📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 আহমাদ ইবন ‘উসাইত ইবন সুয়াইজ (৩০৬ হিজরী)

📄 আহমাদ ইবন ‘উসাইত ইবন সুয়াইজ (৩০৬ হিজরী)


ইমাম যাহাবী বলেন, প্রসিদ্ধ ইমাম আবুল কাসিম সা'দ ইবন আলী আল-যানজানী বলেন, আল্লাহ তোমাকে অটল রাখুন! তুমি আবেদন করেছো এ মর্মে যে, গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফ ও খালাফের সঠিক নীতির বর্ণনা দিতে। আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারাহ করেছি। আবুল 'আব্বাস আহমاد ইবন 'উমার ইবন সুরাইজ যে জবাব দিয়েছেন তাই আমি জবাব হিসেবে উল্লেখ করলাম: حرام على العقول أن تمثل الله، وعلى الأوهام أن تحده، وعلى الألباب أن تصف، إلا ما وصف به نفسه في كتابه، أو على لسان رسوله؛ وصح عند جميع أهل الديانة والسنة إلى زماننا أن جميع الآي والأخبار الصادقة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم يجب على المسلم الإيمان بكل واحد منه كما ورد، وأن السؤال عن معانيها بدعة، والجواب كفر وزندقة، مثل قوله تعالى ﴿هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِّنَ الْغَمَامِ) وقوله تعالى الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وَجَاءَ رَبُّكَ وَالمُلكُ صَفًّا صَفًّا ) ونظائرها مما نطق بها القرآن كالفوقية، والنفس، واليدين، والسمع، والبصر، وصعود الكلام الطيب إليه، والضحك، والتعجب، والنزول كل ليلة» إلى أن قال: «اعتقادنا فيه وفي الآي المتشابهة في القرآن، أن نقبلها ولا نردها، ولا نتأولها بتأويل المخالفين، ولا نحملها على تشبيه المشبهين، ولا نترجم عن صفاته بلغة غير العربية، ونسلم الخبر لظاهره والآية لظاهر تنزيلها. বিবেক-বুদ্ধির জন্য হারাম আল্লাহর দৃষ্টান্ত দেয়া, কল্পনার জন্য হারাম আল্লাহর সীমা নির্ধারণ করা, অন্তরের জন্য হারাম আল্লাহর গুণাবলির বর্ণনা দেয়া। তবে আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের ক্ষেত্রে যে গুণের বর্ণনা দিয়েছেন বা রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন তা ব্যতীত। বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল দীনের অনুসারী ও আহলে সুন্নাহ'র মত হচ্ছে, সমস্ত আয়াত ও রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্য হাদীসের প্রতি ঈমান রাখা মুসলিমের ওপর ওয়াজিব, যেভাবে এসেছে ঠিক সেভাবেই। এর অর্থ নিয়ে প্রশ্ন করা বিদ'আত। জবাব দেয়া কুফুরী ও নাস্তিকতা। যেমন, আল্লাহ বলেন, 'তারা কি এরই অপেক্ষা করছে যে, মেঘের ছায়ায় আল্লাহ ও ফিরিশতাগণ তাদের নিকট আগমন করবেন.' পরম করুণাময় 'আরশের উপর উঠেছেন, আর তোমার রব ও ফিরিশতাগণ উপস্থিত হবেন সারিবদ্ধভাবে ও এ জাতীয় বিষয় যে ব্যাপারে কুরআন কথা বলেছে। যেমন, আল্লাহর ঊর্ধ্বে থাকা, নফস, দুই হাত, কান, চোখ, উত্তম কথা তাঁর দিকে উঠা, হাসি, আশ্চর্য হওয়া, প্রত্যেক রাতে অবতরণ করা। তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় এবং কুরআনের মুতাশাবিহ আয়াতের ব্যাপারে আমাদের আকীদাহ হচ্ছে- আমরা তা গ্রহণ করবো, প্রত্যাখান করবো না, বিরোধীদের তা'বীলের ন্যায় তা'ওয়ীল করবো না, সাদৃশ্যদাতাদের ন্যায় সাদৃশ্য দিবো না, তাঁর গুণাবলি অনারব ভাষায় অনুবাদ করবো না। হাদীসকে ও আয়াতকে বাহ্যিকভাবে মেনে নিবো. (৫১০)
এরপর তিনি আরও বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা আমি এখানে উল্লেখ করলাম না. (৫১১)

টিকাঃ
৫১০. ইমাম আবুল কাসেম আয-যাঞ্জানীর ভাষ্য থেকে কয়েকটি জিনিস স্পষ্ট হয়ে যায়: ১- আল্লাহ তা'আলার গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াতসমূহ মুতাশাবিহাত নয়। তাঁর সময় পর্যন্ত কেউ এগুলোকে মুতাশাবিহাত বলতো না। তাই তিনিও বলেছেন, "এসব আয়াত এবং মুতাশাবিহাত..." অর্থাৎ তখন পর্যন্ত সবাই এটা বিশ্বাস করতেন যে, আল্লাহ তা'আলার সিফাতের আয়াতগুলো মুতাশাবিহাত নয়। বরং এগুলো মূলত মুহকাম। ২- আল্লাহ তা'আলার সিফাত সংক্রান্ত আয়াতসমূহের অনুবাদের ক্ষেত্রে খুবই সাবধান হতে হবে। আগে আরবীতে এর প্রকৃত অনুবাদ কী হয় তা জেনে নিব। কারণ একই শব্দের একাধিক অনুবাদ আরবীতেই রয়েছে, কোনটি আল্লাহ তা'আলার জন্য প্রয়োগ করা যাবে তা ভালো করে নির্ধারণ করে নিতে হবে। তারপর সেটার অন্য ভাষায় এমন অনুবাদ করতে হবে, যে শব্দ ব্যবহার করলে কোনো নিষিদ্ধ জিনিস সাব্যস্ত করতে না হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলার 'জাওয়াদ' গুণটি। তার অনুবাদ যদি আমরা অতি দাতা অনুবাদ করি তাহলে সেটা সঠিক অনুবাদ হবে। কিন্তু যদি অনুবাদ করি বড় মনের অধিকারী বা মহৎ প্রাণের অধিকারী, তবে তা আল্লাহ তা'আলার জন্য মানানসই হবে না। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে সবই ব্যবহারযোগ্য। ৩- আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণাবলির প্রকাশ্য অর্থ বলতে সে অর্থই বুঝাবে, যা তাঁর শান, মান-মর্যাদা, মহত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। প্রকাশ্য অর্থ করার মানে এটা নয় যে, মনে যা আসে তাই অনুবাদ করে দিব। এ জন্য পূর্বসূরী আলেমগণের মতামতের শ্মরণাপন্ন হতে হবে।
৫১১. যাহাবী, আল-'ארש, (২/৩৩৮) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; আল-উলু ১৫২-১৫৩; আল-আরبا'ঈন ৯০-৯১; ইবুনল কাইয়્યেম, ইজতিমা'উল জুയুשิล ইসলামিয়্যاه ১৭১-১৭৩।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সাজী (৩০৭ হিজরী)

📄 যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সাজী (৩০৭ হিজরী)


যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সাজী, তিনি ইমাম আবুল হাসান আল-আশ'আরীর শিক্ষক ছিলেন, এ যাকারিয়া আস-সাজী রাহimahuallah থেকে তিনি ফিকহ ও হাদীস গ্রহণ করেন। ইমাম যাকারিয়া আস-সাজী বলেন, القول في السنة التي رأيت عليها أصحابنا أهل الحديث، أن الله تعالى على عرشه، في سمائه، يقرب من خلقه كيف شاء "আমি যে নীতির উপরে আমাদের আহলে হাদীস সাথীদের দেখেছি তা হলো- আল্লাহ আসমানে 'আরশের উপরে। তিনি যেভাবে চান সেভাবে তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হন।” তারপর তিনি সমস্ত আকীদাহ বর্ণনা করেন. (৫১২)

টিকাঃ
৫১২. ইবন তাইমিয়્યاه, নাকছু তা'সীسيل জাহמיয়्यاه (২/৫২৭-৫২৮); যাহাবী, আল-'উলু, পৃ. ১৫০; আল-ארশ (২/৩৫৪), অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমূদ; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'আরশ, পৃ. ৭০।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত-ত্বাবারী (৩১০ হিজরী)

📄 মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত-ত্বাবারী (৩১০ হিজরী)


মুহাম্মاد ইবন জারীরের লেখক সা'ঈদ আদ-দীনাওয়ারী বলেন, মুহাম্মاد ইবন জারীর তাবারীর কাছে পড়া হচ্ছিল আর আমি তার আকীদাহ শুনছিলাম। সে আকীদাহ'র মধ্যে এটাও ছিল, وَحَسْبُ امْرِئٍ مِنَ الْعِلْمِ ... أَنْ يَعْلَمَ أَنَّ رَبَّهُ هُوَ الَّذِي عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى ... فَمَنْ تَجَاوَزَ ذَلِكَ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ কোনো লোকের জ্ঞানের জন্য এটা যথেষ্ট যে, সে জানবে তার রব তো তিনিই, যিনি 'আরশের উপর উঠেছেন। যে একে অতিক্রম করে অন্য কিছু বলবে সে ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে. (৫১৩)
ইমাম যাহাবী বলেন, কেউ যদি ইনসাফ চায় তবে সে যেন ইবন জারীর আত-ত্বাবারীর তাফসীরের আল্লাহর গুণাবলি ও আল্লাহর উপরে থাকা সংক্রান্ত আয়াত অধ্যয়ন করে। যেমন, আল্লাহর বাণী: অতঃপর তিনি আসমানের উপর উঠলেন। এ আয়াতের ব্যাপারে তিনি রবী' ইবন আনাস থেকে বর্ণনা করেন, اِسْتَوَى। ইস্তিওয়া মানে ঊর্ধ্বে উঠলেন. (৫১৪) আল্লাহর বাণী: ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ "অতঃপর তিনি 'আরশের উপর উঠলেন" সকল স্থানে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: উপরে হলেন, ঊর্ধ্বে উঠলেন. (৫১৫)
তাছাড়া তিনি বলেন, ثُمَّ وَصَفَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ قُرْبَهُ مِنْ عِبَادِهِ وَسَمَاعَهُ نَجْوَاهُمْ، وَمَا يَكْتُمُونَهُ النَّاسَ مِنْ أَحَادِيثِهِمْ، فَيَتَحَدَّثُونَهُ سِرًّا بَيْنَهُمْ، فَقَالَ: مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ مِنْ خَلْقِهِ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ يَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ، لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ أَسْرَارِهِمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ يَقُولُ : وَلَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ كَذَلِكَ ﴿وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ يَقُولُ : وَلَا أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةٍ ﴿وَلَا أَكْثَرَ مِنْ خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ إِذَا تَنَاجَوْا أَيْنَ مَا كَانُوا ﴾ [المجادلة: ٧] يَقُولُ: فِي أَي مَوْضِعِ وَمَكَانٍ كَانُوا وَعَنَى بِقَوْلِهِ : ﴿هُوَ رَابِعُهُمْ ﴾ [المجادلة: ٧] بِمَعْنَى أَنَّهُ مُشَاهِدُهُمْ بِعِلْمِهِ، وَهُوَ عَلَى عَرْشِهِ "তারপর মহান প্রশংসার অধিকারী সত্তা তাঁর নিজের গুণ বর্ণনা করলেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের নিকটে এবং তিনি তাদের গোপন শলা-পরামর্শ সবই শুনেন, আর তাদের সেসব কথাবার্তাও শুনেন যা তারা মানুষদের থেকে গোপন করে থাকে এবং নিজেদের মধ্যে গোপনে বলাবলি করে, তাই আল্লাহ বললেন, তাঁর সৃষ্টির "তিনজনের পরামর্শ হলেই তিনি সেখানে চতুর্থজন হন", তাদের গোপন রহস্য ও শলা-পরামর্শ শুনেন, তাদের গোপন কোনো কিছু তাঁর কাছে গোপন থাকে না, "অনুরূপ পাঁচজন হলেও তিনি তাদের ষষ্ঠজন হন”, বলেছেন, অনুরূপভাবে যখনই কোনো পাঁচজন গোপন শলা-পরামর্শ করে তখন তিনি তাদের ষষ্ঠজন হন। "এর চেয়ে কম হলে” অর্থাৎ তিনের কম হলেও "অনুরূপ বেশি হলেও” অর্থাৎ পাঁচজনের চেয়ে বেশি হলেও "তিনি তাদের সাথে আছেন" যখন তারা গোপন পরামর্শ করে, "যেখানেই তারা থাকুক না কেন” [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭] বলেন, যে জায়গায় বা যে স্থানে তারা থাকুক না কেন, আর তিনি 'তাদের চতুর্থজন' বলার অর্থ, তিনি তাদেরকে তার জ্ঞানের সাথে রাখছেন, অথচ তিনি তাঁর 'আরশের উপর." [সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ০৭](৫১৬)

টিকাঃ
৫১৩. ত্বাবারী, সরীহুس সুন্নাহ, ২৬; লালেকাঈ, শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহلিস সুন্নাহ (১/১৮৬), নং ৩২৫; যাহাবী সিয়ার (১৪/২৮۰); আল-'উলু, পৃ. ১৫০; ইবন আবদুল হাদী, আল-কালাম আলা মাসআলাতিল ইস্তেওয়া 'আলাল 'ארש, পৃ. ৭০।
৫১৪. তাফসীর তাবারী (১/১৯১); যাহাবী, আল-ארש, (২/৩৬১) অনুবাদ: আব্দুল্লাহ মাহমুদ।
৫১৫. তাবারী (১/১৯২), (১৩/৯৪), (১৯/২৮)।
৫১৬. তাবারী (২২/৪৬৮)।

📘 রহমান আরশের উপর উঠেছেন > 📄 ইমাম আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবনুস সরী আয-যাজ্জাজ (৩১১ হিজরী)

📄 ইমাম আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবনুস সরী আয-যাজ্জাজ (৩১১ হিজরী)


ইমাম আবু ইসহাক্ব আয-যাজ্জাজ বলেন, ثم أخبر بعد ذلك فقال: على العرش استوى، وقالوا معنى (استوى) استولى - والله أعلم. والذي يدل عليه استوى في اللغة على ما فعله من معنى الاستواء. "তারপর আল্লাহ তা'আলা আমাদের জানালেন, তিনি বলেছেন, তিনি 'আরশের উপর উঠলেন”. আর তারা বলে, এখানে 'ইস্তাওয়া' অর্থ 'ইস্তাওলা' বা 'দখল করলেন', আল্লাহ ভালো জানেন। তবে যা ভাষার অভিধানিক অর্থে তাই প্রমাণিত হয় যা 'ইস্তেওয়া'র অর্থ তাই তিনি করেছেন.” (৫১৭) অর্থাৎ খারাপ আকীদাহ'র লোকদের কথা অস্বীকার করে তিনি সাব্যস্ত করলেন যে, আরবী ভাষাতে 'ইস্তাওয়া' বলে উঁচু হওয়া ও উপরে হওয়াকেই বুঝায়.

টিকাঃ
৫১৭. মা'আনিল কুরআন ওয়া ই'রাবুహు (৩/৩৫০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00