁচু হওয়া ও উপরে হওয়াকেই বুঝায়.
টিকাঃ
৫১৭. মা'আনিল কুরআন ওয়া ই'রাবুహు (৩/৩৫০)।
📄 হাফেয ইবন আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবন ইবনুল আখরাম (৩১১ হিজরী)
হাফেয ইমাম আবু জা'ফর মুহাম্মাদ ইবনুল 'আব্বাস ইবন আইয়্যুব আল-আসবাহানী, যিনি ইমাম ইবনুল আখরাম নামে প্রসিদ্ধ তিনি বলেন,
والله تعالى على العَرْشِ وَعِلْمُهُ يُحِيطُ بالدُّنيا والآخرة».
"আর আল্লাহ তা'আলা 'আরশের উপর, তাঁর ইলম দুনিয়া ও আখেরাত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।” (৫১৮)